তোমার সুরে সুরে সুর মেলাতে

ব্লগ ছাড়া/না ছাড়া বিষয়ক ব্যক্তিগত প্যাঁচাল... বিরক্ত হতে চাইলে পড়ুন

০৪ ঠা জুন, ২০০৭ দুপুর ২:০৮

শেয়ারঃ
0 0 0

আমার অনেক দিনের লালিত একটা স্বপ্ন হলো কোন এক বইমেলায় আমার একটা বই বের হবে। আমি প্রতিদিন মেলায় গিয়ে সংকোচ নিয়ে বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করবো, "আজ কয় কপি গেলো দাদা?"

আমার এই স্বপ্নটা খুব গোপন কিছু নয়। আমার পরিবার, আত্মীয়, ঘনিষ্ট বন্ধু-বান্ধবেরা সবাই কম-বেশি জানেন। আমি দেশ ছাড়ার পর যে প্রশ্নটা আমি অবধারিত ভাবেই নিয়মিত ইমেইল, ফোন আর এসএমএস-এ শুনেছি সেটা হলো, "লেখালেখিটা কি একদমই ছেড়ে দিলি?" এমনকি আমার মা, যিনি একদমই সহ্য করতে পারতেন না আমার পড়া বাদ দিয়ে কলম ঘষা, তিনি পর্যন্ত বলেন, "মাঝে মাঝে একটু লিখিস, পত্রিকায় না দিতে চাইলে দিস না, কিন্তু ডায়রি লেখার মত করে হলেও কিছু লিখিস।" সে সময়টা আমার ছিল না। এতটাই ব্যস্ত ছিলাম লেখাপড়ায়, অন্য কিছু আর ছিল না মাথায়।

কিন্তু কী হয়েছে বলি, গত গ্রীষ্মে দেশে গিয়েছি ঘুরতে, এক মেয়ের সাথে হঠাৎই রাস্তায় দেখা। আমি চিনতে পারিনি প্রথমে, ওই এসে পরিচয় দেয়। বলে, "আপনি x x আরিফ, তাই তো?" আমার পুরো নাম ধরে কেউ ডাকলেই আমি বুঝে যাই তিনি আমার লেখা পড়েছেন কোথাও না কোথাও। আমার মনে পড়ে "ভোরের কাগজে" দেখেছি মেয়েটাকে কোনদিন। কথা এগিয়ে যায়। প্রশ্ন আসে কোথায় লিখি এখন। আমি বিস্ময় এবং একটা চাপা গর্ব নিয়ে দেখি কোথাও লিখি না শুনে মেয়েটা অবুঝের মত অভিযোগ করে। সেদিন আমার সারাটা বিকেল কাটে সেই মোহে। মনে হয় এই শহরে একজন হলেও আমার পাঠক আছে, যে জানে আমার কোন লেখাটা কোথায় কোনদিন ছাপা হয়েছিল। আমি ঠিক করে ফেলি লিখবো। এই ব্যস্ততার ফাঁকেই লিখবো। ২০০৮ না হোক ২০০৯ এ একটা বই আমি বইমেলায় বের করার চেষ্টা করবোই। করবোই!

প্রবাসে ফিরে এসেই লেখা শুরু করলাম। কাগজের বান্ডিল ভরতে থাগলো গল্পে। লেখা শুরু করতেই পুরানো স্মৃতি সব ভিড় করতে থাগলো মনে। মনে পড়লো আরিফ ভাই, বিপুল ভাই, রেজা ভাই, মাসুদ ভাই, ভোলানাথ পোদ্দারদা, আহসান কবির ভাই, আহসান হাবিব ভাই, আর সবার কথা। ইমেইল করলাম যাদের ইমেইল ছিল তাঁদের কাছে। দেখা গেলো কারো ইমেইল অ্যাড্রেসই আর আগেরটা নেই, সব ইমেইলই বাউন্স ব্যাক করেছে, কেবল আরিফ ভাইরেরটা ছাড়া। তিনি ইমেইল করলেন, বাঁধ ভাঙার আওয়াজ ব্লগের ঠিকানা দিলেন।

আমি রেজিস্ট্রেশন করে ক'দিন অপেক্ষা করে দেখলাম, কী ধরনের লেখা আসে ব্লগে। আমার ভাগ্য ভালো না খারাপ বলবো জানি না। সেই ক'দিন ব্লগে রাজাকারদের তান্ডব ছিলো না। গোলাম আজম, নিজামীদের ছবি আমার দেখতে হয়নি। গালি সহ কমেন্ট বা পোস্টও চোখে পড়েনি। আমি লেখা পোস্ট করা শুরু করলাম।

