আমার প্রিয় পোস্ট

আওরঙ্গজেব

ইসলামি উত্তারাধিকার আইন সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা

১৭ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১:১৮

শেয়ারঃ
0 0 0

ক. ভূমিকা:
ইসলামী উত্তারাধিকার আইন নিয়ে আজকাল পত্র-পত্রিকায় খুব লেখালেখি হচ্ছে। এনিয়ে ব্লগেও কিছু লেখা এসেছে। কিছু মানুষ ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে পছন্দ করেন না বলে, (বিষয় সম্পর্কে জেনে বা না জেনে) এসব থেকে সজ্ঞানে দূরে আছেন। আবার চিহ্নিত কিছু মানুষ জেনে-বুঝে খুব সুক্ষ ভাবে উস্কানী দিচ্ছে অপর পক্ষকে। উদ্দেশ্য, বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে ইসলামকে বিতর্কিত করা ও নিজেদের ইপ্সিত লক্ষ্যে পৌঁছা । ব্যাপারটা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কিছু আল্লাহর প্রকাশ্য শত্রু আল-কোরআনকে ভুল প্রমাণের উদ্দেশ্যে পোস্ট দিয়েছে, আর কিছু মুসলমান নামধারী পাপিষ্ট (সাথে কিছু অমুসলমানও) বুঝে বা না বুঝে খুব কাছ থেকে হাততালি মারছে, যেমন এরা সবসময় করে থাকে! প্রকৃত মুসলমানদের অবস্হা এমন যে, জ্ঞান ও উদ্যোগের অভাবে পাপিষ্টদের এমন অপরাধের প্রতিবাদও হয়ত: করতে পারছেন না!

আমাদের আজকের লেখায় ইসলামী উত্তারাধিকার আইনের বর্ণনা দেয়া উদ্দেশ্য নয়। এনিয়ে ইসলামী আইনবিদদের লেখা শত শত ভলিউম লেখা আছে। যে কেউ সেগুলো পড়তে পারেন। বরং, আমাদের আজকের লেখার শুরুতে বলব, এই আইনগুলো কে, কেন দিয়েছেন তার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা। এগুলো মানলে কি লাভ ও না মানলে কি ক্ষতি হবে তাও উল্লেখ করব। পরিশেষে আমরা এই আইনগুলো প্রয়োগের সময় রাসুলুল্লাহ সা: ও সাহাবীদের রা: কর্তৃক গৃহিত কিছু মৌলিক দিকনির্দেশনা এবং বাস্তবের বিভিন্ন সমস্যায় কি ভাবে আল-কোরআনের নিয়মাবলী প্রয়োগ করা হয়েছে সেগুলোর কিছু উদাহরণ উল্লেখ করব। ইনশাল্লাহ।

খ. ইসলামী উত্তারাধিকার আইন কে, কেন দিয়েছেন:
ইসলামী উত্তারাধিকার আইন বা মৃত ব্যক্তির সম্পদ বন্টনের নিয়মনীতি আল-কোরআনে তিন জায়গায় এসেছে: সুরা নিসার ১১, ১২, ও ১৭৬ নম্বর আয়াত। এই আয়াতগুলোতে আইনের মূল দিকগুলো বলার আগে ও পরে (প্রতি আয়াতে) আইন প্রণেতা আল্লাহ নিজের কিছু গুণাবলী ও সাধারণ কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন। বিষয়গুলো লক্ষ্য করুন, তাহলে এই মৌলিক আইনগুলোর গুরুত্ব অনুধাবন সহজ হবে:

৪:৭: পিতা-মাতা ও আত্নীয়-স্বজনদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষদেরও অংশ আছে এবং পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারীদেরও অংশ আছে; অল্প হোক কিংবা বেশী। এ অংশ (আল্লাহর পক্ষ থেকে) নির্ধারিত।
৪:৮: সম্পতি বন্টনের সময় যখন আত্নীয়-স্বজন, এতীম ও মিসকীন উপস্খিত হয়, তখন তা থেকে তাদের কিছু দিয়ে দাও এবং তাদের সাথে কিছু সদালাপ করো।
৪:৯: লোকদের একথা মনে করে ভয় করা উচিত যে, তারা যদি মরার সময় নিজেদের পশ্চাতে দুর্বল অক্ষম সন্তান-সন্ততি ছেড়ে যেত তাহলে তাদের জন্যে তারা কতই না আশঙ্কা করত। সুতরাং তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং ন্যায় সংগত কথা বলে।

উপরের কথাগুলো থেকে ইসলামী স্কলাররা কিছু মৌলিক জিনিস বর্ণনা করেছেন:
১. মৃতের পরিত্যক্ত সম্পত্তি (মীরাস) তে শুধু পূরুষ নয়, নারীরও অধিকার আছে। উল্লেখ্য ইসলাম পূর্ব যুগে এবং পাশ্চাত্যে এই ক'দিন আগেও সম্পত্তিতে নারীর অধিকার ছিল না।
২. পরিত্যক্ত সম্পত্তি যতটুকুই হউক, কম বা বেশী, তার উত্তারাধিকারীদের মধ্যে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী বন্টন করতে হবে।
৩. এই আইন মৃতের সকল স্হাবর-অস্হাবর, কৃষি-শিল্প সব সম্পদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
৪. এই আইন ব্যক্তি মারা যাওয়ার পরে কার্যকর হবে।
৫. আত্নীয়-স্বজন, এতীম ও মিসকীন যাদের বস্তুত: কোন আইনগত অধিকার নেই, তাদেরকেও কিছু না কিছু দিয়ে ইহসান করতে বলা হয়েছে।

