somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রসঙ্গঃ - ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস এবং আমাদের হুজুগে বাঙ্গালীপনা

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ১২:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চরম দারিদ্রের মধ্যে থেকে তারা কী পেয়েছে? মানসম্পন্ন শিক্ষার সুযোগ, না আপনার, আমার কিংবা সরকারের কাছ থেকে অঢেল দান? রাষ্ট্রের কাছ থেকে পায়নি পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ কিংবা পূর্বপুরুষ থেকেও তারা পায়নি কোন প্রাচুর্যের প্রতিশ্রুতি। তাহলে আমরা কী আশা করতে পারি তাদের কাছ থেকে? তাদের শুরুটা হবে কী দিয়ে? চুরি, ডাকাতি বা অন্য কিছু? ক্ষুদ্রঋণ কেমন হবে? – না, “ সব ফকিরের দল! আস্তাকুঁড়েই পড়ে থাক তারা!” – এরকমই আমাদের চিন্তাধারা।

মার্কিন নাগরিকদের ঋণ পরিশোধের ব্যর্থতা যখন পুরো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ধ্বস ডেকে এনেছিল, তখন কেউ বলেনি ঋণ ব্যবস্থা কিংবা ব্যংকিং ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়া উচিত। কারণ সবাই জানে এটাই বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ডঃ ইউনুস যখন এই সুবিধা দরিদ্র মানুষের হাতের নাগালে আনতে চাইলেন তখন কিছু কিছু মানুষ এর বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করার জন্য তৈরী ছিল। এ সময় যখন সংবাদটা আসলো, কিছু ব্লগসাইট এটাকে লুফে নিতে দেরী করেনি আর এক শ্রেণীর পাঠক এটা পড়ে আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তুলেছে – যেন এর জন্য তারা প্রার্থনা করে আসছিল। এই সংবাদের কোথাও কি লেখা হয়েছে যে ডঃ ইউনুস ঐ টাকা দিয়ে সৌখিন দামী গাড়ি কিংবা বিলাসবহুল বাড়ি কিনেছেন? বা স্বজনের স্বার্থে ব্যবহার করেছেন? একই সংবাদে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে “এ অর্থ রিভলবিং ফান্ড হিসেবে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় থেকে গেলে ক্রমশ বাড়তে থাকা কর হারের কারণে ভবিষ্যতে বিপুল পরিমাণ কর পরিশোধ করতে হবে ” – এবং এই কারণেই, গ্রামীণ ব্যাংককে বিপুল আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে সহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীন কল্যাণে সেই অর্থ স্থানান্তর করেছেন। চিন্তাসম্পন্ন যেকোন অর্থনীতিবিদই একই কাজ করতেন বলে আমার বিশ্বাস। বিদেশী মিডিয়ার ‘চিলে কান নিয়েছে’ মূলক সংবাদে আবেগ তাড়িত না হয়ে মূল ঘটনা তলিয়ে দেখা উচিত। এর জন্য গ্রামীণ ব্যাংক এর মূল ওয়েবসাইটে গিয়ে এই অর্থ স্থানান্তরের উদ্দেশ্য, সুদের হার, এর কারণ, এর পেছনের সংগঠকদের অবদান ও মালিকানার তথ্য সঠিকভাবে জেনে নেয়ার জন্য জন্য সবাইকে পরামর্শ দিচ্ছি। সেই সাথে দেশের একজন বরেণ্য ব্যক্তিত্ব এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত একজন সম্পর্কে ব্লগে, ফেইসবুকে কিংবা অন্যকোথাও কিছু পোস্ট করার আগে পরিণত চিন্তার অবকাশ রাখবেন এটাই আশা করি।




কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ সৈয়দ জামাল

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৩:৩৫
১৮টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×