কিছুদিন থেকে বাবা ফোনে জিজ্ঞেস করছেন অন্তর্জালে কোথায় লিখি। আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা। স্কুলে স্কাউটিং করে একটা জাতীয় পদক পেয়েছিলাম, প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর করা সার্টিফিকেট। প্রেসিডেন্ট আবদুর রহমান বিশ্বাস। বাবা কেবল জানিয়েছেন এই লোকের ভুমিকা কী ছিলো একাত্তরে। সেই সার্টিফিকেট আমি আগুনে পুড়িয়েছি। সেই বাবাকে কোন মুখে আমি ব্লগের ঠিকানা দেই? কলকাতার এক মেয়ে আমার খুব বন্ধু। কলকাতার পটভুমিকায় গল্প লিখছি শুনে সেও কতোবার ঠিকানা চেয়েছে ব্লগের। কোন বিবেচনায় ওকে ঠিকানা দেই, যেখানে আকাশে-বাতাসে ভাসে গালি?

আমি ব্যক্তিস্বাধীনতায়, মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। ভিন্ন মত, ভিন্ন বিশ্লেষণ থাকতেই পারে। তাই বলে কি আমার বাক স্বাধীনতা গুঁড়িয়ে চুরমার করা হবে? আমি বিশ্বাস করি লেখার জবাব হবে লেখাতেই। যুক্তির খন্ডন হবে যুক্তিতেই। গালিতে নয়, পোস্ট মুছে নয়। রাজাকারদের আমি ঘৃণা করি। মনে-প্রানেই ঘৃণা করি। কিন্তু সেই ঘৃণার প্রকাশ কেনো হবে গালিতে? আমার পরিবার আমাকে এ শিক্ষা তো দেয়নি। আমি জেনেছি, জ্ঞানের অভাবে সাহসের অভাবে যুক্তির অভাবে গালি আসে। "রাজাকার" এর চেয়ে বড় গালি আর কী হতে পারে? এর পরেও কেনো মুখ খারাপ করে নিজেদেরকে নিজে নিচে টেনে নামানো?

আজ ব্লগ ছাড়ার আমার যে সাময়িক সিদ্ধান্ত সেটা আমার প্রিয় মানুষদেরকে ব্লগের ঠিকানা দিতে না পারার লজ্জায়। আমাকে কথা বলতে না দেয়ার ক্ষোভে। আমার মুল্যবোধকে পিষে ফেলার প্রতিবাদে। লেখা আমার থামবে না। ব্লগে হোক আর চিরায়ত কাগজেই হোক লেখা চলবেই। কিন্তু সেই লেখা হয়তো এখানে আর আসবে না। ভালো থাকবেন সবাই। যোগাযোগ থাকবে।

ধন্যবাদ!

© অমিত আহমেদ

 

প্রকাশ করা হয়েছে: স্বগতক্তি  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১১ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১২:২৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

