সবকিছু তে খুঁত ধরা স্বভাব আমার আগেই ছিল তবে এখন যেন এটা মহামারীর মত হয়ে গেছে আমার। এক বন্ধু আমাকে এ বিষয়ে সবসময় খোঁচায়, আমার আশপাশে কেন যে সব খারাপ মানুষগুলো বা আমার নাকি কিছুই ভাল লাগে না।
আমার কিছু ভাল লাগে না এটা শুনে আমার ব্লগের পুরানো একটা পোস্ট পিচ্চির হাসিব ভাইয়া কি পছন্দ করে কেউ কইতে পারলে ১০ ট্যাকা দিমু।
এই ভাল না লাগা থেকেই কিছু ভাল না লাগার কথা লিখি। ইদানীং যেখানেই যাই সবখানে রুমানা মনজুরের উপর নির্যাতন করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা। উনার উপর যে নির্যাতন হয়েছে সেটা নিঃসন্দেহে অমানবিক তবে আমরা শুধুই উনার ব্যাপারটা নিয়েই লাফালাফি করছি এমন অনেক অমানবিক ঘটনাই আশপাশের অনেকের সাথে ঘটছে। সেগুলো বিষয়ে কথা বলার সময় নেই আমাদের।
রুমানার মনজুরের উপর আমার প্রচন্ড রাগ লেগেছে। কি কারণে উনি এতদিন এসব নির্যাতন সহ্য করেছেন! তার উপর মার খেয়ে ঘরজামাই পোষার কি মানে! উনি যদি হাসবেন্ডের উপর নির্ভরশীল হতেন তবে তাও একটা কথা ছিল। আর উনার বাবা মা কি জানতো না যে উনার উপর এমন অত্যাচার হয়?? ওই লোক আগেও অনেকবার মারধর করেছেন। রুমানা মনজুরের উচিত ছিল প্রথমদিন যেদিন ওই লোক গায়ে হাত তুলেছে হাতটা ভেঙ্গে ফেলা!
অনেকেই বলে সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে উনি সব সহ্য করেছেন। একটা শিশু যদি ছোটবেলা থেকে দেখে তার মা কে বাবা অমানুষিক অত্যাচার করে তাহলে ওই শিশুটির কিভাবে সুস্থ মানসিক বিকাশ হয় এটা আমার মাথায় আসে না। উচ্চ শিক্ষিত একজন মহিলা যদি এটা না বুঝেন তাহলে হতাশ ই লাগে।
বেশ কয়েকটা লেখা পড়লাম সেখানে রুমানা মনজুর একজন খুবই ভাল মানুষ, তার কোন বন্ধু থাকতে পারে না এমন প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। না হয় থাকলো তার ইরানী বন্ধু তাই বলে তাকে অমনভাবে অত্যাচার করতে হবে!
অধিকাংশ মেয়েদের মানসিকতার কোন পরিবর্তন দেখি না। অনেক শিক্ষিত তবে চিন্তাধারা টা সেই আগেরকালের মানুষের মতই। তারা পারতপক্ষে সেপারেশানের কথা ভাবে না শত অপমান অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করবে। তারপর যদি কারো সেপারেশান হয় তবে সে হয়ে যায় সমাজের চোখে দোষী অথবা করুণার পাত্রী! আমি যখন ইন্টার্ণী করতাম তখন ওখানে এক আপু ছিলেন একটু রাগী। উনার বিয়ের আড়াই মাসের মাথায় ডিভোর্স হয়েছিল। যখন ডিভোর্স হয় তখন উনি প্রেগনেন্ট ছিলেন। একদিন উনার সাথে আরেক আপুর হালকা কথা কাটাকাটি হওয়ায় উনাকে নিয়ে ২য় আপু আমাকে বলল, ওর এই স্বভাবের জন্য প্রেগনেন্ট অবস্থায় ডিভোর্স দিয়েছে তার হাসবেন্ড! লোকটার অমানবিকতা চোখে পড়লো না, পড়লো একজনের রাগ বেশী এটা!
একটা মেয়ে যখন শ্বশুরবাড়িতে অত্যাচারের শিকার হয় তখন তার শ্বশুরবাড়ির মহিলাগুলো যদি প্রতিবাদ করে তবে কিছুটা হলেও তো এগুলো প্রতিকার হয়। কিন্তু তারা দেখা যায় উল্টাটা করে।
আমার এক পরিচিত লোক আছে যার বেশ কয়েকটা বিয়ে। সে মাঝে এক মহিলাকে বিয়ে করলো যার ১টা ৭/৮বছরের বাচ্চা আছে। এটা নিয়ে ওই লোকের বোনদের আক্ষেপ! কেন এমন একটা মেয়েকে বিয়ে করলি! তোর মুক্তাকে (ওই লোকের প্রথম বউ) ভাল লাগে না বলতি আমরা কম বয়স্ক আরেকটা মেয়ের সাথে তোর বিয়ে দিতাম। এই বুড়ি কে কেন বিয়ে করলি!
জানিনা কবে আমরা মেয়েরা অধিকার সচেতন হবো! কবে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন হবে!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



