একজন অলস মানুষ হিসেবে আমি প্রতিদিনই ভাবি সকাল ১১টা থেকে গোসল করবো কিন্তু মোড়াতে মোড়াতে সন্ধ্যা ৬/৭টার দিকে গোসল করি। নানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আজকে আম্মুরা কিছু দোয়া পড়েছিলো তাবলীগে সে উপলক্ষ্যে তাবলীগের ঘরে সামান্য খাওয়াদাওয়ার আয়োজন দুপুরে করা হয়েছিল। আমি একসময় তাবলীগে যেতাম আম্মুদের সাথে তাছাড়া আমাদের বাসায়ই যেহেতু হতো আমি যেতাম। যে কথা বলছিলাম আম্মু দুপুরে ৩টার দিকে একরকম তাড়া দিয়ে বললো মোনাজাতে অংশগ্রহন করতে। আমি বললাম, গোসল করে যাই। আম্মু বলল, শেষ হয়ে যাবে। আমি বললাম, না শেষ হতে দেরি আছে আম্মু শুনলো না শেষে গোসল না করেই গেলাম। মোনাজাত তখন অনেক খানি হয়ে গেছে। আমি ভাবলাম আল্লাহ বাচিয়েছে অনেকটা শেষ!(কারণ এই কাজটা উনারা এত দীর্ঘ সময় ধরে করেন সবাইই বিরক্ত হয়ে যায়) এরপর মোনাজাত শেষ হবার আর নাম নেই। যখন শেষ হল তখন আসরের আযান দিচ্ছে ৪টা বাজে।
আমি আমার ব্যক্তিগতভাবে মহিলা তাবলীগে যা দেখেছি শুধু তাই ই বলছি। এর মানে এই নয় যে আমি সব ঠিক বলছি।
আমাদের এখানে ২০০০ সালের দিকে পাশের বাসার এক আপু একদিন মহিলা তাবলীগের কিছু মহিলা নিয়ে আসে। এরা সপ্তাহে এই এলাকায় আসবে দ্বীনের পথে মহিলাদের আনা তাদের উদ্দেশ্য। (আমার মা খালা বা মামীদের দেখেছি ছোটবেলা থেকে নামাজকালাম পড়তো তবে খুব বেশি এ বিষয়ে পড়াশুনা করতো না। নানাজীর কিছু পুরানো হাদীসের বইয়ে লাল কালি দিয়ে দাগানো ছিল ওগুলোই তারা পড়তো।) এখানে একটা কথা বলে রাখি আমাদের এলাকার বেশ কিছু মহিলাই অশিক্ষিত বা স্বল্পশিক্ষিত আর যারা আসতেন তারা যথেষ্ট শিক্ষিত। হাদীস কোরানের কথা হবে তাই তাবলীগের এদের নানীবাড়িতে একটা ঘর দেয়া হল প্রতি সপ্তাহে বসার জন্য। তখন বড় মামা নতুন বাসা বানিয়েছে তাই নানীদের পুরানো বাড়িতে পড়েই ছিল। কিন্তু এখানে ওই মহিলারা বাদ সাধল। পাকা ঘরে নাকি দ্বীনের কাজ হয় না এবং এসব কথা নিয়ে বিভিন্ন হাদীস তারা শোনানোর পর নানী বলল, ঠিকাছে তোমরা ঘর বানিয়ে নাও গোলপাতার। এবার তাদের জায়গা পছন্দ হয় না। নানীদের সাড়ে ৪বিঘার যে জায়গা ওখানে যেহেতু মামা খালাদের ভাগ আছে তাই আব্বু বলল, তারই পাশে আরেকটা ছোট জায়গা আছে আমাদের সেখানে ঘর বানাতে। সেটা তাদের পছন্দ না। তারা বলে, জায়গা জমির মায়া করে দুনিয়াতে সুখ হবে আখিরাতে না। আরো অনেক কথা। শেষ পর্যন্ত অবশ্য আমাদের ওই জায়গাতেই ঘর হয়েছে।
এরপর তাদের নতুন ফতোয়া শাড়ি পরা যাবে না এটা হিন্দুদের পোশাক তো সেটা খ্রিষ্টানদের! পোশাক সালোয়ার কামিজ পড়তে হবে!