২. ০৪ ঠা জুন, ২০০৭ দুপুর ২:২৪
আরিফ জেবতিক বলেছেন: ভালো থেকো।
লিখতে থাকো।
সেটা প্রকাশিত হবেই,গ্যারান্টি।
৩. ০৪ ঠা জুন, ২০০৭ দুপুর ২:২৮
মাসুম পারভেজ বলেছেন: আপনার আন্দোলনে আমি শরীক হতাম কিন্তু দুঃখের বিষয় আপনি আন্দোলন না করেই হেরে গেলেন। ভাবছি আপনরি বাবা বিষয়টা মানে না খেলে হেরে যাওয়াটা কিভাবে নেবেন? আপনার বাবাকে আমার সালাম দিবেন -বলবেন কেউ একজন প্রতিবাদ করবে আমি বা অন্য কেউ। আপনাকেও ধন্যবাদ- আমার ভেতরের সুপ্ত অনুভূতি যুক্তির বদলে যুক্তি জাগানোর জন্য।
৪. ০৪ ঠা জুন, ২০০৭ দুপুর ২:৩১
বকলম বলেছেন: ব্লগে নিয়মিত না, আপনার লেখা পড়েই সেদিন আপনার ব্লগের লিংকটা "আমার লিঙ্কস" বিভাগে এ্যাড করলাম। ভাগ্য কখনই আমার ফেবারে থাকে না। এবারও থাকলো না।
পৃথিবী যখন একটা, পোকামাকড় আর সাপ খোপের সাথেই মানুষকে বাস করতে হয়। পাশের বাড়ীতেই থাকে কোন পাকমন প্রেমিক। তাদেরই কারো হাত থেকে সার্টিফিকেট নিতে হয়, আবার পুড়িয়েও ফেলতে হয়। প্রতিনিয়ত নিজের জাতিস্বত্বা নিয়ে বিস্মৃত হই। গর্ব যতটুকু করি বাঙালী হিসেবে বিদেশী কারো কাছে প্রকাশে তার তলানীটুকুও খুঁজে পাইনা। তবুও বলি আমি বাঙালী, বাংলাদেশী। খরকুটোর মতো কোন একটা কিছু ঝাপটে ধরে বিশ্বাস করতে চেষ্ট করি, পরিবর্তন আসবেই, আজ না হোক কাল।
৫. ০৪ ঠা জুন, ২০০৭ দুপুর ২:৩২
বকলম বলেছেন: সরি দু'বার পোষ্ট হয়েছে, প্রথমটা মুছে দেবেন দয়াকরে।
৬. ০৪ ঠা জুন, ২০০৭ দুপুর ২:৩৪
আনোয়ার সাদাত শিমুল বলেছেন: "বন্ধু তোমার স্বপ্নটাকে জাপটে ধরে থেকো।"
____
অমিত,
দেখা হবেই। হয়তো অন্য কোথাও!
বাই দ্য ওয়ে, আপনার প্রোফাইলে দেখছি - "© যে কোন লেখা, যে কোন মাধ্যমে, পূনঃপ্রকাশ করার অধিকার কেবল মাত্র লিখিত অনুমতি সাপেক্ষে! "

খেয়াল করেছেন - রেজিস্ট্রেশনের সময় সামহয়্যার জানিয়ে দিয়েছিল - "মনে রাখুন, আপনি যে সমস্ত লেখা এখানে পোষ্ট করছেন, তা 'সামহোয়্যার ইন নেট লিমিটেড' কোম্পানীর অন্যান্য মিডিয়া চ্যানেল গুলোতেও ব্যবহারের অধিকার রাখে। "
হা হা হা !!!
ভালো থাকবেন।
৮. ০৪ ঠা জুন, ২০০৭ দুপুর ২:৪২
স্বপ্নের ফেরিওয়ালা বলেছেন: এর পরে কোথায় তোমার লেখা পাবো সেটা অন্ততঃ বলে যাও...
যেখানেই যাই বারবার মোটামুটি একই ঘটনার পুনরাবৃততি দেখি...নিদৃষ্ট কোন জায়গা কে দোষ দিয়ে মনে হয় লাভ নেই...(দুঃখের সাথে) আমরা মনে হয় এরকমই ঃ(
~
৯. ০৪ ঠা জুন, ২০০৭ দুপুর ২:৪৩
অমিত আহমেদ বলেছেন: এ বিষয়ে আমি পড়েছি... আমার ওয়েব কনটেন্ট কপিরাইট করা... কপিরাইট ল বলে, যখন কপিরাইটেড কোন মেটেরিয়াল কপিরাইট হোল্ডার অন্যকোথাও দেন তখন সেই সাইটের অথরিটির রাইট থাকে সেগুলো ব্যবহার করার, কিন্তু সেটা কোন মতেই না জানিয়ে নয়। না জানিয়ে কিছু ব্যবহার করতে হলে সেটা স্পেসিফিক ভাবে বলতে হয়, যেমন "...অন্যান্য মিডিয়া চ্যানেল গুলোতেও (না জানিয়েই) ব্যবহারের অধিকার রাখে।" সামহোয়্যার সেটা কোথাও বলেনি।
যাইহোক, আমার ওই সতর্কবানী ছিল অন্যদের জন্য।
১১. ০৪ ঠা জুন, ২০০৭ দুপুর ২:৪৯
কৌশিক বলেছেন: কাউকে এড্রেস দিতে না পারার কষ্টে চলে যাচ্ছেন। কষ্ট লাগলো, মনে হচ্ছে আমার জন্যই চলে যাচ্ছেন।
১২. ০৪ ঠা জুন, ২০০৭ বিকাল ৩:০৯
অমিত আহমেদ বলেছেন: মাসুম পারভেজ, বকলম, স্বপ্নের ফেরিওয়ালা - দেখা হবেই লেখাতে... কোথায় জানি না এখনও।
কৌশিক ভাই - সমস্যাটা হয়তো আমারই।
১৩. ০৪ ঠা জুন, ২০০৭ বিকাল ৩:৪৩
প্রমিত প্রবাল বলেছেন: (প্লিজ! আগের পোস্টটি মুছে ফেলুন)
আপনার কষ্টগুলোকে পরিমাপ করা অন্ততঃ আমার পক্ষে সম্ভব নয়। যে যুক্তিতে আপনি ছেড়ে যাবার ঘোষণা দিয়েছেন, সেখানে যুক্তিতর্ক করার প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না। তবু আপনার শেষ লেখাটা ¯স্পর্শ করেছে বলেই ভেতর থেকে কিছু লেখার তাগিদ পেয়েছি। প্রথমেই মাফ চেয়ে নেব এটাকে আদেশ/উপদেশ জাতীয় কোন ব্রাণ্ডিং - এ না নেবার জন্য।

