ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) থেকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে শিক্ষার্থীদের আরও ভালোভাবে শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে পড়াশোনার লক্ষ্যে বিদেশে পাড়ি জমান শিক্ষকরা। কিন্তু বিদেশে গিয়ে উন্নত জীবনধারায় অভ্যস্ত হয়ে এবং নীতিকে বিসর্জন দিয়ে তারা দেশে ফিরে আর বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন না। নীতি বিসর্জনকারী এমন শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও নিয়েছে কঠোর অবস্থান। আর তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভার নিয়মিত এজেন্ডায় পরিণত হয়েছে শিক্ষকদের চাকরিচ্যুতির বিষয়টি। জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি না নিয়ে মাসের পর মাস ছুটিতে থাকায় গত এক বছরে ২৩ জন শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সূত্র জানায়, ছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তাগাদা সত্ত্বেও কাজে যোগ না দেওয়ায় গত বছরের ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় ঢাবির অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাবের সিদ্দিকী এবং প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শামসুল আলম চাকরিচ্যুত হন। গত ২১ এপ্রিল চাকরিচ্যুত হন মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. ফয়জুল হক ও ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হেদায়েতুল্লাহ চৌধুরী। এর চার দিন পর গত ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় চাকরি হারান আরও চার শিক্ষক—উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এম এরশাদুল বারী, ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের মো. হামিদ উদ্দিন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান ও বাংলা বিভাগের মো. আমিনুর রহমান। পরবর্তীতে গত ১২ মে ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খান, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এ টি এম আবদুল্লাহ হিল শাফী ও ফার্মাসিউটিক্যালস কেমিস্ট্রি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. খন্দকার মিরাজুর রহমান চাকরিচ্যুত হন। গত ১০ আগস্টের সিন্ডিকেট সভায় চাকরিচ্যুত হন হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ জেড এম আনিসুর রহমান ও সহযোগী অধ্যাপক নুরুল হক। এ ছাড়া গত ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় চাকরিচ্যুত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত শিক্ষক—ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এ এফ এম মফিজুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর হোসেন, ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মন্ময় জাফর, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইকবাল আহমেদ সৈয়দ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুুদুর রহমান ভূঁইয়া ও জাহিদ হাসান চৌধুরী। একই অভিযোগে সর্বশেষ গত ৪ ফেব্রুয়ারি চাকরি হারান বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও তিন শিক্ষক— ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাসরিন ইসলাম খান, ফিন্যান্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কে এম মুরশেদ ও মো. মুশফিক উদ্দিন।http://www.shokalerkhabor.com/online/details_news.php?id=61978&& page_id= 6
শিক্ষকদের চাকরিচ্যুতির বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, অননুমোদিতভাবে যেসব শিক্ষক বিদেশে রয়েছেন তাদের প্রথমে চাকরিতে যোগদানের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশ শেষেও চাকরিতে যোগ না দিলে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়। আর এখনও যারা বিদেশে আছেন তাদেরকেও নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তারা যদি নোটিশ পেয়ে ফিরে না আসেন তবে তাদের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষকরা বিদেশে গিয়ে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ না দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ক্ষতি হয় কি না জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে বেতন ও ছুটি নিয়ে বিদেশ যান। তারপর না ফিরলে অবশ্যই ক্ষতি হয়। কিন্তু তাদের চাকরিচ্যুত না করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও বেশি ক্ষতি হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