আরো লক্ষ্য করুন,
৪:১১: ... তোমাদের পিতা ও পুত্রের মধ্যে কে তোমাদের জন্যে অধিক উপকারী তোমরা জান না। এসব অংশ আল্লাহ্ কর্তৃক নির্ধারিত। নিশ্চয় আল্লাহ সকল সত্য জানেন ও সকল কল্যাণময় ব্যবস্হা সম্পর্কে অবগত আছেন।
৪:১২: ... এ বিধান আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, সর্বদর্শী ও সহনশীল।
৪:১৩-১৪: এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। যে কেউ আল্লাহ ও রসূলের আদেশমত চলে, তিনি তাকে জান্নাত সমূহে প্রবেশ করাবেন, যেগুলোর তলদেশ দিয়ে স্রোতস্বিনী প্রবাহিত হবে। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। এ হল বিরাট সাফল্য| যে কেউ আল্লাহ্ ও রসূলের অবাধ্যতা করে এবং তার সীমা অতিক্রম করে তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন। সে সেখানে চিরকাল থাকবে। তার জন্যে রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।
৪:১৭৬: ... আল্লাহ্ তোমাদিগকে সুস্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিচ্ছেন, যাতে তোমরা বিভ্রান্ত না হও। আর আল্লাহ্ হচ্ছেন সর্ব বিষয়ে পরিজ্ঞাত।

এখানে যা বলা হয়েছে তা সংক্ষেপে,
১. মীরাসে আল্লাহ প্রদত্ত আইনের গভীর তত্ত্ব যারা জানতে সক্ষম নয়, এব্যাপারে যাদের জ্ঞান অজ্ঞতার পর্যায়ভূক্ত, এবং যারা অপরিপক্ষ বুদ্ধি দিয়ে আল্লাহর আইনের ত্রুটি (!) দূর করতে চায়, তাদের কে যাবধান করা হয়েছে।
২. আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণকারীরা আল্লাহর পাকড়াও থেকে রেহাই পাবে না।
৩. আল্লাহ যে নিয়মাবলী বর্ণনা করেছেন তা একেবারে নির্ভূল।
৪. তিনি কঠোরতা অবলম্বন করেন নি, যেসব আইন তিনি দিয়েছেন সেগুলো মানা মানুষের জন্য সহজ।
৫. আল্লাহর বিধান মান্য কারীদের জন্য জান্নাতের ওয়াদা করা হয়েছে।

গ. অমুসলিম স্কলারের চোখে ইসলামী উত্তারাধিকার আইন:

The divine justness and equitability of the Islamic laws of inheritance have been correctly appreciated by many non-Muslim scholars such as Professor Almaric Rumsey (1825-1899) of King's College, London, the author of many works on the subject of the Muslim law of inheritance and a barrister-at-law, who stated that the Muslim law of inheritance, "comprises beyond question the most refined and elaborate system of rules for the devolution of property that is known to the civilised world." (দেখুন, সূত্র: ১)

ঘ. বাস্তবে প্রয়োগের বিশেষ নিয়মাবলী ও কিছু উদাহরণ:
মানুষের বাস্তব জীবনে বিভিন্ন সময় এত বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হয় যে, সঠিক জ্ঞান ছাড়া আল-কোরআনের বিধান গুলোর ব্যবহার সম্ভব নয়। রাসুলুল্লাহ সা: ও তাঁর সাহাবারা রা: এমন সমস্যা সমাধানে কিছু নিয়মাবলী ও উদাহরণ দিয়ে গেছেন। নীচে আমরা সংক্ষেপে এসবের কিছু উল্লেখ করব। (বিস্তারিত দেখুন, সূত্র: ২)

প্রকৃতপক্ষে, বাস্তবে সম্পদ বন্টনের বিষয়টি এত জটিল ও এতে এত বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হয় যে, সাধারণ মানুষের পক্ষে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া কষ্টকর হতেই পারে। অনেক সময় দেখা যায়, আল-কোরআনের বিধান মতে মোট সম্পদ হয় বেশী (উদ্বৃত্ত) হয়ে যায়, অথবা ঘাটতি হয়ে যায়, অথবা পুরোটা বন্টনের পরেও (দূরতম সম্পর্কের) উত্তারাধিকারী বন্ঞিত থেকে যেতে পারেন। এসব ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ সা: ও তাঁর সাহাবারা রা: যে সব হেকমত অবলম্বন করেছেন, তা আমাদের জন্য অনুসরনীয়।

১. উদ্বৃত্ত হলে: সম্পত্তি বন্টনের সময় আগে আল-কোরআনে বর্ণিত শেয়ারারদের মাঝে নিয়মানুযায়ী বন্টনের পরে অবশিষ্ট থাকলে তা দূরবর্তী আত্নীয়দের মাঝে বন্টন করা হবে। উদ্ধৃত্ত গ্রহণকারী দূরতম আত্নীয় না থাকলে, নিকটতম আত্নীয়দের মধ্যে আল-কোরআনে বর্ণিত সমানুপাতে উদ্ধৃত্তও বন্টন হবে।

Abdullah ibn Abbas (RA) reported that the Prophet Muhammad (SAWS) said, "Give the Faraid (the shares of the inheritance that are prescribed in the Quran) to those who are entitled to receive it. Then whatever remains, should be given to the closest male relative of the deceased." (Sahih al-Bukhari)

হযরত উমর রা: এর সময়ের একটি ঘটনা: একজন মৃত স্ত্রী লোক সন্তানহীন অবস্হায় স্বামী ও পিতা-মাতা রেখে মারা গেলেন। তার সম্পত্তি কিভাবে ভাগ হবে?

আল-কোরআন অনুসারে, স্বামী ১/২ ভাগ (আল-কোরআন ৪:১২), মাতা ১/৩ ভাগ (আল-কোরআন ৪:১১), পিতা অবশিষ্ট ১/৬ ভাগ। এটি আল-কোরআনের ৪:১১ এর পূরুষ মহিলার দ্বিগুন পাবে এই নিয়ম ভঙ্গ করে, যেহেতু পিতা মাতার চেয়ে কম পাচ্ছেন। এজন্য আল-কোরআনের ৪:১১ নিয়ম (মাতা ১/৩ ভাগ পাবেন) তখনই আ্যাপ্লিক্যাবল, যখন মৃতের পিতা-মাতা ছাড়া কোন সন্তান-সন্ততি বা স্বামী না থাকেন। অর্থাৎ এক্ষেত্রে সঠিক হিসেব, স্বামী ১/২ ভাগ (আল-কোরআন ৪:১২), মাতা ১/৬ ভাগ (আল-কোরআন ৪:১১), পিতা ১/৩ ভাগ (আল-কোরআন ৪:১১)।

