আমার প্রিয় পোস্ট
- অন্তরের আলোয় দেখেছি যারে - ১ - অনিক
- ছাদের কার্ণিশে কাক (দুই নম্বরী) - ফরিদ
- পাকি শান্তিরক্ষীদের কীর্তি - হিমু
- আমরা ভালো আছি - রাসেল ( ........)
- হা ঈশ্বর। এও হয়। এও শুনতে হয়। - হযবরল
- ফটোব্লগ: প্রজাপতির খামার নিয়ে স্বপ্ন দেখা মানুষকে উৎসর্গ - সাদিক
- ৭১ এর সকল বীর সেনানীর পক্ষ থেকে: ২০০৭ এর প্রজন্মের Xদফা দাবী - জ্বিনের বাদশা
- স্বপ্নবাজি - কিংকর্তব্যবিমূঢ়
- কনক্রিটের সৌধে পুস্প দেওয়া ইসলাম সম্মত না - বলেছেন রাম সন্না। ধমর্ান্ধরা মুড়ি খাও - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- স্বাধীনতা দিবসের স্যালুটঃ ঘোষক নিয়ে ক্যাচাল - ধুসর গোধূলি
- গল্প: গন্দম (পর্ব ১) - অমিত আহমেদ
- আজ সেই অভিশপ্ত দিন: লেননকে শ্রদ্্বা - আপন তারিক
- রাজাকার, জামাত এবং ইত্যাদি.... - অমি রহমান পিয়াল
- উপন্যাস : পৌরুষ - কিস্তি ১ - মুহম্মদ জুবায়ের
- রক্ষক যখন ভক্ষক ওরফে বেড়ালছানা ওরফে আরো অনেক কিছু - হিমু
- প্রনতি হে বেজন্মার জাত - অরূপ
- [সাইজ=6] ওম শান্তি-আস্ সালাম [/সাইজ] - হাসান মোরশেদ
- আসুন, আমরা একটি প্ল্যানচেটের আয়োজন করি... - কনফুসিয়াস
- ::বউ, বাটা, বল সাবান:: - নজমুল আলবাব
- গল্প : মাটিবর্তী ( পর্ব 1) - আলভী
- মুগ্ধ পাঠক - ৩ : আনোয়ার সাদাত শিমুল (অস্থির জনপদের পথিক) - আলভী
- মিছিল এগিয়ে যাক - শেখ জলিল
- একটি গল্প: ছিলা শামীমের বেহেশত - এস এম মাহবুব মুর্শেদ
- ...অত:পর ! - প্রজাপতি
- > সমান্তরাল গল্প:1 \ (প্রকাশিত নতুন ছোটগল্প) - কনফুসিয়াস
- । । গুল্ম ও কুঠার । । - হাসান মোরশেদ
একজন গরুর গল্প
২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৬ রাত ২:০৪
দিশাদের ড্রয়িং রুমে বসে আছি প্রায় ঘন্টা দু'য়েক হবে। এর মাঝে দুইবার চা দেয়া হয়েছে। সবাই হুড়াহুড়ি ছোটাছুটি করছে। আমার দিকে কারো খেয়াল নেই।
দিশার মা একবার এসে - "স্যার, আপনাকে চা দেয়া হয়েছে?" বলেই অন্য দিকে চলে গেলো।
আমি বসে বসে চা খাচ্ছি। সাথে দেয়া চানাচুরের পিরিচ থেকে একটা একটা করে বাদাম মুখে দিচ্ছি। অপেক্ষা করছি কখন খামটা হাতে পাবো। খামটা হাতে পেলেই বিসিএস কম্পিউটার সিটি; এক গিগার আইপড কিনবো। বাকী টাকা দিয়ে সিল্কের পাঞ্জাবী...।
এর মাঝে দিশা এলো দৌড়ে - "স্যার, হ্যাভ য়ূ্য সীন আওয়ার কাউ?"
