অনেক দিন আগের ঘটনা । হাসেম নামের এক রিকশা চালক ছিল। তার বাড়ি থানা শহর হতে পাঁচ কিলোমিটার দূরে। সে প্রতিদিন শহরে গিয়ে রিকশা চালায়, দিন শেষে সন্ধার আগেই বাড়ি চলে আসে।
একদিন দুরের ক্ষেপ ধরে। যাত্রীকে গন্তবা স্থলে দিয়ে আসতে আসতে শহরেই তার রাত হয়ে যায় । ওদিকে সিনেমা হলে নতুন সিনেমা এসেছে। তাই সে ভাবল, রাত যখন হয়েই গেছে সিনেমাটা দেখেই যাই।
টিকেট কেটে হলে ঢুকে পড়ে। সিনেমা দেখা শেষ হলে, হল থেকে বেরিয়ে দেখে রাত তখন ১ টা বেজে ১০ মিনিট। ইতিমধ্যে প্রায় সব দর্শকই চলে গেছে। রাত বেশী হওয়াতে ভাবছে- থেকে গেলেই মনে হয় ভাল হয়, না-হ... যদি এলাকার কাউকে পেতাম তবে চলে যাওয়া যেত।
এত কিছু ভাবতে ভাবতে সব দর্শকই চলে গেছে। সে এখন একা। রাত ১ টা ৩০ মিনিট । সিনেমা হলের গেট হতে একটু সামনে দাঁড়ানো। যেখানে দিনের বেলায় রিকশা দাড়ায়।
হঠাৎ করে পিছন থেকে বলে উঠল, এই রিকশা যাবে ? হাসেম পিছনে তাকিয়ে দেখে মাথায় টুপি, লম্বা দাড়িওলা সাদা পাঞ্জাবি পড়া এক মওলানা। সে মনে মনে খুশি হয়ে জিজ্ঞাস করে কোথায় যাবেন হুজুর ?
কারন সে একজন সঙ্গী পেল।
হুজুর তার কথার উত্তরে তার গায়ের নামই বলে। তাতে সে আরও খুশি এবং সাহস পায়।
যা হউক, হাসেম হুজুরকে নিয়ে যাত্রা শুরু করল। যেতে যেতে ৪ কিলোমিটার পার করে এসেছে। বাকী আছে ১ কিলোমিটার। এই ১ কিলোমিটারের মধ্যেই পড়ে একটি গোরস্তান। গোরস্তানের কাছা কাছি আসতেই, হুজুর বলে এখানে একটু থামাও আমি আসতেছি। এই বলে গোরস্তানে ঢুকে। ঢুকেই একটি শিশু বাচ্চার কবরের কাছে যায়। যে শিশুটি গত ৩ দিন আগে মারা গেছে।
কবরের কাছে গিয়ে হাত ঠুকিয়ে লাশটি বের করে নিয়ে আসে। তারপর লাশটি খেতে শুরু করে।
ওদিকে নিবু নিবু চাঁদের আলোতে ঘটনাটি দেখতে হাসেমের মোটেও অসুবিদা হয়নি। তাছাড়া শিশুটির হাড় মট মট করে খাওয়ার শব্দও শুনেছে।
খাওয়া শেষে রিকশার কাছে এসে হুজুর বলে, যা দেখেছিস যদি কাউকে বলিস, তবে তোর নাক, মুখ দিয়ে রক্ত উঠে মারা যাবি। এ কথা বলেই রিকশায় উঠে।
হাসেম যখন তাদের গাঁয়ের রাস্তায় চলে এসেছে, কোন বাড়িতে যাবেন ? জিজ্ঞাস করে পিছন ফিরে তাকিয়ে দ্যাখা, হুজুর নেই।
হাসেম কতটা ভয় পেতে পারে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।
রাত তখন ৩ টা বেজে গেছে। বাড়ি গিয়ে তার স্ত্রিকে ডেকে তোলে দরজা খালার জন্য। দরজা খোলা মাত্রই স্ত্রী কে কিছু না বলেই শুয়ে পড়ে। বাকী রাত টুকু ঘুমাতে পারেনি।
শুধু তাই নয়, সে রাতের পড় থেকেই তার ঘুম বন্ধ হয়ে যায়। ভয়ে ভয়ে দিন দিন শুকিয়ে যায় । তার এ অবস্থা দেখে পরিবারের অনন্যা সদস্যরা
জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। অবশেষে বলে দেয়। সাথে সাথেই নাক, মুখ দিয়ে রক্ত উঠে হাসেম মারা যায়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