১. বাঙালি চেতনা নিজে ধারণ করলেই কিন্তু দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। ধরুন আপনি বাদে ক্রমাগতভাবে আপনার পরিচিত সকলেই বাঙালি চেতনা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড করছে আপনি তাঁদের ছেড়ে দুর পরবাসে শান্তির ঢেঁকুড় তুলবেন সেটাইবা কতখানি বাস্তব সম্মত। মতাদর্শিক ভিন্নতা নুতন কোন বিষয় নয়। এটা খুব স্বাভাবিক একটা প্রক্রিয়া। সেখানে যুক্তির চর্চা থাকবেই। তবে আপনার সাথে একমত স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের আস্ফালন অসহ্য। কিন্তু এটাও একটা পঙ্কিল বাস্তবতা। আমাদের শহরের বাঁকে বাঁকে অসংখ্য খোলা ডাস্টবিনও কি অসহ্য নয়? আমরা হয়তো অতটা সভ্য হয়ে উঠিনি এখনও। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা আমাদের রয়েছে। তাই বলে গোটা শহহরটাকে ডাস্টবিন বানানোর প্রক্রিয়াকে নিরুৎসাহিত না করে বরং শহর ছেড়ে যাবার ধারণাটা অন্ততঃ আমার কাছে ঠিক যুক্তিযুক্ত মনে হয় না।
২. আপনার মত আমিও লজ্জিত। ব্লগের পরিবেশ ঠিক যেমনটি হওয়া উচিত ছিল ঠিক উল্টোটাই হয়েছে। কিন্তু কীইবা করার আছে। এর সবকিছুই আমাদের সমাজেরই প্রতিচ্ছবি। এসবের মধ্য থেকে ভালোগুলোকেই খুঁজতে হবে। অনেক ভালো লেখা কিন্তু এ ব্লগে আসে নিয়মিত। আমি যেগুলোর মুগ্ধ পাঠক। আপনার ভারতীয় বন্ধুটিও সেভাবেই অভ্যস্ত হবেন একদিন। বলিউড থেকে ভালো সিনেমা তৈরি হয়নি একথাটা যেমন বলা যাবেনা তেমনি ভালগারে ছড়াছড়ি বলিউড এটাও সবাই মানবেন। তাই বলে হিন্দি ম্যুভি ছেড়ে দেওয়ার সিন্ধান্ত নিশ্চয়ই কোন যৌক্তিক অবস্থান নয়।
৩. আপনার বাবার সঙ্গে প্রতিদিনই কোন রাজাকার বা একই মানসিকতার কোন ব্যক্তির সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া হচ্ছে। এটা বাস্তবতা। এই দায় আপনার আমার সকলের। পুরো জাতির ব্যর্থতা তাঁদেরকে নিশ্চিহ্ন করা যায়নি। তাই বলে আপনার বাবা প্রিয় মাতৃভূমি ত্যাগের চিন্তা একবারও করেছেন এটা আমার বিশ্বাস হয় না।
৪. অর্বাচীনদের ডিফেণ্ড করবে কে? তাঁদের পথ ছেড়ে দিয়ে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আরও ভয়ংকর একটা সমাজ বিনির্মাণে সহযোগিতা করার পরিণাম অনুমান করা কঠিন কোন কাজ নয়।

যাই হোক সিন্ধান্ত আপনার। আপনি আপনার দায়িত্ব কিভাবে পালন করবেন সেটা একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার।

ভালো থাকবেন।
১৪. ০৪ ঠা জুন, ২০০৭ বিকাল ৩:৫১
হোসেইন বলেছেন: নেহি যায়েগা।
থাকে গা উওর বাম্বু দেগা সব বাঞ্চোত রাজাকার লুককো।
১৫. ০৪ ঠা জুন, ২০০৭ বিকাল ৪:০২
কাঠুরিয়া. বলেছেন: জানার সংখ্যা কম নয়। কিন্তু না-জানার সংখ্যা কি অধিক এবং ক্রমবর্ধমান নয়?

