আমার জন্ম এক অজোপাড়া গাঁয়ে। যেখানে বিদ্যুৎ এসেছে অনেক পরে। সেখানে মোবাইলের মত একটা অত্যাধুনিক যন্ত্র খুব সহজেই পৌছে যায় নি। সময়ের সাথে সাথে মানুষের চিন্তা চেতনা ধ্যান ধারণা চাহিদা আকাঙ্খা বদলে যায়। যখন আমার গ্রামে মোবাইল গেছে তখন আর ডিজুস প্রেম কি জিনিস এটা প্রাকটিক্যালি দেখার বয়স আমার ছিল না। তাই এই বিষয় নিয়ে অনেক লেখার আগ্রহ থাকলেও তা সময় বা সুযোগের সাথে খাপ না খাওয়ায় লেখা হয় নি।
কালকে আমার এক ছোটভাই যে এই ডিজুস জামানার তার সাথে তার প্রেম বিষয়ক ভাবনা এবং কর্মকান্ড দেখে যা বুঝলাম তার আলোকেই আমার আজকের এই লেখা।
ছেলেটার নাম ধরলাম জ্যাকি চান। জ্যাকি ছেলেটা জীবনে বেশি কিছু চায় নি। একবার ফার্স্ট ইয়ারে অন্য এক ডিপার্টমেন্টের মেয়েকে দেখে তার ভাল লাগলো, সে তার মনের কথা তার প্রাণের বন্ধুকে বলল। বন্ধু বলল আরেক আপুকে, আপু থেকে ওই মেয়ে। এরপর ওই মেয়ে জ্যাকিকে দেখা মাত্রই আকাশের দিকে তাকিয়ে হাটা ধরতো। জ্যাকি বেচারা চরম লজ্জায় পড়লো, সামান্য ভাল লাগার কথা বলাতে কোন মেয়ে এমন করতে পারে এটা ভেবে সে অবাক হয়। একদিন সে ওই মেয়ের দিকে তাকিয়ে অর্থবহ হাসি দিল এটা বুঝাতে তুমি যা করলা তাতে আমার ভালবাসা ওই আকাশেই উড়ে গেছে।
জ্যাকি মাঝে মাঝে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ে কলেজের ফার্স্ট ইয়ারে থাকা মেয়েটার কথা মনে পড়ে যায় তার দিকে তাকিয়ে হালকা পাতলা হাসি দিতো। জ্যাকির ভালই লাগতো খালি মনে হতো মা জানলে তাকে ঘরে ঢুকতে দিবে না, তাই নিজের ভাললাগার গলা টিপে হত্যা করেছিল জ্যাকি।
জ্যাকির পরিচিত এক আপুর মাধ্যমেই সে সোহানার মোবাইল নাম্বার পায়। সোহানা মেয়েটা প্রথমেই তাকে ভাই বলে সম্বোধন করে আর সাথে তো আপনি অন্য কিছু মনে করবেন না আছেই। জ্যাকি কিছুদিন পর কথা বলার পর বুঝতে পারে তার এই মেয়ের সাথে কথা বলতে ভালই লাগছে। সে এই মেয়েকে প্রেমের প্রপোজাল দিয়ে বসে। মেয়েটা প্রথমে ধরি মাছ না ছুই পানি টাইপ ভাব ধরতে থাকে। জ্যাকি ছেলেটা যথেস্ট স্মার্ট। সে বুঝে এই মেয়ে পার্ট নিচ্ছে। সে ওই মেয়েকে বলে, ঠিকাছে তোমার সাথে যদি ভাইবোন সেজেই থাকতে হয় তবে সপ্তাহে এক/দুই দিন কথা বলবো এত ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলার কিছু নেই, ফোন রাখি আমাকে আপাতত ফোন করবা না আমি বিজি। ফোন রাখার ১০ মিনিটের মাঝেই সোহানার কল। জ্যাকি ফোনটা অফ করে রাখে। ডিজুস ছেলে তার ফোন তো আর অফ থাকে না, সে আরেকটা সিম অন করে রাখে।
২দিনের দৌড়ানী খেয়ে সোহানা লাইনে আসে। সোহানা ঢাকায় থাকে জ্যাকি খুলনায়। একটা কাজে জ্যাকি ঢাকায় যায়, তখন কথা থাকে তারা দেখা করবে। কিন্তু সোহানা মোড়াতে থাকে। না জ্যাকি আমার আজকে ভাল লাগছে না….আরেকদিন দেখা করবো। জ্যাকি ঝাড়ি দেয়, আমি আজকেই চলে যাবো, আমার বাপের অত টাকা নেই তোমার যেদিন মন চাইবে সেইদিনের অপেক্ষায় দিনের পর দিন ডাকায় পড়ে থাকবো। আর দেখা না করতে চাইলে নাই তবে আমাকে ভুলে যাও। মেয়েটা ১৩ মিনিটের মাঝে আসে। জ্যাকি একটুও অবাক হয় না তার সাজগোজ দেখে, জ্যাকি ছেলেটা স্মার্ট আগেই বলেছি। সে জানতো সোহানা রেডি হয়েই আছে।
(বাকিটা পরে লিখবো)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

