somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার সেন্টিমেন্টাল ক্যাঁচাল-২

০২ রা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এখন আমি একজন সুশিক্ষিত বেকার। পড়ালেখার আপাত পাঠ চুকিয়েছি গেল বছরের ২৪ শে ডিসেম্বর। গণনায় কাঁচা আমার এই মস্তিষ্কের দিন কয়টা গুনতে ভুল না হলেও গণনায় পাকা মনটা গুণতে ভুল করছে। হাতের কর গুণে বলতে পারছি ৮ দিন পার হয়ে গেছে কিন্তু মন বলছে বছর খানেক। দিনে ১২ ঘন্টা ঘুমিয়েও কুলাতে পারছিনা। আরে এত সময় দিয়ে আমি কি করব বাবা!! আগে অনায়াসে ঘুমিয়ে ১৪ ঘন্টা পার করে দিতাম কিন্তু এখন অভ্যাস বেজায় খারাপ হয়ে গিয়েছে, টেনেটুনে সাড়ে ১১-১২ ঘন্টা ঘুমাতে পারি। আলস্য আর কাজকর্মের মাঝামাঝি যে মানসিক অবস্থা সেটায় দুর্বিষহ ভাবে অবস্থান করছি। তেমন কোন কাজ করতে ইচ্ছা করছেনা আবার আলস্য থেকে বের হবার জন্য মনটা আকুপাকু করছে। এক ঘন্টা পেছানো ঘড়ির কাঁটা যেন জীবনকে থমকে দিয়েছে পুরোপুরি।

অলস জীবন কাটানোর জন্য অখ্যাত কুখ্যাত অনেক মুভি জোগাড় করেছিলাম। দিনে ৫-৬ টা মুভিখোরের এখন আর মুভি দেখতে ইচ্ছা করেনা। জানি এই সাময়িক মানসিক বৈকল্য কেটে যাবে একসময়।

ছেলে হিসেবে আমি যে কিঞ্চিত বেশী সেন্টিমেন্টাল সেটা আমি জানি। সময় অসময়ে সেন্টিমেন্টাল হতে আমার জুড়ি নেই । সবচেয়ে অবাক হয়েছি শেষ এক্সাম দেবার সময় সেন্টি হয়ে গিয়ে । ২ ক্রেডিট সাবজেক্ট, আড়াই ঘন্টার এক্সাম। ছেলেপেলেরা নিঃশ্বাস ফেলার টাইম পাচ্ছেনা আর আমি কিনা পরীক্ষার দেড় ঘন্টার মাথায় দিব্যি সেন্টি হয়ে গেলাম। এইটাতো একটা উদাহরণ। এরকম দেবার মত আরও বহু কান্ড আমি ঘটাই নিজে নিজে। উদাহরণ আর না দেয়াই ভাল। বন্ধু মহলে লেডিস উপাধি পেয়ে যাব সসম্মানে

হাতে কাজ নেই দেখে পুরোনো দিন গুলোর উপর চর্চা হচ্ছে নিয়মিত। নিজে না চাইলেও মন কাজ করে যাচ্ছে নিজের মত। একদম শেষ দিনটা মনের মধ্যে ভেসে উঠে প্রায়ই। দিনের পুরোটা ভেসে উঠেনা, উঠে শুধু পড়তি দুপুর অথবা বিকেলের অংশ টুকু। খাওয়া দাওয়া শেষ করে আড্ডা জমিয়েছিলাম সবাই মিলে। গালগপ্প যখন প্রায় শেষ তখন সবাই নন্দিনীকে গান গাবার জন্য ধরে বসল। অনেক অনুরোধ, ধমক, হুমকির পর নন্দিনী বোকার মত দুঃখের গান গেয়ে বসল। গান চলতে থাকে, আমি পিটপিট করে সবার দিকে তাকিয়ে দেখি প্রায় সবাই মুখ নিচু করে আছে। বুঝতে অসুবিধা হয়না নিচু হওয়া মুখ গুলোর চোখ গুলো ছলছল করছে। আমিও আর পারি না……
যার কর্কশ চিৎকারে কান ঝালাপালা হয়েছে বহুবার সেই রুমানার গানের গলা যে এত মিষ্টি তা মন বিশ্বাস করলেও কানকে বিশ্বাস করাতে হয়েছে ওর গান দ্বিতীয়বার শুনে। ও তেমন দুঃখের কোন গান না গাইলেও ইতমধ্যে চোখ ছলছল করার ট্রেন্ড চালু হয়ে যাওয়ায় কারো দিকে তাকানোর সাহস আর হয়নি।

সুর কেটে গেল। আমরা কয়েকজন মজা করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালালাম। জোর করে হা হা হি হি চলল কিছুক্ষণ। বুঝলাম বিদায়ের ক্ষ্ণ ঘনিয়ে এসেছে। বুঝতে দেরি কিন্তু মেয়েদের অশ্রু বর্ষনে দেরি নেই। একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে হু হু করে কান্না। আমার মত সেন্টির এই অবস্থায় নিজেকে সামলানই দুষ্কর হয়ে পড়ে। শেষ চেষ্টা হিসেবে আমরা ছেলেরা সম্পুর্ণ অপ্রাসঙ্গিক ব্যাপার স্যাপার নিয়ে অলোচনা জুড়ে দেই।

একে একে যে যার পথ ধরি।

আমার প্রিয় বন্ধু সজিবকে মিস করব কিনা বুঝতে পারছিনা। গত একটা বছর প্রজেক্ট থিসিস সহ সব ধরণের গ্রুপ ওয়ার্কে আমি, মাহবুব, সামিউল একসাথে ছিলাম। এই দুজনের সাথে আর কোনদিন দিন রাত এক করে কাজ করা হবেনা। টারকু খাঁ কে সামনা সামনি আর খোঁচাতে পারবনা। ফেসবুকে কমেন্ট করেই ক্ষেপাতে হবে। হিরা ভাইয়ের মাথায় আর কাঁঠাল ভেংগে খাওয়া হবে কিনা জানি না।

অনেক কথা অল্প করে বলতে গিয়েই অনেক কিছু বলা হয়ে গেল।
যার কারণে কষ্টটা সবচেয়ে বেশী হচ্ছে তার কথা বলা হলনা। বলার তেমন কিছু নেইও। শেষের দিনটায় ওর সাথেই ফিরেছিলাম। এরপর আর প্রতিদিন ওর সাথে দেখা হবেনা দেখে আমি না শিশুর মত কেঁদেছিলাম।
ওর নাম হিয়া………

সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:১৩
১৮টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×