আমার প্রিয় পোস্ট
- কে কেমন লেখে? - এস এম মাহবুব মুর্শেদ
- অমিত আহমেদের বৃষ্টিদিন রৌদ্রসময় গল্প গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনা (১) - জামাল ভাস্কর
- অমিত আহমেদের 'গন্দম' পড়ে ব্লগীয় রিভিউ - সন্ধ্যাবাতি
- রাহেলা হত্যা মামলার নিখোঁজ আলামত ও অন্যান্য দলিল - ফয়সল নোই
- ব্লগারদের বই নিয়ে ব্লগব্লগর- ১ - শেখ জলিল
- রহস্য সাহিত্যের ক্যাপ্টেন- কাজী আনোয়ার হোসেন - নিশাত
গল্প: গন্দম (পর্ব ১)
০৫ ই এপ্রিল, ২০০৭ ভোর ৪:৫৩
৬ ফেব্রুয়ারী ২০০৭
সময়: দুপুর ১২:০০- ২:১৫
স্থান: নিউ মার্কেট ও এসপ্লানেড
নিউমার্কেটে ফালতু আর্ধেকটা ঘন্টা নষ্ট হলো! সবটাই দিদির দোষ। কোলকাতার গলি-মহল্লায় লেহেঙ্গার ধুম উঠেছে, সামনে দোল, তার আগেই মহামান্যের নতুন লেহেঙ্গা চাই। নিউমার্কেটে দিদির প্রিয় "সুদর্শণা"য় অর্ডার দেয়াই ছিল - দিদির কথা মতে দোকানে স্লিপ দেখালেই দোকানী লেহেঙ্গা বের করে দেবে। মোটে পাঁচ মিনিটের কাজ, সে কাজেই নষ্ট হলো আধাটা ঘন্টা। দোকানী স্লিপ নিয়ে অন্য খদ্দের সামলায়, চায়ের ভাঁড়ে চুমুক দেয়, লেহেঙ্গা আর বের করে না। পরে জানা যায় লেহেঙ্গা রয়েছে তাদের কারিগরের বাসায়, সেটা আনতে লোক গিয়েছে!
আজ দীপকের ঠিক আড়াইটায় ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে ঋতুর সাথে দেখা করার কথা, এখন বাজছে দুটো। চট্ করে মানিব্যাগটা দেখে সামনে পাওয়া প্রথম ট্যাক্সিতেই উঠে পড়লো দীপক। যে পরিমান সময় নষ্ট হয়েছে ট্যাক্সি ছাড়া আর উপায় নেই। "মেমোরিয়াল চালিয়ে..." শীখ ড্রাইভারকে হুকুম দিল দীপক, "যারা জাল্দী ভাগনা!"
চরম বিতৃষনা নিয়ে হাতের প্যাকেটের দিকে তাকালো দীপক, ইচ্ছে করছে নষ্টা লেহেঙ্গাটাকে জানালা দিয়ে নর্দমায় ছুড়ে ফেলতে। কম ভোগালো না আজকে! রাফী আহমদ রোড় থেকে রিক্সায় নিউমার্কেট যেতে সময় লাগে মোটে দশ মিনিট, সেই পথ পেরুতে আজ লেগেছে প্রায় আধা ঘন্টা! দীপক সবে রাফী আহমদ জামে মসজিদের ঠিক উলটো পাশের সানিয়া মির্জার সবুজ বিলবোর্ডের দিকে নজর দিয়েছে (এই রাস্তা দিয়ে গেলে এটা দীপকের বাধ্যতামূলক কাজ) ঠিক সে সময়ে রিক্সাওয়ালা নিদ্ধিধায় রিক্সার বাম চাকা ড্রেনে ফেলে দিল। দীপক উপুড় হয়ে পড়লো রিক্সাওয়ালার ঘাড়ে - সে এক বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা! বুড়ো রিক্সাওয়ালা, দীপক খেঁকিয়ে উঠতে গিয়েও থমকে যায়। কান্ডটা করার অনূশোচনায়ই হয়তো, রিক্সাওয়ালা রিক্সাকে শম্বুক গতিতে নিয়ে আসে, সেই সাথে মিনিট গুনে গুনে ঘন্টির টুংটাং। মার্ফিস ল বলে "Whatever can go wrong, will go wrong". লোকটার বিবেচনার জোর দেখে শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসে দীপকের।
ট্যাক্সির মধ্যে গুমোট গরম। চিন্তিত ভাবে রাস্তা দেখতে দেখতে একটা গোলডফ্লেক ধরায় দীপক। সময় মত মেমোরিয়ালে পৌঁছানো যাবে নাকি কে জানে। দুশ্চিন্তা কমানোর জন্য অন্য দিকে মন দিল ও। সামনেই বিশ্বকাপ, এবার কাপটা ভারতের হবেই হবে। কাপ না হলেও চলে, কিন্তু সৌরভের রান চাই। যে ভাবে দাদা দলে ঢুকেছে সেটা একটা ইতিহাস হয়ে গেল, এখন ২/১ টা শতক পেলেই ষোল কলা পূর্ণ হয়! তবে যে যাই বলুক, বাঙালীর জোরটা দেখিয়ে দিয়েছে মহারাজা! চ্যাপেলের কথা ভেবে মুচকে হাসে দীপক, সেই তো দলে নিতেই হলো, খামাখা কেনো জল ঘোলা করে খেলি বাবা!
আচমকা ব্রেকে চিন্তার তাল কাটে দীপকের। গাড়ি এসপ্লানেডে থেমেছে। ভ্রু কুচকে সামনে তাকাতেই বুকটা ধক্ করে ওঠে ওর! যদ্দুর দেখা যায় গাড়ির পর গাড়ি, ঠায় দাঁড়িয়ে আছে! জানালা দিয়ে গলা বাড়িয়ে পাশের মারুতির চালককে জিগাস করে দীপক, "কি হলো দাদা? এত বড় জ্যাম বাঁধলো কি করে?"
