somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রণবের ঔদ্ধত্য আর পুতুলনাচের ইতিকথা

২১ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রণবের ঔদ্ধত্য আর পুতুলনাচের ইতিকথা
চলতে ফিরতে দেখা
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী

বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব আর মানুষের আত্মমর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ধীরে ধীরে বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে। এই পরিকল্পনার মূল নায়করা ছিল সাম্রাজ্যবাদী, আধিপত্যবাদী, ইহুদিবাদী শক্তি ও তাদের ইউরোপীয় দোসররা। প্রায় এক দশক আগেই পরিকল্পনার ছক অনুযায়ী কাজ শুরু করে এই চক্রান্তকারীরা। তখন কিছু কিছু কাজ এরা করতে থাকে প্রচ্ছন্নভাবে। কিছু কিছু কাজ প্রকাশ্যে।
এর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দুর্নীতি ইস্যুকে সামনে নিয়ে আসে তারা। বাংলাদেশকে একটি নিকৃষ্ট মানের দুর্নীতিবাজ রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণের জন্য প্রথমে গড়ে তোলা হয় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল নামে তথাকথিত এক জরিপ প্রতিষ্ঠান, যার বাংলাদেশ চ্যাপটার গঠনের জন্য এরা বিপুল অঙ্কের টাকা ঢালে এবং এ দেশে বিদেশী স্বার্থের তাঁবেদারি করার মানসিকতাসম্পন্ন কিছু মুখচেনা তথাকথিত সুশীল জোগাড় করাও তাদের জন্য কোনো কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়নি। ‘এবার আমারে লহ করুণা করি’ বলে সে সারি দীর্ঘতর হতেও সময় লাগেনি। চক্রান্তকারী শক্তিগুলো সেখান থেকে তাদের বিশ্বস্ত সেবাদাস বেছে নিয়েছে। এরা সমস্বরে শোর তোলে, দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে বাংলাদেশ এবং এই দুর্নীতির সাথে জড়িত রাষ্ট্র পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
প্রায় প্রতিদিন নানা কৌশলে এরা একই কথা প্রচার করতে শুরু করে। দুর্নীতির অবসান চাই, দুর্নীতিবাজদের শাসনের অবসান চাই ইত্যাদি নানা ধরনের প্রচার-অপপ্রচারের মধ্য দিয়ে তারা বলতে শুরু করে, পৃথিবীর দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট হচ্ছে বাংলাদেশ। সুতরাং বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ ও অকার্যকর রাষ্ট্র। এ দেশের লোকেরা যদি এ দেশ শাসন করে তাহলে অকার্যকারিতা আরো বাড়বে এবং এই রাষ্ট্র তার আশপাশের প্রতিবেশী এমনকি সমগ্র পৃথিবীর নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তাহলে কী করতে হবে? এই অকার্যকর রাষ্ট্রকে কার্যকর করার জন্য বিদেশের প্রভুদের নির্দেশমতো চলবে এমন এক তাঁবেদার সরকার এখানে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। অর্থাৎ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার তুলে দিতে হবে বিদেশীদের হাতে।
বিদেশী প্রভুদের দোহার হিসেবে গড়ে তোলা হয় আরো কিছু পরজীবী প্রতিষ্ঠান। তারাও একইভাবে দুর্নীতি দুর্নীতি বলে করতাল বাজাতে থাকে। এই ডুগডুগি-করতাল বাজানেওয়ালাদের অনুষঙ্গী হয়ে পড়ে কিছু কিছু মিডিয়া। হয়তো উচ্ছিষ্টের লোভে, হয়তো কিছুই না বুঝে। এসব তারা ওই সব পরজীবী সুশীলের বক্তব্য কোনোরূপ তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই প্রচার করে যেতে থাকে। ফলে সাধারণ মানুষের মনেও এমন একটা ধারণার সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র পরিচালনার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা দুর্নীতির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়ে গেছেন।
২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই অর্থাৎ আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকেই পরজীবী সুশীলরা সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী শক্তির দাস হিসেবে এই কাজ করে যেতে থাকে। তখনো ইসলামি জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ, সন্ত্রাসবাদ প্রভৃতি অকথা সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো প্রচার করে গেছে। তাদের দু’টি প্রিয় স্লোগানই ছিল দুর্নীতি আর ইসলামি জঙ্গিবাদ। আওয়ামী লীগ সরকার তাদের বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতির অভিযোগ পাশ কাটিয়ে গিয়ে সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোকে সন্তুষ্ট করার জন্য জোরেশোরে প্রচার করতে থাকল যে, বাংলাদেশে ইসলামি জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদ আছে। আর তাকে মদদ দিচ্ছে সে সময়কার বিরোধী দল বিএনপি ও জামায়াত! যাতে তাদের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য তারা সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী শক্তির নেক নজরে থাকে এবং বিএনপিকে যেন তারা নির্মূল করতে সহায়তা করে এবং বিএনপি যাতে ক্ষমতায় না আসতে পারে তার ব্যবস্থা করে। এ ক্ষেত্রে ষড়যন্ত্রকারীদের লাভ হলো দু’টি। এক. বাংলাদেশ পৃথিবীর নিকৃষ্টতম দুর্নীতিবাজ দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেল; আর দুই. বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকারই স্বীকার করে নিলো, বাংলাদেশে ইসলামি জঙ্গিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদীদের অস্তিত্ব রয়েছে।
