আমার প্রিয় পোস্ট
- অন্তরের আলোয় দেখেছি যারে - ১ - অনিক
- ছাদের কার্ণিশে কাক (দুই নম্বরী) - ফরিদ
- পাকি শান্তিরক্ষীদের কীর্তি - হিমু
- আমরা ভালো আছি - রাসেল ( ........)
- হা ঈশ্বর। এও হয়। এও শুনতে হয়। - হযবরল
- ফটোব্লগ: প্রজাপতির খামার নিয়ে স্বপ্ন দেখা মানুষকে উৎসর্গ - সাদিক
- ৭১ এর সকল বীর সেনানীর পক্ষ থেকে: ২০০৭ এর প্রজন্মের Xদফা দাবী - জ্বিনের বাদশা
- স্বপ্নবাজি - কিংকর্তব্যবিমূঢ়
- কনক্রিটের সৌধে পুস্প দেওয়া ইসলাম সম্মত না - বলেছেন রাম সন্না। ধমর্ান্ধরা মুড়ি খাও - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- স্বাধীনতা দিবসের স্যালুটঃ ঘোষক নিয়ে ক্যাচাল - ধুসর গোধূলি
- গল্প: গন্দম (পর্ব ১) - অমিত আহমেদ
- আজ সেই অভিশপ্ত দিন: লেননকে শ্রদ্্বা - আপন তারিক
- রাজাকার, জামাত এবং ইত্যাদি.... - অমি রহমান পিয়াল
- উপন্যাস : পৌরুষ - কিস্তি ১ - মুহম্মদ জুবায়ের
- রক্ষক যখন ভক্ষক ওরফে বেড়ালছানা ওরফে আরো অনেক কিছু - হিমু
- প্রনতি হে বেজন্মার জাত - অরূপ
- [সাইজ=6] ওম শান্তি-আস্ সালাম [/সাইজ] - হাসান মোরশেদ
- আসুন, আমরা একটি প্ল্যানচেটের আয়োজন করি... - কনফুসিয়াস
- ::বউ, বাটা, বল সাবান:: - নজমুল আলবাব
- গল্প : মাটিবর্তী ( পর্ব 1) - আলভী
- মুগ্ধ পাঠক - ৩ : আনোয়ার সাদাত শিমুল (অস্থির জনপদের পথিক) - আলভী
- নেত্রী আপনি শিগগীর চলে যান,আরিফ জেবতিক বাড়ি যাবে এখন..... - আরিফ জেবতিক
- মিছিল এগিয়ে যাক - শেখ জলিল
- একটি গল্প: ছিলা শামীমের বেহেশত - এস এম মাহবুব মুর্শেদ
- ...অত:পর ! - প্রজাপতি
- > সমান্তরাল গল্প:1 \ (প্রকাশিত নতুন ছোটগল্প) - কনফুসিয়াস
- । । গুল্ম ও কুঠার । । - হাসান মোরশেদ
পাকমন পেয়ার: আস্তমেয়ের শেঁকড় সন্ধানের অনাদায়ী দেনা সঞ্চিতি!
২৫ শে এপ্রিল, ২০০৭ সকাল ১০:৩২
আমাদের এল-শেপ স্কুল ভবনের বিভিন্ন রূম থেকে আগ্রহী চোখ ইতিউতি মারে আমার দিকে। বাতাস নেই একদম, খাঁ খাঁ রোদ। স্কুল মাঠের সবুজ ঘাসে রোদের ঝলকানি, মাঝে চিকমিক করে স্টার সিগ্রেটের রাংতা কাগজ। সময়টা তখন অন্যরকম। আমাকে ক্লাস থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। যে চ্যাপ্টার থেকে প্রশ্ন করা হয়েছে ঐ চ্যাপ্টার তখনো পড়ানো হয়নি। আমি মিনমিনে গলায় বলি - 'স্যার, ওটা এখনো পড়ানো হয়নি'। স্যার গেলেন ক্ষেপে - 'পড়ানো হয়নি মানে? তুমি নিজে না পড়লে কে পড়াবে? কয়দিন পর কী ঘোড়ার ডিমের বৃত্তি পরীক্ষা দিবা? অপদার্থ কোথাকার!' আমাকে বের করে দেয়া হয়, আমি দাঁড়িয়ে থাকি করিডোরে মাথা নিঁচু করে। বুক ধুকধুক করে, সিঁথি করে আঁচড়ানো তেল মাথার জুলফি বেয়ে ঘাম ঝরছে। স্যার কানে ধরতে বলেননি, তাই এক হাত দিয়ে অন্য হাতের নখ খুঁটি। মাঠের ওপাশে আইসক্রীমঅলা অলস হেলান দিয়ে বসে আছে। আমার মনে হয় রহস্যময় এক জগতে আমি দাঁড়িয়ে। এসময় শেষ হবে না কখনো। আমার মাথার উপর ঝুলানো স্কুলের ঘন্টা আর বাজবে না, ছুটি হবে না। আচমকা ভাবি - ঘন্টাটা ছিড়ে পড়ুক আমার পায়ে, কয়েকটা আঙুল থেতলে যাক। আমি বাড়ী চলে যাই। - - - সেদিন সময় পেরিয়েছে, সবাই জেনেছে এই অপদার্থ পড়া পারেনি বলে ক্লাসের বাইরে ছিল। আজ অনেক সময় পেরিয়ে ভেবে দেখি - স্কুল মাঠের ঘাস আর ছাত্র বদলিয়েছে কয়েক প্রজন্ম। লোহার ঘন্টার বদলে ইলেকট্রিক বেল এসে গেছে। অথচ এখনো কাউকে বলিনি - সেদিন অন্যায়ভাবে আমাকে ক্লাস থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল। সেদিনকার 'অপদার্থ' বিশেষণটি আমার জন্য প্রযোজ্য ছিল না।
প্রসঙ্গ: পাকমন পেয়ার। পাকমন পেয়ার কী? আমার লেখা ছোটগল্প-অনুগল্প-ফিকশন নাকি অন্য কিছু? সাহিত্যবোদ্ধারা হয়তো বলবেন - 'ফালতু, কীসব ছাইপাশ লিখেছ?'
মেনে নিয়ে বলবো, জানি। তবে আমার কাছে পাকমন পেয়ার একটি কনসেপ্ট, একটি আদর্শ। খানিকটা গল্পের ছলে বলতে চেয়েছি - এ কনসেপ্টে বেড়ে উঠা একটি প্রজন্মের কথা, আচরণের কথা। সম্প্রতি ব্লগ আপগ্রেডে অনেক কমেন্ট হারিয়ে গেছে। যদ্দুর মনে পড়ে - পাকমন পেয়ার যাঁরা পড়েছেন তাঁরা লেখাটিকে 'সত্যভাষণ' - 'ভালো গদ্য' - 'টেকমোল্লার অরিয়েন্টেশন' কিংবা 'টার্গেট জেনারেশন ঠিক আছে' জাতীয় কমেন্ট করেছিলেন। ফিকশন নাকি বাস্তব জানতে চেয়ে লিংক চেয়েছিলেন একজন। কেউই প্রশ্ন করেননি - লেখার চরিত্রগুলো কারা? লেখককে তার সৃষ্ট চরিত্রের বাস্তব অস্তিত্ব নিয়ে এমন জবাবদিহি করতে হয় কী-না জানি না। (কীমাশ্চর্য! 'অপদার্থ' শিমুল আজ নিজেকে লেখক দাবী করছে! আচ্ছা, আসুন মেনে নিই - সে খুব লো ক্যাটাগরী লেখক অথবা ব্লগার, সাহিত্যের মাপকাঠিতে যার লেখা নিতান্তই ছাইপাশ)।
যেটা বলছিলাম, কেউ যদি আমাকে গলা টিপে জিজ্ঞেস করতেন - বল, পাকমন পেয়ারের রাসেদ-জাবের-সাফরিন-শাকের কিংবা লোমেলারা কারা? অথবা গলা টিপার বদলে আমার সুহৃদরা যদি চোখে চোখ রেখে বলতেন - 'ওরা কারা?'; আমি একই জবাব দিতাম। খুব কাছ থেকে দেখা একটি উঠতি জেনারেশনের টুকটাক গল্প বলার সুযোগও হয়তো পেতাম। কিন্তু আপাত: আমার সে সুযোগটি নষ্ট হয়ে গেছে।
সামহয়্যারইনব্লগের সুপরিচিত ব্লগার আস্তমেয়ে অধুনা সন্ধ্যাবাতি তাঁর 'শেঁকড়ের সন্ধানে' ব্লগস্পটে 'সাহিত্যে নব্য রাজাকার-১' শিরোনামে একটি লেখা লিখেছেন। পড়লাম। পড়ে একটি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। তিঁনি নাকি বুঝতে পেরেছেন - তাঁর লেখা আমি দীর্ঘদিন ধরে পড়েছি এবং তাঁর বিভিন্ন পোস্ট থেকে 'ধারণা' নিয়ে আমি লিখেছি পাকমন পেয়ার। [তাঁর ভাষায় - 'পাকসার জমিন']
ব্যাখ্যা করতে গিয়ে - ৮টি পয়েন্ট তুলে ধরেছেন আস্তমেয়ে, যার ৫টি নাকি আমার 'ইমাজিনেটিভ মস্তিষ্কের উদ্ভাবন'। বাকী ৩টি কোন না কোন সময়ে তাঁর পোস্টে 'উঠে এসেছে হয়তো'। [লক্ষ্য করুন - শেষে 'হয়তো' আছে]
এনিওয়ে, মিলে যাওয়া ৩টি পয়েন্ট কী?
