১
কি হল!! এখনও টেবিলের উপর পড়ে থাকা কাপ পিরিচগুলো ধুতে যাও নি?!!
না মানে.....এই তো যা্চ্ছি, বিনীত ভঙ্গিতে ছালু বলল।
এখনও এই কাজ শুরু করো নাই কখন ভাত রানবা আর কখন যাবা মাইকিং করতে?....রেগে ছালুর বউ জিন্নাতী বেগম আবার বলল।
ছালু: মাইকিং তো ২টা থেকে করতে যাবো (সেই বিনয়ী কণ্ঠে)
জিন্নাতী বেগম: শোন ভাত যেন চাল চাল না হয়....আরেকটা কথা ভাত যেন আবার একদম ফ্যাতাফ্যাতা না হয়...কালকে যা রানছো তা আমি মুখে দিতে পারি নাই......
জিন্নাতী বেগম কথা বলে যাচ্ছে বেচারা ছালু তা বিনা প্রতিবাদে শুনে যাচ্ছে.......
আম্মা ২ডা ভিক্ষা দেন, এলাকার পরিচিত ছ্যাচরা ভিক্ষুক জেবুন্নেসা বলল।
জিন্নাতী বেগম: ছালু যাও আগে খয়রাত দিয়ে আসো।
ছালু ভিক্ষা দিতে যাবে তার ফোন বাজল.....একা মানুষ ছালু কত দিক সামলাবে!!
বউরে ইলেকশনে নামাইছো মিয়া আর এই কয়ডা চাইল দাও ......আত্নাডা তোমার এত ছোড ক্যান.....গড়গড় করে জেবুন্নেসা বলতে থাকলো।
ছালু: ওই বুড়ি কাম করবা? কাম?!! কামের একটা মানুষ পাই না আমি....সব কাম আমার করা লাগে....তিন বেলা খাইতে দিমু
জেবুন্নেসা: আমার শইলডা ভাল্লাগতাছে না...ঘরে যাইয়্যা শুইয়্যা থাকমু।
২
আমার এখন যা দরকার তা হইল গিয়া একটা ট্যালেন্টেড মোরগ যেইগুলান খালি সকালে না সারাদিনই ডাকে, চিন্তিত ভঙ্গিতে পরপর ২বার বিজয়ী এলাকার অতি পরিচিত এবং অকর্মা ওয়ার্ড কমিশনার সোহাগ ভাই (রেটিং) যার মার্কা মোরগ তিনি বললেন।
সোহাগ ভাইয়ের একমাত্র ভাতিজি তামান্না (তামিম ইরফান) বলল, ও কাকা, আমার আমার এট্টা বান্ধুবী আছে....ওর ধারে এট্টা মুরোগ দেখছিলাম...উরে কাক্কা....কি সুনদার...তয় ছিমরিডা এট্টু গরীপ....আমাগে ইস্কুলে পড়ে...সারাদিন ডাক পাড়ে ....আক্কাঅঁ আক্কাঅঁ আক্কাঅঁ (মোরগের মত ডাক পেড়ে তামান্না দেখাতে লাগল)
সোহাগভাই: ওই থাম
তামান্নার চোখে পানি এসে গেল।
সোহাগভাই: কান্দন থুইয়্যা সাইফুররে নিয়ে ওগে বাড়ি যা...ওই সাইফুর মোরগটা কিন্না আনবি যদি দেহিস সারাদিন ডাক পাড়ে।
সাইফুর: ওখে সোগাগভাই......আপনার কথার কোন নড়চড় করতে নাই
আমি এক কতা কইয়্যা দিতাছি আমি ৫০০০ এর এক টাকা কমে আমার মোরগ রাশুরে বেচমু না, মোরগের মালিক জিলাপী বলল।
সাইফুর: ওই ১০০০ টাকায় দে...