জারজ কুলাঙ্গার যারা আছে তারা কিন্তু সংগঠিত, তাদের বিষ বাষ্প প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে যাচ্ছে।

আমি ইতিহাস চাইনা। আমি মনঃস্তত্ব চাই। মুক্তিযুদ্ধের মনঃস্তত্বটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়াতে চাই। সেই সাথে ঘৃণাটুকু সেই সব কুলাঙ্গারদের জন্য - - - যারা মাতৃভাষাকে , মাতৃভূমিকে অসন্মান করে।
১৬. ০৪ ঠা জুন, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:১০
অমিত আহমেদ বলেছেন: ধন্যবাদ প্রমিত প্রবাল, আপনার সুচিন্তিত মন্তব্য আমাকে ভাবিয়েছে। তবে আমার অবস্থানটা মনে হয় একটু পরিষ্কার করা দরকার। আমি কিন্তু বলিনি কোথাও যে আমি ব্লগ ছেড়ে যাচ্ছি। আমি বলেছি এখানে সম্ভবত আমি আর লেখা পোস্ট করবো না... কিন্তু অন্যের লেখা আমি ঠিকই পড়বো, মন্তব্যও করবো (শেষ প্যারা দ্রষ্টব্য)। সামহোয়্যারে আমার লেখা তখনই দেবো যখন মনে হবে একটা সুস্থ, ট্রান্সপাবেন্ট পরিবেশ আমরা নিশ্চিত করতে পেরেছি। (লেখা দিলেই যে সেটা যুঞ্চিক্তর পোস্টের মত ডিলিট খাবে না তার কি নিশ্চয়তা?)
হোসেইন, কাঠুরিয়া. আপনাদেরকেও একই কথা বলছি। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ব্রাদার।
১৮. ০৪ ঠা জুন, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:১১
আরিফ জেবতিক বলেছেন: পড়ার মতো লেখা সামহোয়্যার এ গত ১ সপ্তাহে কয়টা পেয়েছেন@অমিত।
২০. ০৪ ঠা জুন, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:১৭
অমিত আহমেদ বলেছেন: একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল... এক হোটেলে গিয়েছি, তারা বড় গলায় বলল, "সব হোটেলে শুধু ব্রেকফাস্ট ফ্রী দেয়, আমরা লাঞ্চও ফ্রী দেই।"
"লাঞ্চের মেনুতে কি থাকে?"
"এই তো, আপেল, কমলা, জ্যাম আর পাউরুটি!"
২১. ০৪ ঠা জুন, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:১৮
আরিফ জেবতিক বলেছেন: তাইলে আর পড়ার জন্য এই ছাতার ব্লগে এসে কী করবেন?

যাক,দেখা হবে অন্য কোথাও...।
২২. ০৪ ঠা জুন, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:২১
অমিত আহমেদ বলেছেন: ফ্রী জ্যাম-পাউরুটিতে অন্যেরা কি মাতমে মেতেছে তাই দেখতে হয়তো...
অন্য কোথাও দেখা হবে, এই কথাতে "আমিন!"
২৩. ০৪ ঠা জুন, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:২৮
অমিত আহমেদ বলেছেন: আরেকটা কথা বলা প্রয়োজন, এই ব্লগটা নর্দমার কীটদের হাতে রেখে যাদের লেখা পড়তে এই ব্লগে আসা, তাঁরা যদি অন্য কোথাও মিলিত হই, তবে নর্দমার নোংরা গায়ে মাখার আর আবশ্যকতা থাকছে না। তবে সুমন ভাইয়ের পোস্টটা পড়ে সামান্য আশাহত হয়েছি।
২৪. ০৫ ই জুন, ২০০৭ ভোর ৫:৫৮
কেমিকেল আলী বলেছেন: প্রমিত প্রবাল , সুন্দর বলেছেন।

