somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তালেবান মুজাহিদ থেকে হেফাজতের শীর্ষ নেতা

০৮ ই এপ্রিল, ২০১৩ রাত ৮:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গোয়েন্দা নজরদারিতে মাওলানা হাবিবুর রহমান হাবিব ১৯৮৮ সালে আফগান সফর ও লাদেনের সঙ্গে সাক্ষাত । তওবা করলে তসলিমা নাসরিনকে বিয়ে করতে রাজি বলেছিলেন।

টক অব দ্য কান্ট্রি এখন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। ইসলামরক্ষার ধুয়ো তুলে বাংলাদেশকে তালেবানি রাষ্ট্র বানানোর উদ্দেশ্যে ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে সংগঠনটি। গত ৬ এপ্রিল শনিবার লংমার্চ-উত্তর মহাসমাবেশের ঘোষণা অনুযায়ী আজ এই সংগঠনের ডাকে দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও সমাজবিশ্লেষকরা বলছেন, হেফাজতের দাবিগুলো বাংলাদেশের সংবিধানবিরোধী; দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ পরিণত হবে সাম্প্রদায়িক তালেবান রাষ্ট্রে। এদিকে হেফাজতে ইসলামের এক কেন্দ্রীয় নেতা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমানকে তীক্ষ নজরদারিতে রেখেছে দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সিলেটের কাজির বাজার মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল এই হাবিবুর রহমানের আন্তর্জাতিক জঙ্গি কানেকশনের বিষয়ে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ.এম.এস কিবরিয়া হত্যাকাণ্ড ও সাবেক ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলাকালে।

তখনই গোয়েন্দারা জানতে পারেন, মাওলানা হাবিবুর রহমান ১৯৮৮ সালে হরকাতুল জেহাদের আমন্ত্রণে পাকিস্তান হয়ে আফগানিস্তান সফরে যান এবং তালেবান মুজাহিদ বাহিনীর একাধিক ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। কয়েক দিন সেখানে তিনি স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্বও পালন করেন। ওই সফরে মাওলানা হাবিবুর রহমানের সঙ্গে আল কায়েদার শীর্ষ নেতা ওসামা বিন লাদেনের দেখা হয় । দেশে ফিরে তিনি বাংলাদেশকেও তালেবান রাষ্ট্র বানানোর ইচ্ছেয় ভক্ত-অনুসারী নিয়ে কওমি মাদ্রাসাগুলোয় জঙ্গি প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেন।

গত শনিবারের লংমার্চ-পরবর্তী সমাবেশে মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন, আজকের (শনিবারের) সমাবেশ থেকে এক ঘোষণাতেই নবুয়ত কায়েম হয়ে যেতে পারে। এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে লালবাগে হেফাজতের কর্মসূচির ঘোষণাকালেও তিনি উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টিকে গোয়েন্দারা তালেবানি শাসনের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন।

মাওলানা হাবিবুর রহমান সিলেট জেলার একসময়ের প্রবল প্রভাবশালী এক কওমি নেতা ছিলেন। বর্তমানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির। সাহাবা সৈনিক পরিষদ নামে একটি জঙ্গি সংগঠনেরও আহ্বায়ক তিনি। ‘বিতর্কিত হুজুর’ নামেও পরিচিতি আছে তার। ভক্ত, সমর্থক, অনুসারীদের কাছে তিনি কখনও ‘বুলবুলি হুজুর’, কখনও ‘প্রিন্সিপাল সাব’, কখনও ‘মর্দে মুজাহিদ’ খেতাব পেয়েছেন। আফগান থেকে দেশে ফিরে ১৯৯৮ সালে মাওলানা হাবিবুর রহমান ঘোষণা দেন, তালেবানদের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা আছে। এ সম্পর্কিত একটি সাক্ষাত্কারও ছাপা হয় ওই বছর আফগানে ইসলামী তালেবান মোজাহেদীনের পূর্ণাঙ্গ বিজয় উপলক্ষে প্রকাশিত বিশেষ বুলেটিন ‘ইসলামী বিপ্লব’-এ। সেই সাক্ষাত্কারে হাবিবুর রহমান তার তালেবান সফরের বিশদ বিবরণ দেন।

মাওলানা হাবিবুর রহমান প্রথম দেশব্যাপী আলোচনায় উঠে আসেন ১৯৯৪ সালে তসলিমা নাসরিনবিরোধী আন্দোলনকালে। ওই সময় তিনি তসলিমা নাসরিনকে ‘মুরতাদ’ আখ্যা দিয়ে তার মাথার মূল্য ঘোষণা করেন ৫০ হাজার টাকা। তবে, তওবা করলে তসলিমাকে বিয়ে করতে রাজি আছেন বলেও জানান। এর পর-পরই তাকে ‘সিলেটের অগ্নিপুরুষ’ হিসেবে ঘোষণা দেয় ভক্তরা। কবি শামসুর রাহমানকেও ‘মুরতাদ’ ঘোষণা দিয়ে সিলেটে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন এই মাওলানা হাবিবুর রহমান। এছাড়া গত বছর সিলেটে সংস্কৃতিবিরোধী ‘শাহজালাল ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও ভাস্কর্য প্রতিরোধ আন্দোলন’ নামে একটি সংগঠন দাঁড় করিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানোরও চেষ্টা করেন তিনি। সিলেট থেকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় তুলে দেওয়ার হুমকিও দেন। (আমাদের সময় নিউজ)


এইসব ধর্মব্যবসায়ী জঙ্গী উগ্রবাদীদের রুখে দাড়ানোর দায়িত্ব সবার
১০টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×