somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পৃথিবী কি আরেকটি স্নায়ুযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে !!! (২য় পর্ব)

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ২:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১ম পর্বের পর


এবার আসা যাক রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা বিষয়টি । সবে শেষ হওয়া জর্জিয়ার যুদ্ধের ফলাফল বিচার করলে হয়ত অনেকে ধারনা করতে পারেন যে রাশিয়া সামরিক দিক থেকে আবার আগের অবস্হানে ফিরে আসতে শুরু করেছে। এবং আপাতদৃষ্টিতে এরকম ভাবাটা স্বাভাবিক হলেও প্রকৃত পক্ষে বিষয়টি ভিন্ন । জর্জিয়ার যুদ্ধে রাশিয়ার অনেক সীমাবদ্ধতা লক্ষ্য করা গেছে




দক্ষিন ওসেটিয়ার যুদ্ধে রাশিয়ার সৈন্যবাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার লেফটেনেন্ট জেনারেল এনাতলী কুর্লভ যুদ্ধে আহত হয় এবং তাকে অনেক কষ্টে যুদ্ধেক্ষেত্র থেকে উদ্ধার করা হয়।এই ঘটনাটি থেকে একটি বিষয় বেশ পরিষ্কার বোঝা যায় যে তাদের বাহিনীর ভেতর বেশ দূর্বলতা আছে যেখানে তারা তাদের বাহিনীর শীর্ষস্হানীয় কমান্ডারের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধের শুরুতে রাশিয়া বেশ কটি যুদ্ধ বিমান জর্জিয়ার এন্টি এয়ারক্র্যাফট গানের (বিমান প্রতিরক্ষা কামান) গোলায় ধরাশায়ী হয় । কারন বিমান গুলো ছিলো বেশ পুরোনো ।তাছাড়া বিমান থেকে যে বোমা নিক্ষেপ করা হয় সেগুলোর অনেকগুলো মেয়াদকাল ছিলো সময় উত্তীর্ন ।



চিত্রে : জর্জিয়ার যুদ্ধে ব্যবহৃত একটি রাশিয়ান যুদ্ধ বিমান Tupolev Tu-22M ।এই রকম একটি বোমারু বিমানকে জর্জিয়া ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছিলো ।

চিত্রে : জর্জিয়ার যুদ্ধে ব্যবহৃত একটি রাশিয়ান যুদ্ধ বিমান Russian Sukhoi Su-25।এই রকম আরো একটি বোমারু বিমানকে জর্জিয়া ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছিলো ।

তাদের ব্যবহৃত বেতার ব্যবস্হা ছিলো বেশ সেকেলে ।এবং কোন কোন ক্ষেত্রে তাদের মোবাইল ফোনের উপর ভরসা করতে হয় ।যা কিনা প্রচলিত যুদ্ধের পরিপন্হী এবং নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকী স্বরুপ ।যুদ্ধে তাদের ব্যবহৃত নাইট ভিশন গগলস এবং অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র গুলো ছিলো বেশ সেকেলে ।



চিত্রে : জর্জিয়ার অভিমুখে রাশিয়ান বাহিনীর অগ্রাভিযান



তারপরও রাশিয়ার অতি অল্প সময়ে জর্জিয়ার যুদ্ধের সাফল্য পেছনে কাজ করছে রাশিয়ার ৫৮ আর্মির প্রশিক্ষিত সৈন্যদল এবং দীর্ঘদিন চেচনিয়ায় লড়াইরত প্রশিক্ষিত যুদ্ধবাজ সৈন্যদলের ব্যাপক অংশগ্রহন। এবং অধিক সংখ্যক আর্টিলারী গান এবং প্রচলিত মিসাইলের ব্যবহার ।






যদিও দক্ষিন ওসেটিয়ার মিলিশিয়ারা ব্যাপক হত্যা লুটতরাজ চালিয়েছিলো । কিন্ত যুদ্ধের সাফ্যলে তাদের তেমন কোন অবদান ছিলোনা । সেকেলে অস্ত্রর ব্যবহার করেও কেবল মাত্র সংখ্যাধিক্যতা এবং প্রশিক্ষিত সৈন্যদল এবং সঠিক যুদ্ধপরিকল্পনার কারনে অতি অল্প সময়ে রাশিয়ান বাহিনী জর্জিয়ার রাজধানী তিবলিসের ৪০ কিঃমিঃ দূরত্বে অবস্হান নিতে সক্ষম হয়।








এখানে একটি চার্টের মাধ্যমে জর্জিয়া যুদ্ধে অংশগ্রহনকারী দু পক্ষের সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হল ।এই চার্ট দেখে সহজে অনুমেয় যে শত সীমাবদ্ধতা থাকা স্বত্তেও শুধুমাত্র সংখ্যাধিক্যতার জন্য এই যুদ্ধে রাশিয়া অতি দ্রুত জয়লাভ করে ।



রাশিয়ার বর্তমানে একটি মাত্র বিমানবাহী রণতরী "এডমিরাল কুজনেস্তভ "আছে এবং সেটা বেশ দীর্ঘদিন যাবৎ বড় ধরনের কোন মহড়া অংশগ্রহন থেকে বিরত আছে । এবং আরেকটি চমকপ্রদ বিষয় হচ্ছে পূর্বের সোভিয়েত ইউনিয়নের সব বিমান বাহী রণতরী তৈরী হত বর্তমানের ইউক্রেনে ,যা কিনা এখন একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র।এবং রাশিয়ার বর্তমানে সবেধন নীলমনি এই এডমিরাল কুজনেস্তভ এর মেয়াদকাল ধরা হয়েছে আগামী ২০৩০ বছর ।



রাশিয়ার বর্তমানে একটি মাত্র বিমানবাহী রণতরী "এডমিরাল কুজনেস্তভ"


তাই রাশিয়া এখন বর্তমান বাজেটের উপর ভিত্তি করে পরিকল্পনা করছে আরো নতুন ৬ টি বিমান বাহী রণতরী । যা কিনা আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে রাশিয়ার নৌবহরে যুক্ত হবে বলে আশা করছেন বর্তমান রাশিয়ার নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল ভ্লাদিমির মাসোরিন । তিনি আরো বলেন বর্তমানে একটি বিমানবাহী রণতরী টির সাথে আরেকটি নতুন রনতরী যুক্ত হবে আগামী ২০১৫ সালের মধ্যে । আর এদিকে আমেরিকা এই বছরে তাদের ১৩ তম বিমানবাহী রণতরী কে কমিশন দেয়ার পরিকল্পনা করছে ।


চলবে...।

৮টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকাল

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫১



আজকাল আমার মনে হয় -
আমাকে কেউ পছন্দ করে না,
কারো কাছে গেলে, সে বিরক্ত হয়।
পোশাক অগোছালো, এলোমেলো চুল,
চোখের দৃষ্টি কেমন ঘোলাটে!
বীরত্ব দেখানোর কিছু নেই।
চতুর পুরুষ স্ত্রীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে ৯টি বছরঃ একজন লিলিপুটিয়ান থেকে সত্যিকার ব্লগার হয়ে উঠার গল্প

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

আজ আমার ৩য় বইয়ের জন্য চুক্তি করতে প্রকাশক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রকাশনা সংস্থা 'উত্তরণ'-এর মাসুদ ভাইয়ের বাংলাবাজারের অফিসে ঘণ্টাখানেক ছিলাম। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতেই আমার মনে একটি বোধোদয় আসে! আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×