somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভেষজগুণে সমৃদ্ধ মিষ্টি গাছ স্টিভিয়া: ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সৃষ্টিকর্তার অনন্য উপহার

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভেষজগুণে সমৃদ্ধ মিষ্টি গাছ স্টিভিয়া
প্রফেসর ড. এ কিউ এম বজলুর রশীদ*


মানুষের জীবনে মেধার বিকাশ এবং শারীরবৃত্তীয় পরিপক্বতা আসতে সাধারণত সময় লাগে ৪০ বছর। এ বয়সে সুস্থ ও ভালো থাকা বিষয়টি যত না অনুভূত হয় তার চেয়ে অনেক বেশি ভুক্তভোগী হতে হয় বয়স ৪০ এর কোঠা পার হতে না হতেই। ইতোমধ্যে চোখে কম দেখা, স্মরণশক্তি কমে যাওয়া, চুল পাকা, ইন্দ্রিয় শৈথিল্যতা, ব্লাড প্রেসার, ডায়াবেটিকস, বাত, গ্যাস্টিক, আলসার, ক্যান্সার ইত্যাদি অসুস্থতার উপসর্গগুলো দেখা দিতে থাকে। এমতাবস্থায় ভালো থাকা ও সুস্থ থাকা একদিকে যেমন ওষুধনির্ভর হয়ে পড়ে অপরদিকে তেমন কমতে থাকে খাওয়া-পরার উৎকর্ষতা এবং অন্যান্য ভোগবিলাসের কৃচ্ছ্রতা কিংবা স্বাধীনতা। আর আমাদের দেশে এ বয়সে অসুস্থতার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হলো- হাইপারটেনশন বা ব্লাডপ্রেসার এবং ডায়াবেটিস রোগ। এমতাবস্থায় দেহের কোলস্টেরল কমাতে চর্বি জাতীয় সুস্বাদু উন্নত খাবার খাওয়া যেমন নিষিদ্ধ হয়ে যায় ডায়াবেটিস থেকে রেহাই পেতেও তেমনি ক্যালরিযুক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার পরিহার করতে হয়। কিন্তু আকর্ষণীয় খাবার টেবিলে বসে জিহ্বার চাহিদা, চোখের ুধা ও মনের ুধা তো আর সহজে দমন করা যায় না। কিন্তু ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন হলো জীবনধারণের জন্য শাকসবজি জাতীয় ভেষজ ও নিরামিষ খাবার খাওয়া। তবে ভেষজ খাবার কেবল পরিহারযোগ্য খাবারের বিকল্পই নয় বরং মনের ুধা, চোখের ুধা, জিহ্বার চাহিদা এমনকি ঔষধির চাহিদা পূরণ করে থাকে। ঠিক এমনি এক ভেষজগুণে সমৃদ্ধ গুল্মজাতীয় মিষ্টি গাছ স্টিভিয়া। অবিশ্বাস্য হলেও আমাদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুখবর বৈকি। এ যেন সৃষ্টিকর্তার এক অলৌকিক সৃষ্টি রহস্য।

স্টিভিয়ার পরিচিতি এবং উদ্ভিদ প্রকৃতি

স্টিভিয়া মূলত অনেক আগে থেকেই প্যারাগুয়ের পাহাড়ি অঞ্চলে শত শত বছর ধরে চাষাবাদ করা হতো তবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সেখানে চাষাবাদ শুরু হয় ১৯৬৮ সনে। অতপর ব্রাজিল, চীন, কোরিয়া, কানাডা, আমেরিকা ও ইংল্যান্ডে ফসল হিসেবে গাছটির চাষ প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

