somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খেলার বিকালে বারুদের গন্ধ

১৩ ই জুলাই, ২০১৪ রাত ১০:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার এই কবিতাটা পাঁচ বছরের পুরানো কবিতা, সেবার যখন প্যালেস্টানে এভাবে গণহত্যাযজ্ঞ শুরু হয়েছিল তখন আমি খুব মন খারাপ নিয়ে লেখেছিলাম। আজ সেই পুরানো কবিতাটা খুব মন খারাপ নিয়ে পড়ছিলাম।

শরতের আকাশ কিঞ্চিত বাদামী ,
প্রায়শই আজকাল নীল থাকে না ।
তুলতুলে মেঘে আমি সাদা ভাগটুকু পাই না
ওখানেও কালো কালো ছোঁপ একটু ময়লাটে ;
গতকাল কিন্তু এরকম ছিল না ।
স্পষ্ট দেখে এসেছিলাম সবুজ মাঠে একলা প্রজাপতি ,
ছোট ছোট পোষা কুকুরগুলো হাঁটছিলো পায়ে পায়ে ,
খেলার মাঠ জুড়ে অসংখ্য ক্ষুদে খেলুড়ে
কারো পায়ে ফুটবল ,
কারো বুকে আঁগলে থাকে ঘুড়ি ,
একটু লম্বা লম্বা পা ফেলে দ্রুত হেঁটে যায় বয়স্ক দেহ ,
কোণায় কোণায় কংক্রিটের বেঞ্চে এসে বসে অনাগত শিশুর মা ,
নির্মল হাওয়ার খোঁজে একটু জিরায় ক্লান্ত পথচারী ,
সবারই ভিতর আরেকটু বেশী ভালো থাকার আকাঙ্খা ।
আলো মিইয়ে গিয়ে যখন সন্ধ্যা নামে ,
কুয়াশার সাথে তখন ভাব করে ঝি ঝি পোকার দল,
এগুলো কিন্তু অতীত গত দু’দিনের কথা ।
বর্তমান আজ সেই জায়গাগুলোতে গণকবর ;
যে ছেলেটা ঘুড়ি নিয়ে বসে থাকত
ও ঘুড়ি হাতে নিয়ে মাটির নিচে চাপা পড়েছিল
একটা বোমারু বিমানকে বন্ধু ভেবে টক্কর দিতে ঘুড়ি উড়িয়েছিল ।
অনাগত শিশুর মা এখন মুমূর্ষ,
অনাগত শিশুটাকে বাাঁচানো যায় নি, মাকে বাঁচানোর শেষ প্রচেষ্টা।
গুটি ক’টা ডাক্তারের অসহায় মুখমন্ডল,
হাসপাতালগুলোতে সম্মুখে লাশের মিছিল ,
কেউ বাবা, কেউ মা, কেউ বাড়ীর ছোট ছেলে , কেউ মিষ্টি গানের মেয়ে
গতকালে রাতের গুলির তীব্রতা ও বারুদের পোড়া ঝাঁ ঝাঁ গন্ধে
নিস্তবদ্ধ শেষ বিকালের খেলার মাঠ অসংখ্য গর্তের কলোনি , ভাঙ্গা গুঁড়ো স্কুল দালান।
কাল বিকালের কেউ নেই সেই ছেলে, সেই শিশু, সেই মা, সেই বাবা, সেই ক্লান্ত দাদু।

আমরা আজ ওদের কবর খুঁড়ছি নীরবে নিভৃত শক্ত চোখের জলে।

অয়ন আহমেদ
২১.০১.০৯
প্যালেস্টাইন জাতির উপর অত্যাচারের নিরব প্রতিবাদ
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আনন্দময় যন্ত্রণা

লিখেছেন অপু তানভীর, ২০ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ৯:৪৩

বিয়ের পরপরই সুমনের জীবনটা বেশ সহজ হয়ে গেছে। এটা যতই দিন যাচ্ছে সুমন ততই বুঝতে পারছে। এখন ওর মনে হচ্ছে বিয়ের ব্যাপারে ওর নিজের যে একটা নেগেটিভ ধারনা ছিল সেটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৃপ্তির গল্প

লিখেছেন অপু তানভীর, ২০ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১১:২৫



এয়ারপোর্টে থেকে বের হয়েই বুঝলাম শীত কাকে বলে! দেশের এই অঞ্চলে গরম যেমন পড়ে, শীতও। তাড়াহুড়ো করে আসতে হয়েছে তাই ঠিক মত শীতের কাপড়ও নিয়ে আসি নি। শীতের কাপড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময় যায় চলে

লিখেছেন নূর-ই-হাফসা, ২১ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:৪৬



সময়টা ছিল অনেক আগের, স্কুলে মাত্র পা রাখলাম । আমার আর আপুর তখন পছন্দের কাজ ছিল সকাল হলেই জানালার পাশে এসে দাঁড়ানো । আমাদের জানালা বরাবর ছিল সুমি আপুদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

হোক কলরব, ফুলগুলো সব

লিখেছেন অজানিতা, ২১ শে জানুয়ারি, ২০১৮ ভোর ৬:৫৩

আমার তোলা যত ছবি, তাঁর মাঝে অসংখ্য ছবি ফুলের। যেখানেই যাইনা কেন চোখে ফুল দেখিই :-B । সেই অসংখ্য ছবির মাঝে অল্পকিছু দেয়া হলো এখানে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রথম পাতায় লেখার সুযোগ দেওয়ার আনন্দ

লিখেছেন কামরুননাহার কলি, ২১ শে জানুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৪:৪৯


আজ আমি অনেক, অনেক খুশি। কেনো খুশি সবাই প্রশ্ন করবেন না, হাহাহাহাহা। কারণ আজ আমাকে আমার প্রিয় সামহোয়্যারইন ব্লগ টিম আমাকে প্রথম পাতায় লেখার সুযোগ করে দিয়েছেন।
সত্যিই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×