২. দূরতম আত্নীয় বন্ঞিত থাকলে:
হযরত উমর রা: এর সময়ের আরেকটি ঘটনা: এক মহিলা সন্তানহীন অবস্হায় স্বামী, মাতা, দুই Full brother (যাদের পিতা-মাতা মৃত মহিলার মতো একই), ও দুই Uterine brother (যাদের শুধু মাতা মৃত মহিলার মতো একই) রেখে মারা গেলেন।

আল-কোরআন অনুসারে, স্বামী ১/২ ভাগ (আল-কোরআন ৪:১২), মাতা ১/৬ ভাগ (আল-কোরআন ৪:১১), দুই Uterine brother ১/৩ ভাগ (আল-কোরআন ৪:১২)। কোন উদ্ধৃত্ত নাই। দুই Full brother কিছু পাচ্ছেন না।

হযরত উমর (রা:) Full ও Uterine brother দের ১/৩ ভাগ সমভাবে বন্টন করে দিলেন। (উপরে বর্ণিত আল-কোরআন ৪:৮ দেখুন)

৩. ঘাটতি হলে:
বন্টনের সময় বন্টিত সম্পদ ১ এর অধিক হলে সকল উত্তারাধিকারের থেকে তাদের প্রাপ্যের সমানুপাতে কমিয়ে মোট সম্পদ ১ অংশ করা হয়। (the doctrine of al-awl)

যদি মৃত ব্যক্তির, দুই কন্যা, এক স্ত্রী, পিতা এবং মাতা বর্তমান থাকেন তাহলে,
দুই কন্যা ২/৩ ভাগ (আল-কোরআন ৪:১১), পিতা ১/৬ (আল-কোরআন ৪:১১), মাতা ১/৬ (আল-কোরআন ৪:১১) , স্ত্রী ১/৮ (আল-কোরআন ৪:১২)। মোট: ২৭/২৪ ভাগ (১/৮ ভাগ ঘাটতি)।

এক্ষেত্রে, ঘাটতি সকল শরিকদের মাঝে তাদের প্রাপ্য অনুসারে (নেগেটিভ) বন্টন হবে। দুই কন্যা ১৬/২৭ ভাগ, পিতা ৪/২৭ ভাগ, মাতা ৪/২৭, স্ত্রী ৩/২৭ ভাগ।


ঙ. উপসংহার:
উপরে বর্ণিত বিশেষ ক্ষেত্রসমূহে রাসুলুল্লাহ সা: ও তাঁর সাহাবারা রা: আল-কোরআনের মূলনীতি লঙ্গন না করেই মিমাংসা করেছেন (ইজমা ও কিয়াস)। উত্তরাধিকারীর ধরন ও সংখ্যানুসারে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন আল-কোরআনের উদ্দেশ্য নয়। বরং, আল-কোরআনের উদ্দেশ্য এই যে, একগুচ্ছ মৌলিক বিধান দিয়ে দেয়া। মানুষ বাস্তবক্ষেত্রে এসব মৌলিক বিধান অনুসরণ করেই সব সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হবে। যেমন, অন্যান্য আইন যেমন, চুরি, ধর্ষণ ইত্যাদির ক্ষেত্রেও আল-কোরআন তাই করেছে।

অথচ, আজকাল একধরনের পাপিষ্টরা আল-কোরআনের মূলনীতি (যেমন, পূরুষ নারীর দ্বিগুণ পাবে) পরিবর্তনের খায়েস কে সাহাবাদের রা: জ্ঞানগর্ভ নির্দেশনার সাথে গোলমাল পাকিয়ে বলতে অপচেষ্টা করছে, সম্পত্তির জন্য আগে সাহাবারাই গোলমাল পাকিয়েছেন (নাউযুবিল্লাহ), তারা নয়, তারা শুধু সমাধান করছে!

অথচ, তারা জানে না, মানুষের জ্ঞান কত সীমিত, আর মানুষ কত স্বার্থপর! শুধুমাত্র একজন নি:স্বার্থ সত্তা যিনি সব প্রকাশ্য ও গোপন নিগূঢ় তত্ত্ব ও তথ্য সম্পর্কে অবগত সেই এক আল্লাহই সব সমস্যা সমাধানের মূল আইন প্রণেতা।

... এ বিধান আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, সর্বদর্শী ও সহনশীল। (আল-কোরআন ৪:১২)


সূত্র সমূহ:
১. Rumsey, A. Moohummudan Law of Inheritance. (1880) Preface iii.
২. Islamic Laws of Inheritance - Dr. Abid Hussain.

১৭.৩.২০০৮

 

সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১:২৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৭ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১:২৪
স্করপিয়ন্স বলেছেন:
নিজের বইনরে ঠকাইয়া আর কত খাবি!
১৭ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১:৫১

লেখক বলেছেন: আপনি কি আপনার বোনকে সমান ভাগ দিয়েছেন, নাকি আমার মতো ঠকিয়েছেন?

* ভদ্র ব্যবহার করতে না জানলে, কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।

ধন্যবাদ।

২. ১৭ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১:৩৫
এস এম বাবু বলেছেন: অভিনন্দন ভাইয়া! লিখতে থাকুন!
আশা রাখি আপনার এই পোস্ট অনেক বিভ্রান্ত মানুষকে কিছুটা হলেও পথে আনবে!
১৭ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১:৫২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৩. ১৭ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১:৫১
প্রাকৃত বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই আপনার ই গুরুত্বপূর্ণ পোস্টের জন্য!!
১৭ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১:৫২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৪. ১৭ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১:৫৪
দ্বিতীয়নাম বলেছেন: যুগে যুগে সহজ বিষয়রে জটিল করা হইছে করা হইছে শক্তিমানগো ভাগ বেশী রাখনের নিমিত্তে।

১৭ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ২:০৬

লেখক বলেছেন: মানুষের পক্ষে বহুল (অপ)বর্ণিত সহজ পথ অবলম্বন করা সম্ভব নয়। ভারতে ও চীনে পাইকারী হারে গর্ভের কন্যা সন্তান হত্যা, অনেক দেশে পূরুষ অপেক্ষা নারীর কম বেতন পাওনা, বাংলাদেশে ১০ জন উপদেষ্টার ৫ জন নারী না হওয়া বা কখনও একজন নারী প্রধান উপদেষ্টা না হওয়া, ইত্যাদি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