১) মা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের টিচার
২) সামী ইউসুফ ভালোবাসে
৩) হিজাব পড়ে।
আস্তমেয়ের মা ইংলিশ মিডিয়ামের টিচার কী-না আমি জানি না। আস্তমেয়ে সামী ইউসুফ ভালোবাসে কী-না আমি জানি না। তবে কোন এক পোস্টে দেখেছিলাম - তিঁনি হিজাব পরেন।
নো প্রবলেম। মেনে নিলাম, ৩টি কম্বিনেশনই হলো - মা টিচার, সামী ইউসুফ এবং হিজাব।
তাহলে? তাহলে - হয়ে গেলো? ওটাই আস্তমেয়ে?
পৃথিবীতে এমন কেউ কী আর নেই যার মা টিচার, সে হিজাব পরে এবং সামী ইউসুফের গান শুনে!
আস্তমেয়ের মতে - আমি দীর্ঘদিন ধরে ব্লগে তাঁর লেখা পড়ে অমন চিত্র এঁকেছি। এই 'দীর্ঘদিন'-এর ব্যপ্তি কতটুকু? আমি ব্লগে এসেছি জুলাইয়ে, পাকমন পেয়ার লিখেছি নভেম্বরে। এই চারমাসে আমি আস্তমেয়ের ক'টা পোস্ট পড়েছি? বলে রাখি - আস্তমেয়ে, আপনার লেখা আমি কখনোই আগ্রহ নিয়ে পড়ি না। কেন পড়িনা সেটা ভিন্ন প্রসংগ। আচ্ছা আস্তমেয়ে, আমি আপনার ক'টা পোস্টে কমেন্ট করেছি? খুঁজে পাবেন? আপনার আমার মাঝে কখনো মিল-অমিল ঘটেছে বলেও তো মনে পড়ছে না!
পাকমন পেয়ারে ফিরে আসি। আস্তমেয়ের ৮টি পয়েন্টের ৫টির পাশে প্রশ্নবোধক চিহ্ন (?) দেয়া আছে যেগুলো আমার 'মস্তিষ্কের উদ্ভাবন'। প্রশ্ন হলো - এই ক্যাটাগরীতে পয়েন্ট ৫টি কেন? পাকমন পেয়ার তো পুরোটাই আমার মস্তিষ্কের উদ্ভাবন। আমি আরও ৫টি পয়েন্ট তুলে ধরি -
১) রাসেদের আব্বি-আম্মি করাচী যায়
২) রাসেদ-জাবের-শাকের-সাফরিনরা এবার এ-লেভেল দিয়েছে
৩) ফ্যান্টাস্টিক ফোর আর গ্যাংস্টার দেখতে দেখতে ম্যাকারনি খায়, গল্প করে
৪) তাহসান-হাবীব নিয়ে বিতর্ক হয়
৫) জাবেরের মামা সাংবাদিক যিনি একসময় হলিডে আর এখন নয়াদিগন্তে লিখেন।
এ ৫টি পয়েন্টের এক বা একাধিক কারো কারো সাথে এমনকি নামসহ মিলে যেতে পারে। রাসেদ নামে কারোর বাবা-মা করাচী যেতেই পারে। তার জাবের নামে বন্ধু থাকতে পারে। জাবেরের হয়তো একজন সাংবাদিক মামাও আছেন। এটুকু মিললেই ওরা দাবী করবে - আমি ওদের নিয়ে লিখেছি? এখন কী আমাকে জনে জনে প্রমাণ করতে হবে - "তোমাদের নিয়ে আমি লিখিনি, তোমাদের সাথে আমার সাত পুরুষের ফিজিক্যাল অথবা ফিন্যান্সিয়াল কোন রিলেশন ছিল না। ট্রাস্ট মী, তোমাদের নিয়ে এ লেখা নয়!"
সম্ভবনাকে আরো একটু আগাই। যদি আগামীকাল সকালে সাফরিন নামের এক মেয়ে, যে এবার এ-লেভেল দিয়েছে, তার বন্ধু রাসেদ আর জাবেরকে নিয়ে আমার কাছে আসে, দাবী করে তার মা ইংলিশ মিডিয়ামের টিচার, সে হিজাব পরে, সামী ইউসুফের গান ভালোবাসে। এবং বন্ধুদের সাথে প্রায়ই তাহসান-হাবীবের গান নিয়ে ঝগড়া হয় (আস্তমেয়ে ভেবে দেখুন, খুব অসম্ভব কিছু নয় কিন্তু!) - তাহলে তাকে আমার কী বলার থাকবে? আপনার চেয়ে তার দাবী নি:সন্দেহে বেশী শক্তিশালী!
এখন আরেকটা শংকা মনে জাগছে। পাকমন পেয়ারের আগে ও পরে আমার বিভিন্ন লেখায় নানান ধরনের মানুষের কথা এসেছে - গার্মেন্টস কর্মী, গার্মেন্টস মালিক, জেলা প্রশাসক, মিনিস্টার, নিহত নাবিকের বৌ-মেয়ে, প্রবাসী আনিস, মার্কেটিং অফিসার, বিজ্ঞাপনী সংস্থার মানুষ, ম্যাগাজিন এডিটর, প্রফেসর আশরাফ চৌধুরীসহ অনেক। লেখার সাথে বাস্তব কোন কোন ক্ষেত্রে মিলে যেতেও পারে। সামহয়্যারের কোন ব্লগারের সাথেও মিলতে পারে। এরকম মিলে গেলে সৌখিন ব্লগার হিসেবে অবাক হবো। আক্রান্ত ব্যক্তি যদি মানসিক বা সামাজিকভাবে আহত হন, করজোড়ে ক্ষমাও চাইবো। কিন্তু আস্তমেয়ে, আপনি যেমনটা অনুযোগ করেছেন - "এই লেখায় লেখক যা করেছেন, সেটা হলো অতি সুক্ষ্ম ভাবে পাঠককে এই ধারণা দিয়েছেন যে, যে সামী ইউসুফের গান শুনে, হিজাব পড়ে আর একটু আধুনিক ভাব ধরে, তার ব্যাপারে সাবধান। তার তলে তলে এই সব হচ্ছে।"
দু:খিত আস্তমেয়ে! আপনি শুধু ভুলই করেননি, আমার লেখাকে মিসইন্টারপ্রেট করে আমার প্রতি অন্যায় আঙুল তুলেছেন। দুই-আড়াইটা বিষয় আপনার সাথে মিলে গেছে বলে, পাকমন পেয়ারের চরিত্রটি আপনি 'নিজে' বলে দাবী করছেন? 'আধুনিক পাকিস্তান প্রেমের' দায়ভার নিজের কাঁধে নিচ্ছেন? কেন?
শেষে আরেকটি কথা। আপনার শেষ পয়েন্টটি ছিল - 'পাকিস্তান ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন দেখে'। এ ইস্যুতে লেখার শেষের দিকে আপনি পাকমন পেয়ারের লেখক ও পাঠকদের কিছু প্রশ্ন করেছেন -যার মূল কথা "বাংলাদেশ পাকিস্তানের সাথে মিলে মিশে একাকার হোক - কামনা করে, এমন মানুষ কোথায়?"
আচ্ছা, পাকমন পেয়ারের কোথায় বলা আছে - "পাকিস্তান ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন দেখে"!! কে দেখে? আপনি কোথায় পেলেন এটা? ইমপ্লাইড মিনিং হিসেবে ধরেছেন? যদি ধরে থাকেন তবে তার ব্যাখ্যা আমি আপনাকে দিবো না। লেখাটি এমনিতেই অনেক বড় হয়ে যাচ্ছে।
আমি অবশ্য এতো বড় লেখা না লিখে দু'লাইনে বলতে পারতাম - আস্তমেয়ে, আপনি 'ঠাকুর ঘরে কে রে? আমি কলা খাই না'-টাইপ আচরণ করছেন। ওটা বলবো না। যদি সময় পান - মাইবাংলামিউজিকডটকমে গিয়ে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর রচনা-পরিচালনায় 'কোথায় পাবো তারে' নাটিকটি দেখতে পারেন। চল্লিশ পঞ্চাশ মিনিটের নাটক। আনোয়ার সাদাত শিমুলের পাকমন পেয়ারে আস্তমেয়েকে খোঁজার যে বৃথা চেষ্টা করেছেন, তার বিনিময়ে 'কোথায় পাবো তারে' নাটকে অনায়াসে পেয়ে যাবেন 'সাহিত্যে নব্য রাজাকার -১' এর সন্ধিগ্ধ লেখককে।
স্কুল স্যারের 'অপদার্থ' বিশেষণটা এখন আর সিরিয়াসলি ভাবি না। গুরুজনেরা ওরকম বলতেই পারেন। কিন্তু আপনার দেয়া - 'ভয়াবহ ট্যালেন্টেড' ট্যাগটা মনে থাকবে অনেকদিন।
আমার ছোটখাটো তুচ্ছ একটি লেখায় আপনি শেঁকড় সন্ধান করেছেন, নিজেকে খুঁজেও পেয়েছেন। সামহয়্যারইন বাদ দিয়ে ব্যক্তিগত ও অপ্রকাশিত ব্লগে আড়ালে আবড়ালে জুডাসের জন্য ভুল ফাঁসির মঞ্চ সাজিয়েছেন। শংকা প্রকাশ করেছেন -রাজনীতি অথবা প্যারানয়া সৃষ্টির মাধ্যমে আপনার সম্পর্কে মানুষকে ভয় দেখাচ্ছি কি-না!