পালাবে কোথায়? @ অমিত আহ্‌মেদ
২৫. ০৫ ই জুন, ২০০৭ সকাল ৭:৩৮
সাদিক মোহাম্মদ আলম বলেছেন: বিরক্তি কোথায় ভালো লাগছে। থাকেন। ভালো লেখা শেয়ার করেন। এরকম রিয়েলটাইম পাঠকের প্রতিক্রিয়া ভালোলাগা, ভালোবাসা আর কোথাও পাবেন না।

তারপরে যেদিন আপনার বই বের হবে দেখবেন সব ব্লগাররা ক্যামন সেটা নিয়ে আমরা সেলিব্রেট করি। সেদিন আপনার আনন্দ সব ব্লগারের আনন্দে মিলমিশে মিলবে।

সাময়িক এসব কাদাছোড়া ছুড়ি বাদ দেন। আমরা অসম্ভব ভালো সময় কাটিয়েছি এই ব্লগে। আরো কাটাবো নি:সন্দেহে। প্রথমদিকের অসাধারন শেয়ারিং ছিলো, তুখোড় বিতর্ক ছিলো, মেধাবী ভিন্নমতের মিথস্ক্রিয়া ছিলো। সেগুলো এখনো হারায়নি। পাতায় পাতায় আছে। একটু সময় দিন। ঘোলা জলের অস্থির সেডিমেন্ট থিতাতে একটু সময় লাগে।

ভালো থাকবেন। লেখালেখি, ব্লগের খুনসুটি, ব্যক্তিজীবন - সবটুকুতেই শুভ কামনা রইলো।
২৬. ০৫ ই জুন, ২০০৭ সকাল ১০:১০
মেজভাবী বলেছেন: তোমাদের ভাইয়া বলেছেন, অমিত ছেলেটা খুব বুদ্ধিমান। লিখেও খুব ভাল। একটাই দোষ খুব বেশি সিগেরেট খায়। বিদেশে গিয়ে আরো বেড়েছে।
২৭. ০৫ ই জুন, ২০০৭ দুপুর ১:৩৮
শাহানা বলেছেন: আপনার মতোন এক সময় আমিও করেছি, মানে যেখানে কষ্ট সে জায়গা ছেড়ে পালিয়ে যেতাম। এখন মনে হয় কাজটা ঠিক করিনি। পালিয়ে গিয়ে খুব একটা লাভ হয়না। বরং এগিয়ে যাওয়া উচিত। ফলাফলটা না হয় সময়ের উপর ছেড়ে দেয়া হোক।
২৮. ০৭ ই জুন, ২০০৭ ভোর ৫:০৫
জানালা বলেছেন: প্রিয় অমিত,
আমি খুব বেশীদিন হয়নি ব্লগ জয়েন করেছি। তবু কিছু অশালীন মানুষের অশালীন প্রকাশ... খারাপ লাগে। তাই হয়তো আপনার অভালোলাগা কিছুটা ধরতে পারি।

আপনাকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে চিনিনা। দুঃখের সাথে বলতে বাধ্য হচ্ছি আপনার লেখারও খুব একটা ভক্ত আমি নই। আপনার প্রতিটা লেখা খুব আগ্রহ নিয়ে পড়ে মনে হয়েছে লেখক ক্যামেরা দিয়ে সবকিছু দেখানোর চেষ্টা করেছেন। এতো খুটিনাটি বরণনা। একটা ঝরঝরে প্লটকে ঘিন্জি ফ্ল্যাট বানিয়ে ফেলছেন।

কিন্তু লেখা থেকে বের হওয়া লেখক মানুষটাকে না চিনেই আমার ভালো লাগে। একজন সম্ভাবনা মানুষ মনে হয়। সেই সম্ভাবনা বাড়বেনা কিছু সবুজ খেয়ে ফেলা প্রানীর জন্য? ঠিক কাজ হবে কি অমিত?

প্রমিত প্রবাল চমতকার করে সব কিছু ব্যাখ্যা করেছেন। তাই কোন যুক্তি দিচ্ছিনা।

শুধু একটা উদাহরন বলছি। যেই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এতো সমস্যা। সেই সময়কার মানুষ গুলো যদি সবাই "এই বিভতসতা সহ্য করা সম্ভব না" বলে মাটি ছেড়ে চলে যেতো, কী হতো আমাদের?

সবাই বন্দুক নিয়ে মাঠে নামতে পারেনা অমিত। কেউ শত বারুদের মাঝেও একটা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র খোলে। কতগুলো ছেলেমেয়ে ট্রাক নিয়ে মুক্তির গান গেয়ে বেড়ায়।

কতগুলো লোক গালি দিলো আপনি কেন গান গাবেননা অমিত? গলার জোর কি সঙ্গীত থেকে বেশী?

