বরাবর আমি নির্দয়ের মতন জানালাম,
"নারে ! কবিতাদের দিয়েছি ছুটি ;
ভাবতেই পারো আমার ছেলেমানুষী কিংবা চাপা অভিমান"।
"ওহ ! আর কাউকে নিয়ে নয়, অন্তত আমাকে নিয়ে তো লিখতে
পারো"- তোর অভিমানী অভিযোগ।
তোরা যাই বলিস, যাই ভাব না কেন,
ঠিক করেছি কোনদিন আর কলম নিবো না তুলে।
তোর মুখ ভর্তি দীর্ঘশ্বাসের পর দীর্ঘশ্বাস,
আমি ছিলাম ভাবলেশহীন, কাঠখোট্টা।
কিন্তু আজ অন্তত তোর জন্যে আমি ফিরি
বর্ণমালা রেলগাড়ি চড়ে সেই পুরানো ষ্টেশনে।
শুনতে পাচ্ছি না তোর হাসি;
হাসবি না জানি তুই কোনদিনও
তোর জন্যে গান, কত কথা
কান্নার জলে ভিজি অবলীলায় ।
বিকাল শেষে গোধূলি
যে রংয়ে তোকে মুগ্ধ করে
গতকাল তেমন মুগ্ধ বিকালে
তুই একাই ছিলি দীর্ঘক্ষণ
হয়ত মনের সাথে তোর শেষ বোঝাপড়া ।
তখনই
নিজেকে নিস্প্রাণ করে
চলে গেলি অজান্তে চুপিসারে
দূর থেকে বহুদূরে।
এ্যাই ছোট্ট কুড়ি বছরের জীবনে
তোর কি এ্যাতো ব্যথা ছিলো ?
কোনদিন জানি নি, আজও জানাবো না।
তোর সেই আমার কবিতা না লেখার দীর্ঘশ্বাস
এখন আমার একান্ত নিজের বাসিন্দা।
অসম্ভব অনুভবে তোকে খুঁজি ফিরি একরাশ চোখের জলে।
তোর জন্যে সবটুকু তবুও তোর অজানা
আমার না লেখার কষ্টে তোর মন খারাপ হবে না আর
ভালো থাকিস কুমকুম
ছোট্ট মাটির কবরে।
অয়ন আহমেদ
(১০ই নভেম্বর, ২০০৯)
(কুমকুম নামের সেই ছোট্ট মেয়েটি ৮ই নভেম্বর ২০০৯, নিজ বাসার ছাদ থেকে লাফিয়ে জীবন বির্সজন করে চলে গেছে দূরে। ও কোনদিন আমাদের বলে নি ওর কষ্ট, ওর বেদনা । ওর এভাবে চলে যাওয়ার কোন কারণ মিলে নি। সবার ওর জন্যে দোয়া করবেন। যাতে ওর ছোট্ট আত্মা শান্তি পায়। আল্লাহর কাছে সবাই মিলে ওর জন্যে ক্ষমা চাইব। যাতে ওকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন।)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

