Click This Link ব্যর্থ ধর্মান্ধ অভু্যত্থানের পেছনে মূল নায়ক হিসেবে নাম উঠে এসেছে বিদেশে অবস্থানরত বিএনপি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। অভু্যত্থানে এক মেজর জেনারেলসহ সেনাবাহিনীর কয়েক মধ্যম সারির অফিসার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রে জড়িত। অভু্যত্থান ষড়যন্ত্র ফাঁস হওয়ার পর একে একে জড়িতদের নাম বের হয়ে আসছে। বিদেশী বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে এমন খবর প্রকাশ হয়েছে। সেনা অভু্যত্থানের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বাংলাদেশে অগণতান্ত্রিক পন্থায় শেখ হাসিনাকে ৰমতা থেকে সরানোর চেষ্টা হলে তাঁকে সব রকম সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। বাংলাদেশ সরকারকেও ভারতের পৰে এমন বার্তা দেয়া হয়েছে। এদিকে অভিযুক্ত মেজর জিয়াউল হক যাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন তেমন ১১ চাকরিরত ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাকে শনাক্ত করেছে তদন্ত কমিটি। তাদেরকে দু'এক দিনের মধ্যেই লগ এরিয়ায় সংযুক্ত করা হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র এমিলি জে হর্ন গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে কোন ব্যক্তি বা গ্রম্নপের উৎখাত চেষ্টার তীব্র নিন্দা জানান। শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতন্ত্র ব্যাহত করার যে কোন চেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করে। বাংলাদেশে কোনভাবেই গণতন্ত্র ব্যাহত হতে দেয়া হবে না বলে ওই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
ভারতের দ্য টেলিগ্রাফ খবর দিয়েছে, সেনা ষড়যন্ত্রে সহযোগিতা করার অপরাধে নিষিদ্ধ ঘোষিত হিযবুত তাহ্রীরের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশে অভু্যত্থান চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে। তবে দিল্লীর কর্মকর্তারা এ দাবি স্বীকার করেনি। সূত্র জানায়, বিষয়টি ভারত নিবিড়ভাবে পর্যবেৰণ করছে। শেখ হাসিনা সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য ভারত প্রস্তুত। বিপথগামী সেনা সদস্যরা যদি পাশর্্ববর্তী দেশগুলোতে অবস্থান নেয় সে ৰেত্রে দিলস্নী সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করবে।
টাইমস অব ইন্ডিয়া খবর দিয়েছে, বাংলাদেশে সেনা অভু্যত্থান ষড়যন্ত্রের বিষয়টি জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়েছে। জনগণের কাছে যতটুকু প্রকাশ করা হয়েছে-ঘটনা এর চেয়েও মারাত্মক হতে পারে। তারা জানিয়েছে, হিযবুত তাহ্রীরের সঙ্গে যুক্ত একদল জুনিয়র এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, একজন মেজর জেনারেল এবং কিছু সিনিয়র কর্মকর্তা অভু্যত্থান পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত। তারা শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাত করার জন্য এই পরিকল্পনা করে।
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক সিনিয়র কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, যে সব জুনিয়র কর্মকর্তা কু্য পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিল তারা নিয়মিত সিনিয়র কর্মকর্তাদের তথ্য প্রদান করত। অভু্যত্থান পরিকল্পনার অগ্রগতি সম্পর্কে সিনিয়র কর্মকর্তারা নিয়মিত বৈঠক করত। একজন আলোচনাকালে বলেন, অভু্যত্থান সফল হলে কি করতে হবে। এই আলোচনায় একজন কর্মকর্তা বলেন, ছোট দেশ। প্রধানমন্ত্রীসহ কয়েকজন গুরম্নত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে টার্গেট করলেই হবে।
