আমরা কথা বলতে ভালবাসি । আর তার চেয়ে বেশী ভালবাসি উপদেশ বিলি বন্টনে । আমরা ভালবাসি নতুন নতুন নীতি আর পদ্ধতি পরিকল্পনা প্রনয়নে কিন্ত বাস্তবায়নে আমরা নই । আমরা পারি সরকারের চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করতে ।কিন্ত নিজে কতটুকু দিচ্ছি দেশকে সেটা না হয় থাকুক উহ্য ।
আমরা ভালবাসি খুঁত ধরতে কিন্ত পারিনা প্রশংসা করতে । আমরা পছন্দ করি প্রতিবেশী দেশের দেশপ্রেমের কথা সগৌরবে বলত।কিন্ত পছন্দ করিনা নিজের দেশপ্রেমকে কাজে প্রমান করতে ।আমাদের ভাল লাগে কারও তোষামদির জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে । কিন্ত বিরক্ত লাগে জাতীয় পতাকাকে দাঁড়িয়ে সম্মান করতে । আমাদের ভাল লাগে যে কোন কাজের নেতিবাচক দিক নিয়ে আলোচনা করতে ।কিন্ত প্রচন্ড বিরক্তি ধরে কেউ যদি বিষয়টির ইতিবাচক দিক নিয়ে কথা বললে।
বেশ কিছুদিন আগে দেশে ঘটে গেল এক নিরব বিপ্লব । যদিও বিষয়টি আমাদের সবার জানা তবু অনেক ঘটনা, অনেক ত্যাগ ,অনেক কাহিনী রয়ে যাবে অজানা । কারন সেই একই , আমরা আলোচনা করি নেতিবাচকে। তাই অন্যান্য ঘটনার মত এই বিশেষ ঘটনাটির অনেক ইতিবাচক দিক রয়ে যাবে আমাদের কাছে অজানা ।
দেশে এই প্রথমবারের মত সম্পূর্ন ইলেকট্রনিক রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে সারাদেশে ৮ কোটি ৫০ লক্ষ ৮ হাজার ৩ শত ১১ জনের তালিকা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে । যে বিষয়টি ছিল এক অসাধ্য সাধনের মত । কিন্ত বাংলাদেশ আবার প্রমান করল বিশ্ব দরবারে যে এই দেশ চাইলে যে কোন অসাধ্য সাধন করে দেখাতে সক্ষম । যদিও প্রথম দিকে এই কাজটি কোন সংস্হাই সরকারের বেঁধে দেয়া সময়ে করতে প্রস্তত ছিলনা এমনকি বিদেশি সংস্হাও কোনভাবেই এই অল্প সময়ে এই কাজ সমাধা করতে রাজী ছিলনা ।এমনকি এই কাজে তাদের বাজেট ছিলো আকাশচুম্বী । এই সময় অন্যান্য সংস্হার মত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তার নিজস্ব পরিকল্পনা এবং সবচেয়ে কম বাজেটের একটি পরিকল্পনা সরকারের কাছে পেশ করে । এ সময় বরাবরের মত সেই জ্ঞানপাপীর দল এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লাগে । আসলে পরিকল্পনা টি নয় বরং একটি বিশেষ বাহিনীর কাছ থেকে বিষয়টি প্রস্তাব আকারে আসায় ।তারা বরাবরের মত বিরুদ্ধাচারন করা শুরু করে দেয় ।
কিন্ত নানা ঝক্কি ঝামেলা পাড়ি দিয়ে অবশেষে সেনাবাহিনীকেই এই দায়িত্ব অর্পণ করা হয় । এখানে একটি বিষয় উল্লেখ্যযোগ্য যে কাজটি সেনাবাহিনীকে দেয়ার পিছনে সরকারের ভূমিকার চেয়ে সাহায্যকারী সংস্হা বা দেশগুলোর কাছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রহনযোগ্যতা ছিল প্রশ্নাতীত । তাই তারা তাদের সাহায্যর হাত বাড়িয়ে দেন সেনাবাহিনীর পরিকল্পনা মাফিক এই বৃহৎ কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নে ।
প্রায় উনত্রিশ মিলিয়ন ডলার অর্থ সাহায্য আসে সরকারের তহবিল হতে এবং বাকী পন্চাশ মিলিয়ন ডলারের অর্থ সাহায্য আসে বিদেশি সাহায্য সংস্হা যেমন ইউ এন ডিপি, যুক্তরাজ্যর ডিএফআইডি , নেদারল্যান্ড, কানাডা, সুইজারল্যান্ড,ডেনমার্ক এবং গনপ্রজাত্ন্ত্রী কোরিয়া এবং নরওয়ে সরকার কাছ থেকে । এই অর্থ সাহায্য যোগানে ইউএনডিপি এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে ।
এই কাজে সেনাবাহিনীকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসে এশিয়া ফাউন্ডেশন । ৩৪টি স্হানীয় এনজিওকে সংঘটিত করে তারা জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহন করে। সারা দেশব্যাপী তারা ছড়িয়ে পড়ে জনগনকে ভোটার তালিকায় নাম লিপিবদ্ধ করতে ।
একইসাথে দেশব্যাপী মসজিদের ইমামদের ও অন্যান্য ধর্মাবলাম্বীদের কে তাদের নিজ নিজ ধর্মপালন স্হলে উৎসাহিত করা হয় এই কার্যক্রমে অংশগ্রহনের জন্য ।
চলবে .....।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