ভীষণ দু:খিত, আস্তমেয়ে! আপনাকে কখনোই সেরকম কোন আইডল কিংবা পার্সোনালিটি মনে হয়নি যে - আপনাকে নিয়ে ফিকশন লিখে চিন্তাশীল মানুষকে ভয়ার্ত করবো, নিয়ন্ত্রণ করবো। ওরকম সময় কিংবা ইচ্ছে কোনোটাই আমার নেই; আপনার জন্য তো নয়ই!
-----------
প্রকাশ করা হয়েছে: লেমন জুস বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে এপ্রিল, ২০০৭ সকাল ১০:৫৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
আনোয়ার সাদাত শিমুল বলেছেন:
সৌরভ:আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। জটিল ব্যাপারটি সহজ করে বুঝানোর জন্য। এখন থেকে যতবার লিংক ব্যবহার করবো ততবার আপনাকে মনে পড়বে।
অনুভূতি শূন্য কেউ একজন বলেছেন:
সহজ ব্যাপারটা সবাই বুঝে নিতে পারলেই হলো।-সৌরভ ।
--
হুমম, আস্তমেয়ে অথবা সন্ধ্যাবাতি র লেখা পড়া হয় না খুব একটা - না, ভুল বললাম , ইচ্ছে করেই পড়ি না।
কেউ যদি একাত্তর নিয়ে কথা বলা কে বিতর্ক তৈরির চেষ্টা বলে মনে করে - তার লেখা পড়া অথবা কথা শোনাও আমার মা কে অপমান করার সামিল হবে বলেই আমি মনে করি, তাই ।
নজমুল আলবাব বলেছেন:
স্যালুট
অমিত আহমেদ বলেছেন:
ব্লগের অনেকের সম্পর্কেই আমার প্রাথমিক ধারনা ভুল ছিল বোঝা যাচ্ছে।অসাধারন শিমুল ভাই, অসাধারন!
৫/৫
মোঃ আব্দুল খালেক বলেছেন:
বেশি লাফানো ভাল না তিনি সবই দেখেছেন
আস্তমেয়ে বলেছেন:
কোথায় পাবো তারে দেখেছি। হয়তো আপনার লেখাটাই বুঝি নি।
"তবে আমার কাছে পাকমন পেয়ার একটি কনসেপ্ট, একটি আদর্শ।"
--সেটা কি রকম? ওখানে একজনের মন্তব্য ছিল মনে আছে, 'একদম ঠিক, ওরা কিন্তু ঠিক সেভাবেই আগাচ্ছে।' কিসে আগাচ্ছে? আগানো কি পরিকল্পিত আগানোর কথা ইমপ্লাই করে?
আপনার মত ভয়াবহ ট্যালেন্টেড নই বলেই হয়তো একটা কথা বুঝাতে পারি নি, সেটা হলো 'ইমেজ কনস্ট্রাকশন'।
আদর্শিক লেখকেরা ইমেজ কনস্ট্রাক্ট করে কিছু মানুষকে উদ্দেশ্য করে কথা বলে। আপনি যেই ইমেজ কনস্ট্রাক্ট করেছেন, তাতে যেই মানুষগুলোকে 'পাকমন পেয়ার' এর দায়ে দায়ী করেছেন, তাদের "ইমেজ কনস্ট্রাকশন" নিয়ে বলেছি। সবগুলো চরিত্র একই মানুষের মধ্যে থাকবে না। কিন্তু এই বিশেষ চরিত্রগুলো থাকবে বলেই ওই মানুষটাকে সাহিত্যের বিশেষ ইমেজে দেখবে মানুষ।
সকালে নাস্তা খেল না খায় নি, কি নাস্তা খেয়েছে, এগুলো ইমেজ কনস্ট্রাকশনের মধ্যে পড়ে না। যা পড়ে, সেগুলো হলো--একটা কালচারাল আইডেন্টিটি গড়ে ওঠার জন্য যেগুলোর প্রভাব থাকে, সেগুলো। রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনে বা শরৎ সাহিত্য পড়ে ভাবলেই একটা বিশেষ গোষ্ঠীর কথা আমাদের মনে পড়ে। এই ব্যাপারটা তেমনই।
ইমেজ কন্সট্রাকশনের করে দেশের মানুষের একটা বড় অংশকে 'পাকমন পেয়ার' এর দায়ে অভিযুক্ত করলেন।
'টুয়েন্টি ফোর' 'ল এন্ড অর্ডার' এর মত আমেরিকান টিভি শো গুলোতে যখন টেররিস্ট বলতেই একটা মুসলিমকে দেখায়, যে কুরআন নিয়ে নিজের কাজের জাস্টিফাই করছে, তখন কথায় কথায় তো কতই বলা যায় 'আসলে প্রতিটা মুসলিম এক্ষেত্রে টার্গেট নয়', তবুও সাধারন মানুষের মধ্যে প্রেজুডিস তৈরি করতে কি ভীষণ ভাবে সহায়ক না সেই ইমেজ কন্সট্রাকশন? যে কখনও মুসলিমদের দেখেনি, সে কি ভেবেই বসবে না মুসলিম মাত্রই এরকম? এটাই পরিকল্পিত ইমেজ কনস্ট্রাকশন, যা প্রেজুডিস তৈরিতে সহায়ক।
একবার পড়ে আর পড়ি নি, পুরোটাই লিখেছি প্রথমবার মাথায় যা বসে গিয়েছিল তা থেকে। ধাক্কা খেয়েছি যেগুলো নিয়ে সেগুলোই বলেছি। বাকিগুলো রেজিস্টারই করে নি বলে মনে ছিল না।
এবার শুনি তবে, 'পাকমন পেয়ার' কথাটার অর্থ কি? এই আদর্শের লক্ষ কি তবে? 'ওরা কিন্তু ঠিক এই ভাবেই এই পথে আগাচ্ছে' কথাটার অর্থ কি?
পাকমন পেয়ার শব্দগুলো আমার কাছে বিদেশী। পাকি পাকি গন্ধ, করাচীতে আত্মীয়রা থাকে শুনেই ভেবে নিয়েছি পাকিস্তান ঘটিত কিছু ছিল। তারপর মন্তব্যের 'এই পথে আগানো' টা খুবই পরিকল্পিত আগানোর কথা মনে করিয়ে দেয়। তাই ভাবনাগুলো ওরকম হয়েছে।
দু'টো অনুরোধ:
১. 'পাকমন পেয়ার' কথাটার অর্থ বুঝিয়ে দিন।
২. আমেরিকান টিভি শোগুলোর উদাহরন দিয়ে যা বললাম সে ব্যাপারে কি একমত কি তা বলবেনকোথায় পাবো তারে দেখেছি।
হয়তো আপনার লেখাটাই বুঝি নি।
"তবে আমার কাছে পাকমন পেয়ার একটি কনসেপ্ট, একটি আদর্শ।"
--সেটা কি রকম? ওখানে একজনের মন্তব্য ছিল মনে আছে, 'একদম ঠিক, ওরা কিন্তু ঠিক সেভাবেই আগাচ্ছে।' কিসে আগাচ্ছে? আগানো কি পরিকল্পিত আগানোর কথা ইমপ্লাই করে?
