আমার প্রিয় পোস্ট
- অন্তরের আলোয় দেখেছি যারে - ১ - অনিক
- ছাদের কার্ণিশে কাক (দুই নম্বরী) - ফরিদ
- পাকি শান্তিরক্ষীদের কীর্তি - হিমু
- আমরা ভালো আছি - রাসেল ( ........)
- হা ঈশ্বর। এও হয়। এও শুনতে হয়। - হযবরল
- ফটোব্লগ: প্রজাপতির খামার নিয়ে স্বপ্ন দেখা মানুষকে উৎসর্গ - সাদিক
- ৭১ এর সকল বীর সেনানীর পক্ষ থেকে: ২০০৭ এর প্রজন্মের Xদফা দাবী - জ্বিনের বাদশা
- স্বপ্নবাজি - কিংকর্তব্যবিমূঢ়
- কনক্রিটের সৌধে পুস্প দেওয়া ইসলাম সম্মত না - বলেছেন রাম সন্না। ধমর্ান্ধরা মুড়ি খাও - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- স্বাধীনতা দিবসের স্যালুটঃ ঘোষক নিয়ে ক্যাচাল - ধুসর গোধূলি
- গল্প: গন্দম (পর্ব ১) - অমিত আহমেদ
- আজ সেই অভিশপ্ত দিন: লেননকে শ্রদ্্বা - আপন তারিক
- রাজাকার, জামাত এবং ইত্যাদি.... - অমি রহমান পিয়াল
- উপন্যাস : পৌরুষ - কিস্তি ১ - মুহম্মদ জুবায়ের
- রক্ষক যখন ভক্ষক ওরফে বেড়ালছানা ওরফে আরো অনেক কিছু - হিমু
- প্রনতি হে বেজন্মার জাত - অরূপ
- [সাইজ=6] ওম শান্তি-আস্ সালাম [/সাইজ] - হাসান মোরশেদ
- আসুন, আমরা একটি প্ল্যানচেটের আয়োজন করি... - কনফুসিয়াস
- ::বউ, বাটা, বল সাবান:: - নজমুল আলবাব
- গল্প : মাটিবর্তী ( পর্ব 1) - আলভী
- মুগ্ধ পাঠক - ৩ : আনোয়ার সাদাত শিমুল (অস্থির জনপদের পথিক) - আলভী
- নেত্রী আপনি শিগগীর চলে যান,আরিফ জেবতিক বাড়ি যাবে এখন..... - আরিফ জেবতিক
- মিছিল এগিয়ে যাক - শেখ জলিল
- একটি গল্প: ছিলা শামীমের বেহেশত - এস এম মাহবুব মুর্শেদ
- ...অত:পর ! - প্রজাপতি
- > সমান্তরাল গল্প:1 \ (প্রকাশিত নতুন ছোটগল্প) - কনফুসিয়াস
- । । গুল্ম ও কুঠার । । - হাসান মোরশেদ
আর্চিস গ্যালারী পেরিয়ে...
১৬ ই অক্টোবর, ২০০৬ রাত ১:২২
মাধবী কখনো সিডিউল মিস করে না। তপুই বরং মাঝে মাঝে দেরী করে। কিন্তু আজ উলটো ঘটনা। তপু পনের মিনিট আগে এসে অপেক্ষা করছে। এ সময়টায় আর্চিস গ্যালারীর ভেতরে ভীড় হয়। তপু-মাধবী ঈদকার্ড কিনবে, কিন্তু শর্ত হলো ঈদের সকাল ছাড়া খোলা যাবে না। ঈদের সকালে ফোনে 'ঈদ মোবারক' বলতে বলতে খাম খুলতে হবে। গত কয়েকটা ঈদে এমন হচ্ছে।
একটু পর মাধবীর রিকশা এসে থামে।
- উঠ, রিকশায় উঠ...।
- কোথায় যাবি? এখানেই তো আসার কথা ছিল।
- আহ্! উঠ তো, তারপর দেখবি কই যাই। মাধবী তাড়া দেয়।
তপু উঠে বসে।
রিকশা চলতে শুরু করলে মাধবী মাথায় ওড়না তুলে ঘোমটা দেয়। তপু হাসে - 'কীরে হঠাৎ মাথায় ঘোমটা দিলি'।
- মাথায় রোদ লাগে।
- এতক্ষণ রোদ লাগেনি, আমি পাশে বসার সাথে সাথে রোদ লাগা শুরু হলো?
- বুঝিস যখন - তখন এতো কথা বলিস কেন?
- এক কাজ কর, রিকশার সীটটা অনেক বড়। তোর ব্যাগটা আমাদের দুজনের মাঝখানে রাখ...
- চুপ করবি?
...রিকশা চলতে থাকে।
দুই.
