হায়দার, তালুকদার বংশের ছেলে। সবাই তাকে হায়দার তালুকদার নামেই চেনে। এলাকায় তাদের পরিবারের খুব দাপট । তার আরও ভাই আছে। তার মধ্যে সেই সবার কাছে বেশী পরিচিত ।
তাদের বাড়ী ইঊনিয়ন পর্যায়ে। কিন্তু তার ইচ্ছা পৌরসভায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবে। যেই ভাবনা, সেই কাজ। শুরু করে দেয় প্রচারণা । পোস্টার, মাইকিং যা যা করা দরকার শুরু করে দেয় ।
ও দিকে পৌরসভায় বাস করে সম্রাট নামে এক ব্যাক্তি। শুনেছি মুক্তি যুদ্ধা ছিল। পরে ডাকাত দলের সরদার হয়। তারও ইচ্ছা পৌরসভায় নির্বাচন করবে।
কিন্তু ইউনিয়নের লোক হয়ে কেউ পৌরসভায় নির্বাচন করবে এ ব্যাপারটি তার পছন্দ হয়নি। তাই সে ঠিক করল তালুকদারকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিবে । তবে তা গোপনে নয়, প্রকাশেই করবে।
তার এ কথা তালুকদারের কানে যায়। সেও কম নয়। সেও ঠিক করল সম্রাট কে মেরে ফেলবে ।
যা হোক, একদিন সন্ধ্যার সময় দু জনই বাজারে এক হোটেল বসে চা খেতে। চা খেতে খেতে তালুকদার সম্রাট কে ৭ দিনের মধ্যে
মেরে ফেলবে বলে। সম্রাট বলে তালুকদার কে সে ৩ দিনের মধ্যে
মেরে ফেলবে ।
শুরু হল, মেরে ফেলার প্রতিযোগিতা । কে কাকে আগে মারতে পারে।
ও দিকে সম্রাট তার ডাকাত দলকে একত্র করে ফেলে ৩ দিনের মধ্যেই ।
২ দিন পর ৩ দিনের দিন।
সেদিন ছিল শনিবার হাটের দিন। হাসপাতালের সামনে ব্রিজের উপর সম্রাট তার ডাকাত দল নিয়ে দাড়িয় আছে। ব্রিজ থেকে ২০০ গজ দুই দিকে বন্ধ করে দিয়েছে । যাতে অন্য কোন লোক আসতে না পারে। তারা জানে তালুকদার উত্তর দিক হতে আসবে।
তালুকদার সন্ধ্যার দিকে মটর সাইকেল নিয়ে আসল । সম্রাট কে ব্রিজের উপর দেখে মটর সাইকেল থেকে নেমে হ্যান্ডশেক করতেই পেছন থেকে এক ডাকাত ছুরি ঢূকিয়ে দেয় তালুকদারের পেটে। তার কাছে পিস্তল ছিল, কিন্তু বের করার সময় পায়নি। তালুকদার ব্রিজের উপর লুটিয়ে পরে, সাথে সাথে তাকে জবাই করা হয়। জবাই করার পর তারা সবাই পালিয়ে যায়।
লাশ নিয়ে যাওয়া হয় তাদের বাড়িতে । লাশ দেখে তার মা তার
অন্য ছেলেদের বলে হায়দার কে যারা মেরেছে তাদের রক্ত দিয়ে আমি গোছল করবো। তোরা ব্যবস্তা কর।
তার ছেলেরা চেষ্টা করতে থাকে। ৭ মাস পর সম্রাটের দিক হতে ২ জন লোক তাদের বাড়ি যায় কী একটা খবর যেন দিতে।
তাদের ২ জনকে মোরগের মাংস দিয়ে আপ্যায়ন করে। ভাল করে খেতে দেয়।
অবশেষে দুপুর বেলা তাদের বাড়িতে অন্য লোক আসা না করে দেয় । চারদিকে পাহারা বসায়।
হঠাৎ বাড়িতে চিৎকার শুনা যায় । যে ২ জন লোক এসেছিল তাদেরকে মারা হচ্ছে । প্রথমে তাদের ২ হাত, পরে ২ পা এবং শেষে তাদের মাথা কাটা হয়। ২ জন কে এক সাথে মারা হয়।
পরে বস্তায় তুলে নদীতে ফেলে দেয়া হয়। অনেকদিন পর পুলিশ তাদের হাড় ঊদ্ধার করে ।
তালুকদারের পরিবার ভেবেছিল এরাই হায়দার হত্যার খুনি। ঘটনাটি ঘাটে ছিল ১৯৮৭ সালের দিকে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


