এই চিঠিটা তোমাকে লেখা, যদিও মনে মনে ঠিক করে রেখেছিলাম তোমাকে আর কখনই চিঠি লিখবো না। তারপরও তোমাকেই চিঠিটা লিখছি। কী জানতে চাচ্ছো কেন তোমাকে লিখবো না ঠিক করেছিলাম ??? খুবই ছোট কারণ (তোমার কাছে, আমরা কাছে ছোট না অবশ্যই)। তোমাকে লেখা একটা চিঠি পড়ে, চিঠিটা নিয়ে হাসা-হাসি করেছিলে তুমি। মনে আছে ??? মনে পড়ছে সে দিনের কথা ??? আমি জানি তোমার স্মরণশক্তি কম। মনে না পড়লেও ঘটনাটা কিন্তু সত্যি।
আমি জানি না কেন, তোমার ওপরই আমরা এত মেজাজ খারাপ হয় ??? কেন শুধু মনে তোমাকে কষ্ট দেই, আরও বেশি কষ্ট দেই, অনেক বেশি, অনেক বেশি, অনেক বেশি কষ্ট দেই। তুমি কী জানো কেন ??? তোমার কাছে কারণ জানতে চাওয়াটা আসলে ঠিক হয়নি, তোমার তো ব্যাখ্যা দেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা(!!!) , নিশ্চয় উদ্ভট একটা কারণ খুঁজে বের করবে। থাক তোমাকে কিছু বলতে হবে না।
মাঝে মাঝে আমাদের কথা চিন্তা করলে খুব অবাক লাগে জানো !!! আমাদের মাঝে কত অমিল, কত পার্থক্য তারপরও আমরা আজকে একসাথে এতদূর। এই পেছনে আমার কোন অবদান নেই আমি জানি। পুরোটাই তোমার অবদান বলবো নাকি তোমার ভুল বলবো ??? অস্বীকার করবো না, তুমি সবসময়ই চেষ্টা করো আমরা মতো হবার, আমার ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেওয়ার কিন্তু সেইটাই যে মাঝে মাঝে আমার বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় তা কীভাবে বোঝাবো ??? আমি চাই প্রতিটি মানুষ তার নিজস্বতা নিয়েই থাকুক। আমি চাই না, আমার জন্য বা অন্য কোন কিছুর জন্য তার নিজস্বতায় কোন পরিবর্তন আসুক, সে নিজেকে পরির্বতন করুক। সত্যি আমি তা চাই। জানি অনেকই হয়তো বলবে (হয়তো তুমিও বলবে), তোমার ভালোবাসা অনেক গভীর, তাই তুমি পারো নিজেকে অন্যের চাওয়ায় সমর্পণ করতে। আমি সেটা বলবো না। কিন্তু আসলেই কী ভালোবাসা মানে নিজের অস্তিত্বকে বিলিয়ে দেওয়া। সেটা হতে পারে না, পারে না, পারে না।
চিঠিটা শেষ করতে আর ইচ্ছা করছে না। এভাবেই থাক। যদি পরে ইচ্ছা হয় তাহলে শেষ করবো। ভালো থেকো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