দিশা সামনে ও-লেভেল দিবে । আমি ওকে ম্যাথ আর জিওগ্রাফি পড়াই। এই পড়ানোর পারিশ্রমিক আটকে আছে দুমাস ধরে। গত মাসে লজ্জায় চাইতে পারিনি। এবার তাই ড্রয়িং রুমে বসে আছি। টাকা না নিয়ে উঠবো না; এমন ভাব করছি। দিশার প্রশ্নে ধ্যান ভাঙলো
- দেখিনি, যাওয়ার সময় দেখে যাবো।
দিশা এবার ভুরু তুলে গড়মড় করে বলে
- য়ূ্য মাস্ট নট মিস ইট, ...দ্য মোস্ট এক্সপেনসিভ কাউ অব দ্য ইয়ার।
- শিউর!
দিশা চলে যায়।
আমি বসে থাকি। সামনে রাখা সানন্দা-য় চোখ বুলাই। পূজা স্পেশালে শাড়ী পরার নানান বাহার দেখি। কারো আসার শব্দ শুনলে টুপ করে পাশ থেকে ইত্তেফাক হাতে নিই। এভাবেই সময় কাটে। আর কেউ আসে না, আমার খামেরও খবর নেই। বাইরে তখন যোহরের আজান দিচ্ছে। একটু পর দুপুরের খাবার সময়। আমি বুঝতে পারছি না - এসময় কারো বাসায় বসে থাকা ভদ্্রতার কোন লেভেলে পড়ে! তবুও বসে থাকি। টাকাগুলো আমার খুব দরকার।
আরো কিছু সময় পরে খাম হাতে দিশার মা আসে হাসি মুখে
- 'স্যার, দুইমাসের টাকা আছে, পাঁচশ' কম। ঈদের গরু কিনতে গিয়ে অনেক খরচ হয়ে গেলো। ভাইবেন না - সামনের মাসে মিলায়ে দিমু নে...।'
নাঃ আন্টি, কী যে বলেন, অসুবিধা নাই - বলে বিনীত হয়ে হাসি দিয়ে খামটি নিলাম। ঘর থেকে বাইরে এসে খাম খুলে দেখি বেশীর ভাগ পঞ্চাশ টাকার নোট। সব গুলো নোট যেন একটু আগে কারওয়ান বাজারের মাছের আড়ৎ ঘুরে এসেছে!
খামটা পকেটে ঢুকিয়ে গেট পার হবো এমন সময় দিশার বাবা ইদ্্রিস আলী আমাকে ডাকে
- 'স্যার গরুটা এক নজর দেখে যান'।
পাঁচশ টাকা কম পেয়ে মেজাজ খারাপ হয়ে আছে। তবুও কাছে এগিয়ে যাই। গাবতলী হাটের সবচেয়ে দামী গরু; এক লাখ বিশ হাজার টাকা। ইদ্্রিস আলী খুব যত্নেকোরবানীর গরুর গায়ে হাত বুলাচ্ছেন। গরু তার বড় বড় চোখ দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আর যেন বলছে - 500টাকার জন্য মন খারাপ করিস না মানুষ। তারপর যেন মিষ্টি করে একটা হাসি দিচ্ছে। চরম বিদ্্রুপ মেশানো সে হাসি।
...সারা শহরের মানুষ হাসতে হাসতে খুন।
পত্রিকায় সবচে' দামী গরু ও তার ক্রেতার ছবি ছাপা হয়েছে। কিন্তু ক্যাপশন গেছে পালটে। ইদ্্রিস আলীর ছবির নিচে ছাপানো হয়েছে - 'এই গরুটির দাম এক লাখ বিশ হাজার টাকা"। আর গরুর ছবির নিচে লেখা হয়েছে - "ইনি জনাব ইদ্্রিস আলী যিনি পাশের গরুটিকে কিনেছেন।" পেপারটি হাতে নিয়ে দিশা ভেউভেউ করে কাঁদছে।
...কান্নার শব্দ আরেকটু বাড়লে আমার ঘুম ভেঙে যায়। বিজয় স্বরণীর জ্যামে বাস আঁটকে আছে। হঠাৎ রিনির ফোন কল
- কখন দেখা হবে?
- আইডিবি-তে চলে এসো বিকেল চারটায়।
- আইপড?
