somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সখিনা কেন সখি না!

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১০:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সখিনার জন্যই ফার্স্ট বেঞ্চের ছেলেমেয়েদের ২সারির মাঝখানের প্রথম সিটটাতে বসতো টেনেটুনে ক্লাসে ওঠা ছাত্র… আজও রশীদ স্যারের হোমমেড চিকন কঞ্চির স্বাদ ভুলতে পারে নি রমজান। পিছনের দিকে বসলে হয়তো মাঝে মাঝে পড়া না করে যেয়েও ফাকতালে বেঁচে যাবার সুযোগ ছিল। কিন্তু একেবারে সামনের সিটে বসতো বলেই প্রতি ক্লাসে পড়া ধরতো প্রতিটা স্যার। আর পরেরদিন রমজানকে সামনে দেখেই আগেরদিন পড়া পারে নি এটা মনে পড়তো আর আবার পড়া ধরতো আর … ক্লাসের নূড়া সবসময়ই এইটা নিয়ে হাসি তামাশা করতো… পড়া পারিস না আবার রোজ রোজ মার খেতে কেন সামনে এসে বসিস! এ কারণেই রমজানের একটা নামও দিয়েছিল নূড়া উজকুম্বা রমজান... মাঝে মাঝে অবশ্য নূড়া রমজানকে সুপরামর্শও দিতো …পড়া করে আসতে বলতো… কিন্তু রমজানের যে মন বসে না পড়ার টেবিলে… একথা কেমনে বোঝায়…

সখিনা বসতো ঠিক পাশের সিটে… মাঝখানে দেড়হাত ফাকা জায়গা টিচারদের চলাচলের জন্য। কতবার সখিনার কলম পড়ে গিয়েছে তুলতে গিয়েছে, রমজানও তার কলম ফেলেছে ইচ্ছা করে একবার কলম তুলবার উসিলায় চোখাচোখি তো হবে সখিনার সাথে। কিন্তু সখিনা কখনো রমজানের দিকে তাকাতো না… সে ছিল খুবই সিরিয়াস ছাত্রী। সবময়ই সে ১ থেকে ৩ এর মধ্যে থাকতো। আর রমজানও ১ থেকে ৩ এর মধ্যে থাকতো তবে সেটা পিছন দিক থেকে।

তখন ক্লাস টেনে পড়ে, একদিন সকালে ক্লাস শেষে সখিনা রমজানকে বলল, ক্লাস শেষে একটু অপেক্ষা করো, তোমার সাথে কথা আছে। একথা শুনার পর বাকি কয়েকটি ঘন্টা কিভাবে কাটিয়েছিলো রমজান সেটা সে ই জানে শুধু। ক্লাস শেষে সখিনা রমজানকে বলল, তার মায়ের চিকেন পক্স হয়েছে, বাবা ঢাকায় গিয়েছে। ১০০টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো, ডাব কিনে যেন তার বাসায় পৌছে দেয়।
রমজান একটু হতাশ হয়েছিল প্রথমে, ভেবেছিল সখিনাও হয়তো তার মনের কথা বলবে কিন্তু সেতো ডাব হাতে ধরিয়ে দিল! পরেই নিজেকে বুঝ দিল, এ কথা তো সখিনা নূড়া কেও বলতে পারতো কিন্তু নূড়াকে না বলে তাকে বলেছে কারণ সখিনা রমজানকে আপন ভাবে তাই বলেছে। আর তাছাড়া তাকে তো বাসায়ও যেতে বলেছে ডাব নিয়ে। হয়তো তাকেই সে দায়িত্বশীল ভেবেছে তাই তাকে এতবড় একটা দায়িত্ব দিয়েছে। সখিনাদের বাসায় ডাব নিয়ে গেল রমজান সাথে এক হালি কলা। সখিনার ছোটভাই কলা ডাব নিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল। সখিনার কোন দেখা নেই। হতাশ হলেও হার মানে না রমজান। বাঙালী নারী লাজুক হবে এটা তো দোষের কিছু না… মনকে শান্ত্বণা দেয় রমজান।

এভাবেই বেশ কিছুদিন যাবার পর একদিন রমজান সিদ্ধান্ত নেয় বহুদিন তো আমি কাপুরুষের জীবন কাটালাম এইবার সখিনাকে ভালবাসার কথা না বললেই না। পরদিন সকালে মওলানা সাহেবের কাছ থেকে ভয় পাওয়া কমানোর জন্য পানি পড়া খেয়ে আর গলায় একটা তাবিজ ঝুলিয়ে স্কুলে যায় রমজান। কিন্তু সখিনা আসে না সেদিন… সেদিন কেন তারপর বহুদিন হয়ে গিয়েছে সখিনা ফিরে আসে নি… তার কোন খবরও কেউ জানে না।

জীবিকার তাগিদে রমজানও আজ বিদেশে প্রায় ১৫ বছর। রমজানের মা রমজানকে গত ১০ বছর ধরে বিয়ে করার জন্য পীড়াপীড়ি করছেন। কিন্তু রমজান আজ ৩৫বছরের হবার পরও মাকে বলে, বিয়ে করার সময় হয় নি এখনও।
নূড়ার ফোন পেয়ে রমজান নিজেকে সামলাতে পারে না। প্লেনের টিকেট কেটে সাথে সাথে দেশে চলে আসে রমজান। রমজানের মাও এইবার নাছোড়বান্দা, এইবার তিনি ছেলের বিয়ে দিয়েই ছাড়বেন। সখিনাদের বাসা থেকে বিয়ের ব্যাপারে খুব আগ্রহ দেখাচ্ছে শুনে আর না করে না রমজান।

সামনের কয়েকটা চুল পাকলেও ঠিক যেন আগের মতই রয়ে গিয়েছে তাতে কি! আমার জন্য যদি সখিনা এতগুলো বছর অপেক্ষা করতে পারে তবে সখিনার সব দাঁত পরে গেলেই বা কি আসে যায়!... মনে মনে বলে রমজান।
মেয়ে একদম মায়ের মত হয়েছে, সখিনার ছোটভাইয়ের কথা শুনে যেন সম্বিত ফিরে পায় রমজান।
সখিনাকে সে তো দেখেছেই তার মাকে দেখা না দেখার কি আছে! নিজের মনেই বলে রমজান।
একটা ১৭/১৮ বছরেরে মেয়ে মাথায় ঘোমটা দিয়ে এসে সালাম দেয়।
সালামের উত্তর দিতে দিতে রমজান বলে, এইটা কে?
নূড়া বলে, আমাদের সখিনার মেয়ে… এ ই তো পাত্রী।
এক দৌড়ে রমজান ঘর থেকে বের হয়ে যায় রমজান, এরপর আর রমজানকে ওই গ্রামে দেখা যায় নি।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১১:০৫
২২টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×