somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভাঁড় বদল হয়, ভাঁড়ামি নয়!!!

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১২:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রত্যেক কালে, যুগে ক্ষমতাশীন সভায় ভাঁড়ের দেখা পাওয়া যায়!!! যারা তাদের চাটুকারিতা আর ভাঁড়ামি দিয়ে হাস্যরসের জন্ম দেন! নিজেরা হাসেন, অন্যদেরও হাসান। বিনিময়ে মেলে এনাম, আর রাজ্যসভা পায় হাসির উপলক্ষ্য।

আমরা পড়েছি, সম্রাট আকবরের নবরত্ন সভার রত্ন বীরবল, যিনি তাৎক্ষনিক রসিক জবাব দিতেন। রসিক বীরবল যদি একটু গম্ভির হতেন তাহলে হয়তো তার বুদ্ধিমত্তার জন্য ইতিহাস তাকে বুদ্ধিবিশারদ হিসাবে পরিচিত করতো! তবে হাস্যরসে মেধার ছাপ রাখা বীরবল ভাঁড় হিসাবেই পরিচিত।

আমরা পড়েছি, রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভার গোপাল-ভাঁড়, যিনি জীবনে অসংগতি পাগলামো, পরিমিতিবোধের অভাব, রঙ্গরসিকতায় তুলে ধরতেন। হাস্যরসের মাধ্যমে যিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করতেন। কিন্তু বাহ্য হাস্যরস বুদ্ধিমান গোপালকে বুদ্ধিজীবি না করে ভাঁড় হিসাবে পরিচিত করেছে।

লক্ষ্যনীয়, এসব ভাঁড়দের কথায় হাস্যরস সৃষ্টি হতো, কিন্তু তাদের কথায় মেধার ছাপ ছিলো, পরিস্থিতির নির্মোহ মূল্যায়ন ছিলো।

আধুনিক যুগেও ক্ষমতাশীন সভায় আমরা ভাঁড়দের দেখতে পাই! কিন্তু এসব মেধাহীন ভাঁড়দের কথায় হাস্যরস যাও বা পাওয়া যায় কিন্তু সারবেত্তা খুঁজে পাওয়া যায় না!

গত চারদলীয় জোট সরকারের সময় আমরা দেখেছি, স্পাইক চুলের এক স্পাইসি বাংলিশ ভাঁড়! যার ইংলিশের ভাঁড়ামো শুনে গোপাল ভাঁড়ও হেসে খুন হতেন নিশ্চই!! সে সময়ই আমরা দেখেছিলাম, হাস্যরস বাদ দিয়ে আল্লার মালের করুন রসের ভাঁড়ামি!!!

এরপর দিনবদলের কথা বলে যখন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসলো, সবাই আশা করেছিলো, অন্তত ভাঁড়ামিতেও আমরা বদল দেখতে পাবো, হাস্যরসের পাশাপাশি খুঁজে পারো সারবেত্তা! কিন্তু হায়!!! শেয়ার বাজারে পুজিঁ হারানো, রাজপথে জীবন হারানো, দ্রব্যমূল্য সঞ্চয় হারানো, চিরদূঃখী এ দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে তামাশা করার জন্য ভাঁড় বদল হলেও ভাঁড়ামি বদল হয়নি!!! সম্ভবত হবেও না!!!
এখন প্রশ্ন আসতে পারে, ভাঁড় বদলের পালায় এখন ভাঁড় কে? কিম্বা বর্তমান ক্ষমতাশীন সভার প্রধান ভাঁড় কে?

আপনার উত্তর যদি হয়- হাস্যজ্জল কার্টুন সৈয়দ আবুল, তাহলে বলবো দূঃখিত পাঠক, চেহারা দেখে সবকিছু মূল্যায়ন করা ঠিক নয়! বরং উত্তরটা হবে সৈয়দ আশরাফ!! অব্যাহত ভাঁড়ামিতে যিনি হাস্যরস ও করুনরস সৃষ্টি করে যাচ্ছেন!

৩ ডিসেম্বর যিনি ভাঁড়ামিতে গুপ্তরস এনে বলেছিলেন- ব্লগ এখন অনেকটা পর্নোগ্রাফিতে পরিণত হয়েছে!

২১ জানুয়ারী তিনি সীমান্তে হত্যা আর নির্যাতনে চিন্তাহীন তামাশায় বলেছিলেন- সীমান্তে যা কিছু ঘটছে তা নিয়ে রাষ্ট্র চিন্তিত নয়। সব কাজ ফেলে রেখে শুধু এদিকে দৃষ্টি দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলেও সরকার মনে করে না। এসব অতীতে ঘটেছে, এখনো ঘটছে এবং ভবিষ্যতেও ঘটবে। এগুলো নিয়ে রাষ্ট্র খুব বেশি চিন্তিত নয়।

আর ২ ফেব্রুয়ারিতে তিনি অবহেলা, অদক্ষতা আর বিনা পরীক্ষায় লাইসেন্স দেবার চাটুকারিতার বললেন- সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে প্রতিবাদ জানানোর কিছু নেই!
সৈয়দ আশরাফের এ ভাঁড়ামিতে তার কোন এনাম মিলছে কিনা জানিনা! শুধু অনুভব করি, যারা স্বজন হারিয়েছে বিএসএফের গুলিতে কিম্বা ঘাতকের বেপরোয়া গাড়িতে, এসব ভাঁড়ামো তাদের হাসির উপলক্ষ্য দেয় না, দেয় হৃদয়ে রক্তক্ষরনের উপলক্ষ্য। তাইতো, সরকারদলীয় সাংসদ অ্যাডভোকেট তারানা হালিম, যিনি দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন তার আদরের ভাতিজাকে, তিনি পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তার মনের বেদনার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন, প্রতিবাদ করে বলেছেন-

আজকে সংসদে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কথা বলা হয়েছে সেটা খুবই দুঃখজনক। এই বক্তব্যের বিষয়ে আমার মনের বেদনার অনুভূতি প্রকাশ করতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়েছি। ‘সব সড়ক দুঘর্টনা নিছক দুর্ঘটনা নয়। অবহেলা, অদক্ষতা ও ইচ্ছকৃতভাবে যে ঘটনা ঘটে সেটা নিছক দুর্ঘটনা নয়। এটা মর্মন্তুদ বিষয়।’ ৩০৪ (ক) মতে যে দুর্ঘটনা এড়ানো যায় তাকে নিছক দুঘর্টনা বলা যায় না। এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আর দুঘর্টনা এড়ানো যায় না, ঘটে যায় তাকে দুঘর্টনা বলা যায়।

আমি জানি, তারানা হালিমের মতো স্বজন হারানোদের বেদনা কোন ভাঁড়কে স্পর্শ করবে না! তারা অপরিমিতিবোধের রঙ্গরসিকতায় বলেই যাবে- “অ্যাকসিডেন্ট ইজ অ্যাকসিডেন্ট! বাচ্চো লোগ তালিয়া বাজাও! আল্লার মাল আল্লাই নিয়ে যাবে!
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×