- হুম, আইপড। কেনো বিশ্বাস হচ্ছে না?
- য়ূ্য আর সো সু-ই-ট ডিয়ার...
- আসলেই?
তখন জ্যাম ছাড়িয়ে বাসটা নড়েচড়ে উঠেছে।
প্রকাশ করা হয়েছে: সামার ওয়াইন বিভাগে ।
অঃরঃপিঃ বলেছেন:
অসাধারণ লেখা হইছে। আ'ম ইমপ্রেসড। বাকাপ@শিমুল
অতিথি বলেছেন:
ক্যাপশনটির বিষয় জানতাম। তবে সাথে মিলানো গল্পটি একে আরও হৃদয়গ্রাহী করেছে। হাসি, কৌতুকের মাঝের দুঃখবোধটা কষ্ট দেয়।
অতিথি বলেছেন:
কুমার বিশ্বজিতের মত বলতে হয়, কেন যে ভাল লেখার মধ্যে বেশি মন্তব্য জমা পড়ে না। আমার আগে মাত্র দুইজন মন্তব্য করেছে। অথচ লেখাটা ভেরি গুড। এখানে কমপক্ষে 20টা মন্তব্য পড়া উচিত ছিল। চমৎকার লিখেছেন। আরো লেখা চাই।
অতিথি বলেছেন:
শিমুল ভাই--ঝাল কিন্তু বেমি হয়ে গেল।এইবার একটু ঠান্ডা খাওয়ান।
অতিথি বলেছেন:
বেশি হয়ে গেল
অতিথি বলেছেন:
চমৎকার লেখা।
অতিথি বলেছেন:
অ: র: পি: - অজস্র কৃতজ্ঞতা।
জলিল ভাই:
ঐটা কমন কৌতুক। তাই স্বপ্নে চলে গেছে। ধন্যবাদ।
সুপ্ত সবুজ:
আপনার এত্তো ভালো লেগেছে! থ্যাংকস্।
সাবি্বর:
টিভিতে একটা অ্যাড দিতো - "ঈদের গরমে একটাই ঠান্ডা। ঠান্ডার নাম - কোকাকোলা"।
খাইবেন? কবে?
আস্তমেয়ে:
আইডিপি না।
আইডিবি - সম্ভবত: ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক। মিরপুরের আগারগাঁওয়ে আইডিবি ভবনের পাশেই বিসিএস কম্পিউটার সিটি। ঐ মার্কেটে গেলে আমরা বলতাম - আইডিবি-তে যাই। তাই...
কৌশিক দা':
অনেক অনেক ধন্যবাদ, পড়ার জন্য ও মতামত দেয়ার জন্য।
অতিথি বলেছেন:
আরিফ ভাই:ভোরের কাগজের "অবসর" এ আপনার লেখা কলাম (নাম সম্ভবত) "টেলিবায়োস্কপ" ভীষণ আগ্রহ নিয়ে পড়তাম একসময়। পা.ফো-র কথা না-ই বা বললাম।
আরেকটা ঘটনা মনে পড়লো - 2001/02-এ বন্ধুসভা যেদিন - "সেরা বন্ধু"-দের অনুষ্ঠানটি করলো, সেদিন আপনার সাথে আমার সামান্য কথা হয়েছিল। সাথে ছিলো - মোর্জিনা মতিন কবিতা ও তার ভাই (আমার ক্লাসমেট) শান্ত।
এখানে আপনাকে, মোরশেদ ভাইকে, নজমুল আলবাবকে পেয়ে ভীষণ ভালো লাগলো।
অতিথি বলেছেন:
শিমুল। থ্যাংকস।
অনিক বলেছেন:
প্রশংসনীয় লেখা । পড়ে ভাল লাগলো। অল্প কথা অনেক স্বাদে ভরা।
অতিথি বলেছেন:
মাস্টারপিস।
হযবরল বলেছেন:
ঐ অভিজ্ঞতাটার সাথে পরিচিত। গল্পটা মাইন্ডব্লোয়িং।
শুভ বলেছেন:
শিমুল,গরুর লগে আপনের কথা হয়!
