somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্মৃতির জাবর কাটা!

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ৮:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকাল পুরানো কথাগুলো খুব মনে পড়ছে। ছোটবেলায় আমরা ঈদের সময় পাড়াতে বেড়াতে যেতে চাইতাম না। আমাদের অভিমান ছিল আমরা সবার বাসায় যাই ওরা আমাদের বাসায় আসে না তো! পাড়ায় এক মামা ছিলেন উনি অনেকদিন অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে ছিলেন। নানী ওই মামার সাথে প্রতিবারই ঈদের দিন দেখা করতেন আর সাথে আমাদেরকেও নিয়ে যেতেন সালাম করাতে। ওই মামার বাসায় যাওয়া মানে পুরো পাড়া বেড়িয়ে আসা। এই নিয়ে নানীর সাথে আমরা তিনজন প্রতি ঈদে ঝগড়া করতাম। বুবুর কুকুর ছিল। সেই কুকুর আবার বুবুর পিছু পিছু সবখানে যেতো। একবার বুবুর কুকুর আর পাড়ার আরেক কুকুর এমন মারামারি শুরু করলো যে বুবু তার কুকুর নিয়ে পাড়ার ভিতর দিয়ে না গিয়ে রাস্তা দিয়ে ওই মামার বাসায় যেতে বাধ্য হল। ওই মামা যতদিন বেঁচে ছিলেন আমরা উনাকে সালাম করে দোয়া চাইতে যেতাম নানীর সাথে। মামা মারা যাবার খবরটা যখন নানী শুনলো কেমন যেন একটা বিমর্ষ ভাব ছিল নানীর। এর কয়েকদিন পরেই নানী অসুস্থ হল আর মাসখানেক পর মারা গেলেন। তবে এখন নিজের ইচ্ছায় ওই মামীর কাছে দোয়া চাইতে যাই ঈদে


আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন বেশ কয়েকটা হিন্দু পরিবার ছিল। এর মধ্যে শম্ভুদা, কণিকাদি, নারায়নদা, পুতুল দের বাসা ছিল একদম আমাদের পাশে। পুতুলদের বাসার সাথেই ছিল পুকুর। পুকুরের পাড়ে ২টা ফুল গাছ ছিল। একটা কাঠ মালতী আরেকটা লাল লাল পূজা করার ফুল নামটা মনে আসছে না। পুকুরে পানি ঘোলা করার জন্য সবসময় মুরুব্বীদের বকা খেতাম আমরা। মনের দুঃখে আমরা (আমি, বড়বোন আর মামাতো বোন) বড় মামার কাছে একটা পুকুরের আবদার করতাম প্রায়ই। মামাকে আমরা বলতাম আমাদের একটা মাঠ ছিল ওখানে পুকুর কেটে দিতে কিন্তু মামা আমাদের বলতো পুকুর কাটলে বড় জামরুল গাছটা কেটে ওখানে কেটে দিবে। আমরা জামরুল গাছটার মায়া ছাড়তে রাজি ছিলাম না তাই পুকুর কাটাও হতো না। একবার ঝড়ে জামরুল গাছটা পড়ে গেল।

শম্ভুদারা সুতায় রং করে কি যেন বানাতো ঠিক মনে নেই। তবে আমরা মাঝে মাঝে উনাদের সুতা গুটিয়ে দিতাম। শম্ভুদার চাচা ছিল পুতুলের বাবা। পুতুলের একটা ভাই ছিল তাপস দা। ছোটবেলায় আমি তাপস বলতে পারতাম না, বলতাম তার্পস দা। শম্ভুদার মায়ের খুবই শুচিবায়ু ছিল। উনি মুসলমানদের হাতে কিছু লাগলে অপবিত্র হয়ে যাবে এই ভয়ে খুবই সাবধান থাকতেন। একবার উনি পূজার থালা যাতে ছোট ছোট বাটি গ্লাস ছিল কলের পাড়ে রেখে ঘরে কি যেন কাজ করতে গিয়েছেন এমন সময় পাড়ার আর তখনকার দুই পিচ্চি নিজেদের খেলনা মনে করে খেলাধুলা শুরু করেছে। এরপরে যখন শম্ভুদার মা দেখলেন ওনার পূজার থালা মুসলমানের হাতে উনার অবস্থা আর নাই বা বললাম… উনারা পরে ভারতে চলে গিয়েছেন।

নারায়নদার বউ বেশ সুন্দরী ছিলেন। শ্যামলা রং, মাথায় বেশ বড় একটা খোপা, মিষ্টি চেহারা। খবুই ঠান্ডা ধরনের মানুষ ছিলেন। অনেকদিন ভূগেছেন উনি। বাতের কারণে উনি হাটতে চলতে পারতেন না। শেষ দিকে উনার মানসিক সমস্যাও দেখা দিয়েছিল। শেষবার উনাকে যখন দেখতে গিয়েছি তার আগেরদিন মশার কয়েল থেকে উনার বিছানার তোশকে আগুন লেগেছিলো। এটা থেকে উনার ধারণা আরো হয়ে গিয়েছিল কেউ একজন উনাকে মারতে চায়। আম্মু আর আমি দেখতে গিয়েছিলাম। উনি আম্মুকে ইশারা করে বুঝাচ্ছিলেন যে উনাকে মেরে ফেলতে চায় কেউ। এরপরের দিনই উনি মারা গেলেন। ছোটবেলায় উনার সেই পরিপাটি মিষ্টি চেহারাটা যেন আজও চোখে ভাসে।


৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×