এদিকে আনন্দবাজার পত্রিকা খবর দিয়েছে, ৰমতা থেকে বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে শেখ হাসিনাকে সরানোর চেষ্টা হলে, তাঁকে সব রকম সাহায্য করার সিদ্ধানত্ম নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। বাংলাদেশ সরকারকেও সেই বার্তা দেয়া হয়েছে। আনন্দবাজারে ষড়যন্ত্র হলে হাসিনার পাশেই থাকবে দিলস্নী শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, সেনা-অভু্যত্থান নস্যাত করার পেছনে ভারতের গোয়েন্দা সূত্রেরও ভূমিকা ছিল। ভারত মনে করছে, শেখ হাসিনার বিরম্নদ্ধে ব্যর্থ সামরিক অভু্যত্থানের আসল লৰ্য ছিল নয়াদিলস্নী। হাসিনা সরকারে আসার পর থেকেই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যে মৈত্রীর পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তাকে ভেসত্মে দেয়াটাই এই সেনা অভু্যত্থানের লৰ্য।
দু'দেশের গোয়েন্দা রিপোর্টের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি দাবি করেছে, এই লৰ্যে হিযবুত তাহ্রীর, জামায়াতে ইসলামী ও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী দল বিএনপি একজোট হয়ে কাজ করছে। গোটা ঘটনার মাথা হিসেবে উঠে আসছে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের নামও। এর আগেও ভারতবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে তারেকের নাম উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০০৪ সালে আলফাকে অস্ত্র যোগানোর পরিকল্পনার পেছনেও খালেদা-পুত্র ছিলেন। চট্টগ্রামে ওই ঘটনার পরেই শেখ হাসিনার ওপরে গ্রেনেড হামলা হয়। সেই ঘটনার সঙ্গেও তারেকের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভারত মনে করছে, এটা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।
গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, গত সাত-আট মাস ধরেই এই চক্রানত্ম চলছে। গত নবেম্বর মাসেই হাসিনাকে উৎখাতের একটি ষড়যন্ত্র হয়। সেনাবাহিনীর কিছু মাঝারি সত্মরের অফিসার সেই সময়ে সেনা অভু্যত্থানের ছক কষেছিল। কিন্তু শুরম্নতেই তাদের চক্রানত্ম ফাঁস হয়ে যায়। তারপর থেকেই নজরদারি জোরদার করে সেনা-গোয়েন্দারা, যার ফলে এ বারের চক্রানত্মটি ধরে ফেলা সম্ভব হয়। গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি দাবি করেছে, বিএনপি-জামায়াত জমানায় বিশেষ উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনীতে বেশ কিছু কট্টর মৌলবাদীকেও নিয়োগ করা হয়েছিল। এখনও বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতে মাঝারি সত্মরের অফিসারদের মগজ ধোলাইয়ের চেষ্টা চলছে। ইশতেহার প্রচার করে বলা হচ্ছে, 'বাংলাদেশ যাতে আর একটা সিকিম না হয়ে যায়, তার জন্য সেনাবাহিনী থেকে ভারতপন্থী অফিসারদের সরাতে হবে।' পরিস্থিতি সামাল দিতে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে র্যাব ও পুলিশ নিষিদ্ধ সংগঠন 'হিযবুত তাহ্রীর'-এর বিরম্নদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। বেশ কিছু হিযবুত সদস্যকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।
এদিকে পত্রিকাটি বলেছে_ শেখ হাসিনা অভিযোগ করেছিলেন, বিএনপিও এই চক্রানত্মের পেছনে রয়েছে। সে অভিযোগ অবশ্য আজ অস্বীকার করেছে বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দলটি। দলের মুখপাত্র মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন, তাঁরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতেই সরকার পরিবর্তনে বিশ্বাসী। দলের নেত্রী খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে তিন বার দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই শেখ হাসিনার মনত্মব্য অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ৰিত। কিন্তু প্রাক্তন সেনাপ্রধান হারম্নন-অর-রশিদ মনে করছেন, 'মুক্তিযুদ্ধবিরোধী নেতাদের বিচার শুরম্ন হওয়ায় এই ধরনের ষড়যন্ত্র ফের হবে।' বিএনপির পাল্টা যুক্তি, তাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম জিয়াউর রহমানও মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সারির নেতা ছিলেন। তাঁদের দলেও প্রথম সারির বহু মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। তাই