অন্ধকার ঘরে জেবিন।
জেবিন: তুই চোরের বউ!!! চোরের বউয়ের মত থাকবি!!
মোবাইলের ওপাশ থেকে: ও তাই নাকি!! জানতাম না তো
জেবিন: তোর জামাই মাতাল, মোবাইল চোর!! আমার ২টা মোবাইল ও নিয়ে গেছে!!! চোরের বউ আবার হাসি দিস!!
ওপাশ থেকে: এই শোন মোবাইলে কি বলছে, তুমি নাকি মোবাইল চোর!!
এই মহিলার সাথে সুবিধা করতে না পেরে জেবিন ফোন রেখে দিল
প্যাকেটটা নিয়ে রমজান চুপিচুপি নিজের ঘরে ঢুকলো। তারপর লুকিয়ে কোথায় রাখবে তা খুজতে লাগল, যেখানেই রাখতে যায় মনে হয় চিকি দেখে ফেলবে। চিকি খাটের নিচে কলম খুজতে ঢুকেছিল, সে রমজানে ওলটপালট লাফালাফি দেখে চুপ মেরে খাটের নিচে পড়ে রইল। রমজানের মনে হল আপাতত বালিশের নিচে রাখাই নিরাপদ। রমজান ঘর থেকে বের হবার পর চিকি বের হল। চিকি বুঝতে পেরেছিল বালীশের নিচে কিছু রাখা হয়েছে। এরপর প্যাকেটটা খুলে চিকি দেখলো লাল রঙের একটা সালোয়ার কামিজ। মায়ের কাছে প্যাকেটটা নিয়ে চিকি বলল, মাগো আইজকা হাচাহাচা ২ মিনিট হাসচি।
মা (তানজিলা হক): কেন কি হয়েছে?
চিকি: দ্যাখ্খো তুমার পুলার কান্ড!!
প্যাকেটটা সামনে এগিয়ে দিল।
তানজিলা:
এটা কার জন্য কিনেছে?
চিকি: হে হে হে....
তানজিলা: রমজান কই?
.......রমজান এই রমজান .......
রমজান: কি হয়েছে আম্মু?
তানজিলা: এটা কি!!!!
রমজান এক সেকেন্ডের জন্য বাক শক্তি হারিয়ে ফেলল। তারপর কোন কিছু মাথায় এলো না তাই বলল, এটা একটা সালোয়ার কামিজ (ক্লোজআপহাসি)
তানজিলা: সেটা তো দেখতেই পারছি!! তোমার ঘরে এটা কেন!!! তুমি কি সালোয়ার কামিজ পরো?!!
রমজান: না আম্মু এটা তোমার জন্য....
চিকি: খাইছে.....
আম্মু তো লাল জিনিস পরেই না....এ তুই জানোস না!!!
রমজান চিকির কানে একটা ঠাস করে চড় মারল।
চিকি: ওরে মা..... ওরে খোদাতালা.....
তানজিলা: চিকি তো ঠিকই বলেছে, তুমি জানোই তো আমি লাল পরি না। অযথা ওকে মারলে কেন?
রমজান: আমার একটা জিনিস ভাল লেগেছে সেটা আমি তোমার জন্য নিয়ে এসেছি...দ্যাটস ইট.....কেনার সময় আমি অত ভাবি নি
তানজিলা: মানে!! তুমি কি মনে করছো আমি কিছুই জানি না বুঝি না?!! রাত বারোটার সময় ফোনে কিসের এত হাসাহাসি?!!!................
(রমজান আর চিকির মা তানজিলা হক মধ্যবয়স্ক ক্যাটক্যাটে সন্দেহপ্রবণ একজন মহিলা। তার ছেলেদের সাথে কোন মেয়ে কথা বললেই সে অন্য কিছু মনে করে এবং সেই মেয়েটাকেও পারলে খোচা মারে। রমজান এই মহিলার ভয়ে বাসায় কোন মেয়ে ক্লাসমেটকে আনে না। আর যে সালোয়ার কামিজটা এনেছে, সেটাও ওর এক ক্লাসমেটের জন্মদিনের গিফট)
পুস্প, জয়িতা, প্রিয়তি, প্রিয়া (প্রিয়তমা) চারজনের গ্রুপ। আর একটা গ্রুপ যেটাতে সাইফুর আছে ওটাতে দোলা, জেবিনসহ মোট ৩জন মেয়ে আছে। এই ২টা গ্রুপের সমস্যা দেখতে নাজিরুল স্যার একেবারেই আসছে না, ওখানে মেয়েরা তাই
ছেলেদের গ্রুপে যেয়ে শুধু এ্যাডভাইস না পারলে ওখানে বসে গল্প করছেন। সাইফুর তাও কোনভাবে কাজ চালাচ্ছে কিন্তু জয়িতারা বড় অসহায়। এই মেয়েগুলো কাজের ব্যাপারে সিরিয়াস, তাদের প্রবলেম হচ্ছে স্যারকে বলছে, স্যার যেন শুনেও শোনেন না!!
পুস্প এবং প্রিয়া একটু চুপ থাকলেও জয়িতা আর প্রিয়তি চুপ থাকতে নারাজ। জয়িতা রেগে বলতে লাগল, স্যারের সমস্যা কি!!
হাবার হাবা, হাবা লোক কোথাকার কাউকে কোন শেখাতে পারে না আবার টিচার হয়েছে!!
প্রিয়তি: আরে তুই জানিস ইনার কাহিনী!! এখনও সর্দি লাগলে মায়ের আচল ছেড়া কাপড় দিয়ে নাক মুছে.....যত্তোসব ঢং ...কোনখান থেকে এগুলোকে নিয়ে আসছে!!! আল্লাই জানে!!!
নাজিরুল স্যার ছিলেন এক বেঞ্চ সামনে কাজেই কথাটা তার কানে গেল এবং আগে উনি যতটুকুও ওদের দেখাচ্ছিলেন এরপর আর ওদের ধারেকাছ দিয়েও গেলেন না।
রাশেদ স্যার ক্লাসে এসেই বললেন: কোলোজ ইউর ফেচ
তামিম: কিভাবে স্যার?
রাশেদ স্যার: এই সেলে বেয়াদপি করবা তো কেলাসের বাইরে যেয়ে করবা। কেলাসে এসে কেলাসের মত থাকবা।
তামিম: না আপনি বললেন কোলোজ ইউর ফেচ কিন্তু স্যার ফেস কিভাবে ক্লোজ করে?
রাশেদ স্যার: মানে বললাম এসটপ ছাইড টকিং

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


