এই কবিতা আমার লেখা না। আমার গুনবতী মায়ের লেখা। কবিতা আমি জীবনে একটাই লিখেছি। সামুতে পোস্টও করেছি। ওই কবিতা লিখে আমার একটি উপলব্ধি হয়েছিল। সহজ সরল এবং বাস্তব উপলোব্ধি। আর যাই হোক কবিতা লেখা আমাকে দিয়ে হবেনা।
আমার মা স্মার্ট মহিলা। ইন্টারনেটে মেইল চেক করতে পারে, মেইল পাঠাতে পারে। কম্পিউটারের টুকটাক কাজও পারে। কিন্তু মা যেই জেনারেশনের মানুষ, ব্লগ কি সেটা বোঝানো আমার পক্ষে সম্ভব না। তাই মায়ের হয়ে আমিই পোস্ট করছি। মা কিরকম স্মার্ট তা তার আরো কয়েকটা কবিতা পড়লেই বোঝা যাবে। ভবিষ্যতে মায়ের কবিতা আরো পোস্ট করব আশা করি।

ভেনিসের গন্ডোলা রমনীকে ডাকে
এসো আমার যাত্রী হও
রমনী বলে সঙ্গী আসুক
-সঙ্গী আসেনা
হৃদ কাঁপানো ঠান্ডা জলে ধোয়া বৃষ্টিতে
আদৃত হতে থাকে সে
ভ্যাটিকান মিউজিয়ামের এ চত্ত্বর ও চত্ত্বরে
দৌঁড়তে দৌঁড়তে হাঁপিয়ে ওঠে
-দ্য ভিঞ্চি কোথায়?
-মোনালিসা কোথায়?
দেয়ালে, ছাদে পুরো আবয়ব জুড়ে
নারী পুরুষের নিমগ্ন নিবেদন
মোনালিসা নেই – আসীম শূন্যতা
ফ্রান্সের ‘লুভর’ এর শক্ত কপাটে
রমনী মাথা খুঁড়ে ব্যর্থ হয়
মোনালিসার কোথাও কোন হাসি নেই
তারই বেদনায় নিমজ্জিত যেন
পাশে বিসদৃশ কাঁচের পিরামিড
দৃষ্টিকে অন্ধ করে দেয়
ইফেল টাওয়ারের সূচালো প্রান্ত ভাগে দাঁড়িয়ে
রাতের প্যারিসকে দেখে আর
সমগ্র শূন্যতাকে সঙ্গী করে-
-এখানেও সঙ্গী নেই তার কোন
সীনের জলে স্নাত হতে ইচ্ছে হয় যুগলে
সেখানেও সঙ্গী নেই কোন
পড়ন্ত বিকেলে এক দৃশ্যপট রমনীকে বিদ্ধ করে
নিমগ্ন সুন্দরতম যুবক ‘লুভর’ এর ফটকে
চক্ষু দুটি বুঁজে দেয়ালে ঠেস দিয়ে দন্ডায়মান
অন্ধ ভায়োলিন বাদিকার সুর তরঙ্গে নিমজ্জন
কর্ম শেষের ক্লান্তিতে অসীম শ্রান্তি এনেছে যেন
শেষ ঝংকারে বাদিকার চোখে জল
যুবকের চোখে জল
ফ্রাংকের বিপরীতে স্পর্ষীন ভালবাসার
দেয়া নেয়া চলে
রমনী বলে – হে যুবক শুধু তোমাকেই
আজীবনের সঙ্গী করতে চাই আমি
……………………………………………………..
উত্তর গোলার্ধের নিরক্ষ রেখা বরাবর
কুয়াশার চাদর ভেদ করে রমনী হেঁটে চলে
ভীষন একা হেঁটে চলে--
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