৫. ১৭ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১:৫৬
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
যদি মৃত ব্যক্তির, দুই কন্যা, এক স্ত্রী, পিতা এবং মাতা বর্তমান থাকেন তাহলে,
দুই কন্যা ২/৩ ভাগ (আল-কোরআন ৪:১১), পিতা ১/৬ (আল-কোরআন ৪:১১), মাতা ১/৬ (আল-কোরআন ৪:১১) , স্ত্রী ১/৮ (আল-কোরআন ৪:১২)। মোট: ২৭/২৪ ভাগ (১/৮ ভাগ ঘাটতি)।

এক্ষেত্রে, ঘাটতি সকল শরিকদের মাঝে তাদের প্রাপ্য অনুসারে (নেগেটিভ) বন্টন হবে। দুই কন্যা ১৬/২৭ ভাগ, পিতা ৪/২৭ ভাগ, মাতা ৪/২৭, স্ত্রী ৩/২৭ ভাগ।

=============>>>

আপনি এখানে যেটি উল্লেখ করেছেন- সেটির প্রথম প্যারাটি হলো কোরআনের বহুল আলোচিত ভুল- কেননা- মোট সম্পদ=২৭/২৪ হতে পারে না।

এবং এরপরে এ সমস্যাটির সমাধান হিসাবে পরের প্যারায় যেটি দিয়েছেন- সেটি আলী কৃত সমাধান- যাকে আমরা বলি ফরায়েজী আইন, এবং এখন এটাই প্রচলিত।

তবে, আপনি নিজেও একটু চিন্তা করে দেখতে পারেন যে, কোরআনেই এই সংশোধনীটি থাকলো না কেন??
১৭ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ২:১৩

লেখক বলেছেন: হা হা। ভগ্নাংশ বা অংক বা বিনিময় সম্পর্কে অভিজ্ঞতা আছে আশা করি।

উপরের বন্টনে ১/৮ ভাগ ঘাটতিকে (বিনিময় বা ব্যবসায় ক্ষতিকে) তাদের প্রাপ্য অনুসারে ভাগ করা হয়েছে। এতে কোন শরিকের ভাগে প্রকৃত সম্পত্তিতে তাদের অধিকারে কম-বেশি হয়েছে কি?

না হয় নি। এই সহজ হিসেব টি আমাদের বুঝা উচিত।

আমি পোস্টে লিখেছি,

"বন্টনের বিশেষ ক্ষেত্রসমূহে রাসুলুল্লাহ সা: ও তাঁর সাহাবারা রা: আল-কোরআনের মূলনীতি লঙ্গন না করেই মিমাংসা করেছেন (ইজমা ও কিয়াস)। উত্তরাধিকারীর ধরন ও সংখ্যানুসারে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন আল-কোরআনের উদ্দেশ্য নয়। বরং, আল-কোরআনের উদ্দেশ্য এই যে, একগুচ্ছ মৌলিক বিধান দিয়ে দেয়া। মানুষ বাস্তবক্ষেত্রে এসব মৌলিক বিধান অনুসরণ করেই সব সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হবে। যেমন, অন্যান্য আইন যেমন, চুরি, ধর্ষণ ইত্যাদির ক্ষেত্রেও আল-কোরআন তাই করেছে।"

আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

ধন্যবাদ।

৬. ১৭ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১:৫৯
সামী মিয়াদাদ বলেছেন:

দুই কন্যা: ২/৩ = ১৬/২৭????
পিতা: ১/৬ = ৪/২৭????
মাতা: ১/৬ = ৪/২৭????
স্ত্রী: ১/৮ = ৩/২৭???

কন্ট্রাডিকটরী না? কোরআনে সুরা নিসা বর্নিত ভগ্নাংশ গুলো কোন ক্রমেই পরবর্তীতে ধার্যকৃত ভগ্নাংশের সমান হয়না।

১৭ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ২:১৪

লেখক বলেছেন: উপরের জবাবটি দেখুন। ধন্যবাদ।

৭. ১৭ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ২:০৩
আশরাফ রহমান বলেছেন: সময়োপযুগী পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।
১৭ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ২:১৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৮. ১৭ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ২:১৫
স্বাক্ষর শতাব্দ বলেছেন: বন্টনের সময় বন্টিত সম্পদ ১ এর অধিক হলে সকল উত্তারাধিকারের থেকে তাদের প্রাপ্যের সমানুপাতে কমিয়ে মোট সম্পদ ১ অংশ করা হয়।- এটা কোরআনে নাই কেন?
১৭ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ২:১৮

লেখক বলেছেন: হয়ত: আপনার মাথায় এই বুদ্ধিটুকু আল্লাহ দিয়েছেন, এজন্য।

১৭ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ২:১৯

লেখক বলেছেন: **উদ্ধৃত/ঘাটতি ভাগ করার বুদ্ধি

৯. ১৭ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ২:২৪
তীর্যক বলেছেন: সুন্দর ও সময়োপযোগি লেখাটি কে রেটিং করার জন্যই কেবল লগ ইন হলাম, বর্তমানে ব্লগটি কিছু ভার্চুয়াল গুন্ড়ার খোয়াড়ে পরিনত হয়েছে।

ধন্যবাদ লেখককে।
১৭ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ২:২৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১০. ১৭ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ২:২৫
ওবায়েদ বলেছেন: খুব সুন্দর লিখেছেন । পেলাস
১৭ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ২:২৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১১. ১৭ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ২:২৯
মানুষ বলেছেন: পড়লাম। কোরান নিয়ে তর্কের মাঝে না যাওয়ায় উত্তম। নিজের বোনকে সমান ভাগ দেয়াটাকে নৈতিক দায়িত্ব মনে করি।
১৭ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ২:৪১

লেখক বলেছেন: আপনি নিজেই আপনার নীতি মানেন নি।


১. আপনি আপনার পোস্টে আল-কোরআনকে এবং এর একনিষ্ট অনুসারী আলী রা: কে খারাপ হিসেবে উপস্হাপনের চেষ্টা করেছেন।

"অর্থাৎ (আল-কোরআনে) ভাগা ভাগিতে ভুল আছে। "

" আমাদের টুপিধারী মোল্লারা পবিত্র কোরান বিকৃতির যে ধুয়া তুলছেন, হযরত আলী (রাঃ)বহু আগেই “ফরায়েজে আউল” নাম দিয়া সেই কাম কইরা গেছেন। "

