১ম পর্বের পর
এবার আসা যাক রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা বিষয়টি । সবে শেষ হওয়া জর্জিয়ার যুদ্ধের ফলাফল বিচার করলে হয়ত অনেকে ধারনা করতে পারেন যে রাশিয়া সামরিক দিক থেকে আবার আগের অবস্হানে ফিরে আসতে শুরু করেছে। এবং আপাতদৃষ্টিতে এরকম ভাবাটা স্বাভাবিক হলেও প্রকৃত পক্ষে বিষয়টি ভিন্ন । জর্জিয়ার যুদ্ধে রাশিয়ার অনেক সীমাবদ্ধতা লক্ষ্য করা গেছে
দক্ষিন ওসেটিয়ার যুদ্ধে রাশিয়ার সৈন্যবাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার লেফটেনেন্ট জেনারেল এনাতলী কুর্লভ যুদ্ধে আহত হয় এবং তাকে অনেক কষ্টে যুদ্ধেক্ষেত্র থেকে উদ্ধার করা হয়।এই ঘটনাটি থেকে একটি বিষয় বেশ পরিষ্কার বোঝা যায় যে তাদের বাহিনীর ভেতর বেশ দূর্বলতা আছে যেখানে তারা তাদের বাহিনীর শীর্ষস্হানীয় কমান্ডারের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধের শুরুতে রাশিয়া বেশ কটি যুদ্ধ বিমান জর্জিয়ার এন্টি এয়ারক্র্যাফট গানের (বিমান প্রতিরক্ষা কামান) গোলায় ধরাশায়ী হয় । কারন বিমান গুলো ছিলো বেশ পুরোনো ।তাছাড়া বিমান থেকে যে বোমা নিক্ষেপ করা হয় সেগুলোর অনেকগুলো মেয়াদকাল ছিলো সময় উত্তীর্ন ।
চিত্রে : জর্জিয়ার যুদ্ধে ব্যবহৃত একটি রাশিয়ান যুদ্ধ বিমান Tupolev Tu-22M ।এই রকম একটি বোমারু বিমানকে জর্জিয়া ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছিলো ।
চিত্রে : জর্জিয়ার যুদ্ধে ব্যবহৃত একটি রাশিয়ান যুদ্ধ বিমান Russian Sukhoi Su-25।এই রকম আরো একটি বোমারু বিমানকে জর্জিয়া ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছিলো ।
তাদের ব্যবহৃত বেতার ব্যবস্হা ছিলো বেশ সেকেলে ।এবং কোন কোন ক্ষেত্রে তাদের মোবাইল ফোনের উপর ভরসা করতে হয় ।যা কিনা প্রচলিত যুদ্ধের পরিপন্হী এবং নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকী স্বরুপ ।যুদ্ধে তাদের ব্যবহৃত নাইট ভিশন গগলস এবং অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র গুলো ছিলো বেশ সেকেলে ।
চিত্রে : জর্জিয়ার অভিমুখে রাশিয়ান বাহিনীর অগ্রাভিযান
তারপরও রাশিয়ার অতি অল্প সময়ে জর্জিয়ার যুদ্ধের সাফল্য পেছনে কাজ করছে রাশিয়ার ৫৮ আর্মির প্রশিক্ষিত সৈন্যদল এবং দীর্ঘদিন চেচনিয়ায় লড়াইরত প্রশিক্ষিত যুদ্ধবাজ সৈন্যদলের ব্যাপক অংশগ্রহন। এবং অধিক সংখ্যক আর্টিলারী গান এবং প্রচলিত মিসাইলের ব্যবহার ।
যদিও দক্ষিন ওসেটিয়ার মিলিশিয়ারা ব্যাপক হত্যা লুটতরাজ চালিয়েছিলো । কিন্ত যুদ্ধের সাফ্যলে তাদের তেমন কোন অবদান ছিলোনা । সেকেলে অস্ত্রর ব্যবহার করেও কেবল মাত্র সংখ্যাধিক্যতা এবং প্রশিক্ষিত সৈন্যদল এবং সঠিক যুদ্ধপরিকল্পনার কারনে অতি অল্প সময়ে রাশিয়ান বাহিনী জর্জিয়ার রাজধানী তিবলিসের ৪০ কিঃমিঃ দূরত্বে অবস্হান নিতে সক্ষম হয়।
এখানে একটি চার্টের মাধ্যমে জর্জিয়া যুদ্ধে অংশগ্রহনকারী দু পক্ষের সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হল ।এই চার্ট দেখে সহজে অনুমেয় যে শত সীমাবদ্ধতা থাকা স্বত্তেও শুধুমাত্র সংখ্যাধিক্যতার জন্য এই যুদ্ধে রাশিয়া অতি দ্রুত জয়লাভ করে ।
রাশিয়ার বর্তমানে একটি মাত্র বিমানবাহী রণতরী "এডমিরাল কুজনেস্তভ "আছে এবং সেটা বেশ দীর্ঘদিন যাবৎ বড় ধরনের কোন মহড়া অংশগ্রহন থেকে বিরত আছে । এবং আরেকটি চমকপ্রদ বিষয় হচ্ছে পূর্বের সোভিয়েত ইউনিয়নের সব বিমান বাহী রণতরী তৈরী হত বর্তমানের ইউক্রেনে ,যা কিনা এখন একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র।এবং রাশিয়ার বর্তমানে সবেধন নীলমনি এই এডমিরাল কুজনেস্তভ এর মেয়াদকাল ধরা হয়েছে আগামী ২০৩০ বছর ।
রাশিয়ার বর্তমানে একটি মাত্র বিমানবাহী রণতরী "এডমিরাল কুজনেস্তভ"
তাই রাশিয়া এখন বর্তমান বাজেটের উপর ভিত্তি করে পরিকল্পনা করছে আরো নতুন ৬ টি বিমান বাহী রণতরী । যা কিনা আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে রাশিয়ার নৌবহরে যুক্ত হবে বলে আশা করছেন বর্তমান রাশিয়ার নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল ভ্লাদিমির মাসোরিন । তিনি আরো বলেন বর্তমানে একটি বিমানবাহী রণতরী টির সাথে আরেকটি নতুন রনতরী যুক্ত হবে আগামী ২০১৫ সালের মধ্যে । আর এদিকে আমেরিকা এই বছরে তাদের ১৩ তম বিমানবাহী রণতরী কে কমিশন দেয়ার পরিকল্পনা করছে ।
চলবে...।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