বর্তমানে চীনে ব্যাপকভাবে স্টিভিয়ার চাষ হয়ে থাকলেও বাণিজ্যিক ব্যবহারের দিক দিয়ে জাপান অনেক অগ্রসর। জাপানে প্রায় ৪০% চিনির চাহিদা মেটানো হয়ে থাকে স্টিভিয়া দিয়ে। অতি আনন্দের বিষয় স্টিভিয়া পার্শ্ববর্তী দেশসহ বর্তমানে আমাদের দেশেও দিন দিন ব্যাপক পরিচিতি লাভ করছে। সৃষ্টিকর্তার অলৌকিক সৃষ্টি রহস্য অস্বাভাবিক মিষ্টি এবং ভেষজগুণ সম্পন্ন এ স্টিভিয়া গাছটির উদ্ভিদতাত্ত্বিক সংপ্তি পরিচিতি হলো- স্টিভিয়া কম্পোজিট ফ্যামিলির অন্তর্ভুক্ত বহু বর্ষজীবী গুল্মজাতীয় একটি ভেষজ উদ্ভিদ। স্টিভিয়া সর্বোচ্চ ৬০-৭০ সেন্টিমিটার উচ্চতা বিশিষ্ট হয়। সবুজ রঙের পাতাগুলো কাণ্ডের সাথে বিপরীতমুখী বিন্যাসে থাকে এবং পাতার কিনারা খাঁজ কাটা ও বর্শাকৃতির। উদ্ভিদটি অনেকটাই এ্যাস্টার ফুল গাছের মতো। এর ফুল ছোট ও সাদা রঙের এবং কীটপতঙ্গ দ্বারা পরাগায়িত। বীজ এন্ডোস্পারম যুক্ত ুদ্রাকৃতির।

স্টিভিয়া সাধারণত রৌদ্র পছন্দের এবং ছোট দিনের উদ্ভিদ। তবে রৌদ্র পছন্দের হলেও দিনের ভাগ ১৩ ঘণ্টার বেশি অপছন্দনীয়। স্টিভিয়া গাছটির সবুজ পাতাই মূলত কার্যকরী মিষ্টি উপাদানের প্রধান উৎস।
স্টিভিয়ার গুণাগুণ

স্টিভিয়ার অতি গুরুত্বপূর্ণ গুণ বৈশিষ্ট্য হলো এর মিষ্টতায় কোনো ক্যালোরি কিংবা কার্বোহাইড্রেট নেই। ফলে দেহে কখনো শোষিত হয় না কিংবা কোনো তাপ উৎপাদন করে না। শুধু মিষ্টি ও চর্বিযুক্ত খাবারের চাহিদাই পূরণ করে থাকে যা ডায়াবেটিস ও ব্লাড প্রেসার রোগীদের জন্য মিষ্টির বিকল্প হিসেবে এক মহা সুখবর বৈকি। এ যেন সৃষ্টিকর্তার এক অলৌকিক নিদর্শন। কারণ এটি অকল্পনীয়ভাবে মানুষের দেহে অগ্ন্যাশয় হতে ইনসুলিন নিঃসরণে সহায়তা করে এবং ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে স্টিভিয়া হাইপারটেনশন রোগীদেরও উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ করে। শুধু তাই নয়, শরীরের সুস্থতা ও সচেতনতাবোধ সৃষ্টিসহ উদ্দীপক ও কান্তিনাশক হিসেবে স্টিভিয়ার ব্যবহার অদ্বিতীয়।

এ ছাড়াও দাঁতে ব্যাকটেরিয়াজনিত তি ও য় রোধে স্টিভিয়া যেমন অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে তেমনি পাকস্থলিতে হজমে সহায়তা করে। যকৃত, অগ্ন্যাশয় ও প্লীহায় পুষ্টি সরবরাহ করে এবং ত্বকের য় নিরাময় করে।
চাষ পদ্ধতি

জৈব সারযুক্ত ও নিষ্কাশনযুক্ত দো-আঁশ মাটি এবং সাধারণত ১৫-৩০ সেলিসিয়াস তাপমাত্রা স্টিভিয়া চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এ কারণে আমাদের দেশে প্রায় সারা বছরই মাঠ ফসল হিসেবে স্টিভিয়ার চাষ করা যায়। বাড়ির বারান্দায় রৌদ্রযুক্ত স্থানে কিংবা বাড়ির ছাদে র্৫র্ -র্র্৬র্ টবে কিংবা পলিথিনে চারা রোপণের মাধ্যমে ইতোমধ্যে স্টিভিয়ার চাষ ব্যাপকতা লাভ করেছে।

মাঠ ফসল হিসেবে স্টিভিয়ার চাষ এত লাভজনক যে একজন চাষি প্রতি বছর বিঘাপ্রতি কয়েক লাখ টাকা অনায়াসে আয় করতে পারেন। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে গাছটি চাষ করে ইতোমধ্যে একরপ্রতি ২.০-২.৫ লাখ রম্নপি মুনাফা অর্জন করছে।