২. আপনার পোস্টে আপনার কথায় আল্লাহ ও কোরআন বিরোধীরা হাত তালি দিয়ে বাহবা দিয়েছে। আপনি তখন তাদের পিঠ চাপড়ানোতে পুলকিত হয়েছেন।

৩. আপনি বা কেউ যদি নিজের প্রাপ্য অংশ অন্যকে যেমন, বোন কে দিতে চান, তখন আল-কোরআন বা ইসলাম তা নিষেধ করেনি। এটা আপনার বদান্যতা হিসেবে দেখা হবে। আইন ইন জেনারেল সবার জন্য। আপনারটা ব্যতিক্রম।

ধন্যবাদ।

১২. ১৭ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ২:৪৪
মানুষ বলেছেন: আপনি কি বলতে চান ভুল নেই? ভুল না থাকলে "ফরায়েজে আউলে"-এর প্রয়োজন হতো না।
১৭ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ২:৫৫

লেখক বলেছেন: আপনার বুঝাতে গ্যাপ আছে। আমি বলেছি,

বন্টনের বিশেষ ক্ষেত্রসমূহে রাসুলুল্লাহ সা: ও তাঁর সাহাবারা রা: আল-কোরআনের মূলনীতি লঙ্গন না করেই মিমাংসা করেছেন (ইজমা ও কিয়াস)। যেমন, আপনার বর্ণনা অনুসারে আলী রা: এর ঘটনা।

একবার চিন্তা করুন, উত্তরাধিকারীর ধরন ও সংখ্যানুসারে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন করা কতটুকু সম্ভব। আল-কোরআনের উদ্দেশ্যও তা নয়। বরং, আল-কোরআনের উদ্দেশ্য এই যে, একগুচ্ছ মৌলিক বিধান দিয়ে দেয়া। মানুষ বাস্তবক্ষেত্রে এসব মৌলিক বিধান অনুসরণ করেই সব সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হবে। মৌলিক বিধান থেকে সমস্যানুসারে সমাধান বের করা সহজ। যেমন, আপনি বলেছেন, আলী রা: উদ্ভূত পরিস্হিতিতে খুব সিম্পল সমাধান দিলেন।


বিপরীত ভাবে আল-কোরআন/ইসলামে মৌলিক আইন দেয়ার পরে সমস্যা অনুসারে সমাধানের সুযোগ দিয়েছে। এরকম বিষয় গুলো রাসুল সা:, সাহাবা রা:, ও ফকিহরা বাস্তবে ও গবেষণায় দেখিয়ে দিয়েছেন।

আল-কোরআন বলেনি যে, মোট ভাগ ১ অংশ হবে। বিভিন্ন পরিস্হিতে কে কতভাগ পাবে তা বলেছে। এক্ষেত্রে ঘাটতি, উদ্ধৃতি, বা কেউ বন্ঞিত হলে কি করতে হবে তা রাসুল সা:, সাহাবা রা:, ও ফকিহরা দেখিয়েছেন। ঠান্ডা মাথায় আয়াত (৪:১১-১২, ১৭৬) পড়ুন, পারলে ব্যাখ্যাও পড়ুন। যেমন, আমি যে লিন্ক দিয়েছি

অন্যান্য আইন যেমন, চুরি, ধর্ষণ ইত্যাদির ক্ষেত্রেও আল-কোরআন তাই করেছে। মৌলিক আইন বলে দেয়ার পর সমস্যা অনুসারে সমাধান রাসুল সা:, সাহাবা রা:, ও ফকিহরা দেখিয়েছেন।

আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

ধন্যবাদ।

১৩. ১৭ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ২:৫৮
মানুষ বলেছেন: আপনি আরো বলেছেন, "আপনি বা কেউ যদি নিজের প্রাপ্য অংশ অন্যকে যেমন, বোন কে দিতে চান, তখন আল-কোরআন বা ইসলাম তা নিষেধ করেনি। এটা আপনার বদান্যতা হিসেবে দেখা হবে। আইন ইন জেনারেল সবার জন্য। আপনারটা ব্যতিক্রম।"

অথচ সুরাঃ নিসা, আয়াতঃ ১৩ তে বলা হয়েছে, " এসব আল্লাহ্‌র নির্ধারিত সীমা। আর যে আল্লাহ্‌র ও রসুলের অনুগত হয়ে চলবে, আল্লাহ্‌ তাকে স্থান দেবেন জান্নাতে যার নিচে নদী বইবে। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, আর এ মহাসাফল্য।"

এবং আয়াতঃ ১৪তে বলা হয়েছে "অপরদিকে যে আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসুলের অবাধ্য হবে ও তাঁর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করবে তিনি তাকে আগুনে ছুড়ে ফেলে দেবেন, সেখানে সে থাকবে চিরকাল; আর তার জন্য র‌য়েছে অপমানকর শাস্তি।"

আমি কি ধরে নেব না বোনকে সমান ভাগ দিলে আমাকে দোজখে ছুঁড়ে ফেলা হবে এবং অপমানজনক শাস্তি প্রদান করা হবে?
১৭ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:১৪

লেখক বলেছেন: আমি বলেছি, আপনি যদি আপনার প্রাপ্যের একটা অংশ আপনার বোনকে দেন, তবে আপনি আপনার বোনের প্রতি এহসান (ভাল ব্যবহার) করলেন। যেমন, ধরুন আমি আমার উপার্জনের ১০০ টাকা একজন গরিব কে দিলাম বা আমার কোন বন্ধুকে দিলাম।

আমি বলিনি, আপনি এক্ষেত্রে আইন লঙ্গন করেছেন। আইন হচ্ছে, আপনি আপনার বোনের দ্বিগুন পাবেন বা আপনি আপনার পিতার সম্পত্তিতে আপনার বোন অপেক্ষা দ্বিগুন পাবেন।

এরকম ভাগের কারণ, ইসলাম আপনাকে আপনার পরিবার দেখার যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা আপনার বোনকে দেয়নি। যেমন, আপনার পিতার মৃত্যুর পর আপনি আপনার সকল ভাই-বোন, মা, আত্নীয় স্বজন দেখা শুনার ভার পাবেন। আপনার বোন এ ভার থেকে মুক্ত।

এসত্ত্বেও আপনার ইহসানের দরুণ আপনি আল্লাহর কাছে পুরুস্কার লাভের আশা করতে পারেন।

১৪. ১৭ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:০০
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
লেখক বলেছেন: হা হা। ভগ্নাংশ বা অংক বা বিনিময় সম্পর্কে অভিজ্ঞতা আছে আশা করি। উপরের বন্টনে ১/৮ ভাগ ঘাটতিকে (বিনিময় বা ব্যবসায় ক্ষতিকে) তাদের প্রাপ্য অনুসারে ভাগ করা হয়েছে। এতে কোন শরিকের ভাগে প্রকৃত সম্পত্তিতে তাদের অধিকারে কম-বেশি হয়েছে কি?
.....................................>>

ভগ্নাংশ বা অংক বা বিনিময় সম্পর্কে অভিজ্ঞতা দিয়ে আপনি কখনো কি দেখেছেন- কোন কিছুকে এভাবে ভাগ করা যায় যে ভাগ করার পর মোটের পরিমাণ বেশি হয়ে যায়?

