somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঘুরে এলাম বিরিশিরি ও মুক্তাগাছা জমিদারবাড়ী :-B

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ১:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকেই চাপা গুঞ্জন শুরু হল বুয়েট বন্ধের আন্দোলন হবে । খেলা দেখে ঘুম ঘুম চোখে ক্লাস করে আর পোষাচ্ছে না । কিছুদিনের মধ্যেই পূর্বের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হল । ফলাফল বুয়েট বন্ধ । ছুটিতে বসে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে গেলে ঠিক করলাম ঢাকার বাইরে থেকে ঘুরে আসি । প্রশ্ন হল কোথায় যাব । হৃদয় বলল বিরিশিরি যাই । এই ছেলেটার আবার সিনিয়র আপু বড়ভাইদের সাথে ব্যাপক কানেকশন । খোঁজ নিয়ে জানাল যে এর আগেও বড় ভাইরা বিরিশিরি গিয়েছে । খোঁজখবর নিলাম কোথায় থাকবো, কি কি দেখবো । নির্ধারিত দিন ধার্য করলাম জুলাই মাসের শুরুতে (তারিখ মনে নাই) ।

যেদিন যাব সেদিন সকালে মুষলধারে বৃষ্টি । আমি কোনভাবে বাসা থেকে বের হলাম কিন্তু প্যাঁচ লাগলো রনির বাসায় । আংকেল এই বৃষ্টির মধ্যে কোনভাবেই আমাদের যেতে দিবেন না । যাইহোক ৮ টার সময় রওনা দেওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টি ১০ টার দিকে কমে এলে তড়িঘড়ি করে বের হয়ে গেলাম । ১১টায় বাসে উঠলাম মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে । ঢাকা থেকে বিরিশিরি সরাসরি বাস সার্ভিস আছে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে । টিকিট ১২০ ‌থেকে ১৮০ টাকা । বিরিশিরি(যদিও আসল বিরিশিরি আরও অনেক দূর বাকী) গিয়ে পৌছালাম তখন বাজে প্রায় ৩ টা । বাস থেকে নামার পর দৌড়ে একটা দোকানের নিচে গিয়ে দাড়ালাম । বাইরে তখন ঝুম বৃষ্টি । ওখানে ভাত খেয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম । বৃষ্টি ছেড়ে গেল । পড়ে একটা টেম্পুতে করে একটা ভাঙা ব্রীজ পর্যন্ত এলাম । এই ব্রীজের খুঁটি আছে কিন্তু মাঝে কোন রাস্তা নেই । লোকজন বলল এইটা কাদের সিদ্দিকীর বানানো ব্রীজ । অর্ধেক বানিয়ে টাকা নিয়ে চলে গেছে B:-) । প্রায় ৮-১০ বছর হল এই অবস্থা । টেম্পুতে করে ব্রীজের কাছে পৌছাতে সময় লাগলো ২০ মিনিটের মত । তারপর নৌকায় নদীপাড় হলাম । নদী পার হয়ে বাস ও টেম্পু পাওয়া যায় বিরিশিরি YMCA পর্যন্ত । আধাঘন্টায় পৌছে গেলাম । একেবারে YMCA এর দোড়গোড়া পর্যন্ত যায় বাস ও টেম্পুগুলো । ওখানে নেমে কাউকে জিজ্ঞাসা করলেই বলে দিবে YMCA কোথায় ।

তারপর ওখানে গিয়ে একটা ডাবল বেডের রুম নিলাম ১৮০টাকায় । আমরা মানুষ পাঁচজন । রুমে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে সন্ধ্যায় এলাকা ঘুরতে বের হলাম । মানুষ খুব কম । মোটামুটি নির্জনই বলতে হবে । একটা বাজার আছে । প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাওয়া যায় । সোমেশ্বরী নদীও দেখলাম । বর্ষায় নদী তার যৌবন ফিরে পেয়েছে যেন । শীতকালে গেলে অবশ্য নদীতে হাটু পানি । কিন্তু বর্ষায় তীব্র স্রোত । তাই ভরা সন্ধ্যায় আর নদীতে নামার দু:সাহস দেখালাম না কেউ ।

রাতে পার করে পরের দিন ঘুরতে বের হলাম সকাল ১০টার দিকে। এবারের লক্ষ্য গারো পাহাড় , চিনামাটির পাহাড়, নীল পানি, রাণীখং মিশন । সকাল বেলা বের হলাম বৃষ্টি সঙ্গী করে ।

