প্রথমেই বলে রাখি কোন জাতিকে ছোট করার মানসিকতা নিয়ে আমার এই পোস্ট নয়, আসলে কোরিয়া না আসলে আমি নিজেও জানতামনা জ্ঞান বিজ্ঞানে এতটা উন্নত হওয়ার পরও আর্ন্তজাতিক ভাষায় একটা জাতি কতটা দূর্বল হতে পারে। নিছক জীবন থেকে নেয়া কিছু কৌতুক আপনাদের জন্য।
আমার নাম নিয়ে শুরুতেই বিপত্তি, আসিফ কেউ উচ্চারণ করবে না। বলবে আসিফ্ফু..। আসিফ নামটা এদের ভাষায় লেখার সময় শেষে এরা নিয়মগত কারনে 'উ' টা যোগ করে। তাই বলার সময়ও বলবে ওরকম করে। যাইহোক মেনে নিলাম নাম, এরপর ঘটলো 'ই' বিপত্তি। সবকিছুতেই ই টানা চাই। লান্চ কে বলবে লান্চি, ডিনার কে ডিনারি, চেন্জ কে বলবে চেন্জি, ম্যানেজ কে ম্যানেজি আরো বিপত্তি হলো বিচে যাওয়ার সময়, এক বড় ভাইকে ল্যাবমেট যতোই বোঝায় ভাইজান তো বোঝেনা। ল্যবমেট তার ভাংগা ইংরেজিতে বলছে উই উইল গো টু বিচি
আরেক বাংলাদেশি বন্ধুর ল্যাবের ঘটনা, খুব হন্তদন্ত হয়ে এসে কোরিয়ান ল্যাবমেট যা বললো তা মোটামুটি এরকম, স্নেকের দাম অনেক বেড়েছে, খুবই চিন্তার বিষয়। ঐ কোরিয়ান সাপ খায়, তাই বন্ধু তাকে বললো, তুমি তো স্নেক খাও, আমরা খাইনা, আমাদের কোন চিন্তা নাই। কোরিয়ান তো অবাক, অনেক ভেংগে বলার পর বোঝা গেল আসলে স্ন্যাকস কে সে স্নেক বলছে এতক্ষন ধরে।
ক্লাসের অভিজ্ঞতাও কম না। একদিন মেডিসিনাল কেমিস্ট্রির আমেরিকা ফেরত এক প্রফেসর ড্রাগ ডেভলপমেন্ট কে বলেই যাচ্ছেন ডুরুগ ডেভিলোপমেন্ট। এও নাহয় সহ্য হলো, আরেকদিন বুঝতেই সারাক্লাস সময় লেগে গেলো উনি কি বলছেন। এপিকাচি, এপিকাচি করছেন তিনি। অনেক পরে বোঝা গেলো তিনি আসলে ড্রাগের এফিকেসির কথা বলতে চাইছেন।
ইয়ং পোলাপানদের কাছে ইংরেজি শেখা এখানে বিশাল স্টাইল, তাও আবার খোদ আমেরিকানদের কাছ থেকে শেখা। বড়রা লজ্জা পেলেও ওরা একটু সাহস করেই দুই একটা কথা বলতে চায় বিদেশিদের সাথে। যেমন কাল বেড়াতে বের হয়েছি, দুটো স্কুল পড়ুয়া মেয়ে কথা নেই বার্তা নেই আমার দিকে তাকিয়ে বলে, আর ইউ ওকখে ??
এর মানে কিন্তু এই না যে সবার অবস্হাই এরকম, অনেকেই আছেন ভালো বলতে পারেন। আর ইয়ং জেনারেশন ভবিষ্যতে ভালো পারবে বলেই মনে হয়। আমার বর্তমান ল্যাবমেট ছেলেটাও অনেক ভালো পারে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুলাই, ২০০৮ সকাল ৮:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