অমিত, সংবেদনশীল বুদ্ধিমান মানুষের সংখ্যা চারপাশে অনেক। বোকা মানুষ কম। যারা বুদ্ধিমানের মতো তাদের সমস্ত পবিত্রতা নিয়ে জায়গা ছেড়ে সরে যায়না। বরং তাদের সমস্ত ভালোবাসা দিয়ে তাদের ভালোবাসার জায়গা শুদ্ধ করে দিয়ে যায়।

অমিত, সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব আপনার হাতে। আপনি চুপচাপ অন্যরা কেন খারাপ এই ধারনা নিয়ে কলম বন্ধ করতে পারেন।
অথবা ঝকঝকে কিছু লেখা লিখে আমাদের মতো কিছু সাদামাটা মানুষকে একটা সুস্থ সময় দিতে পারেন।

অমিত, এখন আপনি দেখুন সমস্ত শুচিতা বাচিয়ে পরিচ্ছন্ন ব্রাম্মন হতে চান। অথবা একটা বোকা শুদ্র।
২৯. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১১:৩১
মিরাজ বলেছেন: আমি ব্যক্তিস্বাধীনতায়, মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। ভিন্ন মত, ভিন্ন বিশ্লেষণ থাকতেই পারে, তাই বলে আমার বাক স্বাধীনতা গুঁড়িয়ে চুরমার করা হবে? আমি বিশ্বাস করি, লেখার জবাব হবে লেখাতেই। যুক্তির খন্ডন হবে যুক্তিতেই, গালিতে নয়, পোস্ট মুছে নয়। রাজাকরদের আমি ঘৃণা করি, মনে প্রানেই ঘৃণা করি, কিন্তু সে ঘৃণার প্রকাশ কেন হবে গালিতে? আমার পরিবারতো আমাকে এ শিক্ষা তো দেয়নি। আমি জেনেছি, জ্ঞানের অভাবে, সাহসের অভাবে, যুক্তির অভাবে গালি আসে। রাজাকারা "রাজাকার", এরচেয়ে বড় গালি আর কি হতে পারে... এর পরেও কেন মুখ খারাপ করে নিজেদেরকে নিজে নিচে টেনে নামানো?

----------------------------------------------------------

অমিত আহমেদ, আপনার অনুভুতির সাথে বেশ অনেকটাই মিলে গেল আমার চিন্তাভাবনা । আপনি যে জিনিস মেনে নিতে না পেরে এই ব্লগে লেখা ছেড়ে দিলেন, আমি সেই একই জিনিস থেকে আমার লেখার জমিনকে পরিস্কারের চেষ্টা করছি । অনেক রকম ব্রান্ডিং এর চেষ্টা হচ্ছে, অনেক বাধা আছে কিন্তু সহযোদ্ধার সংখ্যা কিন্তু প্রতিদিনই বাড়ছে । আমি কোন লেখক নই, তারপরও উদ্যোগে সফল হতে না পারলে একদিন আপনার মত আমিও চলে যাব। তবে যাবার আগে চেষ্টা করে দেখতে চাই ।

প্রমিত প্রবালের (জানিনা এইসব ব্লগাররা কোথায়?) চিন্তভাবনাটা ভাল লাগলো । পথ ছেড়ে না দিয়ে পথ পরিস্কার করার উদ্যোগ নেয়া দরকার ।

আপনার অনুভুতির সাথে অনুভুতির মিল থাকায় মন্তব্যটি করলাম, আশা করি কিছু মনে করবেন না।

সময় সুযোগ পেলে আবার লিখবেন । ভালো থাকবেন ।
৩০. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১১:৪৩
বিবর্তনবাদী বলেছেন: আমি জেনেছি, জ্ঞানের অভাবে, সাহসের অভাবে, যুক্তির অভাবে গালি আসে। রাজাকারা "রাজাকার", এরচেয়ে বড় গালি আর কি হতে পারে... এর পরেও কেন মুখ খারাপ করে নিজেদেরকে নিজে নিচে টেনে নামানো?