যা যা দেখবো সবই সোমেশ্বরী নদীর ওপারে (যেদিক দিয়ে এসেছি ওই দিকে নয় কিন্তু) । তাই নদীর ঘাটে গিয়ে নৌকার জন্য অপেক্ষা । নদী পার হয়ে ঘুরতে যাওয়ার জন্য আমাদের হাতে দুইটা অপশন ছিল । রিকশা অথবা মটরসাইকেল । একটা মোটরসাইকেল সাধারণত চালকসহ ৩ জন বহন করে । কিন্তু বৃষ্টির দিনে রাস্তার ভয়াবহতা চিন্তা করে মটরসাইকেলের চিন্তা থেকে সরে আসলাম । রিকশা ঠিক করা হল ৩টা । ওই বৃষ্টি কাদার মধ্যে কোন রিকশাচালকই রিকশায় ৩ জন বহন করতে রাজি না । ভাড়া ঠিক করলাম রিকশা প্রতি ২৫০টাকা । কর্দমাক্ত রাস্তা ঠেলে রিকশা নিয়ে অনেক ঝক্কি পার হয়ে দুপুরে ১ টার দিকে পৌছালাম চিনামাটির পাহাড় ।

ওখান থেকে কাছেই (হাটা দূরত্বে) নীল পানি । কিন্তু বর্ষাকাল বিধায় নীল পানি পুরো ঘোলা অবস্থায় ছিল । শীতকালে ওই পানি গাঢ় নীল থাকে ।




ঘুরে দেখতে দেখতে প্রায় আড়াইটা । আমাদের সময় কম । সন্ধ্যার আগেই আবার ময়মনসিংহ শহরে ফিরে যাব । তাই গারো পাহাড় ও রাণীখং মিশন দেখা হয় নি । ফেরত চলে আসলাম । তাই যারা যাবেন ভবিষ্যতে তারা একদিন পুরোটা বিরিশিরি থাকার প্ল্যান করেই আসবেন ।
তাহলে সবগুলো জায়গা কাভার দিয়ে রাতে সোমেশ্বরী নদীর পাড়ে আউটিং করতে পারবেন । ফেরার পথে বিকাল হয়ে গেল । রুমে গিয়ে ব্যাগ গুছিয়ে টেম্পুতে করে ঘাটে নৌকা পার হয়ে বাসস্ট্যান্ড আসতে আসতে রাত হয়ে গেল । সর্বনাশা ব্যাপার হল ময়মনসিংহ শহরের শেষ বাসটাও মিস করেছি । আবার রাত ক্রমশ বাড়ছে । কিছু ক্ষণ পর হয়ত বিরিশিরি ফেরত যাওয়ার নৌকাও পাব না । শেষ পর্যন্ত ৪০০ টাকা গচ্চা দিয়ে একটা টেম্পু ভাড়া করলাম ময়মনসিংহ সদর পর্যন্ত ।

ময়মনসিংহে কি কি দেখলাম তা আরেকদিন বলব । আজকে এটুকুই । লেখাটা একটু বড় হয়ে গিয়েছে । প্রথম ভ্রমণকাহিনী লিখছি হয়ত একারনেই । এবার কিছু জানার জিনিস জানায়ে দেই ।

১। রিকশা যদি নেন তবে ভাড়ার ব্যাপারটা খুব ভাল করে মিটিয়ে নেবেন । কারন ফিরে আসার পর ওরা বকশিশ চাইবে এবং ৪-৫ হলে ওরা খুব সহজেই আপনাদের কোনঠাসা করে ফেলবে । ওখানকার লোকজনও রিকশাওয়ালাদেরই সাপোর্ট করবে । তাই যদি হাঁটার অভ্যাস থাকে ৮-১০কিলোমিটার তাহলে রিকশা না নেওয়াই ভাল । রিকশা নিলে রিকশাওয়ালারাই ঘুরিয়ে দেখাবে । আপনাদের খুঁজে বের করতে কষ্ট কম হবে ।

২ । যদি বিরিশিরি যান তবে অবশ্যই ২ দিন ২ রাত হাতে নিয়ে যাবেন । তা না হলে পুরোটা না দেখে অসম্পূর্ণ অবস্থায়ই ফিরে আসতে হবে ।

৩ । যদি ঢাকা থেকে মটরসাইকেল নিয়ে যেতে পারেন তবে সবচেয়ে ভাল হয় । প্রাইভেট কার নিয়ে যাওয়ার চিন্তাও করবেন না ।

৪। রাত্রে বেলা ময়মনসিংহ ফেরার বাস কিন্তু সন্ধ্যার সাথে সাথেই ছেড়ে চলে যায় । এটা মাথায় রাখতে হবে ।

৫। কেবল বিরিশিরি যাওয়ার ২ দিনের ট্যুর হলে জনপ্রতি দেড় হাজারের ভেতর অনায়াসে হয়ে যাবে (৫ -৬জনের হিসাবে) । দল যত ভারী হবে খরচ কমবে তবে সামান্য ।
৬। সোমেশ্বরী নদীর পাড়ে রাতে বারবিকিউ অথবা ক্যাম্পিং করতে চাইলে সব ব্যবস্থা সাথে নিয়ে যেতে হবে । ওখানে গিয়ে অ্যারেঞ্জ করার সুযোগ নেই ।

ভ্রমণের ছবিব্লগ দেখুন বিরিশিরি ও মুক্তাগাছা ভ্রমণ

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ১:৪৬
১৩টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×