গত কয়েকমাসে বিশ্ব রাজনীতির দরবারে ঘটে গেছে তুঘলকি সব কান্ড করখানা আর যার জের ধরে নাভিশ্বাস উঠছে সব বৃহৎ পরাশক্তির নীতি নির্ধারকদের । নতুন করে আবার তারা খুলে বসেছেন শত্রু এবং মিত্রদের হালখাতার তালিকা । এই দুই তালিকায় হতে পারে ব্যাপক রদবদল , পরিবর্তন আসতে পারে কিছু ক্ষেত্রে অভাবনীয় এবং কিছু ক্ষেত্রে গতানুগতিক ।
এই পরিবর্তনের ঢেউ যে আছড়ে পড়বে বিশ্ব রাজনীতিতে অচিরেই সেটা অনুধাবন করা গিয়েছিল যখন ইউরোপে রাশিয়ার কর্তৃত্ব খর্ব করার জন্য আমেরিকা কসোভোকে নিজে স্বীকৃতি দেয় এবং বেশ কিছু দেশকে তার রাস্তা অনুসরন করতে প্রভাবিত করে ।
একইভাবে নিজ কর্তৃত্বকে সুসংহত করতে পুরো ইউরোপ জুড়ে সন্ত্রাসবাদের দোহাই দিয়ে নিজ রাষ্টের নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং একইভাবে রাশিয়া ও শত্রু রাষ্ট্র গুলোকে কব্জায় রাখতে আমেরিকা ইউরোপের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন স্হানগুলোতে ক্ষেপনাস্ত্র প্রতিরক্ষা বুহ্য তৈরী করার পরিকল্পনা করে । এবং এ লক্ষ্যে তারা পোলান্ড সহ বেশ কটি দেশের সাথে চুক্তি করেছে বা করতে যাচ্ছে । যদিও এ বিষয়ে প্রথম থেকে রাশিয়া তীব্র বিরোধিতা করে গেলেও তাতে বিন্দুমাত্র কর্নপাত না করে স্রেফ গায়ের জোড়ে আমেরিকা এই কার্যক্রম কে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ।
এরই জের ধরে একসময় আমেরিকার প্রচ্ছন্ন ইশারায় জর্জিয়ার মত দেশ দক্ষিন ওসেটিয়ায় সামরিক অভিযান চালায় সেখানকার বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে ।কিন্ত রাশিয়ার তড়িৎ সমরিক হস্তক্ষেপ আমেরিকার সমস্ত পরিকল্পনাকে বানচাল করে দেয় । যার ফলে জর্জিয়াকে নিজ নির্বুদ্ধিতার কারনে প্রয়োজন মুহূর্তে একা একা মার খাওয়া ছাড়া আর কিছুই করার ছিলোনা । আমেরিকা তার বন্ধু রাষ্টগুলোর কাছে নিজের গ্রহনযোগ্যতা যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয় । সে কারনে জর্জিয়াকে সাহায্য না করলেও শেষ মুহূর্তে সে নিরাপত্তা পরিষদে জর্জিয়ার সার্বভৌমত্ব যাতে ক্ষুন্ন না হয় সেদিকে এখন নজর দিয়েছে।এবং রাশিয়ার হাত থেকে জর্জিয়াকে রক্ষা এবং রাশিয়ার সন্নিকটে ন্যাটোর সামরিক ঘাঁটি স্হাপন করার জন্য জর্জিয়াকে ন্যাটোর অর্ন্তভূক্তি করার সবার্ন্তকরনে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ।কিন্ত পরিস্থিতি এখন জর্জিয়ার প্রতিকূলে বলেই আপাতত প্রতীয়মান হচ্ছে । একদিকে যেমন আমেরিকা তথা ইউরোপ চাচ্ছে জর্জিয়াকে ন্যাটো বলয়ে অর্ন্তভূক্তি করে রাশিয়ার উপর চাপ সৃষ্টি করার অন্যদিকে রাশিয়া এই বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ঘোর আপত্তি জানিয়ে আসছে।
অন্যদিকে রাশিয়া যে স্রেফ ধোঁয়া তুলসী পাতা সেটা বললে সত্যকে অস্বীকার করা হবে । কারন জর্জিয়ার উপর শেন্য দৃষ্টি রাশিয়ার অনেকদিন আগে থেকেই ছিল । এবং দক্ষিন ওসেটিয়ার উপর জর্জিয়ার অগ্রাসনের আগে থেকেই এই ওসেটিয়ায় বিচ্ছিন্নতা বাদীদের পেছনে ইন্ধন যুগিয়ে যাচ্ছিল মস্কো । ৭০,০০০ জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই দক্ষিন ওসেটিয়াকে জর্জিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে ধীরে ধীরে আবার সোভিয়েত ইউনিয়নের পূর্বের অবস্থাকে ফিরিয়ে আনার একটা চেষ্টা এই বর্তমান পুতিন সরকার জোড় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কারন এক ভাষনে এই পুতিন বলেছিলেন যে সোভিয়েত ভেংগে যাওয়া ছিল বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় একটি দূর্যোগ । এর সূত্র ধরে পরবর্তীতে রাশিয়ান নেতৃত্ব মতপ্রকাশ করেন যে ইউক্রেনের একটি অংশ ক্রিমিয়া আসলে রাশিয়ার সাথে সংযুক্ত হওয়া উচিত । এই ধরনের মন্তব্য এবং আচরন অনেক আগে থেকেই ক্রমে ক্রমে হুমকী হিসেবে রুপ নিচ্ছিল রাশিয়ার ক্ষূদ্র প্রতিবেশী দেশ ইউক্রেন এবং জর্জিয়ার জন্য।
একইভাবে মলডোভার বিচ্ছন্ন হওয়ার পেছনে মস্কোর হাত ছিলো ।এবং মস্কো সরকার ধীরে ধীরে মধ্য এশিয়ার বিচ্ছিন্ন হওয়া পূর্বের সোভিয়েত রাষ্ট্রর অংশ যেমন কাজাকিস্তান ,উজবেকিস্তান এসব দেশগুলোকে অর্থনৈতিক ভাবে বিচ্ছিন্ন করে তাদেরকে ধীরে ধীরে রাশিয়ার পদাংক অনুসরন করানোর একটা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল । এমন কি বাল্টিক রাষ্ট্র সমূহ যেমন লাটভিয়া, লিথুনিয়া এবং এস্তোনিয়া এই দেশগুলো কে ক্রমান্বয়ে রাশিয়া বিভিন্ন ভাবে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে বহিঃবিশ্ব থেকে আলাদা করার চেষ্টা করছে। এবং এই সবকিছুর পেছনে কাজ করছে সোভিয়েত রাশিয়ার তথা পুতিন সরকারে পূনেত্রীকরনের নকশা ।
চলবে.. ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