এ কথাটি বলেই, ব্লগ ছেড়ে চলে যাবেন, এটা কি ঠিক হচ্ছে? ফলে এক সময় অবস্থা এমন দাঁড়াবে যে গালিবাজরা সবাই ব্যান হবে, অন্য ব্লগাররা হতাশ হয়ে লেখার আগ্রহ হারাবে অথবা কেউ আপনার মত চলে যাবে এবং অবশেষে সামহোয়্যারইনে শুধু রাজাকার গোষ্টির রাজত্ব চলবে।


থাকবেন কি যাবেন সেটা অবশ্যই আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার, তবে যে কারনে যাচ্ছেন সে কারনে না যাওয়ার জন্য অনুরোধ টুকু করতে পারি।।

আপনাকে ধন্যবাদ।
৩১. ২৭ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:০০
রাশেদ বলেছেন: গালি না দিয়ে আপনি কতক্ষন থাকতে পারবেন! পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা দেখি দেশের অপমান করা পোস্ট। কর্ত্তপক্ষ ভুলেও ডিলিট করে না সেইগুলা। কখন ডিলিট করে যখন গালি দিয়া ভুত ছাড়ানো হয় তখন। নিজে থেকে এখনো কোন পোস্ট ডিলিট করছে কেউ কোন উদাহরন দেখাতে পারবেন!!

সাম্প্রদায়িক ব্লগার আশরাফ রহমান কখন ব্যান হইছে?

অমি ভাই ব্যান হয় বউয়ের নামের পোস্টের প্রতিবাদ করতে যেয়ে। আর যেই নরকেট কীট এই আকাম করছে সে মহানন্দে ব্লগায়, ভুলেও ব্যান করা হয় না। এইসব দেখলে আপনি কতক্ষন মাথা ঠিক রাখবেন!!

এরা যদি গালিবাজ হয় সেই গালিবাজদের আমি মাথায় তুলে রাখব, আমি জানি অধিকাংশ ব্লগাররাই রাখবে, কিছু সুশীল ছাড়া।

চতুরভুজের জামাত সাপোর্ট ব্লগে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হইছে, তারপরও তারা বাহবা পেয়ে যায় ব্লগে! হায়রে সুশীল! আর কেউ কেউ ঘুরাইয়া সাপোর্ট দেয়, রাজাকারদের বিরুদ্ধে কিছু না বলে!

যারা গালির বিরুদ্ধে বলতেছেন এখন পর্যন্ত কয়জনের স্বাধিনতা বিরোধী পোস্ট ডিলিট করাইতে পারছেন ! উদাহরন দেন তো দেখি।

নীপুপাওয়ারফুল কেম্নে ব্যান হইছে!! সুশীলদের সুশীল জবাবের কারনে নাকি!!
৩২. ২৭ শে জানুয়ারি, ২০০৮ ভোর ৪:১০
অমিত আহমেদ বলেছেন: ভাই, লেখাটা কিন্তু সাত মাস আগের।

এখন ব্লগের অবস্থার আরো পরিবর্তন ঘটেছে। তবে সেটা সম্ভবত ভালো দিকে নয়।

সামহোয়্যারে লেখা ছাড়িনি, তবে লেখার সংখ্যা কমেছে বলা যায়।
৩৩. ২৭ শে জানুয়ারি, ২০০৮ ভোর ৪:২৩
মিরাজ বলেছেন: আমি কিন্তু সাত মাস আগের লেখা দেখেই মন্তব্য করেছি । আপনার সাথে একমত যে পরিস্থিতির পরিবর্তন ভালো দিকে হয়নি ।

আপনার সর্বশেষ লেখা ৩ মাস আগে ।

এরপর আপনার বেশ কয়েকটি ভালো লেখা পড়েছি ভিন্ন একটি সাইটে । এখানে লিখলেও হয়তো আলোচনা করা যেত।

আশা করি আবার লিখবেন ।
৩৪. ২৭ শে জানুয়ারি, ২০০৮ ভোর ৪:৩৩
বিবর্তনবাদী বলেছেন: সাত আট মাস আগের লেখা.।.।.।.।.।.।.।.।।। আমি তো খেয়াল করি নাই। মন্তব্য প্রত্যাহার করলাম।
৩৫. ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১১:১২
মৈথুনানন্দ বলেছেন: কলকাতার মেয়েকে য়্যাড্রেস দিলেন না? :( আপনার ফিলিংস্টা আমি বুঝতে পারছি অমিত বাবু।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০০৩১ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
© অমিত আহমেদ: যে কোনো লেখা যে কোনো মাধ্যমে পুনপ্রকাশের অধিকার কেবলমাত্র লেখকের অনুমতি সাপেক্ষে।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