দৈনিক সমকালে "জামায়াতি ছকে দেশ" শিরোনামে ৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত রিপোর্টে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যে সব বানোয়াট মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপক মোঃ তাসনীম আলম গতকাল শনিবার প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেছেন, দৈনিক সমকালের রিপোর্টে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের নেতাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
ইতোপূর্বে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দুই একটি সংবাদপত্রে যে ধরনের সিন্ডিকেটেড রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল দৈনিক সমকালের এ রিপোর্টটি তারই পুনরাবৃত্তি মাত্র।
বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, দৈনিক সমকালের রিপোর্টটি স্ববিরোধিতায় ভরপুর। এই রিপোর্টে একদিকে লেখা হয়েছে যে, “জামায়াতী ছকে দেশ চলছে। জামায়াতের গায়ে আঁচড়ও লাগেনি।” আবার অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এবং সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের একটি ফিরিস্তি দেয়া হয়েছে। কারো কারো গ্রেফতারের কথাও লেখা হয়েছে। এ থেকেই কি প্রমাণিত হয় না যে সমকালের রিপোর্টটি স্ববিরোধী? তিনি বলেন, সমকালের সম্পাদক আবেদ খানসহ যারা কমিউনিস্ট রাজনীতি সমর্থন করেন তারাই কারণে অকারণে সুযোগ পেলেই ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিরুদ্ধে বিষোদগার ধরে ধর্মহীন রাজনীতি চালু করতে চান। এ মহলটি সুযোগ পেলেই বিভিন্ন সংবাদপত্র ও প্রচার মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালিয়ে থাকে।
দৈনিক সমকালের অভিযোগের জবাবে তাসনীম আলম বলেন, দেশবাসী জানেন যে, গত ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে জামায়াতের সমাবেশে লগি-বৈঠা নিয়ে আ’লীগসহ ১৪ দলের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের হতাহত করে তাদের লাশের ওপর পৈশাচিক উল্লাস নৃত্য করেছিল। এ হামলার জন্য আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের সন্ত্রাসীরাই দায়ী। এ ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামীকে যারা দায়ী করার চেষ্টা করছে তারা জ্ঞানপাপী মতলববাজ। এ জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবি করে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের নির্মমভাবে হত্যার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোকতাই দেশবাসীর কাম্য। জামায়াতে ইসলামীর দায়ের করা এ মামলার আসামীদের রক্ষা করার হীন উদ্দেশ্যে ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষ থেকে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের আসামী করে একটি পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ এ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন গ্রহণ করেছেন তা দৈনিক সমকালের অত্র রিপোর্টার ভালো করেই জানা আছে। তিনি বলেন, মহল বিশেষ থেকে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে জঙ্গি মদদ দান ও চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানোর সাথে সম্পৃক্ততার যে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে তা সর্বৈব মিথ্যা। জামায়াতে ইসলামী কখনো অস্ত্র ও সন্ত্রাসের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। “বন্দুকের নলই ক্ষমতার উৎস” এই তত্ত্বেও বিশ্বাসী কমিউনিস্টরাই এদেশে অস্ত্র ও সন্ত্রাসের রাজনীতির হোতা। গণধিকৃত এসব কমিউনিস্টরাই রাজনৈতিকভাবে জামায়াতে ইসলামীকে ঘায়েল করার জন্য জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে এ মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করেছে।
তিনি বলেন, সমকালের রিপোর্টে জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন সাবেক এমপির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগের কথা লেখা হয়েছে সে সম্পর্কে জামায়াতে ইসলামীর বক্তব্য হলো কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগে মামলা করা হলেই তিনি দোষী হয়ে যান না। কেউ দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তার সম্পর্কে অবমাননাকর কোন মন্তব্য করা উচিত নয়। মামলার বিচারে জামায়াতের কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে অবশ্যই সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, সমকালের সম্পাদক আবেদ খানসহ যে মহলটি বিগত চারদলীয় জোট সরকারকে শান্তিতে ৫ বছর দেশ পরিচালনা করতে দেয়নি এবং বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিবার পরিজনের চরিত্র হননে ব্যস্ত ছিল তারাই এখন আবার বিএনপি’র দরদী সেজে নানান ধরনের মায়াকান্না শুরু করেছে। তারাই এখন জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি সম্পর্কে নানান ধরনের প্রশ্ন সৃষ্টি করছে। তাদের মায়াকান্না দেখে “মায়ের চেয়ে মাসীর দরদ বেশি” এর প্রবাদ বাক্যটি মনে পড়ে। জামায়াতে ইসলামী একটি দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক ইসলামী দল। জামায়াতে ইসলামী সব সময় জাতীয় স্বার্থে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে আসছে। কোন পরিস্থিতিতে কখন কী ধরনের ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন, তা জামায়াতে ইসলামী ভালো করেই জানে। দৈনিক সমকাল বা এ ধরনের অন্য কারো নিকট থেকে জামায়াতে ইসলামীর শেখার কোন প্রয়োজন নেই।
[wjsK=http://shamokal.com/archive.details.php?nd=2007-09-08&nid=73368]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



