বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হল দেশের সর্ব্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। এগুলোকে মানুষ গড়ার প্রতিষ্ঠান বা কারখানা হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেন অনেকেই। যাদের সন্তান এখানে পড়াশুনা করে সে সকল অভিভাবক যে কোন পরিবেশে নিজের সন্তানের কথা স্বরণ করে গর্বিত বুকে পরিচয় দিতে কুন্ঠিত হন না।কিন্তু এ সকল প্রতিষ্ঠানে আসলেই কি সত্যিকার মানুষ তৈরী হচ্ছে বা বের হচ্ছে। আসুন এখন বাস্তব চিত্র দেখে নিই:
### জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রণী ব্যাংকের পিছনে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে আপনি কখনো গেলে রীতিমত অবাক হবেন নিশ্চিত। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এতগুলো কনডমের প্যাকেট আপনাকে মানসিকভাবে করবে আহত যদি আপনার মেয়ে বা বোন অথবা নিকটাত্বীয় এখানে পড়াশুনা করে। আরেকটু সামনে গেলে পাবেন ক্ষুদ্রাকৃতির চায়ের স্টল। আপাত: দেখলে মনে হবে কোন বিক্রি নেই। কিন্তু প্রশ্নটি যদি দোকানদারকেই করেন তার ভাষায়,"সন্ধ্যার পর যে বিক্রি করি তা দিয়ে দিন ভালোই যায়"। সেক্সুয়াল ট্যাবলেট বিক্রয় যার পেশা এবং ব্যবসা।
### বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রায় অভিযোগ শুনা যায় শিক্ষক কর্তৃক যৌন হয়রানী। বেশী মার্কসের কথা বলে বা অন্য কোন প্রলোভন দেখিয়ে ছাত্রীদের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। পত্রিকার পাতায় প্রকাশিত হয় গুটিকয়েক ঘটনা। আড়ালেই থেকে যায় অধিকাংশ। খোদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক কর্তৃক একজন ছাত্রীকে গর্ভবতী করে পরে তা অস্বীকার করে- এসংবাদ কিছুদিন আগেই বেশ তোলপাড় করে ক্যাম্পাস। যিনি নাকি হলেন মানুষ গড়ার কারিগর।
### এখানকার টয়লেটগুলোতে গেলে আপনার বিশ্রী অভিজ্ঞতা সঞ্চিত হবে। টয়লেটের ফ্লাশগুলোতে ছড়িয়ে আছে ফেনসিডিলের বোতল, নানা প্রকার কনডমের প্যাকেট আর লেডী স্ট্রীপ। যা দৈনিক যুগান্তর পত্রিকা ছবিসহ একদিন প্রকাশিত করেছিল।
### আপনি জানেন ইডেন কলেজ হলো রাজধানীর ব্যস্ততম জায়গার নিউমার্কেটে অধিকসংখ্যক ছাত্রীদের উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পত্রিকার প্রকাশ হয়েছে এখানকার মেয়েদেরকে রাজনীতিবিদ কুশলীদের মনোরঞ্জনের জন্য মাঝে মাঝেই রাত্রী যাপন করতে হয় টাকার বিনিময়ে কিংবা ক্ষমতার জোরে। সঞ্চালকের দায়িত্ব দক্ষতার সাথে পালন করেন ঐ প্রতিষ্ঠানের আরেকজন ছাত্রী।
### ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টি.এস.সি'র পাশে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আপনি গেলে দেখবেন কত ধরণের নোংরামী। নিজের চোখকে তো অবিশ্বাস করতে পারিনা। এখানে স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীরা নির্দিষ্ট পোষাকেই নিজেদের সতিত্বকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিচ্ছে।
সবমিলিয়ে স্বল্প পরিসরে যা লিখলাম একটি লাইনও মিথ্যা বা অতিরিক্ত লিখিনি। এরপরেও কি আপনি বলবেন এগুলো হল মানুষ গড়ার প্রতিষ্ঠান।
----------মিথ্যা কথা, এই সান্তনা নামক মরিচীকার পিছনে আমাদের আগামী প্রজন্মের নৈতিকার কোমড় ভেঙ্গে দেওয়া হচ্ছে অত্যন্ত সুকৌশলে।
আগামী প্রজন্মকে বাচাঁতে, গর্বিত জাতি হিসেবে পৃথিবীর বুকে দাড়াঁতে, আমাদের বোনদের ধ্বংসের হাত হতে উদ্ধার করতে প্রয়োজন সার্বজনীন ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থা। শিক্ষার সর্বস্তবে যদি ধর্মকে বাধ্যতামুলকভাবে প্রতিদিন একটি বারের জন্য উল্লেখিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ানো হতো তাহলে এরকম পরিণতি আমাদের হতোনা। সর্বজনীন ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতা মূলক করার দাবীতে আসুন দল-মত নির্বিশেষে জাতীয় শিক্ষা নীতি-২০১১ তে এ দাবী অন্তর্ভুক্ত করতে জোর দাবী জানাই । তবেই পারব আগামী প্রজন্মকে মুখ দেখাতে। মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