আপনার মত ভয়াবহ ট্যালেন্টেড নই বলেই হয়তো একটা কথা বুঝাতে পারি নি, সেটা হলো 'ইমেজ কনস্ট্রাকশন'।
আদর্শিক লেখকেরা ইমেজ কনস্ট্রাক্ট করে কিছু মানুষকে উদ্দেশ্য করে কথা বলে। আপনি যেই ইমেজ কনস্ট্রাক্ট করেছেন, তাতে যেই মানুষগুলোকে 'পাকমন পেয়ার' এর দায়ে দায়ী করেছেন, তাদের "ইমেজ কনস্ট্রাকশন" নিয়ে বলেছি। সবগুলো চরিত্র একই মানুষের মধ্যে থাকবে না। কিন্তু এই বিশেষ চরিত্রগুলো থাকবে বলেই ওই মানুষটাকে সাহিত্যের বিশেষ ইমেজে দেখবে মানুষ।
সকালে নাস্তা খেল না খায় নি, কি নাস্তা খেয়েছে, এগুলো ইমেজ কনস্ট্রাকশনের মধ্যে পড়ে না। যা পড়ে, সেগুলো হলো--একটা কালচারাল আইডেন্টিটি গড়ে ওঠার জন্য যেগুলোর প্রভাব থাকে, সেগুলো। রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনে বা শরৎ সাহিত্য পড়ে ভাবলেই একটা বিশেষ গোষ্ঠীর কথা আমাদের মনে পড়ে। এই ব্যাপারটা তেমনই।
ইমেজ কন্সট্রাকশনের করে দেশের মানুষের একটা বড় অংশকে 'পাকমন পেয়ার' এর দায়ে অভিযুক্ত করলেন।
'টুয়েন্টি ফোর' 'ল এন্ড অর্ডার' এর মত আমেরিকান টিভি শো গুলোতে যখন টেররিস্ট বলতেই একটা মুসলিমকে দেখায়, যে কুরআন নিয়ে নিজের কাজের জাস্টিফাই করছে, তখন কথায় কথায় তো কতই বলা যায় 'আসলে প্রতিটা মুসলিম এক্ষেত্রে টার্গেট নয়', তবুও সাধারন মানুষের মধ্যে প্রেজুডিস তৈরি করতে কি ভীষণ ভাবে সহায়ক না সেই ইমেজ কন্সট্রাকশন? যে কখনও মুসলিমদের দেখেনি, সে কি ভেবেই বসবে না মুসলিম মাত্রই এরকম? এটাই পরিকল্পিত ইমেজ কনস্ট্রাকশন, যা প্রেজুডিস তৈরিতে সহায়ক।
একবার পড়ে আর পড়ি নি, পুরোটাই লিখেছি প্রথমবার মাথায় যা বসে গিয়েছিল তা থেকে। ধাক্কা খেয়েছি যেগুলো নিয়ে সেগুলোই বলেছি। বাকিগুলো রেজিস্টারই করে নি বলে মনে ছিল না।
এবার শুনি তবে, 'পাকমন পেয়ার' কথাটার অর্থ কি? এই আদর্শের লক্ষ কি তবে? 'ওরা কিন্তু ঠিক এই ভাবেই এই পথে আগাচ্ছে' কথাটার অর্থ কি?
পাকমন পেয়ার শব্দগুলো আমার কাছে বিদেশী। পাকি পাকি গন্ধ, করাচীতে আত্মীয়রা থাকে শুনেই ভেবে নিয়েছি পাকিস্তান ঘটিত কিছু ছিল। তারপর মন্তব্যের 'এই পথে আগানো' টা খুবই পরিকল্পিত আগানোর কথা মনে করিয়ে দেয়। তাই ভাবনাগুলো ওরকম হয়েছে।
দু'টো অনুরোধ:
১. 'পাকমন পেয়ার' কথাটার অর্থ বুঝিয়ে দিন।
২. আমেরিকান টিভি শোগুলোর উদাহরন দিয়ে যা বললাম সে ব্যাপারে কি একমত কি তা বলবেন।
নজমুল আলবাব বলেছেন:
খালেক হুজুরে কি কয়? খোলাসা করেন জনাব...
অমিত আহমেদ বলেছেন:
কথাটা কাকে, কেন, কি উদ্দেশ্য বললেন ঠিক বুঝলাম না খালেক ভাই।
শমশের আলম বলেছেন:
সস্তামেয়ের তাইলে চোরের মন পুলিশ পুলিশ হইছে। বুঝা গেলো এখনও পাকি আব্বুগো সাথে একত্র হইতে ভীষন মন চায় এগর।
আস্তমেয়ে বলেছেন:
টুয়েন্টি ফোর বা ল' এন্ড অর্ডারে মুসলিমদের উপস্থাপনে কেউ অপমানিত বোধ করলে কি সে 'ঠাকুর ঘরে কে রে আমি কলা খাই না' অভিযোগে অভিযুক্ত হবে?
আস্তমেয়ে বলেছেন:
আগের মন্তব্যে দুইবার পেস্ট হয়েছে, ওটা ডিলিট করে দিবেন প্লীজ। আবার দিলাম।কোথায় পাবো তারে দেখেছি।
হয়তো আপনার লেখাটাই বুঝি নি।
"তবে আমার কাছে পাকমন পেয়ার একটি কনসেপ্ট, একটি আদর্শ।"
--সেটা কি রকম? ওখানে একজনের মন্তব্য ছিল মনে আছে, 'একদম ঠিক, ওরা কিন্তু ঠিক সেভাবেই আগাচ্ছে।' কিসে আগাচ্ছে? আগানো কি পরিকল্পিত আগানোর কথা ইমপ্লাই করে?
আপনার মত ভয়াবহ ট্যালেন্টেড নই বলেই হয়তো একটা কথা বুঝাতে পারি নি, সেটা হলো 'ইমেজ কনস্ট্রাকশন'।
আদর্শিক লেখকেরা ইমেজ কনস্ট্রাক্ট করে কিছু মানুষকে উদ্দেশ্য করে কথা বলে। আপনি যেই ইমেজ কনস্ট্রাক্ট করেছেন, তাতে যেই মানুষগুলোকে 'পাকমন পেয়ার' এর দায়ে দায়ী করেছেন, তাদের "ইমেজ কনস্ট্রাকশন" নিয়ে বলেছি। সবগুলো চরিত্র একই মানুষের মধ্যে থাকবে না। কিন্তু এই বিশেষ চরিত্রগুলো থাকবে বলেই ওই মানুষটাকে সাহিত্যের বিশেষ ইমেজে দেখবে মানুষ।
সকালে নাস্তা খেল না খায় নি, কি নাস্তা খেয়েছে, এগুলো ইমেজ কনস্ট্রাকশনের মধ্যে পড়ে না। যা পড়ে, সেগুলো হলো--একটা কালচারাল আইডেন্টিটি গড়ে ওঠার জন্য যেগুলোর প্রভাব থাকে, সেগুলো। রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনে বা শরৎ সাহিত্য পড়ে ভাবলেই একটা বিশেষ গোষ্ঠীর কথা আমাদের মনে পড়ে। এই ব্যাপারটা তেমনই।
ইমেজ কন্সট্রাকশনের করে দেশের মানুষের একটা বড় অংশকে 'পাকমন পেয়ার' এর দায়ে অভিযুক্ত করলেন।
'টুয়েন্টি ফোর' 'ল এন্ড অর্ডার' এর মত আমেরিকান টিভি শো গুলোতে যখন টেররিস্ট বলতেই একটা মুসলিমকে দেখায়, যে কুরআন নিয়ে নিজের কাজের জাস্টিফাই করছে, তখন কথায় কথায় তো কতই বলা যায় 'আসলে প্রতিটা মুসলিম এক্ষেত্রে টার্গেট নয়', তবুও সাধারন মানুষের মধ্যে প্রেজুডিস তৈরি করতে কি ভীষণ ভাবে সহায়ক না সেই ইমেজ কন্সট্রাকশন? যে কখনও মুসলিমদের দেখেনি, সে কি ভেবেই বসবে না মুসলিম মাত্রই এরকম? এটাই পরিকল্পিত ইমেজ কনস্ট্রাকশন, যা প্রেজুডিস তৈরিতে সহায়ক।
একবার পড়ে আর পড়ি নি, পুরোটাই লিখেছি প্রথমবার মাথায় যা বসে গিয়েছিল তা থেকে। ধাক্কা খেয়েছি যেগুলো নিয়ে সেগুলোই বলেছি। বাকিগুলো রেজিস্টারই করে নি বলে মনে ছিল না।
এবার শুনি তবে, 'পাকমন পেয়ার' কথাটার অর্থ কি? এই আদর্শের লক্ষ কি তবে? 'ওরা কিন্তু ঠিক এই ভাবেই এই পথে আগাচ্ছে' কথাটার অর্থ কি?
