সময়: দুপুর ১২:০০- ২:১৫
স্থান: নিউ মার্কেট ও এসপ্লানেড
নিউমার্কেটে ফালতু আর্ধেকটা ঘন্টা নষ্ট হলো! সবটাই দিদির দোষ। কোলকাতার গলি-মহল্লায় লেহেঙ্গার ধুম উঠেছে, সামনে দোল, তার আগেই মহামান্যের নতুন লেহেঙ্গা চাই। নিউমার্কেটে দিদির প্রিয় "সুদর্শণা"য় অর্ডার দেয়াই ছিল - দিদির কথা মতে দোকানে স্লিপ দেখালেই দোকানী লেহেঙ্গা বের করে দেবে। মোটে পাঁচ মিনিটের কাজ, সে কাজেই নষ্ট হলো আধাটা ঘন্টা। দোকানী স্লিপ নিয়ে অন্য খদ্দের সামলায়, চায়ের ভাঁড়ে চুমুক দেয়, লেহেঙ্গা আর বের করে না। পরে জানা যায় লেহেঙ্গা রয়েছে তাদের কারিগরের বাসায়, সেটা আনতে লোক গিয়েছে!
আজ দীপকের ঠিক আড়াইটায় ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে ঋতুর সাথে দেখা করার কথা, এখন বাজছে দুটো। চট্ করে মানিব্যাগটা দেখে সামনে পাওয়া প্রথম ট্যাক্সিতেই উঠে পড়লো দীপক। যে পরিমান সময় নষ্ট হয়েছে ট্যাক্সি ছাড়া আর উপায় নেই। "মেমোরিয়াল চালিয়ে..." শীখ ড্রাইভারকে হুকুম দিল দীপক, "যারা জাল্দী ভাগনা!"
চরম বিতৃষনা নিয়ে হাতের প্যাকেটের দিকে তাকালো দীপক, ইচ্ছে করছে নষ্টা লেহেঙ্গাটাকে জানালা দিয়ে নর্দমায় ছুড়ে ফেলতে। কম ভোগালো না আজকে! রাফী আহমদ রোড় থেকে রিক্সায় নিউমার্কেট যেতে সময় লাগে মোটে দশ মিনিট, সেই পথ পেরুতে আজ লেগেছে প্রায় আধা ঘন্টা! দীপক সবে রাফী আহমদ জামে মসজিদের ঠিক উলটো পাশের সানিয়া মির্জার সবুজ বিলবোর্ডের দিকে নজর দিয়েছে (এই রাস্তা দিয়ে গেলে এটা দীপকের বাধ্যতামূলক কাজ) ঠিক সে সময়ে রিক্সাওয়ালা নিদ্ধিধায় রিক্সার বাম চাকা ড্রেনে ফেলে দিল। দীপক উপুড় হয়ে পড়লো রিক্সাওয়ালার ঘাড়ে - সে এক বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা! বুড়ো রিক্সাওয়ালা, দীপক খেঁকিয়ে উঠতে গিয়েও থমকে যায়। কান্ডটা করার অনূশোচনায়ই হয়তো, রিক্সাওয়ালা রিক্সাকে শম্বুক গতিতে নিয়ে আসে, সেই সাথে মিনিট গুনে গুনে ঘন্টির টুংটাং। মার্ফিস ল বলে "Whatever can go wrong, will go wrong". লোকটার বিবেচনার জোর দেখে শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসে দীপকের।
ট্যাক্সির মধ্যে গুমোট গরম। চিন্তিত ভাবে রাস্তা দেখতে দেখতে একটা গোলডফ্লেক ধরায় দীপক। সময় মত মেমোরিয়ালে পৌঁছানো যাবে নাকি কে জানে। দুশ্চিন্তা কমানোর জন্য অন্য দিকে মন দিল ও। সামনেই বিশ্বকাপ, এবার কাপটা ভারতের হবেই হবে। কাপ না হলেও চলে, কিন্তু সৌরভের রান চাই। যে ভাবে দাদা দলে ঢুকেছে সেটা একটা ইতিহাস হয়ে গেল, এখন ২/১ টা শতক পেলেই ষোল কলা পূর্ণ হয়! তবে যে যাই বলুক, বাঙালীর জোরটা দেখিয়ে দিয়েছে মহারাজা! চ্যাপেলের কথা ভেবে মুচকে হাসে দীপক, সেই তো দলে নিতেই হলো, খামাখা কেনো জল ঘোলা করে খেলি বাবা!
আচমকা ব্রেকে চিন্তার তাল কাটে দীপকের। গাড়ি এসপ্লানেডে থেমেছে। ভ্রু কুচকে সামনে তাকাতেই বুকটা ধক্ করে ওঠে ওর! যদ্দুর দেখা যায় গাড়ির পর গাড়ি, ঠায় দাঁড়িয়ে আছে! জানালা দিয়ে গলা বাড়িয়ে পাশের মারুতির চালককে জিগাস করে দীপক, "কি হলো দাদা? এত বড় জ্যাম বাঁধলো কি করে?"
"আর বলুন... নন্দীগ্রামের ঘটনাটা ঘটলো না... তাই তৃণমূল রোড় ব্লক করে দাঁড়িয়ে আছে! কি মানে হয় বলুন দেখি!"
"প্রতিবাদ কি এভাবে হয় নাকি? নিরিহ মানুষের...." দীপকের উত্তপ্ত বাক্য মিলিয়ে যায় রাস্তার পাশে দাঁড়ানো তৃণমূলদের বজ্র স্লোগানে,
"ভুলতে পারি বাবার নাম, ভুলবোনা নন্দীগ্রাম!"
(চলবে)
বি.দ্্র. খেয়াল করে দেখেছি ব্লগের পাঠক বড় লেখা পছন্দ করেন না, আগের গল্পে অভিযোগ পেয়েছি। এ গল্পটা অর্ধেক লেখা হয়েছে... যেভাবে এগুচ্ছে ভাবছি উপন্যাসই না হয়ে যায়! তাই অল্প অল্প করে পোস্ট করবো ঠিক করেছি। বরাবরের মতই আপনাদের মতামতের অপেক্ষায় রইলাম!
© অমিত আহমেদ
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মে, ২০০৭ দুপুর ১:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