"আর বলুন... নন্দীগ্রামের ঘটনাটা ঘটলো না... তাই তৃণমূল রোড় ব্লক করে দাঁড়িয়ে আছে! কি মানে হয় বলুন দেখি!"
"প্রতিবাদ কি এভাবে হয় নাকি? নিরিহ মানুষের...." দীপকের উত্তপ্ত বাক্য মিলিয়ে যায় রাস্তার পাশে দাঁড়ানো তৃণমূলদের বজ্র স্লোগানে,
"ভুলতে পারি বাবার নাম, ভুলবোনা নন্দীগ্রাম!"
(চলবে)
বি.দ্্র. খেয়াল করে দেখেছি ব্লগের পাঠক বড় লেখা পছন্দ করেন না, আগের গল্পে অভিযোগ পেয়েছি। এ গল্পটা অর্ধেক লেখা হয়েছে... যেভাবে এগুচ্ছে ভাবছি উপন্যাসই না হয়ে যায়! তাই অল্প অল্প করে পোস্ট করবো ঠিক করেছি। বরাবরের মতই আপনাদের মতামতের অপেক্ষায় রইলাম!
© অমিত আহমেদ
প্রকাশ করা হয়েছে: ধারাবাহিক বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মে, ২০০৭ দুপুর ১:৫২ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
মাহবুব সুমন বলেছেন:
বেশি বড় হলে পড়তে ক্লান্ত লাগে , আর ছোট হলে পরে কি হবে সেটা ভেবে ক্লান্ত লাগে। কোথায় যে যাই........পুরো সিরিজটা শেষ করে কমেন্ট করবো ফাইনালী। তবে বরাবরের মতোই ভালো লেগেছে।
অতিথি বলেছেন:
ভুলতে পারি বাবার নাম, ভুলবো না নন্দীগ্রাম!
অতিথি বলেছেন:
চমৎকার। পড়া শুরু করেছি।
অতিথি বলেছেন:
অনেক দিন পরে আসলেন বস ... ভালো লাগল অ্যাজ ইউজুয়াল ...
অমিত আহমেদ বলেছেন:
হোসেইন, মাহবুব সুমন, সাদিক মোহাম্মদ আলম ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় - আপনাদের কমেন্ট (সে যেমনই হোক না কেন!) দেখলেই মনে বল পাই... আরও লেখার ইচ্ছাটা চাগিয়ে ওঠে! অনেক ধন্যবাদ আপনাদেরকে!বাকী বিল্লাহ - গল্পটিতে ব্যবহৃত কোন তথ্যই কাল্পনিক নয় (চরিত্র গুলো বাদে)। হাস্যকর শোনালেও 7 ফেব্রুয়ারীর তৃণমূলের প্রধান প্রতিবাদ স্লোগান ছিল, "ভুলতে পারি বাবার নাম, ভুলবোনা নদিীগ্রাম!"
অতিথি বলেছেন:
বস চালায়ে যাও ।
অতিথি বলেছেন:
বড় লেখা পড়তে টায়ার্ড লাগে কিন্তু এ লেখাটা আবার একটু বেশি ছোট হয়ে গেল। আরেকটু বড় হওয়া দরকার।বাই দ্য ওয়ে লেখা ভালো। পড়তে মজা লাগছে। জায়গাগুলো চেনা থাকাতে মজাটা পাচ্ছি।
চলুক জোরসে।
অমিত আহমেদ বলেছেন:
কেমিকেল আলী - ধন্যবাদ।অলৌকিক হাসান - আদেশ শীরধার্য, পরবর্তি পর্বের বিস্তৃতি বাড়ানো হবে! ধন্যবাদ!
অতিথি বলেছেন:
অমিত,এক্কেরে ফাটানি স্টার্টিং। তোমার লেখা বলে তো মনেই হচ্ছে না।কলকাতার এতো ডিটেইলস বর্ণনা পাইলা কই, কলকাতার কোন মাইয়ার লগে কিছু বাজাইয়া বসো নাই তো?
অমিত আহমেদ বলেছেন:
অনেক কমেন্ট মুছে গেছে, তবে যদ্দুর মনে পড়ছে আরিফ ভাই সন্দেহ পোষণ করেছিলেন আমি কলকাতার কোন মেয়ের সাথে কিছু বাজিয়ে বসেছি কিনা... আসতাগফিরুল্লাহ আরিফ ভাই, কি বলেন এইসব (এ বিষয়ে সম্মুখে আলাপ হবে, হে: হে: হেআর একটা বিশাল ভুল আরিফ ভাই ধরিয়ে দিয়েছেন, "গন্দম" না লিখে আমি লিখেছিলাম "গন্ধম"!
অনেক ধন্যবাদ!
স্বরহীন বলেছেন:
আর ও আসবে....লিখার জন্য কলম কালি জোগারে রাইখেন
এই আমি মীরা বলেছেন:
ভালো লেগেছে। পরের পর্বগুলো এক্ষুনি পড়ছি!
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন:
শুরু করলাম আপনার গল্প ।।কাকতালীয় ভাবে নন্দীগ্রামের ঘটনাটার সময় আমি কলকাতা ছিলাম ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















আপনার গল্পগুলো ভালো হচ্ছে ।
তবে ভেঙ্গে ভেঙ্গে দেয়ার থিওরিটা যৌক্তিক।
এই ব্লগে বেশির ভাগই ফালতু মানুষ আর ফালতু তর্কে ইদানিং ভরে গেছে।
আপনাদের ভালো লেখা এখনও ব্লগ পড়তে প্রেরনা যোগায়।