বাংলাদেশের জাতীয় পাতাকার ডিজাইনার হিসেবে আমরা সবাই জানি বিখ্যাত চিত্রশিল্পী কামরুল হাসানের নাম। ডিজাইনার প্রসংগে একটু পরে আসছি, তার আগে আমাদের ন্যাশনাল ফ্লাগের আরও কিছু তথ্য জেনে নেই।
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অনুপাত- ১০ : ৬ বা ৫:৩।
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার লাল বৃত্তের মাপ- পতাকার ৫ ভাগের ১ অংশ।
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সর্বপ্রথম উত্তোলন করা হয়- ২ মার্চ, ১৯৭১ইং সালে।
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সর্বপ্রথম উত্তোলন করেন আ.স.ম আব্দুর রব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালের বটতলায় এক ছাত্র সমাবেশে।
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস ২মার্চ।
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার সাথে মিল আছে- জাপানের জাতীয় পতাকার (এভাবে বললে ভালোহয় জাপানের জাতীয় পতাকার সাথে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার মিল আছে, জাপানে আমাদের অনেক আগে স্বাধীন হয়েছে)
এবার আসল প্রসংগে আলোচনা করা যাকঃ
বাংলাদেশের মানচিত্র প্রথম আঁকেন মেজর জেমস রেনেল। বাংলাদেশের প্রথম পতাকা ও স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যে পতাকা উত্তোলিত হতে দেখা গেছে, সেখানে লাল বৃত্তের মাঝে হলুদ রঙের বাংলাদেশের মানচিত্র শোভা পায়। মানচিত্র শোভিত পতাকাটির ডিজাইনার ছিলেন শিব নারায়ন দাস। আজও মানচিত্র সমৃদ্ধ পতাকাটির দেখা মেলে বাংলাদেশের ইতিহাস এতিহ্য, একুশে ফেব্রুয়ারী, স্বাধীনতা দিবস, বীজয় দিবস, বাংলাদেশ কৃকেট দলের খেলার সময় দর্শকদের হাতে হাতে, এমনকি বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও। ২৩শে মার্চ ১৯৭১ইং সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বাংলাদেশের পতাকা উড়ান ধানমন্ডির ৩২নম্বর বাসায়, সেখানেও মানচিত্র সমৃদ্ধ পতাকাটি দেখা যায়। শিব নারায়ন দাসের পতাকাটি আমাদের পরিচিত কিন্তু শিব নারায়ন দাসের নাম আমরা ক’জন জানি?
বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরে চারুকলা ইনিস্টিটিউটের প্রধান ছিলেন চিত্রশিল্পী কামরুল হাসান। তিনি হুট করে মানচিত্রটি তুলে দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ডিজাইনারের খেতাবটি নিজ পকেটে পুরে নেন। তাকে যদি মন থেকে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ডিজাইনার হিসেবে মেনে নেই তাহলে শিব নারায়ন দাশের প্রতি জুলুম করা হবে কারণ কামরুল হাসান পতাকাটির আকার, অনুপাত কিছুই পরিবর্তন করেন নি। তিনি শুধু মানচিত্রটি তুলে দিয়েছেন নিজ স্বার্থে হয়তো এমনও হতে পারে তখন যেহেতু তার ক্ষমতা ছিলো ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের আশির্বাদ পুষ্ট ছিলেন তাই কেউ এর প্রতিবাদ জানান নি। এতো বছর পার হলেও আমি এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
দেখুন ভারতের মানটিত্রের মধ্যে ফাঁকা অংশে বাংলাদেশের মানচিত্রটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফাস্ট ওয়ার্লডের অনেক মানুষ এখনও বাংলাদেশ কে চেনে ভারতের অংশ হিসেবে, যদি পতাকার মানচিত্রটি উঠিয়ে না দেয়া হতো, তাহলে মানচিত্রের সুবাদেও অনেকে বাংলাদেশকে আলাদা ভাবে আইডেন্টিফাই করতে পারতেন। আমাদের পতাকা জাপানের মতো এমন কথাও একটু কম উচ্চারিত হতো কারণ দক্ষিন করিয়ার পতাকা জাপানের মতো এমন কথা কেউ বলে না।
(যে শিব নারায়ন দাশের নাম ইতিহাসের পাতা থেকে লাথি দিয়ে ফেলে দেয়া হয়েছে তার ডিজাইনের পাতাকা আজও উড়ানো হয় কেনো?)
আমি গুনি ব্যক্তিত্ব শিব নারায়ন দাশের প্রতি গভির শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। আমার মনে হচ্ছে তার ভাগ্য জগদিশ চন্দ্র বসুর চেয়েও খারাপ, মার্কনী আর জগদিশ বসু একই সময় রেডিও আবিষ্কার করেন কিন্তু মার্কনী আগে প্যাটেন্ট করানোর ফলে রেডিও আবিষ্কারের সুখ্যাতি ও রয়েলিটি তার কপালে যায়। আর অন্যের ডিজাইন চুরি ও ক্ষমতার দম্ভে নিজের নাম ইতিহাসে প্রকাশের জন্য অন্তর ভরে ঘৃনা পোষন করছি সার্থ-অন্বেষী কামরুল হাসানের প্রতি।
আমার সবগুলো পোস্ট দেখুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