মাধবীর কথাবার্তা তপু ঠিক বুঝতে পারে না। আবারো জিজ্ঞেস করে - 'আমি তোকে কত টাকা দামের কার্ড দিবো ওটা আমার ব্যাপার...'
- বললে সমস্যা কি?
- আমি কি তোকে জিজ্ঞেস করছি - তোর বাজেট কতো! তুই দিনদিন ছোটলোকের মতো কথা বলছিস...
- ঠিক আছে, আমি ছোটলোক। শোন, আমি তোকে 50 টাকার ঈদকার্ড দিবো। এখন বল - তুই কত টাকার দিবি?
- ওকে ধর, আমিও 50টাকার কার্ড দিবো। তপু জবাব দেয়।
- গুড, এখন আমাকে 50 টাকা দে।
তপু পকেট থেকে 50 টাকা বের করে দেয়।
মাধবী হাসে, বলে - তোর 50 আর আমার 50 মোট 100 টাকার গিফট কিনলাম একজনের জন্য।
- কার জন্য?
- জানি না। এখনো খুঁজে চলেছি।
রিকশা তখন কচুক্ষেত - ইব্রাহিমপুর - তের নাম্বার মোড় পেরিয়ে গেছে।
- চাচা, থামেন, থামেন, একটু থামেন। হঠাৎ মাধবী রিকশা থামায়।
তপুও রিকশা থেকে নামে। রাস্তার পাশ দিয়ে এক ময়লা কুড়ানো 'টোকাই' হেঁটে যাচ্ছিল। ওকে থামিয়ে মাধবী তার সাথে গল্প জুড়ে দেয়। নাম মিলন। কোথায় থাকিস, কী করিস, বাপ-মা কী করে...। এইসব। এই গল্পগুলো প্রায় একই রকম। তারপর মাধবী তার ব্যাগ থেকে শার্ট-প্যান্ট দুটো বের করে দেয়। নতুন জামা পরে মিলন ভূবন ভুলানো এক হাসি দেয়, জিজ্ঞেস করে - আফা, আপনে কে? কি করেন?
জবাব না দিয়ে - মাধবী তপুর হাত ধরে রিকশায় উঠে বসে।
তপু পেছন ফিরে দেখে - মিলন হাসি মুখে তাকিয়ে আছে তাদের রিকশার দিকে। এ যেন এক দেবশিশু স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে, হাসছে...।
তিন.
মিনিট দুয়েকের নীরবতা ভেঙে তপু খোঁচা দেয় - 'ভালোই লাগছে, মাদার তেরেসার সাথে নগর ভ্রমণ...'
মাধবী হাসি দেয় - আচ্ছা তপু, তুই তো প্রায়ই বলিস, আমরা স্টুডেন্ট মানুষ - এইসব বঞ্চিত মানুষদের জন্য আমরা কী-ই বা করতে পারি!
- হুম বলি...
- কিন্তু, এই যে আমাদের অহেতুক লোক দেখানো ফরমালিটিসের ঈদকার্ড দেয়া নেয়া; এই অভ্যাসটা কি আমরা পরিবর্তন করতে পারি না? ভেবে দেখ - তোর আর আমার 100 টাকা একজনের মুখে যে হাসি আনন্দ এনে দিলো, এটা কী খুব কঠিন কিছু?
- না কঠিন কিছু না। কিন্তু তোর কথাগুলোকে এই মুহূর্তে খুব কঠিন মনে হচ্ছে। ...তোর মাথার ঘোমটা কই?
মাধবী মুচকি হাসে।
'এখন রোদ লাগছে না' - বলে আরেকটু কাছে ঘেঁষে বসে।
প্রকাশ করা হয়েছে: সামার ওয়াইন বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৬ রাত ১:৪৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
মদন বলেছেন:
চমৎকার
কনফুসিয়াস বলেছেন:
শিমুল,ঠিক এই কারণেই আপনার লেখা এত আনন্দ নিয়ে পড়ি।
খুবই চমৎকার! আমাদের সামর্থের মধ্যে থেকেও আসলে আমরা অনেক কিছুই করতে পারি।
খুব ইচ্ছা করছে এই লেখাটা আমাদের বয়েসী সবাইকে পড়াই। কেমন করে সম্ভব বুঝছি না!
অতিথি বলেছেন:
দারুণ লেখা, তার চাইতেও সুন্দর লেখার পটভূমি, সবচাইতে অপূর্ব নৈতিক শিক্ষাটা যেটা ধরে হয়তো আমরা এই ইদেই কিছু করে দেখাতে পারবো।ধন্যবাদ শিমুল আপনাকে।
অতিথি বলেছেন:
শিমুল ভাই আপনার লেখাটা আমাকেও ভাবিয়ে তুলেছে..
মাধবীর মত চিন্তাগুলো যদি আমরা করতে পারতাম ...........
