অল্প বিস্তর বাংলাদেশের ক্রিকেটের সাথে জড়িত, সেই সুত্রে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল, নির্বাচন এবং বোর্ডের ব্যাপারেও কিছু অভিজ্ঞতা আমার আছে। আমি সৌভাগ্যক্রমে কিছু বিদেশী দল যেমন ভারত, জিম্বাবুয়ে এদের কাছ থেকে দেখেছি, বিশ্বের বেশ কিছু নামী কোচের সাথে কাজ করেছি। এ লেখায় সে অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশের একটা দুর্বল বিষয় নিয়ে আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাচ্ছি। বোর্ড বা তার কার্যক্রমের সমালোচনা করার ইচ্ছা আপাতত নেই, সে আরেকদিন হবে। আমার আসলে যে জিনিষটা অবাক লাগে তা হলো বাংলাদেশের কোচ জেমি সিডন্সের কার্য্যক্রম। তার কার্য্যক্রমে যা লক্ষনীয়ঃ
এক, জেমি প্রকাশ্যে প্লেয়ারদের নিয়ে সমালোচনা করেন এবং পার পেয়ে যান। এতে টীমে কোন্দলের সৃষ্টি হয়। প্লেয়াররা মনোকষ্টে ভোগেন, কিন্তু তাদের যাবার যায়গা নেই। এমনকি বোর্ড ও এব্যাপারে নির্বিকার।
দুই, একটু খেয়াল করে খেলা দেখলে বুঝবেন যে, প্রতিটি ম্যাচে বাংলাদেশ আজকাল ভালো রান করছে, খেলা শেষে আক্ষেপ হচ্ছে ইশ একটুর জন্য হলোনা। কিন্তু একটু খেয়াল করলে দেখবেন আসলে কোচ এমন ভাবে দল নির্বাচন করেন যেন রান বেশী হয় কিন্তু টিম না জিতে। কারন ভালো বোলাররা টীমে অপাঙ্কতেও। গোটা টীমে এখন মাত্র দুজন বোলার আছেন যারা পুরো ১০ ওভার বলীং করতে পারবেন, বরং ব্যাটিং অলরাউন্ডারে পুরো টীম ভরা।তার মানে হলো তিনি নিজের চাকুরী বাচানোর টীম করেন, টীম ভালো রান করে হারলে সবাই আফসোস করবে কিন্তু তার দিকে কোন অভিযোগ আসবেনা। ক্রিকেট দলে ব্যলান্স খুব প্রয়োজন, ব্যাটিং বোলিং ফিল্ডিং সব কিছু দরকার, যা তিনি ইছছে করে এরিয়ে যাচ্ছেন। তার কাছে তার চাকুরী বড়, আর আমরা মুর্খের মত তাই দেখছি। আগে বাংলাদেশ কম রান করলেও ভালো বোলিঙ্গে ম্যাচ জিতেছে, বোলিঙ্গের সেই শক্তিটা তিনি ভেঙ্গে দিয়েছেন।
তিন, অন্যান্য দেশের বড় কোচরা প্রাক্টিস সেশন খুব সুন্দর করে সাজান যেনো প্লেয়ার রা এনজয় করে, ফিটনেস ইম্পর্টেন্ট হলেও প্রাক্টিস সেশনে তা কম থাকে, এর জন্য আলাদা সেশন হয় ছোট করে, আর বাকিটা প্লেয়ার রা হোটেলে নিজ ব্যবস্থায় করে নেন, ট্রেইনাররা তার পরিকল্পনা করে দেন। কিন্তু আমাদের দেশে যা হয় সব লেভেলের ক্রিকেটেই প্রাক্টিস এক আতঙ্কের নাম, কারন কোচেরা অন্ধের মত অস্ট্রেলিয়ান ফর্মুলা মেনে চলছেন। ফিটনেসে এমন যোর দিচ্ছেন যে স্কীল ট্রেনিঙ্গের আগেই প্লেয়ারের সব দম শেষ। অথচ কোচীং ম্যানুয়ালে বয়স, দক্ষতা, সামর্থ্য এবং উচ্চতার বিচারে কোচিং করানোর কথা বলা আছে। আমরা ত আর যাই হোক অস্ট্রেলিয়ানের সমান শারিরিক সক্ষমতা রাখীনা। সুতরান এ ব্যাপারে ভাবতে হবে আমাদের ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার বেশী জরুরী।
চার, বাংলাদেশ দল্কে দেখলে যা আমার বেশী মনে হয় তা হলো এদের অনেক বেশী সাইকোলজিকাল কাউন্সেলিং প্রয়োজন। মানসিক দুর্বলাতাই আমাদের যোযন যোযন পিছে ফেলে দিচ্ছে। একজন সাইকোলজিস্ট নিয়োগের কথা উঠলেও তার বাস্তব প্রয়োগ কখোন দেখিনি।
সর্বশেষ- আমার এ লেখা কাউকে ছোট করার জন্য নয়, এ একান্ত আমার মতামত, আমার অভিজ্ঞতা, কোচিং জ্ঞ্যান, বিভীন্ন দলের সাথে থাকার অভিজ্ঞতা থেকেই লিখলাম। অবশ্য তৃনমুল পর্যায়ে দায়সারা গোছের ক্রিকেট আর নির্বাচকদের প্রশ্নবিদ্ধ সততাও বাংলাদেশের ব্যর্থতার জন্য দায়ী। সবাই ভালো থাকবেন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