পাকমন পেয়ার শব্দগুলো আমার কাছে বিদেশী। পাকি পাকি গন্ধ, করাচীতে আত্মীয়রা থাকে শুনেই ভেবে নিয়েছি পাকিস্তান ঘটিত কিছু ছিল। তারপর মন্তব্যের 'এই পথে আগানো' টা খুবই পরিকল্পিত আগানোর কথা মনে করিয়ে দেয়। তাই ভাবনাগুলো ওরকম হয়েছে।
দু'টো অনুরোধ:
১. 'পাকমন পেয়ার' কথাটার অর্থ বুঝিয়ে দিন।
২. আমেরিকান টিভি শোগুলোর উদাহরন দিয়ে যা বললাম সে ব্যাপারে কি একমত কি তা বলবেন।
চোর বলেছেন:
ছবি সিলেকশন খাপে খাপ হইছে।
আনোয়ার সাদাত শিমুল বলেছেন:
'কোথায় পাবো তারে' দেখেছেন জেনে ভালো লাগলো। নিশ্চয় দেখেছেন শহীদুল জহিরের লেখা গল্পের সাথে হুবহু মিলে যাওয়া মানুষগুলো কেমন অস্থির হয়ে উঠেছিল!আপনাকেও সেরকম অস্থির মনে হলো।
আমি নতুন কোনো তর্ক সূচনা করতে চাইনি। স্রেফ নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে চেয়েছি। বলতে চেয়েছি - 'পাকমন পেয়ার' আমি আপনার লেখা পড়ে লিখিনি। ওখানে কোনভাবে আপনাকে পোট্রেইট করিনি। আমার পোস্টে আমি বুঝানোর চেষ্টা করেছি, গল্পের আড়াইটি ইস্যুতে নিজেকে মিলিয়ে আপনি ভুল করেছেন। এ প্রেক্ষিতে আপনাকে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করেছিলাম। আপনি আমার প্রশ্নগুলোর জবাব দেন নি। বরং কিছু পাল্টা প্রশ্ন আমাকে ছুড়েছেন।
ফাইন।
'পাকমন পেয়ার' কেমন কনসেপ্ট সেটা লেখাটা ভালো করে পড়লেই বুঝা যাবে।
ওপস! আপনি তো বলেছেন - "একবার পড়ে আর পড়ি নি, পুরোটাই লিখেছি প্রথমবার মাথায় যা বসে গিয়েছিল তা থেকে। ধাক্কা খেয়েছি যেগুলো নিয়ে সেগুলোই বলেছি। বাকিগুলো রেজিস্টারই করে নি বলে মনে ছিল না। "
আরো বলেছেন - "হয়তো আপনার লেখাটাই বুঝি নি। "
আপনার এ দুটি মন্তব্যের পর আমার আর কিছু বলার থাকে না। সাহিত্যে নব্য রাজাকার-১ লেখার মতো এখানেও 'হয়তো' রেখেছেন। আপনি যখন নিশ্চিত না - আপনার পোস্ট থেকে আমি 'ধারণা' নিয়েছি কিনা, আপনি যখন নিশ্চিত না - আমার লেখাটি বুঝেছেন কি-না। তবে কেন আমাকে "ভয়াবহ ট্যালেন্টেড" তিলক পরাচ্ছেন?
আপনার এ দ্বান্দ্বিক অবস্থানকে সত্য ভেবে আমি আর কোন কথাই আগাতাম না এখানে। কারণ, যার মধ্যে এতো সংশয়, তার সাথে কীভাবে কথা বলি?
তবুও প্রশ্ন করেছেন, উত্তর দেয়ার চেষ্টা করি।
"একদম ঠিক, ওরা কিন্তু ঠিক সেভাবেই আগাচ্ছে।" বাক্যটি একটি কমেন্ট ছিল, আমার না, অন্য এক ব্লগারের। ব্লগ আপগ্রেডে মুছে গেছে। আপনি ওটা পড়েছেন? তাহলে পড়ে আমার পোস্টে কেন প্রশ্নটি রাখলেন না? আমার বিশ্বাস - যিনি কমেন্ট করেছেন, তিনি অবশ্যই জবাব দিতেন। না দিলে তাকে ভীতু, পরাজিত বলে মেনে নিতাম। যেহেতু বাক্যটি আমার নয়, আমি এ নিয়ে কোন কথা আপনাকে বলবো না।
ইমেজ কনস্ট্টাকশান নিয়ে আপনার নসিহত পড়লাম। আমার পোস্টে আমি স্পষ্টভাবে বলেছি - আপনার সাথে মিলে আড়াইটার মতো, সর্বোচ্চ -তিনটা। তাতেই হয়ে গেলো? এরকম কমন বিষয়ে কেউ যদি নিজের ইমেজ খুঁজে পায় তবে আমি সেটা মেনে নিতে পারবো না, অথবা দু:খিত আমি আপনার 'ইমেজ কনস্ট্রাকশন' ক্লাসের ছাত্র হতে পারলাম না।
আদর্শিক লেখক কারা, কী লিখে? বাংলাদেশের কয়েকজনের নাম বলুন তো দেখি পাঠাভ্যাসের মাঝে পড়ে কি-না। আদর্শিক লেখক যদি থাকে, অনাদর্শিকও নিশ্চয় আছে? তারা কারা? নাম বলবেন?
কালচারাল আইডেন্টিটি দিয়ে ইমেজ পাওয়া যায়? রবীন্দ্র আর শরত একটি বিশেষ গোষ্ঠী পড়ে? কী শোনালেন!!! এই বিশেষ গোষ্ঠী কারা? আমি তো জানতাম - বাংলা সাহিত্য নিয়ে কেউ পড়লে এ দু'জনের লেখা আসে, সেটা একাডেমিক অথবা প্লেজার রিডিং হতে পারে। কিন্তু আজ আমি কী শুনি?
আরো আছে। আপনি বলেছেন: "ইমেজ কন্সট্রাকশনের করে দেশের মানুষের একটা বড় অংশকে 'পাকমন পেয়ার' এর দায়ে অভিযুক্ত করলেন।"
আমি তো জানতাম - রাসেদ, শাকের, সাফরীনরা শহুরে এফ্লুয়েন্ট সোসাইটির ক্ষুদ্র একটা অংশ। আপনি কীভাবে এদের মাঝে "দেশের মানুষের বড় একটা অংশ" খুঁজে পেলেন?
দু:খিত। আমেরিকান টিভি শো গুলো দেখার সুযোগ আমার হয়নি। ওটা আমার কনসার্ন না। আমি পাকমন পেয়ার নিয়ে আলাপে আগ্রহী। আমি জানতে চাই - আপনি 'পাকমন পেয়ার'-এর চরিত্রের দায়ভার নিজের কাঁধে কেন নিচ্ছেন? কেনই বা আড়ালের ব্লগে আমাকে নিশানা করে অমন সম্পাত দিলেন?
ধারণা করছি -আপনার মাঝে অস্থিরতা কাজ করছে এখনো।
কীপ য়্যুর হেড কুল, প্লিজ!
আমি আবার ডিসক্লেইমার দিই: আপনি পাকমন পেয়ারের কোন ক্যারেক্টার না।
ওকে!
অঃরঃপিঃ বলেছেন:
আস্ত মেয়ে আমার প্রিয় লেখক
হোসেইন বলেছেন:
আমার আগের কমেন্টটি মুছলেন কেন,জানতে পারি@শিমুল
আপন তারিক বলেছেন:
লা জবাব@শিমুল ভাই
আনোয়ার সাদাত শিমুল বলেছেন:
হোসেইন:কী বলেন! অদ্ভূত ব্যাপার, আমি কোনো কমেন্ট মুছিনি তো! কখন কমেন্ট করেছিলেন? ইন ফ্যাক্ট পিয়াল ভাইয়ের কমেন্টের আগ থেকেই আমি লগ আউট ছিলাম। আপনি আবার করেন, প্লিজ!
হোসেইন বলেছেন:
আমি বলছিলাম যে,আপনার প্রতি আমার যে শ্রদ্ধা ভক্তি ছিল,তা এই পোস্টের পরে কমে গেল।আপনি আস্তমেয়ের কথার জবাব দেন,এইটা দেখে আমি স্থম্ভিত। হাতী ঘোড়া গেল তল,আমি আপনি কই কতো জল।
হোসেইন বলেছেন:
হাসান মোরশেদ,আপনার জন্য ত্রিভুজের আজকের পোস্ট এবং সেখানে আশরাফের মন্তব্য অবশ্য পাঠ্য।
রাসেল ( ........) বলেছেন:
শিমুল বিষয়টা নতুন না আসলে- এমনটা চলবেই- জেলী ফিসের শরীরটা ছোটো কিন্তু অনেক শাখা প্রশাখা মিলিয়ে বিশাল এলাকা জুড়ে তার বিস্তৃতি-আস্তমেয়ের এমনই অহেতুক বিস্তৃতি আছে- পাকিস্তান- হেজাব- স্বাধীনতার ইতিহাস না জানা প্রজন্ম এবং ইত্যকার ইতর যত গুনাবলী আছে এদের যেকোনো পারমুটেশন কম্বিনেশন ঠিক তার বিস্তৃত প্রত্যঙ্গে গিয়ে লাগে-
তবে এত ব্যাখ্যার কোনো প্রয়োজন ছিলো না-
আনোয়ার সাদাত শিমুল বলেছেন:
হোসেইন:আমি স্যরি। কিছু করার ছিল না। জবাব না দিলে অনেকেই জানতো আমি স্পেসিফিক ব্লগারকে ম্যানিপুলেট করে গল্প লিখি। নিজের অবস্থান সুস্পষ্ট করা দরকার ছিল।
মোরশেদ ভাই:
ধন্যবাদ। তবে নেক্সট টাইম লিখতে গেলে 'ভয়াবহ' তকমাটা ভোগাবে হ্য়তো। তবুও চেষ্টা করবো...। ভালো থাকবেন।
অন্ধকার:
আছি ভালোই, কেটে যাচ্ছে যাপিত জীবন। আপনি ভালো আছেন? আমরা কী আগের পরিচিত? হবে নাকি আরো কিছু জানাজানি!