লোকে বলে, বুয়েটের ছেলপুলেরা অংক ভালো পারে, আপনার এ হাল তো কল্পনা করিনি!!!

ব্যাপারটি অনেকটি এমন হয়ে গেলো- ১০ টাকা তিনজনকে (ধরি ক, খ ও গ কে) ভাগ করে দয়া হলো এভাবে- ক=৭ টাকা, খ= ২ টাকা, গ= ৩ টাকা। এটি কি সম্ভব? এখানে বিনিময় বা ঘাটতির বিষয় আসে কি করে??

আর, এই ধরণের গোঁজামিল দিয়ে কতদিন মানুষকে বোকা বানাবেন?? কোরআনে সংখ্যানুসারে পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেয়া থাকে না- এসব মিথ্যাচার করার কি কোন মানে হয়? আপনি সুরা নিসার ১১ ও ১২ নং আয়াত আবার পড়েন। সেখানে একদম সংখ্যা ধরেই বলা হয়েছে- দুই মেয়ের উর্ধে হলে- মেয়েরা পাবে দুই তৃতীয়াংশ, পিতামাতা প্রত্যেকে পাবে ছয়ভাগের একভাগ করে, স্ত্রী পাবেন আট ভাগের এক ভাগ। এসব কি সংখ্যানুসারে পূর্ণাঙ্গ তালিকা নয়???

আরে, ভাই- কোরআনে মুহম্মদ সা. একটা ভুল করেছিলেন, পরবর্তীতে আলী রা. সেটা ঠিক করে দিয়েছেন - এটা স্বীকার করলে কি এমন সমস্যা হয়???
১৫. ১৭ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:০৩
স্ট্যানলি কুবরিক বলেছেন: "আল-কোরআন বলেনি যে, মোট ভাগ ১ অংশ হবে। "

এই লাইনটা সবচেয়ে মজার :)
১৬. ১৭ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:০৫
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
লেখক বলেছেন, "আল-কোরআন বলেনি যে, মোট ভাগ ১ অংশ হবে।"

কি মুশকিল, আপনি কি অংকের মাথা খেয়ে ফেললেন না-কি?? আল কোরআনে এটা কি বলার দরকার না-কি?? এটা তো নরমাল সেন্স! এবং সেটা সে আমলেরও অনেক আগে থেকে জানা ছিল- যে কোন কিছু ভাগ করলে- সমস্ত ভগ্নাংশের সমস্টি একের বেশি হতে পারে না। সে কারণেই- তো, পরে আলী কোরআনের ভুলটা সংশোধন করে দিলো!! যদি- সমষ্টি একের বেশি হলে কোন সমস্যা না হতো, তবে কি আলীর কোন সংশোধন করার প্রয়োজন পড়তো??
১৭ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:১৬

লেখক বলেছেন: আপনার সাথে তর্কে যেতে চাই না, কারণ আপনি বুঝতে চান না। তাই এখানেই শেষ। ধন্যবাদ।

১৭. ১৭ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:১৩
মাহমুদ রহমান বলেছেন: চমৎকার! খুবই সুন্দর কাজটি করেছেন আওরঙ্গজেব ভাই। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। অনেকের সুবিধা হবে।

ব্লগ দিন দিন চমৎকার ভার্চুয়াল লাইব্রেরি হয়ে যাচ্ছে।

প্রিয়তে রাখলাম।
১৭ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১৮. ১৭ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:১৭
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: আপনার ব্যাখ্যায় কনফিউশনটা কাটেনি ... একটু নিচের ব্যাখ্যাটা পড়ে যোগ করে দিতে পারেন

সুরা নিসার ১১ নং আয়াতটার অধিকাংশ ইংরেজী অনুবাদই ভুল করা হয়েছে, "ওয়ালাদ" শব্দটার ক্ষেত্রে। "ওয়ালাদ" মানে হলো নিজ ঔরসজাত সন্তান একবচনে, বহুবচনে "আওলাদ"। এই আয়াতে ওয়ালাদ ব্যবহার করা হলেও অধিকাংশ ইংরেজী অনুবাদে সেটাকে চিলড্রেন হিসেবে উল্লেখ করেছে, আসলে "আ চাইল্ড" হবে।

লক্ষ্য করুন, সুরা নিসার ১১ নং আয়াতের যে অংশে বাব-মা'র প্রত্যেকে মোটসম্পদের ৬ ভাগের ১ ভাগ পাবে বলে বলা হয়েছে, সেখানে শর্তটা হলো যিনি মারা গেছেন তাঁর যদি ওয়ালাদ থাকে। তার মানে তাঁর যদি একসন্তান থাকে। এক্ষেত্রে, একসন্তান পাবে সম্পদের ২ ভাগের ১ ভাগ, মা-বাবা পাবে ৬ এর ১ যোগ ৬ এর ১ মানে, ৩ এর ১, আর স্ত্রী পাবে ৮ এর ১, মোট হয়, ২৪ ভাগের ২৩ ভাগ...কিছুটা উদ্বৃত্ত থাকে ... এটা দানও করা যায়, অন্যান্য নিকটাত্মীয়দেরও দেয়া যায়, বা বাব,মা, সন্তান,স্ত্রীর মাঝে সমানুপাতে ভাগ করেও দেয়া যায়

এখন কথা হলো, একাধিক সন্তানের ক্ষেত্রে কোরানে বলা নাই বাবা-মা "মোট সম্পদের কত অংশ" পাবে ... এখানে একসন্তানের ক্ষেত্রের "মোট সম্পদের ৬ ভাগের ১" ঐভাবে লিটেরালি নিয়ে আসলে ভুল হবে ... কারণ এই প্রসঙ্গে কোরানে সরাসরি বলা নাই ... তখন হযরত আলীর ফরায়েজী আইন (এটা কোনভাবেই সংশোধন না, এটা শুধুই ইজমা) চালু হয়, সেখানে মোট সম্পদকে সবাই যাতে কোরাণ নির্দেশিত অনুপাতে পায় সে সিস্টেম চালু করা হয়েছে ...