এই শিক্ষাটা আমরা কবে যে কাজে লাগাতে পারবো...???
অতিথি বলেছেন:
লেখাটা প্রসংশা না করে পারছি না...আসলেই চিন্তা করা উচিত... কি সবাই কি করে....???
এখন তো কে কার চেয়ে কত্ত দামী ঈদের নতুন জামা কাপড় কিনবে তা নিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমেছে... আমার এগুলো চিন্তা করলেই আশ্চর্য লাগে... আর কষ্ট লাগে...
শিমূল ভাই,
আপনি কখন লেখা পোস্ট করেন... আমি তো টের পাই না..
অতিথি বলেছেন:
মদন,থ্যাংকস্!
কনফুসিয়াস, শেখ জলিল, ধুসর গোধূলী, আবু সালেহ:
অসংখ্য ধন্যবাদ। এরকম টুকটাক চর্চা মনে হয় মন্দ হবে না!
মো: সাকিব আল মাহমুদ:
কী বলেন!!! জামা না কিনে ঈদের আনন্দ মাটি করবে কে? হা হা হা...
আমার লেখা চোখে পড়ে না - এই কথাটা অনেকেই বলেছেন। আমি কোন কারণ খুঁজে পাই না।
ভালো থাকুন।
অতিথি বলেছেন:
এরকম লেখা আরও চাই।
অতিথি বলেছেন:
[is=#800080]c
অতিথি বলেছেন:
শিমুল, আপনার লেখার সবচেয়ে সুন্দর দিক আমার মতে বিষয়বস্তু। খুব সহজ কিন্তু দৃষ্টি এড়িয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো চমৎকার গল্পের পটভূমিতে সফলভাবে উপস্থাপন করেন আপনি। আবারও অভিনন্দন। (একবার মন্তব্য লিখার পরে দেখি হাপিস হয়ে গেছে, তাই আবার লিখলাম।)
অতিথি বলেছেন:
প্রজাপতি,প্রথম পাতায় সামপ্রতিক মতামতে দেখলাম - আপনি কমেন্ট করেছেন। আমার পোস্টে এসে দেখি নাই! খানিকটা অবাক এবং বিরক্তও হয়েছিলাম!
এনিওয়ে - আপনার প্রশংসা ও অভিনন্দনের জন্য ধন্যবাদ!
মদন বলেছেন:
অনেক সময় নিয়ে লিখে ওকে করলে হাপিস হয়ে যায়।
খুশবু বলেছেন:
ভাল কথা
অতিথি বলেছেন:
মদন,ঠিক বলেছেন। তাই ওকে করার আগে কপি করে রাখি। আরেকটা সমস্যা হলো - মাঝে মাঝে নিজের ব্লগে নিজে কমেন্ট করতে পারিনা। মন্তব্যের নিচের জায়গাটা ব্ল্যাংক থাকে!
খুশবু,
মনে হয়...
অতিথি বলেছেন:
অবশ্যই খুবই গঠনমূলক লেখা..কনফুসিয়াস এর মত আমারো খুব ইচ্ছা করতেসে যে,কাছের মানুষগুলাকে এই লেখাটা পড়াই।এইসব বোধগুলা ক্ষণিকের জন্য ঠিকই ছুঁয়ে যায়..কিন্তু নিম্নমানের মানুষ বলে ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার উপরে কিছুতেই উঠা হয়না..
অতিথি বলেছেন:
বেড়ে লিকেচেন দাদা, আমার বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা ছোট ভাইটির মুখে একদম হাসি এনে দিয়েছেন।
কল্যাণমূলক গদ্য নাকি আজকালকার এনজিও গুলো বেশ দাম দিয়েই ছাঁপায় শুনেছি....
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
ধুসর গোধূলির সৌজন্যে লেখাটা পড়া হলো । তিনিই বলেছিলেন, এটা অনেকদিন মনে রাখার মত একটা লেখা ।এক কথায় অসাধরণ । ধন্যবাদ শিমুল ভাই ।
ইস ! আবার যদি আপনারা লিখতেন !
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন:
অ সা ধা র ণ
কঁাকন বলেছেন:
অ সা ধা র ণ
...অসমাপ্ত বলেছেন:
ভাঙ্গা পেন্সিল এর প্রিয় ব্লগ হয়ে এখানে এলাম। ....ভাল লাগল। চমৎকার ভাবনাগুলো মন ছুয়ে গেল।
একরামুল হক শামীম বলেছেন:
দারুন।
এখন ও বৃষ্টি ভালবাসি বলেছেন:
আপনার লেখা যখন পড়ি তখন কমান্ট করতে পারি নাই ।তাই আজ করলাম ।সম্ভব সুন্দর হইছে ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