মাহবুব সুমন বলেছেন:
শিমুল , ব্লগের যে কটা লেখা একটানে মনের চোখের সামনে চলে আসে সে সব লেখার প্রথমটি হোলো পাকমন পেয়ার , এ শব্দটা আমি নিজেও এখন ব্যবহার করি। যাদের লাগবে তারা প্রতিবাদ করবেই। থেমে থাকবেন না। দেশ ও স্বাধীনতা সবার আগে। আমি আছি আপনার সাথে।
খাইছি তরে বলেছেন:
শিমুল কলমের কালি শেষ হইলে আমারে কইবা।
ধুসর গোধূলি বলেছেন:
শুধু জানিয়ে রাখলাম পড়েছি!
অনুভূতি শূন্য কেউ একজন বলেছেন:
দ্বিতীয় বার পড়লাম ।
বিধিমালা বলেছেন:
সত্য বললে আক্রান্তবোধ করার কি আচে! আমি আক্রান্তবোধ করি যখন আস্তমেয়ে আমার দেশের জন্ম নিয়ে প্রশ্ন করে
মেন্টাল বলেছেন:
কঠিন হইছে।
আনোয়ার সাদাত শিমুল বলেছেন:
সুমন বদ্দা:প্রথমবার তো, তাই একটা ট্রাই মারলাম। বুঝাইয়া দেখি, বুঝে কি-না। নেক্সট টাইম অন্য চিন্তা করা যাবে।
বাদবাকী সবাইকে বড় লেখা পড়ার জন্য সবিশেষ ধন্যবাদ।
স্বরহীন বলেছেন:
ওরা বুঝবে না।আপনি কি ভাত খাওয়া ভুলে যেতে পারবেন?পারবেন না।
কারন খাওয়া শিখার পর এটা খেয়ে ই শুরু , তার পর পপ্রতি দিন তিন বেলা....
ওদের অযৌক্তিক বিশ্বাস এর সাথে পরিচয় যখন বিশ্বাস বা যুক্তি কোন শব্দের মানে ই বুঝে না।তাই বুঝায়ে কিছু হবে না।ওটা মাথা থেকে যাবে না।
আর সাহিত্য ও যা পড়েছে, একটা পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে পড়েছে, কখন ও লেখকের পয়েন্ট থেকে দেখতে শিখে নাই, তাই কথা না বুঝলে দোষ দেয়া যায় না।
আতরাফ রহমান বলেছেন:
হমমম
কেমিকেল আলী বলেছেন:
শুধু মাত্র আপনাকে ধন্যবাদ দেবার জন্যই লগইন করলাম।লেখাটা যে কেমন হয়েছে তা বলার ভাষা আমার জানা নাই।
আপনি দীর্ঘজীবি হউন, সব সময় আপনার জন্য এই কামনা থাকবে--- আমার পক্ষথেকে।
আনোয়ার সাদাত শিমুল বলেছেন:
সৌরভ, রাসেল(........) আর স্বরহীনের মন্তব্যগুলোর আলাদা তাৎপর্য আছে।কেমিকেল আলী: ঐদিন কার ব্লগে যেন পড়লাম - 'দীর্ঘ নয়, তীব্র জীবন চাই'। কথাটা ভীষণ ভালো লেগেছে। ইদানিং সেরকম প্রত্যাশা করছি।
আপনার জন্যও শুভকামনা।
এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
পাকমন পেয়ারের পুরো লেখার সিরিজ অফলাইনে শেষ করেছি। মন্তব্য করা হয় নাই।।অনেকদিন পরে হলেও স্যালুট জানাচ্ছি।
কেমিকেল আলী বলেছেন:
জেলী ফিস না বস অকটোপাস, অথবা গিরগিটি যা পরিবেশের সাথে রং বদলায়।
কেমিকেল আলী বলেছেন:
অত বাল ভুল ধরলে আর কইতে পারুম না, হ্যা, মেইল পাইছি, এইদা কি মেইল, এক লাইনের, বড় করে দেওন যায় না?
যুঞ্চিক্ত বলেছেন:
শিমুল, পাক মন পেয়ার লেখাটা কি আর কোথাও প্রকাশের অনুমতি দেয়া যায়?স্বপ্ন দেখব বলে দু'হাত পেতেছি!
নজমুল আলবাব বলেছেন:
শেঁকড় সন্ধান কি শেষ হয়না ভাইজান??? নতুন কিছুকি এই নাদানরা পাইতে পারেনা?
আনোয়ার সাদাত শিমুল বলেছেন:
নজমুল ভাই:ব্লগে ইদানিং ভালো লেখার সংখ্যা বাড়ছে। আমার প্রিয় ব্লগাররা লিখছেন দূর্দান্ত সব লেখা। সময় পেলে অফলাইনেই পড়ে নিচ্ছি। এসবের মধ্যে নিয়মিত আমার ছাইপাশ না-ই বা উড়ালাম। অনেক ধন্যবাদ, বস!
কেমিকেল আলী বলেছেন:
প্প্ব্নপ্প্বজ্জপ্প্ব প্প্বজ্জ !!!!!!!!
অন্ধকার বলেছেন:
আমরা পরিচিত... ভালো আছি, ভালো থাকবেন।
আনোয়ার সাদাত শিমুল বলেছেন:
ব্লগে একজনকে পেলাম যিনি আগে থেকে আমাকে চিনতেন। আমার সৌভাগ্য। অথচ, উনি আড়ালেই রইলেন :-(অন্ধকার, আপনিও ভালো থাকবেন, আজ-কাল-পরশু, প্রতিদিন!
অন্ধকার বলেছেন:
অনন্ত শুভকামনা!
আস্তমেয়ে বলেছেন:
প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে লেখাটা আসায় বেশ ভালো রকমের থতমত খেয়েছিলাম। তৈরি ছিলাম না এরকম একটা লেখার মুখোমুখি হওয়ার জন্য। তাই আগে চিন্তাভাবনা গুছাতে পারি নি, বলাও হয় নি। আজকে মনে হলো, বলা উচিত। কারণ আমার ব্লগে এখনও এখান থেকে লিংক পেয়ে মানুষ যাচ্ছে। শুধু শুধু নিজের সম্পর্কে ভুল ধারণা করে থাকার সুযোগ আমিই সৃষ্টি করে দিচ্ছি।কয়েকটা পয়েন্ট ধরে বলব আমার কথাগুলো।
১. "সামহয়্যারইন বাদ দিয়ে ব্যক্তিগত ও অপ্রকাশিত ব্লগে আড়ালে আবড়ালে জুডাসের জন্য ভুল ফাঁসির মঞ্চ সাজিয়েছেন।"-- আপত্তি ছিল ব্লগের বাইরে লিখেছি বলে। ওই ব্লগটা প্রথম থেকে পড়ে আসলে বুঝতে পারবেন একটা সৎ প্রচেষ্টা ছিল নিজের ভাবনাগুলো এক সাথে গুছিয়ে লিখে বুঝার চেষ্টা করা, কেন কিছু সাহিত্য বা মানুষের কথায় আমি আক্রান্ত বোধ করি সে ব্যাপারে স্রেফ নিজের ভাবনাকে গুছানো। আমি লেখাগুলো পড়লে বুঝবেন, সেখানে কোন অদৃশ্য পাঠকের সাথে কথা বলা নেই, কোন অদৃশ্য পাঠককে প্রশ্ন করা নেই। ব্লগটা ব্যক্তিগত ব্লগ ছিল। মারাত্মক বায়াসড, কোথাও দাবী করি নি সেখানে নিরপেক্ষতা থাকবে।
আপনার এই লেখাটা যখন দেন, তার আগে থেকেই আমি ব্লগে বিশেষ কিছু ব্যাপারে নিজের মত প্রকাশ বন্ধ করে দিয়েছি। কারণটা ভীরুতা নয়, যুদ্ধ কৌশলও নয়। আমার চিন্তাভাবনা একটা বিশেষ ভাবে গড়ে উঠেছে নিজের ব্যক্তি জীবনের অসংখ্য অভিজ্ঞতার কারণে।
সেই চিন্তাভাবনা কাউকে ব্যক্তিগত ভাবে আঘাত করুক, সেটা আমি কখনও চাই নি।
যখন দেখেছি মানুষ সত্যিকারের কষ্ট পাচ্ছে, তখনই বলা বন্ধ করেছি একটু ভেবে দেখার জন্য--আমার চিন্তাভাবনায় কোন ভুল আছে কি না। আরেকটা ব্যাপার টের পেয়েছিলাম--তর্কে জড়িয়ে পড়লে নিজের মধ্যে গোঁড়ামী চলে আসে, অথচ গোঁড়ামী ব্যাপারটা আমি নিজে খুবই অপছন্দ করি। তাই তর্ক থেকে সরে আসতে চেয়েছি। বিশ্বাস নাও করতে পারেন, সে ক্ষেত্রে কিছুই করার নেই
বলা বন্ধ করেছি মানে পুরাপুরি, কারণ ব্লগ এমন একটা জায়গা যেখানে কথায় কথা বাড়ে। আমার একটা মন্তব্য থেকেই সম্পূর্ণ নতুন এক তর্কের সুযোগ এসে যেত, কে জানে সেখানে কাকে মেনিপুলেশনের সুযোগ করে দিতাম, আর নিজেরই ক্ষতি করতাম আরও তর্কের মুখে ভুল কথা কাজকে ডিফেন্ড করার পথ খুলে দিয়ে।