এই চক্রানত্মে তাঁদের নাম জড়ানো ঠিক নয়। প্রতিবেদনে উলেস্নখ করা হয়, বাংলাদেশের অাঁচ যাতে এ দেশে (ভারতে) এসে না পড়ে, গোয়েন্দাদের তার জন্য পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে বলা হয়েছে। একইভাবে বাংলাদেশ সীমানত্মসংলগ্ন সেনা ঘাঁটিগুলোকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। দিলস্নীতে অবস্থিত বাংলাদেশী দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সেনা অভু্যত্থান ভেসত্মে দেয়ার পেছনে ভারতের তরফ থেকেও গোয়েন্দা তথ্য ছিল। পশ্চিমবঙ্গসহ সীমানত্মবর্তী রাজ্যগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে কেন্দ্র। গোয়েন্দাদের কথায়, বাংলাদেশের বাইরেও হিযবুত তাহ্রীরের একটি সংগঠন রয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশীদের ওই সংগঠনে তারেক জিয়ার যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। বাংলাদেশে হিযবুতের প্রকাশ্য সংগঠন 'ব্রাদার অব ইসলাম'ও জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে। তারা প্রচার করছে, টিপাইমুখ প্রকল্প গড়ে বা তিসত্মা চুক্তি না করে ভারত বাংলাদেশকে বঞ্চিত করে চলেছে। কিন্তু শেখ হাসিনা তা মাথা নিচু করে মেনে নিচ্ছেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতের বিরম্নদ্ধে চলছে ধর্মীয় উস্কানিমূলক প্রচারও। ঢাকার উত্তরায় গোপন বৈঠক করার সময় হিযবুতের পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে র্যাব। সেখান থেকেই উস্কানিমূলক লিফলেট উদ্ধার হয়েছে। রাজশাহী থেকেও এক জনকে আটক করা হয়েছে।
আনন্দবাজারের প্রতিবেদনের দাবি, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেই ২০০৯-এর ফেব্রম্নয়ারি বিডিআর বিদ্রোহ হয়। তারপর এ বার চক্রানত্মে সেনাদেরই একটি অংশ। বার বার এই ঘটনায় চিনত্মায় রয়েছে ভারত। কারণ সাধারণ নির্বাচনের এখনও অনেক দেরি। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অনেক প্রকল্প প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। ঢাকাকে এক শ' কোটি ডলার ঋণ দেয়া হয়েছে। তিসত্মা নিয়ে জট ছাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য পরিবহন চালু করার চেষ্টাও চলছে। শেখ হাসিনা সদ্য ত্রিপুরায় ঘুরে গিয়েছেন। পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমানত্মে আরও একটি আস্থাবর্ধক পদৰেপ হতে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে হাসিনা সরকারের কর্তৃত্ব যাতে কোনভাবেই দুর্বল না হয়ে যায়, তার জন্য স্পষ্ট ও কড়া অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
উলেস্নখ্য, সেনা অভু্যত্থানের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটিয়ে ক্ষমতা দখল করতে চেয়েছিলেন বিপথগামী সেনারা। পছন্দের সিনিয়র সেনা কর্মকর্তাদের মন্ত্রী বানানোর পরিকল্পনাও তাদের ছিল। লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব) এহসান ইউসুফের ল্যাপটপে কল্পিত একটি সম্ভাব্য ছায়া-সরকারের বিভিন্ন সদস্যদের নামের তালিকাও পেয়েছেন গোয়েন্দারা। সেনা অভু্যত্থানের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানোর প্রধান চক্রানত্মকারী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব) এহসান ইউসুফ এবং প্রবাসী ব্যবসায়ী ইশরাক আহমেদ। ষড়যন্ত্রে প্রত্যক্ষ জড়িত থাকার পরিকল্পনা ফাঁস হওয়ার দু'দিন পর সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৫ ডিসেম্বর ক্যান্টনমেন্টের মাটিকাটা এলাকার বাসা থেকে এহসান ইউসুফকে গ্রেফতার করা হয়। অভু্যত্থান ষড়যন্ত্রে জড়িত প্রবাসী ব্যবসায়ী ইশরাক আহমেদ এবং মেজর সৈয়দ জিয়াউল হককে গ্রেফতার বা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, মেজর জিয়া যুক্তরাজ্যের একটি রোমিং মোবাইল সিম ব্যবহার করতেন। সেই সিম দিয়ে তিনি বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

