সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে যে হিন্দুরা অংশ নিয়েছিল তাদের যদি সেনাবাহিনীতে নেয়া হতো কিংবা সেনাবাহিনীতে যদি পাঁচ শতাংশ হিন্দু থাকত তাহলে বাংলাদেশে কোনো দিন অভ্যুথান হতো না।
ভারতের দৈনিক স্টেটসম্যান পত্রিকায় গাফ্ফার চৌধুরীর উদ্ধৃতি দিয়ে গত ৮ এপ্রিল এ সংবাদ ছাপা হয়। সংবাদে বলা হয়, গত ৭ এপ্রিল সìধ্যায় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে ঢাকা মহানগর পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত এক সংবর্ধনা সভায় আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বঙ্গবìধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম প্রেস সেক্রেটারি আমিনুল হক বাদশা উপস্খিত ছিলেন। সভায় মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল (অব
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রশাসনে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করতে বলেছি। এভাবেই বাংলাদেশে সত্যিকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। শেখ হাসিনাকে বুঝতে হবে, ‘এখন রঙ বদল হচ্ছে, কিন্তু দিনবদল হয়নি।’
তিনি বলেন, দেশভাগের কুফল আমরা আজ ভোগ করছি। ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ কত বড় অন্যায় ছিল, তা আজ আমরা পদে পদে অনুভব করছি। কোথায় ভারতে বাবরি মসজিদ ভাঙা হয়, আর তার প্রতিশোধ নিতে গিয়ে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আগুন দেয়া হয়, ভেঙে দেয়া হয়। যদি সাহস থাকে ‘ভারত আক্রমণ কর’। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী বলেন, যে রমনা কালী মন্দির বাঙালির ইতিহাসের অংö সে মন্দির হানাদার পাকিস্তানিরা মুক্তিযুদ্ধের সময় ভেঙে দেয়ার পর এখনো তৈরি হয়নি। এই মন্দির শুধু হিন্দুদের মন্দির নয়, এটা বাঙালির রাজনৈতিক মন্দির। আমি ঢাকায় যখন দৈনিক আজাদ পত্রিকায় কাজ করতাম, তখন অনন্য স্খাপত্যের নিদর্শন এই মন্দির নিয়ে লিখেছি। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর বঙ্গবìধুকে বলেছিলাম, তাড়াতাড়ি এই মন্দির পুনর্নিমাণ করুন। মনে হয়, ভারতীয় দালাল আখ্যায়িত হওয়ার ভয়ে তিনি তা করেননি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বìধু ইন্দিরা গাìধীর নামে যে মঞ্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নির্মিত হয়েছিল, তাও ভেঙে দেয়া হলো। দু:খ হয়, স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ শত্রু সম্পত্তি আইনও বাতিল করতে পারল না।
গাফ্ফার চৌধুরী বলেন, যে ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিতে দেশ স্বাধীন হয়েছে, তাও আমরা ধরে রাখতে পারিনি। যদি বাংলাদেশ সত্যিকার গণতান্ত্রিক দেশ হতো তাহলে সি আর দত্ত সেনাপ্রধান হতে পারতেন। ভারতে মুসলমান কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন, রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদেও কোনো হিন্দু বৌদ্ধ কিংবা খ্রিষ্টানকে দেখি না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে অনেক কিছুই করতে পারেনি।
ব্রিটেন প্রবাসী এই সাংবাদিক বলেন, পাকিস্তানি আমলে দেখেছি, কোনো মসজিদের কাছে বাজনা বাজানো যেত না, মসজিদের সামনে দিয়ে বাজনা বাজিয়ে যাওয়া যেত না। আজ সেই পাকিস্তানিদের কী দুর্ভাগ্য, সেখানে মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় মুসলমান মরছে। আমাকে বিএনপি’র এক শীর্ষ নেতা বলেছেন, বাংলাদেশে নির্বিঘেí পূজা হচ্ছে। আমি বলেছি, পূজা হচ্ছে ঠিকই, তবে পুলিশ পাহারায়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