আমাদের দেশেও সংশ্লিষ্ট কৃষি বিজ্ঞানীরা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গাছটির চাষাবাদ নিয়ে মাঠ পর্যায়ে গবেষণা কার্যক্রম চালালে কৃষক পর্যায়ে আরো ব্যাপকতা লাভ করতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত আমাদের দেশে ব্যাপক হারে চাষের জন্য বীজ একটি বড় সমস্যা বৈকি। বীজ সমস্যার কারণে আমাদের দেশে গাছটি আপাতত টিস্যু কালচারের মাধ্যমে ব্যাপকতা লাভ করেছে। ইু গবেষণা কেন্দ্র, ঈশ্বরদী এবং ব্র্যাক টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি, গাজীপুর এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। পলিথিনে এবং টবে করে বিক্রি হচ্ছে স্টিভিয়ার চারা। আগ্রহী ক্রেতাদের ভিড় দিন দিন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

স্টিভিয়ার ব্যবহার
যাদের ডায়াবেটিস কিংবা ব্লাড প্রেসার আছে তারা নিজ বসতবাড়িতে মাত্র দু-একটি টবে বহু বর্ষজীবী এ গাছ যত্ন সহকারে চাষ করলে পরিবারে চিনির চাহিদা পূরণ করা কোনো ব্যাপারই নয়। প্রতি ১ কেজি খাবার মিষ্টিকরণের জন্য মাত্র ৭.৯ মিলিগ্রাম স্টিভিয়া যথেষ্ট। এক গ্লাস পানিতে ১-২টি কাঁচা পাতার রস মিশিয়ে দিলেও অনেক মিষ্টি পাওয়া যায়। তাই সরবত, চা, কফি, সেমাই এবং অন্যান্য পানীয় দ্রব্যে ব্যবহার্য মিষ্টি উপাদান হিসেবে স্টিভিয়া ব্যবহার করা যেতে পারে।

স্টিভিয়ার পাতা গুঁড়া করে পাউডার, ট্যাবলেট কিংবা তরল প্যাকেজে বাজারজাত করা যেতে পারে। উল্লেখ্য, এক কেজি কাঁচা পাতা শুকিয়ে প্রায় ২০০-৩০০ গ্রাম পাউডার পাওয়া যেতে পারে। এসব তরল কিংবা পাউডার অথবা স্টিভিয়া হতে উৎপাদিত চিনি পাউরুটি এবং বিস্কুট তৈরির কারখানাগুলোতে ডায়াবেটিক্‌্‌স্‌ ও ব্লাড প্রেসার রোগীদের জন্য বিশেষ রুটি ও বিস্কুট তৈরিতে মহা গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক বৈকি।

বাংলাদেশে ডায়াবেটিস ও ব্লাড প্রেসার রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে এবং এ দেশ স্টিভিয়া চাষের জন্য খুবই উপযোগী প্রোপটে কৃষি বিজ্ঞানী, চাষি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপ ব্যাপক হারে স্টিভিয়া চাষের ব্যাপারে উদ্যোগী হলে এ উদ্ভিদটি এ দেশের কৃষি সেক্টরে তো বটেই জাতীয় রাজস্ব খাতেও ব্যাপক সাড়া জাগাতে পারে।

এ ছাড়াও হোমিও, সাধনা, আয়ুর্বেদিক এবং কবিরাজিসহ ভেষজ গাছ-গাছড়া নিয়ে যারা গবেষণা করেন তারাও স্টিভিয়া থেকে ব্যাপকভাবে লাভবান হতে পারেন। কৃষি প্রধান এবং চাষ উপযোগী বাংলাদেশে স্টিভিয়ার ব্যাপক চাষ, গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট শিল্প কারখানা চালু করতে পারলে এ দেশের আর্থ-সামাজিকসহ জাতীয় উন্নয়ন খাতে কাঙিত প্রবৃদ্ধি অতি সম্ভাবনাময়। এহেন সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দানের জন্য সংশ্লিষ্ট সর্ব মহল যথাযথ ভূমিকায় এগিয়ে আসবেন এটাই সময়ের দাবি।


মূল লেখা-প্রফেসর ড. এ কিউ এম বজলুর রশীদ ডীন, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন অনুষদ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:১৮
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×