যখন কোচিং করতাম তখন কোচিং এর ১ ছেলে(সুমন) ১মেয়ের(সায়মা) প্রেমে পড়ল। সুমন সায়মাকে পটাতে চেষ্টা করতে লাগল। কিন্তু সায়মা ছিল মস্তবদ। সে সব ছেলেদেরকেই ঝুলিয়ে রাখতো। সে কখনওই সুমনকে হ্যা বা না বলতো না।
একদিন সায়মা তার মাকে বলল যে সুমন তাকে খুবই বিরক্ত করছে তাই তাকে যেন বোরখা বানিয়ে দেয়। সায়মার মা ছিলেন কঠিন মহিলা। কোচিং এ এসে হাজির। কোচিং এ আবার ২ সুমন ছিল এবং তারা জানি দোস্ত ছিল।
যেদিন সায়মার মা কোচিং এ আসলেন, সেদিন কোচিং এর গেটের কাছে যখন আসলেন ঠিক তখনই ২সুমন ঢুকলো। প্রেমে পড়া সুমন একটু পিছিয়ে পড়ায় অন্য সুমনকে ডাক দিল পিছন থেকে। এবার সায়মার মা নিষ্পাপ সুমনের কলার ধরে বললেন, কি তুমি সুমন! না? ব্যাপারটা বুঝতে পেরে প্রেমিক সুমন পিছন থেকেই ভাগলো।
সুমন খুবই পেরেশান হয়ে পড়লো সায়মার আচরণে। আর আমি আর আমার সই ছিলাম তার কাছে বিশিষ্ট বুদ্ধি দেয়ার মত মানুষ। সে আমাদের কাছে এসে বলল সব ঘটনা। আমরা বললাম কই সায়মা তো তোমার সম্পর্কে কোন আগ্রহ দেখায় না।
এবার সুমন বলল, আমি সেদিন ওকে ১টা গিফ্ট দিতে গেলাম। ও বলল, দ্যাখ আমি এটা নিতাম কিন্তু আমার বাসায় নিয়ে গেলে আমার আম্মু রাগ করবে।
১টা মেয়ে এই কথা বললে ১টা ছেলে কি ভাবে, বলতো?এবার সুমন অত্যন্ত ইমোশনাল হয়ে বলল।
যেহেতু কেউ সাহায্য চাইতে আসছে তাকে তো আমরা খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে পারি না।
আমরা বললাম, তুমি এরপর থেকে আর কখনও ওর দিকে তাকাবা না। তোমার লজ্জা হওয়া উচিত এভাবে তোমাকে ও নাজেহাল করল। এবার প্রতিশোধের জন্য প্রস্তুত হও। প্রথমে সে রাজি হচ্ছিল না। পরে একরকম চাপের মুখে রাজি হল।
এরই মধ্যে কোচিং এ আমাদের পুরানো বান্ধবী তানিয়া আসলো। এবার আমরা সুমনকে বললাম, তুমি তানিয়ার প্রতি আগ্রহ সবার সামনে প্রকাশ করো। সুমন এবার বলল, তানিয়ার সাথে এ ধরনের কেন ছলনা করবো বলো?
আরে বেয়াক্কেল, তানিয়া সব জানে,বললাম।
তানিয়ার প্রতি বাড়তি কেয়ার দেখে সায়মা নিজের চোখকে যেন বিশ্বাস করতে পারছিল না। এর মধ্যে আবার ১লা জানুয়ারির দিন সুমনকে শেষ খেলা দেখাতে বললাম। সে ঐদিন ১টা ফুলের তোড়া নিয়ে হাজির হল। এরই মধ্যে ফুলের তোড়া দেখে আমাদের কোচিং শিক্ষক রাসেল ভাইয়া মনে করল, তাকে মনে হয় তার এই ছাত্র এত বেশি পছন্দ করে যে নতুন বছরের শুভেচ্ছা দেয়ার জন্য ফুলের তোড়া নিয়ে হাজির।
সুমন ফুলের তোড়া নিয়ে যেই না তানিয়াকে দেয়ার জন্য উঠে দাড়াল, রাসেল ভাইয়া থ্যাঙ্কস সুমন বলে ফুলের তোড়া সুমনের হাত থেকে নিয়ে নিল। সুমন সাথেসাথে ফুলটা কেড়ে নিয়ে বলল, আমি ছেলেদের ফুল দিই না!
সায়মা তার বান্ধবী ফ্যান্সির সাথে ফিসফিস করে কি যেন বলতে লাগল আর এমন ১টা ভাব করল যেন ফুলটা সুমন তার জন্য এনেছে।
এবার সুমন সবাইকে অবাক করে দিয়ে, তানিয়াকে ফুলের তোড়াটা দিল। তানিয়াও কম বদ না সেও লজ্জা পাচ্ছে এমন ভঙ্গিতে নিয়ে থ্যাঙ্কস বলল।
সায়মা এ ঘটনার জন্য প্রস্তুত ছিল না। তাই সে নিজেকে নিজেই বুঝ দেয়ার জন্য তানিয়াকে বলল, তুমি কোচিংএ নতুন তো তাই সুমন আমাদের সবার হয়ে বরণ করল ফুলের শুভেচ্ছা দিয়ে। তুমি কিন্তু অন্য কিছু মনে করো না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