জিলাপী: ইশিরে....আইসে...কোথার দিয়া!! আমার কথার কোন নড়চড় করমু না...৫০০০ দিলে দেন নাইলে ওই ওসুখ আলা মুরগাডারে নিয়া যান।
সাইফুর: ওই ছেমড়ি ১০০০ টাকা কোনদিন কোন মোরগের দাম হয় শুনছোস?
জিলাপী: আপনেরা বড়লোক....আপনাগোর দেতে কুনো সমেস্যা নাই....
সাইফুর: ওই ছেমড়ি ১০০০টাকায় দেলে দে নাইলে জবুই দিয়া খাইয়্যা থুমু
জিলাপী: না দিমু না
সাইফুর হাটা ধরলো....
অর্থলোভী জিলাপী এইবার দৌড়ে এসে বলল, নিয়া যান নিয়া যান।
জিলাপি: আয় তি তি তি....রাআআআশু......আয় তি তি তি......
রাশু মোরগ আক্কাঅঁ আক্কাঅঁ আক্কাঅঁ করতে করতে জিলাপীর কাছে আসল।
টাকাটা ওড়নায় বাধতে বাধতে জিলাপী চোখের পানি ফেলে একটু ঢং করতে লাগল।
তামান্না এতক্ষণ কিছু বলে নি....তার চোখেও পানি এসে গেল জিলাপীর চোখে পানি দেখে।
তামান্না: সে কি রে তুই কানতিছিস নিকি?!!
জিলাপী: না রে চোহে যানি কি পড়ছে
তামান্না: আমার কাছে লুকাতি হবে না আমি বুঝতি পারিছি.....ইলেকশনের পরে তোর মোরগ তোরে দিয়া যামুনে।
৩
পথে চলতে চলতে হোচট খেলেন বাদর চৌধুরী।
যতসব স্টুপিড ইডিয়টদের দেশে বাস করছি....রাস্তাটা ঠিক করে না.....ঠিক করবে কি করে!! টাকাগুলো মেরে মেরে খাবে...যতসব রাক্ষসের দল.....লজ্জা থাকলে আবার ভোটে দাড়াতে না...., এভাবে বকবক করতে করতে বাদর চোধুরী রাস্তায় হৈচৈ শুরু করলেন।
রাস্তার লোকজন মুখ টিপে টিপে হাসতে লাগলো কিন্তু বাদর চৌধুরীর কথায় কথা দিল না.....একটা ছোকরাটাইপ ছেলে নাম শান্ত দাত কেলাতে কেলাতে বলল, আইজকা হট বুড়া চেতছে
বাদর চৌধুরী কথাটা শুনতে পেল না, শামীম যে কি না তার একনিষ্ঠ চামচা বলল, নানা চলেন দি।
বাদর চৌধুরী: শামীম তোকে কতবার বলবো ঠিকভাবে কথা বলবি....চলেন দি কি ধরনের কথা!!
(বাদর চৌধুরী একজন রিটায়ার্ড কলেজ টিচার, উনার ৩ছেলে বিদেশে থাকেন....সবাই উচ্চশিক্ষিত। বাবাকে টাকা পাঠায় বাবা সেই টাকা দিয়ে এবার ইলেকশন করছেন। এই লোকটা একজন দাম্ভিক ও রাগী লোক, এলাকায় ইনি হট বুড়ো নামে পরিচিত। নিজের সম্পর্কে উনার ধারণা অনেক উচ্চ। উনার ধারণা ইলেকশানে জেতার জন্য চাই ক্রিয়েটিভিটি যা একমাত্র তার মধ্যেই আছে....বাকীসব কম্পিটিটররা অশিক্ষিতের দল....গেয়ো ভূত)
(আজকে আমার একজন প্রিয় ব্লগার সাইফুর ভাইয়ের জন্মদিন। যখনই কোন সিনেমা লিখি সাইফুর ভাই আমাকে ১টা আইসক্রিম খাওয়াতে চান। আজকের পর্বের জন্য ১টা না ২টা খাওয়াইতে হবে। আজকের লেখাটা সাইফুর ভাইকে উৎসর্গ করলাম)
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


