প্রথম পর্বের পর
ধীরে ধীরে একটি অসম্ভব কাজ এগিয়ে যেতে থাকে পূর্নতার দিকে । এই বিশাল কর্মযজ্ঞের অংশ হিসেবে প্রথম অংশে প্রশিক্ষন । এই কর্মসূচীতে দেশে প্রথমবারের মত নির্বাচন কমিশন এবং সেনাবাহিনী একসাথে কাজ করে যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি উজ্জল মাইলফলক। এই ইলেকট্রনিক রেজিষ্ট্রেসন পদ্ধতিতে কাজ করার জন্য সারা দেশ থেকে সংগ্রহ করা হয় ৩ লক্ষ ৯ হাজার তথ্য সংগ্রহকারী, ১লক্ষ ৪হাজার কম্পিউটার অপারেটর , ৬২হাজার সুপারভাইজর এবং ৬ হাজার অফিসার, কর্মচারী এবং টেকনিক্যাল সাপোর্টার ।সর্বমোট ১০,০০০ ল্যাপটপ ওয়েবক্যাম সংযুক্ত এবং ফিংগারপ্রিন্ট স্ক্যানার এই কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয় ।
প্রশিক্ষন চলে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দ্রুত গতিতে । রাত দিন অক্লান্ত পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে চলে প্রশিক্ষন পর্ব।
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা প্রমান করে তারাও কোন অংশে কম নয় । মনোবলের দিক থেকে তারা ও স্বল্প সময়ে প্রশিক্ষন শেষ করে সেনাবাহিনীর সদ্যসদের সাথে পাল্লা দিয়ে ভোটার কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে চলে দূর্বার গতিতে ।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সেনাবাহিনী তথা বাংলাদেশ স্বশস্ত্র বাহিনী এই বিশাল কর্মযজ্ঞে তার নিজস্ব অভিজ্ঞতার আলোকে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশে স্বেচ্ছাসেবী সংস্হা এবং এই কর্মযজ্ঞে অংশ নেয়া বেসামরিক সদ্যসদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ শুরু করে।
সাগর উপকূলীয় অন্চলে নৌবাহিনী তার নিজস্ব নৌবহর এবং নৌ সেনাদের নিয়োজিত করে যোগাযোগ এবং লজিস্টিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য ।
নৌবাহিনীর সহযোগিতায় সম্ভব হয় সাগরে অবস্হিত দূরবর্তী দ্বীপগুলোকে ভোটার কার্যক্রমের আওতায় আনা ।এছাড়াও দূর্গম এলাকাগুলিতে সম্ভব হয় জনসাধারনকে ভোটার হিসাবে অন্তভূর্ক্তি করার।
সেনাদের সাথে দেশপ্রেমে উদ্ধুদ্ধ হয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম এবং কষ্ট স্বীকার করে আমাদের ছাত্ররা এবং অন্যান্য বেসামরিক সদ্যসরা । তারা প্রমান করেছে যে ,মনে দেশের জন্যে আন্তরিকতা আর দেশপ্রেম থাকলে যে কোন কষ্ট হাসিমুখে সহ্য করা যায় অবলীলায় ।
রাত জেগে তারা ঘন্টার পর ঘন্টা কাজ করে গেছে তাদের সকলের এক এবং একটি অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য। এর প্রতিদানে তারা যে অর্থ পেয়েছে সেটাকে সম্মানী বললে খুব একটা ভুল হবেনা । বরং তাদের ত্যাগ এবং কষ্টর পরিমান প্রদেয় অর্থ দ্বারা বিচার করা সম্ভব না ।
এই কার্যক্রমে পিছিয়ে ছিলনা বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও ।বরং তাদের সীমিত সম্পদ এবং লোকবল নিয়ে তারা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো এই অসাধ্য সাধনে । তাদের নিরলস সহযোগিতার কারনে সম্ভব হয় তথ্য সংগ্রকারীদের পার্বত্য অন্চলের মত দূর্গম এলাকায় গিয়ে এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখার । এবং এই প্রথমবারের মত ব্যাপক সংখক পার্বত্য অন্চলের অধিবাসীদের নাম ভোটার তালিকায় লিপিবদ্ধ করার ।
পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী এবং স্হানীয় তথ্য সংগ্রহকারী দল সমান তালে এই দূরুহ কাজ কে এগিয়ে নিয়ে চলে সমান গতিতে ।
এ ছিল এক অভূতপূর্ব প্রতিযোগিতা যার লক্ষ্য একটাই । দেশের জন্য বিশেষ একটি কাজকে তার লক্ষ্যর দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ।
চলবে ....।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

