কোন একসময় আমারও প্রচন্ড ইচ্ছে করতো ভালোবাসতে। হিরন্ময় সকাল, অলস দুপুর, উদাস রাতগুলো আমি কাটিয়ে দিই কড়িকাঠ গুণে গুণে। শ্যাওলাধরা এই চার দেয়ালের ঘরের পলেস্তারার মত হৃদয়ের ভালোবাসার আবরণটুকু খসে পড়ছে দিনে দিনে। তার ফাঁকে উঁকি মারছে আমার বিবর্ণ চেতনা। কখনও ইচ্ছে করে রচনা করি ভালোবাসার শ্বেত কাব্য। কিন্তু চেয়ে দেখি অনেক আগেই উঁই পোকা খেয়ে নিয়েছে হৃদয়ের পান্ডুলিপি। কখনও কখনও চোখের সেলুলয়েডে ভেসে উঠে শাড়ীর আচঁল, কাচের চুড়ি, চন্দনের টিপ। ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে করে চোখ, নাক, ঠোঁট পরম আদরে। কিন্তু আমার আঙ্গুলের ডগাগুলো ক্রমশ নুয়ে আসে। আমার জানালায় উঁকি মারেনি এলোকেশীর ভালোবাসা, তরল জ্যোৎস্নায় ছুঁয়ে দেখিনি তার তুলতুলে নরম চুল।। কত রাত ঐ চাঁদের পাশে একেঁছি এক জ্যোৎস্না মাখা মুখ। গর্বিত মানসীর মত সে স্পর্শ করেছে আমার অস্তিত্ব, জাগিয়েছে রন্ধ্রে রন্ধ্রে শিহরণ। আমি ভালোবাসার জন্য উন্মত্ত হয়েছি। পরক্ষনেই শুনেছি ভালোবাসা আমার জন্য নিষিদ্ধ। চেয়ে দেখি জ্যোৎস্না রাতে মেঘে ঢেকে গেছে জ্যোৎস্নামাখা মুখ। আমি চর জেগে উঠার মত বেদনায় চৌচির হয়েছি। আমার সমস্ত শূন্যতার ফোকড় দিয়ে পানি গড়িয়েছে টুপটুপ করে। আমি পলিথিনে মোড়ানো সাদা পাঊডারের মাঝে খুঁজি ভালোবাসা, বিবর্ণ হলুদ ভালোবাসা। হৃদয়ের নীলাভ অংশটুকু পুড়িয়ে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন করি আমার পৃথিবী। ধোঁয়ায় অস্পষ্ট হয়ে উঠে জ্যোৎস্নামাখা সেই মুখ। তারপর নিরব নিকষ অন্ধকারে মৃত্যুর সাথে খেলি শব্দচয়নের খেলা।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১০ ভোর ৪:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