আরেকটা বড় কারণ ছিল ব্লগের পরিবেশ। তখন আমার বিরুদ্ধে পর্ণগ্রাফী দিয়ে 'আস্তবিরোধী' মুক্তিযুদ্ধ চলছে। যথেষ্ট সিঁটিয়ে গিয়েছি এরপরে। যদি ওই ঘটনাগুলো হতো না এই নিশ্চয়তা পেতাম, তাহলে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্লগেই বলতাম। দু:খজনক, সেই নিশ্চয়তা ব্লগে ছিল না। আর এটা বলতে আমার বিন্দুমাত্র খারাপ লাগে না--ওসব পোস্ট পেতে আমার ভালো লাগত না।
২. ক্ষমা চেয়ে নেই এই বক্তব্যের জন্য--"বুঝাই গিয়েছে আমার লেখা দীর্ঘ দিন ধরে পড়েছেন লেখক। আমার লেখা থেকেই আধুনিক পাকিস্তান প্রেমিক(+া) একটা চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করলেন।"
ভুল বুঝার জন্য আন্তরিক ভাবে দু:খিত এবং লজ্জিত।
গল্পকাররা গল্পের উপাত্ত নেন নিজের চারপাশ থেকে। আমি কিন্তু ভাবি নি "আমাকে" নিয়ে লিখেছেন, কিন্তু ভেবেছি আমার লেখাগুলো গল্পের উপাত্ত জুগিয়েছে। দাবী করছেন আমার লেখা পড়েন নি, তার মানে এই ধারণাও ভুল। আমার লেখা থেকে গল্পের রসদ পান নি, অন্য কোথাও থেকে পেয়েছেন। সে জন্যই লজ্জিত।
৩. "শংকা প্রকাশ করেছেন -রাজনীতি অথবা প্যারানয়া সৃষ্টির মাধ্যমে আপনার সম্পর্কে মানুষকে ভয় দেখাচ্ছি কি-না!"---এইবার কিন্তু আপনার ভুল হয়েছে।
আমি বলি নি আমার সম্পর্কে মানুষকে ভয় দেখাচ্ছেন।
আমার বক্তব্যটা পড়ুন:
"এই লেখায় লেখক যা করেছেন, সেটা হলো অতি সুক্ষ্ম ভাবে পাঠককে এই ধারণা দিয়েছেন যে, যে সামী ইউসুফের গান শুনে, হিজাব পড়ে আর একটু আধুনিক ভাব ধরে, তার ব্যাপারে সাবধান। তার তলে তলে এই সব হচ্ছে।"
গল্পকাররা নিজের চারপাশ থেকে উপাত্ত নেন। আমার সম্পর্কে প্যারানয়া সৃষ্টি কখনই আমার কনসার্ন ছিল না কিন্তু। আমার কনসার্ন ছিল, আমার লেখা থেকে আপনি গল্পের উপাত্ত নিয়েছেন এবং তাতে নিজের শঙ্কা মিশিয়ে এমন কিছু তৈরি করেছেন যা এই ক্যাটাগরিতে পড়ে:
"তাহলে এই প্যারানয়া সৃষ্টির কারণ কি নেহায়ত রাজনীতি? যেন মানুষ 'হিজাব', 'সামী ইউসুফ' ইত্যাদি কী ওয়ার্ড দেখে ছিটকে দূরে সরে যায়? ভয় পায়? হাজার হোক, সুস্থ চিন্তাশীল মানুষের চেয়ে ভয়ার্ত মানুষকে নিয়ন্ত্রন করা অনেক সহজ..."
৪. "এ ইস্যুতে লেখার শেষের দিকে আপনি পাকমন পেয়ারের লেখক ও পাঠকদের কিছু প্রশ্ন করেছেন -যার মূল কথা "বাংলাদেশ পাকিস্তানের সাথে মিলে মিশে একাকার হোক - কামনা করে, এমন মানুষ কোথায়?"
আচ্ছা, পাকমন পেয়ারের কোথায় বলা আছে - "পাকিস্তান ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন দেখে"!! কে দেখে?"
আপনার গল্পটা সেই প্রথম বার পড়ার পরে আজই প্রথম পড়লাম আবার। এর মাঝে পড়তে পারি নি, খারাপ লাগছিল তাই।
কেন প্রথমবার মনে হয়েছিল পাকিস্তান প্রেমী তাই বলি।
ক. শিরোনাম। 'পাক মন পেয়ার' নিশ্চয়ই বাংলা না!
খ. ছবি। ছবিতেই পাকিস্তানের ছবি আর পতাকা আছে। না বললেও চলে আসবে মাথায়।
গ. "পাক-বাংলাদেশ রিলেশন নিয়ে ডিসকাশন।" মনে পড়ে লাইনটা?
৫. আক্রান্ত বোধ কেন করেছিলাম সেটা বুঝার জন্য আবার পড়লাম লেখাটা। সাফাই গাওয়ার মত শোনালেও বলি--আমার চোদ্দ গোষ্ঠীর কেউ পাকিস্তানে থাকে না, কখনও পাকিস্তানে যায় নি। পাকিস্তান আমলেও কেউ পশ্চিম পাকিস্তানে যায় নি। পাকিস্তানের সাথে আমাদের কোন ধরণের কোন লেনদেন নেই। উর্দু শেরশায়েরীর প্রতি ফ্যাসিনেটেট মানুষ কম দেখা যায় না ব্লগে, উর্দু কিছুও আমাদের বাসায় আর পর্যন্ত আসে নি। বাবা নিতান্তই গ্রামের ছেলে, গ্রাম থেকেই উঠে এসেছে। তাই পাকি-প্রেমী অংশটায় নিজেকে খুঁজে পাওয়ার প্রশ্নই আসে না। রিকনসিলিয়েশন এত সহজে হয় না তাও জানি। পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের অনেক হিসেব অনাদেয় রয়ে গিয়েছে।
Click This Link
রিকনসিলিয়েশনের চিন্তাটা সাধারণ মানুষেরা করে না, রাজনীতি বিদরাই করে। উপরের লিংকে আছে ১৯৭৪ সালেই ওয়ার ক্রাইম ট্রায়াল বাতিলের গল্প, রাজনীতিবিদদেরই হস্তক্ষেপে।
সাধারন মানুষ যা মারা গিয়েছে, যেই সব নারীরা নির্যাতিত হয়েছে, ওদের হিসাব তো এমনি মিটার মত না।
আমি আমার "সজ্ঞানে" কখনও বলি নি ওসব ভুলে যেতে হবে, কারণ নিজেও বিশ্বাস করি না।
সুতরাং পাক মন পেয়ার প্রসঙ্গে আক্রান্ত বোধ করি নি। আক্রান্ত বোধের জায়গা অন্য... কিন্তু অসংখ্য।
৫. "ভার্সিটি অ্যাডমিশনের অবসরে ওরা একটি ওয়েব পোর্টাল তৈরি করছে। সাফরীন কাজ করছে উইমেন রাইটস অ্যান্ড লীডারশীপ সেকশনে। শরীয়া আইন যে নারীর পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত করে, ধর্মীয় অনুশাসনে থেকেও আধুনিকতার সাথে তাল মিলানো যায় এ ইসু্যগুলো নিয়ে কাজ করছে সাফরীন।"
সাফরীন যদি এই কাজটা করতে থাকে, তাহলে আমি যে আগ্রহী হবো! ধর্মীয় অনুশাসনে থেকে আধুনিকতায় তাল মেলানো যায় সেটা
মিয়া মোহাম্মদ হুসাইনুজ্জামান বলেছেন:
এই পোস্ট এবং আস্তমেয়ের মন্তব্য পড়ে প্রতিক্রিয়া:একটা ব্যাপার বুঝলাম না.... ছদ্মবেশী বাটপারকে উদ্দেশ্য করে একটা লেখা। আর আস্তমেয়ে কেন ছদ্ম-আবয়বটাকে বাটপারির সাথে একাকার করে ফেলছেন বুঝলাম না।
.
মুসলিম অনেকেই সামী ইউসুফের গান শুনে, প্রগতিশীল, লীড নেয়, বিতর্ক করে - এগুলো পজিটিভ সাইড। কাজেই বাটপার যখন ছদ্মবেশ নেবে ওগুলোই তো বেছে বেছে নেবে। ..... তাই বলে কি ঐ বেশটাই/কর্মকান্ডই বাটপারি??!! তা তো না --- ওগুলো চরম ভালো কিছু আধুনিক মানুষের পক্ষে করা সম্ভব জন্যই কিছু বাটপার সেগুলোর বেশ নেয়।
.
সাধারণত দাড়ি টুপিওয়ালা সিনিয়র মানুষগণ আমাদের সমাজে সজ্জন ব্যক্তি। তাই এখন খুনিরাও দাড়ি টুপি, হাতে তসবিহ... মুখে মধুর বানী নিয়ে ঐ ভাল লোকদের ছদ্মবেশ নিয়ে নিজের খুনি রূপটাকে লুকিয়ে রাখতে চায় ..... তাই বলে কি ওটাই খুনির রূপ!!
