বই-- দওা
লেখক-- শরৎ চন্দ্র চট্টোপধ্যায়
১- কিছু লোকের স্বাভাব এমনই যে ছিদ্র পাইলেই তাহাকে নিরর্থক বড় করিয়া দূর্বলকে পীড়া দিতে, ভীতুকে আর ও ভয় দেখাইয়া ব্যাকুল করিয়া তুলিতেই আনন্দ অনুভব করে।
২- অধিকার দেবার উপর নির্ভর করে না নেবার উপর ও নির্ভর করে। যা ভাল কাজ তার অধিকার সঙ্গে সঙ্গেই ভগবানের কাছে পায় মানুষের কাছ থেকে হাত পেতে নিতে হয় না।
৩- ব্যথা ভয়ানক নয়, ভয়ানক যা হয়েছে তা আপনার ভয়।
৪- সংসারে সকল বড় কার্যই কাহারো না কাহারো ক্ষতিকর হয়।
৫- মঙ্গলময় জগদীশ্বর যে শুধু আমাদের পরীক্ষা করবার জন্যই বিপদ পাঠিয়ে দেন, বিপদে পড়লে তোমরা সকলের আগে এই কথাটাই কেন ভুলে যাও আমিত ভেবে পাইনে।
৬- অন্যমনষ্ক ও উদাসীন প্রকৃতির মানুষগুলোর একেবারে চোখে আঙুল দিয়া দেখাইয়া না দিলে নিজ হইতে অনুসন্ধান করিয়াও ইহারা কোনদিন কিছু জানিতে চাহে না।
৭- চাকর বাকরেরা মেয়েদের বলে মেম সাহেব।সত্যিকারের মেম-সাহেবরা এদের যে চক্ষে দেখে , তা জানেন বলেই বোধ করি মাইনে করা চাকরদের দিয়ে মেম-সাহেব বলিয়ে আত্নমর্যদা বজায় রাখেন।
৮- পাপ যত বড় হোক, টাকার তলায় সমস্ত চাপা পড়ে যায়।
৯- সত্যের স্তান বুকের মধ্যে মুখের মধ্যে নয় কেবল মুখ দিয়ে বার হয়েছে বলেই কোন জিনিস সত্য হয়ে উঠে না।
১০- মনের মিলনই সত্যিকারের বিবাহ।
বই- গাদ্দার
লেখক- কৃষ্ণ চন্দর
১১- যে উদ্দেশ্য সিদ্ধ করার জন্য সংগ্রামের প্রয়োজন তা যদি সংগ্রামেই শেষ হয়ে যায়, তবে সে সংগ্রামে কি লাভ।
১২- বিচ্ছেদের বেদনা তো শুরু হয় হৃদয় থেকে।
১৩- এই পৃথিবীতে প্রেমের জন্য কেউ মরে নাকি? মানুষ অর্থের জন্য মরে, যশের জন্য মরে কিন্তু মিথ্যা কল্পনার জন্য মরে যাওয়া কি সাজে।
১৪- তুই কখনো সন্ধ্যা আহিৃক করিসনি, পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়িসনি, গীর্জায় মন্দিরে , মসজিদে, যাসনি তুই স্বাধীনতার প্রয়োজন বুঝিসনি । তুই কখনো কোন রাজনীতি করা নেতার বক্তৃতা শুনিসনি, শুকরিরা কর তুই মানুষ নোস্।
১৫- তুমি দিনের আলোয় রাতের তারার মত উজ্জল।
১৬- মৃত্যু পথযাএী মুখ থেকে শেষ যে নাম উচ্চারিত হয়েছিল সে নাম ইশ্বরের, হত্যাকারীদের মুখে ও ছিল তারই নাম এদের সবার ওপরে উর্ধ্বলোকে যদি সত্যিই কোন বিধাতা থাকেন তবে তিনি এই নিষ্ঠুরতা নিয়ে পরিহাস করছেন সে বিষয়ে আমার কোন সন্দেহ নেই।
লেখক ও উৎস- মিশ্র
তরুলতা যেমন বৃষ্টির সাহায্য প্রার্থী মেঘ ও সেই রূপ তরুর সাহায্য চায়। (বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন)
খোদার দেওয়া এই পৃথিবীর নিয়ামত হইতে যে নিজেকে বঞ্চিত রাখিল, সে যত মোনাজাতই করুক খোদা তাহা কবুল করিবেন না। খোদা হাত দিয়েছেন বেহেশত ও বেহশতী চীজ অর্জন করিয়া লইবার জন্য ভিখারীর মত হাত তুলিয়া ভিক্ষা করিবার জন্য নয়।(কাজী নজরুল ইসলাম)
মানুষ পন করে পন ভাঙিয়া ফেলিয়া হাঁফ ছাড়িবার জন্য। অতএব কথা না দেওয়ায় সবচেয়ে নিরাপদ।(হৈমন্তী-ববীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
আমি যাহা বুঝি না তাহা শেখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে।(হৈমন্তী-ববীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
অধিকার ছাড়িয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মত এমন বিড়ম্বনা আর নাই।(হৈমন্তী-ববীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
আমাদের দেশে যে মানুষ একবার বিবাহ করিয়াছে বিবাহ সম্বন্ধে আর কোন উদ্বেগ থাকে না। নর মাংসের স্বাধ পাইলে মানুষের সম্বন্ধে বাঘের যে দশা হয় স্ত্রীর সম্বন্ধে তাহার ভাবটা সেইরূপ হইয়া উঠে।(হৈমন্তী-ববীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
দানের মন্ত্রে স্ত্রীকে যেটুকু পাওয়া যায় তাহাতে সংসার চলে কিন্তু পনেরো আনা বাকি থাকিয়া যায়। আমার সন্দেহ হয় অধিকাংশ লোকে স্ত্রীকে বিবাহমাএ করে পায় না এবং জানে না ও সে পায় না; তাহাদের স্ত্রী কাছে ও আমৃত্যুকাল এ খবর ধরা পড়ে না। কিন্তু সে যে আমার সাধনার ধন ছিল সে আমার সম্পওি নয় সে আমার সম্পদ।(হৈমন্তী-ববীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
একটু উচুঁতে না চড়লে আমরা দর্শক এবং শ্রোতামন্ডলীর মন আকর্ষণ করতে পারিনে। বেদীতে না বসলে আমাদের উপদেশ কেউ মানে না, রঙ্গমঞ্চে না চড়লে আমাদের অভিনয় কেউ দেখে না, আর কাষ্ঠমঞ্চে না দাঁড়ালে আমাদের বক্তৃতা কেউ শোনে না।(প্রমথ চৌধুরী)
অনেকের পক্ষে নিজের আয়ওের বহির্ভূত ওঠাবার চেষ্টাটাই মহাপতনের কারণ।(প্রমথ চৌধুরী)
যে খেলার ভিতর আনন্দ নেই কিন্তু উপরি পাওনার আশা আছে, তার নাম খেলা নয়, জুয়া খেলা।(প্রমথ চৌধুরী)
মানুষের দেহমনের সকল প্রকার ক্রিয়ার মধ্যে ক্রীড়া শ্রেষ্ট, কেননা তা উদ্দেশ্যহীন। (প্রমথ চৌধুরী)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