পৃথিবীব্যাপী মুসলমানদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান চালানোর জন্য তাত্ত্বিক ভিত্তিভূমি তৈরি করে দিয়েছিলেন হান্টিংটন নামে এক ভদ্রলোক। ইরাক-আফগানিস্তান-বাংলাদেশে ওই ভদ্রলোকের সভ্যতার সঙ্ঘাত নামক তত্ত্ব অনুযায়ীই বিষয়গুলো সাজিয়ে নেয়া হয়। ষড়যন্ত্র জোরদার হয়ে ওঠে।
এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত প্রেসটিজ সিম্বল টুইন টাওয়ার ধ্বংস করে দেয়া হয়। সেও এক বিরাট রহস্য। টুইন টাওয়ার ধ্বংসরহস্য এখনো উন্মোচিত হয়নি। টুইন টাওয়ার ধ্বংসের পরপরই যুক্তরাষ্ট্রসহ তাদের সব দোসর একযোগে বলতে থাকল, টুইন টাওয়ার ধ্বংস করেছে ইসলামি জঙ্গিবাদীরা। আর তাদের মদদ দিয়েছে ইরাক। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এই অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ১১০ তলার টুইন টাওয়ার ধ্বংসের ঘটনায় একজন ইহুদিও প্রাণ হারায়নি।
আবার যে ওসামা বিন লাদেনকে এই টুইন টাওয়ার ধ্বংসের নায়ক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, সেই লাদেন পরিবারের সাথে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ভিডিওচিত্র বিশ্বব্যাপী প্রচারিত হয়েছে। ফারেনহাইট নাইন-ইলেভেন নামক এক প্রামাণ্যচিত্রে সেও কম বড় রহস্য নয়। বরং বহু যুক্তিবাদী মানুষ তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরে এটাও প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন যে, বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের বিরুদ্ধে হামলা পরিচালনার অজুহাত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই পরিকল্পিতভাবে টুইন টাওয়ার ধ্বংস করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এ রকম ষড়যন্ত্রমূলক কাজ যে করে থাকে তার আরো অনেক নজির আছে। ১৯৮৭ সালে পাকিস্তানের সামরিক একনায়ক জেনারেল জিয়াউল হক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন। তার সাথে নিহত হন মার্কিন রাষ্ট্রদূতও। যুক্তরাষ্ট্র নিজেও এর তদন্ত করেছিল। কিন্তু তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেনি। বেসরকারি খাতের তদন্তকারীরা বলেছিলেন, ওই বিমান দুর্ঘটনার সাথে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর যোগসাজশ ছিল।
টুইন টাওয়ার ধ্বংসের কল্পিত নায়ক বিন লাদেনকে ইরাক সহায়তা করেছে এবং ইরাকের কাছে পারমাণবিক ও ব্যাপক গণবিধ্বংসী অস্ত্রের মজুদ রয়েছে আর ইরাক বিশ্বব্যাপী ইসলামি জঙ্গিবাদীদের সহায়তা করছে­ এমন মিথ্যা অভিযোগ এনে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়ে ইরাক দখল করে নেয়। চালায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ। গোটা ইরাক তন্ন তন্ন করে খুঁজেও ওই ধরনের কোনো অস্ত্রের সন্ধান পাওয়া যায়নি। ইরাকে প্রতিরোধ যুদ্ধ চলছে। সেখানে বিন লাদেন লুকিয়ে আছেন বলে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে। বিন লাদেনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তাহলে মুসলিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে আরো ব্যবস্থা কী করে নেয়া যায় তার প্রচারণা চালানো হলো, আফগানিস্তানে লুকিয়ে আছেন ওসামা বিন লাদেন। আর তাই পোড়ামাটি নীতি অনুসরণ করে ওসামা বিন লাদেনের অনুসন্ধান চলল। আফগানিস্তানে হামিদ কারজাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত হলো এক পুতুল সরকার। সেখানে প্রতিরোধ যুদ্ধ চলছে। আফগানিস্তানে যে তালেবান আছে সেটা সর্বজনস্বীকৃত। তালেবান বাহিনী গঠিত হয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের আফগানিস্তান দখল করে নেয়ার পর। তখন যুক্তরাষ্ট্র তালেবানদের নানা ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করেছে। ভুলেও কখনো তাদের ইসলামি জঙ্গি বলে অভিহিত করেনি। তখন তারা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে স্বাধীনতাকামী। হ্যাঁ, নিজ দেশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করার জন্য যুদ্ধ শুরু করেছিল তালেবানরা। এখন মার্কিন দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে তারা যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সে একই তালেবান, যাদের সাহায্য-সহযোগিতা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র­ সেই তালেবানরাই এখন ইসলামি জঙ্গিবাদী হয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে।