.
স্যুট-টাই পড়ে ইদানিং ছিনতাই, পকেটমারি হচ্ছে ঢাকায় --- ওরা ধরা পড়া এড়াতে এই ছদ্মবেশটা নিচ্ছে। সেটা নিয়ে কেউ যদি গল্প লেখে তাহলে আমি স্যূট টাই পড়ি বলে সেটা আমার লাগবে কেন... আমার ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে ধরে না ব্যাপারটা ....
শমশেরআলম বলেছেন:
ঐখানেই তো কবি নিরব আছেন
আপনাকে আমি একটা উদাহরণ দিয়ে বলে যেখানে তুলে ধরা ছদ্মবেশী বাটপার আমাকে বিন্দুমাত্র আক্রান্ত করতে পারে নি।
মাটির ময়না।
মাটির ময়নায় দেখবেন মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে ভীষণ আজে বাজে কিছু মানুষকে দেখানো হয়েছে। ছদ্মবেশী বাটপার।
কিন্তু এর বিপরীতে কাকে তুলে ধরা হয়েছে? ওই একই মাদ্রাসারই একজন হুজুরকে, যিনি একই সাথে ধার্মিক এবং ভীষণ সংবেদনশীল তাঁর ছাত্রদের ভাল মন্দের ব্যাপার।
তারিক মাসুদ ওই পরিবেশে বড় হয়েছেন তাই তিনি সত্যতা জানেন। তিনি জানেন, একই পরিবেশে কারা ছদ্মবেশী বাটপার আর কারা নয়। এই জানাটা কিন্তু তার চরিত্রায়নে প্রকাশিত হয়েছে, তীব্র মমতার মাধ্যমে।
যেই সব সাহিত্য পড়ে ধার্মিকদের প্রতি সব ধরণের মমত্ববোধের অভাব দেখি, সেই সব সাহিত্য পড়ে আক্রান্ত বোধ করি। বাটপারদের বিপরীতে যদি একই সাথে এমন চরিত্র তুলে ধরা হতো যার মধ্যে ধার্মিকতা আছে কিন্তু বাটপারী নেই, তাহলে কিন্তু আক্রান্ত বোধ করতাম না।
শিমুলের লেখাটার ওই বিশেষ অংশগুলোই আমাকে আক্রান্ত করেছে, কারণটা বিস্তারিত বলেছি।
মিয়া মোহাম্মদ হুসাইনুজ্জামান বলেছেন:
আস্তমেয়ে/সন্ধাবাতি,.
আপনার ব্লগস্পটের ব্লগে লালসালুর উপরে পোস্টটাই শুধু পড়েছি দুদিন আগে। গ্রহনযোগ্য যুক্তি।
.
ঘটনা হল, সবার লেখার স্টাইল এক না। লেখককে আপনি এই উপরোল্লেখিত পয়েন্টে প্রশ্ন করতেই পারেন। কিন্তু ব্যাপারটা ঝাপসা রয়ে গিয়েছিল আপনার এই মন্তব্যের আগে।
.
পরীক্ষায় ১০০তে ৯৬ পাওয়া একজনকে গার্ডিয়ান বলতেই পারে আর ৪ নম্বর কৈ গেল
.... (প্রাপ্ত ৯৬ নম্বরের কোন মূল্যায়ন হলো না?!!) সেটা কি ভাল গার্ডিয়ানশীপ? .
সেই অপ্রাপ্ত ৪ নম্বরকে ফোকাস করার মত করে লেখক একটা বিশেষ শ্রেণীকে ফোকাস করেছে .... তিনি লেখক হিসেবে অতটা ভাল/সুগঠিত না ও হতে পারেন। কিন্তু একজন জ্ঞানী পাঠক কি বাকী ৯৬ প্রাপ্ত নম্বরের মত মেজরিটির ব্যাপারটা বুঝবে না ... সবাই কি এ্যাতই নির্বোধ??!!
.
বরং আপনি লেখককে সাজেস্ট করতে পারেন যে, এই একই ইমেজের আরও ভাল মানুষ যে প্রচুর আছে, এটা লেখক কোন প্রকারে উল্লেখ করে দেন যেন -- সঠিক ইমেজ কনস্ট্রাকশনের স্বার্থে। ...
.
... এই প্রসঙ্গে বলে রাখি, আমি পাকমন পেয়ার পড়িনি ... তাই ওটা সম্পর্কে কঠিন/ভাল/খারাপ কোন মন্তব্য/সমালোচনা/আলোচনা করতে পারছি না। যতটুকু করলাম, তা আপনার লেখা পড়ে এবং এই পোস্ট পড়ে যা বুঝতে পেরেছি বলে মনে হয়েছে... তার ভিত্তিতে।
চোর বলেছেন:
এতদিন পরে আবার আস্তমেয়ের শেঁকড় ধইরা টানাটানি কেন?
আস্তমেয়ে বলেছেন:
"কিন্তু ব্যাপারটা ঝাপসা রয়ে গিয়েছিল আপনার এই মন্তব্যের আগে।"... জানি। কিন্তু ঠিক করতে ইচ্ছা হচ্ছিল না একদম, এক ধরণের ক্লান্তি বা অভিমানবোধ থেকেই। আজ হঠাৎ মন হল ঠিক না করলে নিজের সম্পর্কে ভুল ধারণার সুযোগ নিজেই করে দিচ্ছি। ক্ল্যারিফিকেশনে কিন্তু বলেছি ওই ব্লগটা নিতান্তই আমার পারসোনাল ব্লগ ছিল। লেখাটা আমি পাঠক হিসেবে নিরপেক্ষ ভাবে পড়ি নি, কোন লেখাই পড়ি না। ক্রমাগত আমার জানা ব্যাপার স্যাপারের সাথে ইন্টিগ্রেটেড হতে থাকে।
চোর বলেছেন:
হ
আনোয়ার সাদাত শিমুল বলেছেন:
আস্তময়ে/সন্ধ্যাবাতি:আমার কমেন্ট আছে - "পাকমন পেয়ার: নেকাবের আড়ালে ফিসফাস, এক অদ্ভুত সৎ প্রচেষ্টা" পোস্টে আছে।
লাল মিয়া বলেছেন:
ঠেলা
জেনারেল বলেছেন:
সর্বকালের সেরা পোষ্ট
এস্কিমো বলেছেন:
সর্বকালের সেরা পোষ্ট
রাশেদ বলেছেন:
হা হা হা হা!
দোলাহাসান বলেছেন:
ভাই আপনি আর লেখেন না কেন?এত চমৎকার ভাবে নব্য রাজাকারদের পরিচয় তুলে ধরেছেন যা এক কথায় অসাধারন।+++++
ব্রহ্ম বলেছেন:
প্রাচীনকালের কথা
মদনবাবু বলেছেন:
আরণ্যক যাযাবর বলেছেন:
ভন্ডদের মুখোশ খুলে দেয়া সর্বকালের সেরা পোস্ট।
সহমত।
এই পোস্টটা মনে হয় সামহ্যয়ারের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ পোস্ট । সবাইকে অনুরোধ এই পোস্টটা যেন একবার হলেও পড়ে ।
রাশেদ বলেছেন:
সেরম একটা পোস্ট। সবার পড়া উচিত।
মদনবাবু বলেছেন:
সবার আমার প্রিয় পোস্ট এ এই পোস্টটারে এ্যাড করে নিন । তাহলেই অনেকে জানবে এই গুপ্তধনের মর্ম ।
আরণ্যক যাযাবর বলেছেন:
অঃরঃপিঃ বলেছেন: আস্ত মেয়ে আমার প্রিয় লেখক২৫ শে এপ্রিল, ২০০৭ দুপুর ২:১৭
comment by: চোর বলেছেন: লেখক!
ইউ মিন, ৪০ বছর বয়স্ক....?
সাঈফ শেরিফ বলেছেন:
এই অসাধারণ লেখক এখানে আর লেখে না। এই অসাধারণ লেখক এখানে আর লেখে না।
দেরিতে হলেও অসাধারণ এ পোস্ট গুলো পেয়ে চোখে পানি এসে যাচ্ছে।
লেখককে সশ্রদ্ধ সালাম জানাই।
লেখক প্রিয় লিংক এ আর তার লেখা প্রিয় পোস্টে এবং সম্ভব হলে প্রিন্ট করে লেখাগুলো অধ্যয়ন করবো।
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন:
ঠেলা ... জানার আছে অনেক কিছু
মকসুদ আলম বলেছেন:
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন: ঠেলা ... জানার আছে অনেক কিছু
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন:
এইলেখাটা এখন ইতিহাস হইলেও কমেন্টের ঘরগুলায় কিছু দলিল আছে
আবদুল্লাহ আল জাফর মালেক বলেছেন:
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: এইলেখাটা এখন ইতিহাস হইলেও কমেন্টের ঘরগুলায় কিছু দলিল আছে
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















---
অনুভূতিশূন্য কেউ একজন ..