তাইলে ওইটা হরু না, গরুমানব

তা, গরু কি কইলো- দেশ নিয়া কি ভাবতাছে? আ মীন, দেশের চাক্কা তিন কোনা, না চার কোনা হয়া গেল...।
অতিথি বলেছেন:
চমৎকার
নজমুল আলবাব বলেছেন:
শিমুল : লেখাটা ভালো লেগেছে। এখানে আসার পর থেকে অন্যরকম একটা অনুভূতি টের পাই। অনেক আগের অনুভূতি। আপনি লিখেছেন আমার কথা, নিজের কথা কেউ মনে রেখেছে তাও বিশেষ একটা কারণে (লেখালেখি) ভাবতেই ভালোলাগে। আপনাকে ধন্যবাদ। কবিতা এখন কোথায়? আপনি কি জানেন? অনেকদিন পুরনো খবর পাই না।
অতিথি বলেছেন:
লাকি ম্যান! আমি তিন মাসের ট্যাকা পাই নাই। শাল উকিলের মাইয়ারে পড়াইতাম তো.....খাচ্চর একটা।
অতিথি বলেছেন:
অসাধারন গল্প।আরও অসাধারন লেগেছে,নিজের অনুভুতি আর অভিজ্ঞতার সাথে মিলে যাওয়ায়।
অতিথি বলেছেন:
এক লক্ষ বিশ হাজার টাকার গরুটা বলছে , 500 টাকার দু:খে মন খারাপ করিসনা মানুষ!অদ্ভূত, অদ্ভূত রকমের ভালো লেখা ।
অভিনন্দন শিমুল ।
কনফুসিয়াস বলেছেন:
হুম, শিমুলীয় গল্প।
অতিথি বলেছেন:
অনিক, চোর, হযবরল, ধুসর:অসংখ্য ধন্যবাদ!
শুভ:
গরুটা বললো - দেশের চাকা এখন দুই কোণা হয়ে গেছে, মন খারাপ করিস না মানুষ...। হা হা হা। আর গরুর ছবি সেভ করতে অনুমতি? লাগতেও পারে...।দামী গরু :-)
মুখেমারি, শাহেনশাহ, স্বরহীন:
ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগলো।
নজমুল আলবাব:
এখানে প্রথম পেলাম হাসান মোরশেদ ভাইকে। আমার অনুভূতিও আপনার মতো। কবিতা'পার কোন খবর জানি না, ভাই...।
মোরশেদ ভাই:
আপনার প্রতিটি মন্তব্য ভীষণ প্রেরণা দেয়। কৃতজ্ঞতা।
ভালো থাকুন সবাই।
অতিথি বলেছেন:
আমি ইমপ্রেসড...
অতিথি বলেছেন:
কনফু,পজেটিভ না নেগেটিভ অর্থে!
মুর্শেদ ভাই,
থ্যাংকস্!
শুভ,
নিক্তির ব্যাপারটা এখনো ক্লিয়ার না। এবার দিলেন গরুর গুতা। কই যাই...!
ঝরা পাতা বলেছেন:
ভয়াবহ রকমের সুন্দর, সাবলীল। সংখ্যা আরো এক বাড়লো।
অতিথি বলেছেন:
নতুন লেখা কোথায়?
ইমটি বলেছেন:
ভাল লাগলো
অতিথি বলেছেন:
মাস্টার আদমি ।
অতিথি বলেছেন:
সাম্প্রতিক মন্তব্যে গল্পের নাম দেখে ভাবছিলাম, গরুর আগে 'একটি' না বলে 'একজন' বলাটা কি ইচ্ছাকৃত?
অতিথি বলেছেন:
হুম, ইচ্ছাকৃত @ আস্তমেয়ে।
অতিথি বলেছেন:
হাহাহা... শিমুল আপনে জিনিয়াস। গল্পটা প্রথম থেকেই কি যে সত্যি সত্যি লাগছিলো!!! জব্বর এনজয় করলাম।
রাশেদ বলেছেন:
হুমম...ভালো লাগল।
মানুষ বলেছেন:
কতো দিন আগের লিখা!!

















।