কারো ডাক নাম যদি বাংলাতে হয় যেমন আমার ডাক নাম ফুলের নামে ডাকা যাবে না। আম্মু হুজুগে পড়ে কয়দিন আমাদের ৩বোনকে ভালনাম ধরেও ডাকলো। কারো নাম বাবু ডাকা যাবে না কারণ বাবু মানে নাকি কুকুর!
এগুলো ছিল তুচ্ছ বিষয়। তারা এরপর তাবলীগের ঘর বানানোর জন্য সবার কাছে চাদা চাইতে লাগলো। কিন্তু এরা এতই অবিবেচক যে তারা এটা গরীব মহিলাগুলোকেও তাদের ভাগ বুঝিয়ে দিলো। এক পর্যায়ে আম্মু বিরক্ত হয়ে গেল। সে সোজাসুজি বলে দিল যে যারা পারবে না তাদের উপর কেন প্রেশার ক্রিয়েট করেন! অবশেষে তাবলীগের ঘর তৈরি হল!
এরপর খুলনার মুরুব্বী এক মহিলা আছেন তার সাথে প্রতি সপ্তাহে এখানকার ২/৩ জনের দেখা সাক্ষাতের নির্দেশ দেয়া হল। আম্মু স্ট্রেইট বলে দিলো আমি বাসার পাশে যাই তাই বলে প্রতি সপ্তাহে এখানে ওখানে যেতে পারবো না। যারা একটু ফ্রি তারা যেত এবং তাদের কাছে খুলনার মুরুব্বীর একটা ফর্দ থাকতো কতো কি এখানকার ঘর থেকে খুলনার ঘরে যাবে প্রতি মাসে! এদের উপর বিরক্ত হয়ে গেল আমাদের এলাকার মোটামুটিভাবে যারা তাবলীগের সাথে জড়িত তারা। এখন এদের সাথে আর কোন যোগাযোগ নেই আম্মুরা নিজেরা বই পড়ে নিজেদের মত দোয়া হাদীস পড়ে।
আমাদের পাশের বাসার এক মামী ছোট বাচ্চাদের আরবী পড়াতে চাইলেন ওই ঘরে। কিন্তু ঘরের কেয়ারটেকার এক মহিলা আছেন উনি বাধ সাধলেন। এরপর উনি নিজের বাসায় ওদের আরবী পড়ান। আমার আম্মু যথেষ্ট স্ট্রেইট হলেও ওই মহিলার (কেয়াটেকার) মিষ্টি কথা আর বানানো হাদীসের ফতোয়ায় সবসময়ই লাইনচ্যুত হতো। এই মহিলা অনেক অপরাধ করার পরও তার মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুশোচনাবোধ কখনও দেখিনি।
এই মহিলা অনেক সুন্দর গুছিয়ে কথা বলতে পারে এটাই তার সবচেয়ে বড়গুন। তাবলীগের পলিটিক্স অনেক দেখে বিরক্ত হয়ে আমি ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু আম্মু মামী এরা ছাড়তে পারে না কারণ এরা এটার মূল উদ্যোক্তা।
তাবলীগে যাবার পর আম্মুর লাভ হয়েছে এটাই সে আগে হাদীসের বই কম ঘাটতো অথবা কোরান শরীফ পড়লে অর্থ পড়তো না। এখন সব খুটিনাটি পড়ে। হাদীস গুলো যারা পড়তে পারে না তাদের পড়ে শোনায়। হয়তো খুব সুন্দর গুছিয়ে বলতে পারে না তবুও চেষ্টা করে এটাই তার মানসিক শান্তির কারণ। আরেকট জিনিস ভাল লাগে এরা কারো জন্য দোয়া করতে বসলে খুব অল্প সময়ে অনেকদূর এগিয়ে যায়। সবাই সবার জন্য এটাই ভাল লাগে আমার কাছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

