শরীরের কোনো অংশের ব্যথার জন্য প্যারাসিটামলের ব্যবহার বহুল। এর ব্যবহার এতই বেশি যে, কখনো প্যারাসিটামল খায়নি বা ওষুধটি চেনে না_এমন কোনো মানুষ খুঁজে পাওয়া হয়তো অসম্ভব। আর এর এমন বহুল ব্যবহারের কারণ হলো, মোটামুটি সব ধরনের ব্যথার জন্যই প্যারাসিটামল বেশ কার্যকর ওষুধ। তবে গবেষকরা বলছেন, যন্ত্রণা থেকে মুক্তিদানকারী এ ওষুধটিই নতুন যন্ত্রণার কারণ হয়ে উঠতে পারে। শুধু তাই নয়, অসতর্কভাবে ব্যবহার করলে এটি মৃত্যুরও কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ব্রিটিশ জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল ফার্মাকোলজিতে জানিয়েছেন, প্যারাসিটামল যতটা উপকারী, ঠিক ততটাই অপকারী। এটি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে যদি ঠিক মাত্রায় নেওয়া না হয়। গবেষক ড. কেনেথ সিম্পসন জানিয়েছেন, সাধারণত দিনে সর্বোচ্চ চার গ্রাম (৫০০ মিলিগ্রামের আটটি ট্যাবলেট) প্যারাসিটামল গ্রহণ করা নিরাপদ। এর বেশি হলেই বিপত্তির আশঙ্কা রয়েছে। গবেষকরা বলছেন, প্যারাসিটামল মানুষের লিভারের (যকৃত) ওপর প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত মাত্রায় নেওয়া হলে সেটি সরাসরি লিভারকে আক্রান্ত করে। এর থেকে লিভারজনিত জটিলতার কারণে মৃত্যুও ঘটতে পারে। চিকিৎসক প্যারাসিটামল খেতে বলার পর কাজ হচ্ছে না মনে করলে অনেক রোগীই নিজে থেকে সেটি খাওয়া চালিয়ে যেতে থাকে। এ অবস্থায় শরীরে মাত্রাতিরিক্ত প্যারাসিটামলের কারণে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মৃত্যুর অনেক নজির রয়েছে। তাই গবেষকরা জানিয়েছেন, রোগীদের কখনোই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। খাওয়া চালিয়ে যেতে হবে কি না, তা চিকিৎসকের কাছ থেকেই জেনে নেওয়াই উত্তম।
সূত্র : বিবিসি নিউজ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