আশা করি বুঝাতে পেরেছি

ওয়ালিদ আর আওলাদের পার্থক্য বুঝতে না পাইরা দুনিয়াজুইড়া এই বিষয়ে বহু আজাইরা প্যাচাল চালু হইছিল, হইছে এবং হবে ... কিন্তু দেখতে চাইলে আসল এক্সপ্ল্যানেশনটা দেখা যায়
১৭ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:০০

লেখক বলেছেন: শুরুতেই আপনার সুন্দর ব্যাখ্যার জন্য আল্লাহর কাছে আপনার উত্তম পুরুস্কার প্রার্থনা করছি।

আমি আপনার কমেন্ট ভালোভাবে পড়েছি ও আরো জানার জন্য আরো দুটি তাফসিরও দেখেছি।

১. আপনার কথা ঠিক। তবে অনেক ক্ষেত্রে তাফসীরেও আলোচ্য আয়াতে 'ওয়ালাদ' আর 'আওলাদ' এক করে, সন্তানহীন মৃতের ক্ষেত্রে তার মাকে ১/৩ দিয়েছে, ও সন্তান (এক/একাধিক) রেখে যাওয়া মৃতের বাবা-মাকে ১/৬ করে দিয়েছে (যে কনফিউশনের কথা আপনি পরিস্কার করলেন)।

২. আসলে আমাদের আলোচ্য সমস্যাটি হচ্ছে, যদি মৃত ব্যক্তির, দুই কন্যা, এক স্ত্রী, বাবা এবং মা বর্তমান থাকে। দেখুন: Click This Link

আপনার কথা মতো, যেহেতু মৃতের একাধিক সন্তানের ব্যাপারে আল-কোরআনে নেই, সে জন্য দু'মেয়ে ২/৩ (আল-কোরআন ৪:১১), স্ত্রী ১/৮ (আল-কোরআন ৪:১১) পাওয়ার পরে অবশিষ্ট ৫/২৪ অংশ পিতা-মাতা সমানভাগে পাবেন (সন্তান রেখে যাওয়া মৃতের বাবা-মা সমান ভাগ পান (আল-কোরআন ৪:১১)।

এ সলিউশন বেটার মনে হচ্ছে। ইসলামিক স্কলাররা এর ভাল উত্তর দিতে পারবেন। আমার মনে হচ্ছে, এ সলিউশনে মেয়ে ও স্ত্রীর অধিকার ভালভাবে রক্ষিত হয়েছে। আল্লাহই ভাল জানেন।

আপনাকে আবারও ধন্যবাদ। আল্লাহ আমাদের তাঁর দ্বীন বুঝার আরো অধিক সুযোগ দিন। আমিন।

১৭ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:১৩

লেখক বলেছেন: সংশোধন:

আপনার কথা মতো, যেহেতু মৃতের একাধিক সন্তানের ব্যাপারে আল-কোরআনে নেই যেখানে পিতা-মাতাকেও একই সঙ্গে সম্পদের হকদার করা হয়েছে, সে জন্য দু'মেয়ে ২/৩ (আল-কোরআন ৪:১১), স্ত্রী ১/৮ (আল-কোরআন ৪:১২) পাওয়ার পরে অবশিষ্ট ৫/২৪ অংশ পিতা-মাতা সমানভাগে পাবেন (সন্তান রেখে যাওয়া মৃতের বাবা-মা সমান ভাগ পান (আল-কোরআন ৪:১১)।

উল্লেখ্য, ৪:১২ আয়াতের যেখানে এক সন্তান রেখে মারা যাওয়া মৃতের স্বামী (১/৪ ভাগ) বা স্ত্রী (১/৮ ভাগ) কে সম্পত্তি দেয়া হচ্ছে সেখানেও 'ওয়ালাদ' ব্যবহার করা হয়েছে।

তার মানে কি এই যে, বর্ণিত সমস্যায় দু'মেয়েকে ২/৩ ভাগ দেয়ার পরে বাকী ১/৩ ভাগ বাবা-মা ও স্ত্রীর মধ্যে ভাগ হবে? সেক্ষেত্রে কোন অনুপাতে ভাগ হবে? এক সন্তানের ক্ষেত্রে তাদের ভাগ ১/৬ + ১/৬ + ১/৮। দু'সন্তানের ক্ষেত্রে কি হবে?

কষ্ট করে যদি জানাতেন ভাল হতো।

ধন্যবাদ আপনাকে।

১৭ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:১৮

লেখক বলেছেন: একটি সুন্দর সমাধান পেলে ইনশাল্লাহ আমি শীঘ্রই তা মূল পোস্টে এডিট করবো, ইনশাল্লাহ।

১৭ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৮

লেখক বলেছেন: জ্বিনের বাদশা,
আর ৪:১১ এর যেখান থেকে দু'মেয়েকে ২/৩ দেয়া হয়েছে, সেখানে দু'য়ের অধিক মেয়ের ক্ষেত্রে ২/৩ ভাগ দিতে বলা হয়েছে। তাফসিরে দেখলাম ২ বা ততোধিক মেয়েকে ২/৩ ভাগ সমানভাবে ভাগ করে দিতে বলছে।

তাহলে,
৪:১১: দুয়ের অধিক মেয়ের ক্ষেত্রকে দু'মেয়ের ক্ষেত্রে
৪:১১-১২: এক সন্তানের ক্ষেত্র কে (পিতা-মাতা ও স্বামী বা স্ত্রী কে শেয়ার) একাধিক সন্তানের ক্ষেত্রে
ব্যবহার করা যায় কি?

