সকাল বেলা।
বারান্দার দরজাটা খুলেই চমকে উঠে জনি।
"লে বাবা এইটা আবার কোন ঝামেলা ?"
দিব্বি বারান্দায় রাখা ঝাড় গাছে বাসা তৈরি করে বসে আছে একটা বুলবুলি। শক্ত ঠোঁট দুটো তাক করে রেখেছে বারান্দার দরজার দিকে। ভালো করে তাকাতেই জনি বুঝলো বুলবুকি বেগম ডিমে তা দিচ্ছেন। এই সময়টাতে অনেক পাখি বেশ হিংস্র হয়ে উঠে।
"থাক ঝামেলা করে কাজ নেই, তার চাইতে ছাদে গিয়ে সিগারেট টানি।"
ছাদে উঠতে গিয়ে আবার নেমে যায় জনি। হাজার হোক বাড়িওয়ালার সাথে কথা আছে যে, ছাদে যাওয়া যাবেনা। এমনিতেই ব্যাচেলারদের জন্য বাসা ভাড়া পাওয়া যায় না।
রাস্তার মোড়ে গিয়ে সিগারেট খেয়ে আসে জনি। তারপর ব্যস্ততা, বাসে ঝুলা-অফিস-ফাইল সঙ্গে বসের ফ্রি ঝাড়ি।
রাতে বাসায় ফিরে খেয়ে বিছানায় এসে বসে সে। এই সময়টা খুব প্রিয় ওর। মোবাইলের এফ.এম. স্পিকারে ছেড়ে দুটা সিগারেট খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। সিগারেট দুটা খায় বারান্দায়। বারান্দার দরজাটা খুলতেই বুলবুলি বেগমের কঠিন চাহনি।
"আগুনের ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দিবো নাকি ?"
জিপ্পোটা জালিয়ে পিছনে এয়ার স্প্রেটা ধরে জনি। চাপ দিলেই অনেক বড় একটা ফ্লেম তৈরি হবে। চাপ দিতে গিয়ে থমকে থেমে যায়। মনে হয় বুলবুলি তো ওর মত উদ্বাস্তু এই শহরে।
ফিরে এসে শুয়ে পড়ে জনি। অন্যরকম এক প্রশান্তি নিয়ে ঘুমিয়ে, সারারাত জেগে তাকে পাহারা দেয় বুলবুলি বেগম ।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৩:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


