somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাইফুর রহমান মরিয়া প্রমাণ করিলেন...

০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাইফুর রহমান বহুল আলোচিত। বর্ষিয়ান এ নেতা কথা বলতেন অনেক খোলামেলা। অনেক সময় অনেক অপ্রিয় সত্যও উচ্চারণ করতেন। বিএনপিতে তার অবস্থান ছিলো চেয়ারপার্সনের পরেই, এ কারণে তার সাহসও ছিল, সারা দেশে জনপ্রিয়তা ছিল ঈর্ষণীয়।
যে সাইফুর রহমান সামরিক জান্তাদের রাজনীতিকে সমর্থন দিয়ে রাজনীতি শুরু করে এই ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তার চুড়ায় উঠতে পেরেছিলেন, সেই সাইফুর রহমানের মুখোশ খোলে দেন ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী সামরিক জান্তারা।
সারা দেশের মানুষের কাছে প্রায় অবিশ্বাস্য ব্যক্তিগত দুর্নীতির কারণে তিনি তার সারা জীবনের দল বিএনপির সাথে বেইমানী করে হাত মেলান সামরিক জান্তাদের কাছে। তার পরেও শেষ রক্ষা করতে পারেননি, মানুষ জেনে যায়- যে সফল অর্থমন্ত্রী এ দেশে রাজস্ব আদায়ের সংস্কৃতি চালু করেন সেই তিনিই যথাযথভাবে রাজস্ব পরিশোধ করেননি। এ জন্য তাকে অর্থ দণ্ড দিতে হয়।
মান সম্মান হারালেও তিনি প্রথম সুযোগেই আবার তার প্রিয় দলে ফিরে এসেছিলেন। শেষ পর্যন্ত বিএনপির পরিচয়েই শেষ বিদায় নিলেন। আমাকে ক্ষমা করবেন, এই সব অপ্রিয় সত্য উচ্চারণের জন্য। তাকে ছোট করার জন্য নয়, ইতিহাসে তার অবস্থান যথার্থভাবে চিহ্নিত করার জন্যই বলছি। কোনো অস্বাভাবিক মৃতু্্যই কাম্য হতে পারে না। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য এই মৃতু্যই সাইফুর রহমানকে অমর করে দিল। তার চির শত্রুও তার প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে উঠবে। তার খারাপ দিকগুলো ভুলে গিয়ে তার সাফল্যের দিকগুলো আলোচিত হবে।
সাইফুর রহমানকে সারা জাতি ভুলে গেলেও সিলেটবাসী ভুলবে না। তিনি প্রকৃত অর্থে সিলেটী ছিলেন। আমাদের সিলেটের নেতারা এলাকার মানুষের ভোট নিয়ে 'জাতীয় নেতা' হয়ে ওঠেন। তৃণমূলের মানুষের আকাঙ্খার কোনো মূল্য দেন না। সাইফুর রহমানও প্রথম রাজনীতিতে এসে এই জিনিসটি ভুলে যাওয়ার কারণে প্রথম নির্বাচনে জামানত হারিয়েছিলেন। তার পর সে শিক্ষা নিয়ে তিনি সিলেটের উন্নয়নে যে ভূমিকা রেখে গেছেন, দল মত নির্বিশেষে সব মানুষ তাকে স্মরণ রাখবে।
আবার কুলাঙ্গার পুত্রের কারণে নির্বাচনের মাধ্যমেই তাকে আবার শেষ জীবনে ভোটে প্রত্যাখ্যান করেছে। সাইফুর রহমানবিহীন বিএনপির সিলেটের রাজনীতি সন্ত্রাসী নেতাদের হাতে জিম্মি হয়ে উঠবে এটা অবলিলায় বলা যায়। ওরা যে কুকীর্তির জন্ম দেবে তাতেও মানুষ বার বার সাইফুর রহমানকে স্মরণ করবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪৪
৯টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×