তার মানে আলোচ্য সমস্যায় প্রকৃত সলিউশন আসলে কি হবে, কষ্ট করে জানাবেন আশা করি।

১৯. ১৭ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:২৯
ইলা বলেছেন: খুব ভাল লাগল। ধন্যবাদ।

তবে যতই আপনি বুঝানোর চেষ্টা করেন না কেন এরা বুঝবে না। আল্লাহ এদের বধির বানিয়েছেন।এদের সামনে পিছনে প্রাচীর তুলে দিয়েছেন। এরা দেখেও দেখেন না।
১৭ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:১৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।

২০. ১৭ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:০৭
মানুষ বলেছেন: আপনার ব্যাখ্যার চেয়ে জ্বীনের বাদশার ব্যাখ্যা আমার কাছে অধিক গ্রহণ যোগ্য মনে হয়েছে।
১৭ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:১৭

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ ভাই। আমি তো স্কলার না। আমার কাছে মনে হচ্ছে, একজন ইসলামী স্কলার ভালো সমাধান জানাতে পারবেন।

আপনার দেয়া সমস্যায় উপরে জ্বীনের বাদশার কাছে লেখা উপরে আমার রেসপন্স দেখুন।

ধন্যবাদ।

২১. ১৭ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:৪৪
বিবেক সত্যি বলেছেন:

চমৎকার...
অনেক ধন্যবাদ সময়োপযোগী এই পোষ্টের জন্য ...
১৮ ই মার্চ, ২০০৮ ভোর ৬:০৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

২২. ১৮ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ২:৩৪
ওবায়েদ বলেছেন: আওরঙ্গজেব ভাই আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। এবং জ্বীনের বাদশাকেও ধন্যবাদ সুন্দর একটা মন্তব্য করার জন্যে।
১৮ ই মার্চ, ২০০৮ ভোর ৬:০৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

২৩. ১৮ ই মার্চ, ২০০৮ ভোর ৬:২১
আওরঙ্গজেব বলেছেন: আবু দাউদ, কিতাব আল-ফারাইদ, তিরমিজী, আবওয়াব আল-ফারাইদ থেকে,

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রা: থেকে, একদা এক আনসারী মহিলা রাসুলুল্লাহ সা: কে রিপোর্ট করলেন, দু'মেয়ে রেখে তাঁর স্বামীর উহুদ যুদ্ধে শাহাদাত হলে জাহেলী নিয়মানুযায়ী মেয়েদের চাচা মৃতের সব সম্পত্তি নিয়ে নেন। তখন রাসুলুল্লাহ সা: নিসার ১১-১২ অনুযায়ী চাচা থেকে নিয়ে দু'মেয়েকে ২/৩ ভাগ, স্ত্রীকে ১/৮ ভাগ, ও বাকী টুকু চাচাকে দিলেন।

(দেখুন: মারেফুল কোরআন, (ইংরেজি) ভলিউম ২, পৃষ্ঠা ৩৪২: এই ডকুমেন্টের পৃষ্ঠা: ২ দেখুন

এর মানে নিসার ১১-১২ আয়াতে যেখানে সন্তান রেখে যাওয়া মৃতের সম্পত্তিতে পিতা-মাতা (৪:১১) এবং স্ত্রী বা স্বামী (৪:১২) কে ভাগ দিচ্ছে সেখানে 'ওয়ালিদ' শব্দ ব্যবহার করলেও তা সাধারণভাবে এক বা একাধিক সন্তান রেখে যাওয়া মৃতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

অন
২৪. ১৮ ই মার্চ, ২০০৮ সকাল ৮:৩৪
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: আপনার কমেন্টটা পেয়েছি ...
স্ত্রীর ৮ এর ১ বা বাবা-মা'র ৬ এর ১ শুধু ওয়ালিদের বেলাই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মানতে হবে ... আওলাদের বেলা না ... আওলাদের বেলা দেখতে হবে এ্যাকোমোডেইট করা যায় কিনা ...
কারণ, মোট সম্পদের ৮ ভাগের ১ভাগ বলা হয়েছে ওয়ালিদের ক্ষেত্রে, কিন্তু আওলাদের ক্ষেত্রে মোট সম্পদের ৮ ভাগের ১ ভাগই হতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই ... যদি ৮ ভাগের ১ ভাগ একোমোডেট করা যায়, যেটা আপনার দেয়া উদাহরণে সম্ভব, তখনতো ৮ ভাগের ১ ভাগই ... কিন্তু যখন একোমোডেইট করা যায়না, যেটা ঘটত আপনার দেয়া উদাহরণে বাবা-মা বেঁচে থাকলে, তখন অনুপাত হিসেব করে দেয়া হবে ... এতে কোরানের সাথে কনট্রাডিকশন হয়না
২৫. ১৯ শে মার্চ, ২০০৮ সকাল ৯:০১
আবূসামীহা বলেছেন: আল্লাহ্‌র কিতাবকে নিয়ে ব্যঙ্গ করার মানুষের অভাব নাই এ ব্লগে। তাদের কাছে আল্লাহ্‌, তার রসূল ও তার কিতাবের চেয়েও অন্য কিছু পবিত্র। যখন সে সমস্ত ব্যাপারে কেউ কিছু বলে তখন এরা কনডেম করার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকে। কিন্তু আল্লাহ্‌, তাঁর রসূল ও কিতাবকে নিয়ে ব্যঙ্গ করলে মুসলমানের বাচ্চাদের কষ্ট লাগেনা।
আল্লাহ্‌ আপনার এ প্রচেষ্টাকে কবূল করে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
২৬. ১৯ শে মার্চ, ২০০৮ সকাল ৯:৪৩
পাশা বলেছেন: এত সুন্দর করে লেখার জন্য ধন্যবাদ।
অনেক ভুল ধারনার অবসান হল।

২৭. ০১ লা এপ্রিল, ২০১০ রাত ৮:২৮
রাষ্ট্রপ্রধান বলেছেন: ++++++

বোধের পোষ্ট নির্বোধের জন্য না

 

মোট সময় লেগেছে ১.০২৭৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আস্সালামু আলাইকুম,

এই ব্লগের নিয়মাবলী:
১. পোস্ট রিলেটেড কমেন্ট ছাড়া অন্য কমেন্ট মুছে ফেলা হবে।
২. অভদ্র ভাষা ব্যবহারকারীদের ব্লক করার আগে এক-বা...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই