এই বৃহস্পতিবার আমাদের ফেয়ারওয়েল হয়ে গেল। ভার্সিটির সিনিয়র ভাই বলে কথা, ব্যাপক ভাঞ্জা মেরে ফরমাল ড্রেস আপে ফাংশনে হাজির হয়েছিলাম। সবাইকে সেইরকম এক্সিকিউটিভ এক্সিকিউটিভ লাগছিল, ফরমাল প্যান্ট, ফিটিং ফরমাল শার্ট, জেল দিয়ে ভেজানো পরিপাটি করে আঁচড়ানো চুল।যতই এক্সিকিউটিভ ভাব নেই না কেন বাস্তবিক ভাবে নিতান্তই ছোকড়া। থ্রি কোয়ার্টার আর কলার ছেঁড়া গেঞ্জি পরেই রাস্তা ঘাটে হাঁটা চলাফেরা করি। আমাদের মধ্যে যারা ফিটফাট তাদের গেঞ্জির কলারটা ছেঁড়া থাকেনা এই যা পার্থক্য। মেয়েদের কথা আর কি বলব? ওরা মেকআপ মেরে শাড়ি পরে এমন পরী সেজে এসেছিল যে কথা বলতে রীতিমত লজ্জা লাগছিল।
বেশ জমকালো পার্টি হয়ে গেল। জুনিয়রদের নিজস্ব পারফরম্যান্স, গান, নাচ, ফ্যাশ্ন শো, ডিজে পার্টি সব মিলিয়ে তুমুল আয়োজন। একবাক্যে বললে সিনিয়রদের যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে বিদায় দিতে তারা সফল এটা বলতে কার্পন্য করা মোটেই উচিৎ হবেনা।
বেশ ভালই লাগছিল ফাংশন শেষ হবার আগ পর্যন্ত।ঝামেলা বাধল ফাংশন শেষ হবার পর।মনের জানি কি হয়ে গেল। শুধু ফাঁকা ফাঁকা লাগে। ফাঁকা মনটাকে যে কিছু দিয়ে ভরব তাও খুঁজে পাচ্ছিনা। হোস্টেলে এসে পড়লাম ভাবলাম বাসায় না যেয়ে বন্ধু বান্ধবের সাথে থাকলে বুঝি ফাঁকা মন একটু ভরবে।আমার বোঝা ভুল প্রমাণিত করে অবাধ্য মনটা শুধু ফাঁকাই হতে থাকল। রাত বাড়ে কিন্তু রাত জাগা পাখি এই আমার আর ঘুম আসেনা। পুরো হোস্টেল জুড়ে ছেলেদের হই হুল্লোড় ধীরে ধীরে কমতে থাকে।রুমে রুমে হাই ভলিউমে বাজানো হিন্দি কিংবা ঝাকানাকা কোন বাংলা গান বন্ধ হয়ে যেতে থাকে রাত বাড়ার সাথে সাথে। দেখতে দেখতে হোস্টেল অন্ধকার হয়ে আসে। দুই একটা রুমে টিমটিম করে আলো জ্বলে, কোন অলস ছেলের পিসি অফ না করেই ঘুমিয়ে পরার কারণে।কিন্তু হতচ্ছাড়া এই আমার আর ঘুম আসেনা।
হোস্টেলের বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াই। আকাশের চাঁদটা বড়ই অদ্ভুত লাগছে। লালচে বাঁকা চাঁদ। মৃদু ঠান্ডা বাতাস।সামনে হালকা কুয়াশায় ঢাকা মিরপুর ডি.ও.এইচ.এস। গভীর রাতে প্রকৃতির এই নির্লজ্জ সৌন্দর্য্য মন টাকে কেন জানি আরো বেশী খারাপ করে দিল। দুঃখের কিছু গান ঘ্যান ঘ্যান করে মনের ভেতর বাজতে থাকে। ভাল লাগেনা। বারান্দা ছেড়ে চলেও যেতে পারছিনা আবার প্রকৃতির নির্লজ্জ সৌন্দর্যে দম আটকে আসছে। লালচে চাঁদের দিকে তাকিয়ে কবিতার লাইন মেলানোর চেষ্টা করি। একটা লাইনও মিলেনা কারণ আমি কবি নই। রুমে গিয়ে শুয়ে পড়ি একসময়। সকাল বেলা(আমার সকাল বেলা ১০ টা বাজে হয়) যথারীতি সজিবের বিরক্তিকর প্যানপ্যানানিতে ঘুম ভাংগে। ইমতিয়াজ ওঠ আমি বাসায় যাব, ইমতিয়াজ ওঠ আমি এখন বের হয়ে যাব……….
বহু কষ্টে ঘুম থেকে উঠে দেখি মনের অবস্থা যাচ্ছেতাই…………….
আচ্ছা এরকম হচ্ছে কেন? বিদায়টা বড্ড কষ্টকর ঠেকছে………….
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




