আমার ইনিস্টিটিউটে এখানকার ছাত্রদের বিনা বেতনে কোরিয়ান ভাষা শেখায়। মোট তিন লেভেল, কোন ক্রেডিট নাই, তবে সাধারণত সবাই নেয় কারণ দৈনন্দিন জীবনে কাজ চালানোর জন্য খুব দরকার হয়। লেভেল ওয়ানেই সবথেকে বেশি স্টুডেন্ট হয়। তো প্রথম সেমিস্টারে ভর্তি হলাম।
প্রতি শুক্রবার বিকালে ৩ ঘন্টার ক্লাস। শুক্রবারে ল্যাব থেকে জুমআ পড়তে যাওয়ার পারমিশন আছে। সারাসপ্তাহ ল্যাব করে, জুমআ নামায পড়ে এসে এমন ক্লান্তি লাগে যে বলার না। যে ম্যাডাম ক্লাস নেয়া শুরু করলো সে মোটেও ভালো পড়ায় না, ইংরেজি পারে কিনা জানিনা তবে শিখানোর সময় ইংরেজির ব্যবহার করে খুবই কম। মেজাজ বিগড়ে গেলো, তৃতীয় সপ্তাহ থেকে ডরমের রুমেই কোরিয়ান ক্লাস করা শুরু করলাম ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে। ক্লাস শেষ হওয়ার টাইমে ঘুম থেকে উঠে সুন্দর ল্যাবে চলে যেতাম। ল্যাবমেট জিজ্ঞাস করলে দুই একটা মুখস্ত শব্দ তোতাপাখির মতো বলে দেই, বেচারী খুব খুশি। পরে জেনেছিলাম ম্যাডামের ক্লাসে ৩০ জন ছাত্র ছাত্রী কমতে কমতে শেষে ৪/৫ জনে পৌঁছেছিলো।
দ্বিতীয় সেমিস্টারে আবার গেলাম লেভেল ওয়ান এ, এবার খুব ভালো ম্যাডাম, পড়ায় যেমন ভালো দেখতেও তেমনি। আগের সেমিস্টারে একটু হাতেখড়ি থাকায় খুব সুবিধা হলো, ভাব ও বাড়লো অনেক পারি বলে। সবথেকে মজা হতো অনেকেই অক্ষর উচ্চারণ করতে যেয়ে এমন এমন উচ্চারণ করতো সবাই হাসতে হাসতে শেষ। বিশেষ করে ভিয়েতনামি আর ইন্ডিয়ান কিছু স্টুডেন্ট একদম পারতো না। যদি কেউ পুরা উল্টাপাল্টা বলতো ম্যাডাম ইয়া বড় একটা হা করে বলতো হা...? সবাই খুব অল্পদিনের ভিতর ম্যাডামের ভক্ত হয়ে গেলো। সেমিস্টারের শেষের দিকে ম্যাডাম আমাদের দিয়ে কোরিয়ান ভাষার একটা গানের সাথে নাচ আর ছোট নাটকে অভিনয় করালো।
এর পরের সেমিস্টারে আর লেভেল টু তে যাইনি। তবে খবর পেয়েছি লেভেল ওয়ানে যে স্যার এসেছেন উনি ভালোই পড়ান আর কেউ না পারলে তার নাকে লাল মার্কার দিয়ে একটা ফোঁটা একে দেন। অন্য কোন সময় কোরিয়ানদের ইংলিশ বলা নিয়ে একটা লেখা দেয়ার ইচ্ছা থাকলো।
ছবি কৃতজ্ঞতা

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