এরপর বাংলাদেশ। সেই পুরনো কৌশল। দুর্নীতি আর জঙ্গিবাদ। বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র গণতন্ত্র বলে গলা ফাটিয়ে হল্লা তুললেও নিজেদের সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য বাংলাদেশের গণতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত করতে কোনোরূপ দ্বিধা করেনি ওই অপশক্তিগুলো। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার বদলে তারা হামিদ কারজাই স্টাইলের এক অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক সরকার কায়েম করল। এ দেশকে রাজনীতিশূন্য করার জন্য সেই অপশক্তিকে দিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ব্যর্থ হলো জবাবদিহিতাহীন গণপ্রতিনিধিত্বহীন ফখরুদ্দীনের পুতুল সরকার। শুরু হলো নতুন ষড়যন্ত্র। পুরনো রাজনীতিবিদরাই থাকবে। কিন্তু তারা যেন থাকে সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী শক্তির হাতের পুতুল হয়ে। রাষ্ট্র যেন থাকে দুর্বল। আর রাষ্ট্রের নিরাপত্তাব্যবস্থাটি যেন থাকে ওই দুই অপশক্তির হাতের মুঠোয়।
বাংলাদেশে বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা সেই পরিকল্পনারই যে অংশ সে বিষয়ে এখন আর সন্দেহের অবকাশ নেই। কেননা বিডিআর বিদ্রোহের মাধ্যমে এক দিকে যেমন ধ্বংস করে দেয়া সম্ভব হয়েছে আমাদের সীমান্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা, অপর দিকে তেমনি দুর্বল করে দেয়া সম্ভব হয়েছে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক সেনাবাহিনীকে। নানান কৌশলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক খাতগুলোকে ধ্বংসের একেবারেই দ্বারপ্রান্তে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে ফখরুদ্দীনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমেই। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের মূল যে জনশক্তি রফতানি খাত, সে বাজার বিশ্বব্যাপী অপপ্রচারের মাধ্যমে সঙ্কুচিত করে আনা সম্ভব হয়েছে। রফতানির প্রধান খাত তৈরী পোশাক শিল্প বিপর্যয়ের মুখোমুখি। সাম্রাজ্যবাদী ও তার দোসরদের হাতের পুতুল হিসেবে ড. ফখরুদ্দীনের তিন মাসের তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুই বছর ধরে ক্ষমতায় থেকে দেড় কোটি মানুষকে দারিদ্র্যসীমার নিচে নামিয়ে দিয়েছে। হাটবাজার-দোকানপাট ভেঙে দিয়ে কোটি মানুষের ক্ষুধার অন্ন কেড়ে নিয়েছে। নানা অজুহাতে ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের তাড়া করে শিল্প বিকাশের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে। এক দিকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়া হয়েছে, অপর দিকে প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে দুর্বল করে ফেলা হয়েছে।
বাংলাদেশে আঘাত করার এখনই মুখ্য সময়। আর তাই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি বিডিআর বিদ্রোহের প্রথম দিনই বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়ে রেখেছিল, ভয়ের কোনো কারণ নেই। প্রয়োজনে আমরা সৈন্য পাঠিয়ে সরকারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। পরে ভারত আরো খোলাখুলি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারকে কেউ দুর্বল করতে চাইলে ভারত হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না, প্রয়োজনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে। বাংলাদেশের সরকার এই বক্তব্যের প্রতিবাদ করেনি। যে সরকারকে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য ভিনদেশী শক্তির সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়, নিজ দেশের জনগণের ওপর নির্ভর করতে পারে না, সে সরকার পুতুল সরকার। ইরাকে নুরির নেতৃত্বে যে সরকার ক্ষমতায় আসীন আছে, তাকে টিকিয়ে রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর সরাসরি সহায়তা লাগছে। আফগানিস্তানে হামিদ কারজাই সরকারকে টিকে থাকার জন্য নির্ভর করতে হচ্ছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর ওপর। বাংলাদেশেও শেখ হাসিনা সরকারের টিকে থাকার জন্য কি ভারতীয় বাহিনীর সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন?
আমরা তা মনে করি না। শেখ হাসিনা সরকারকে যদি টিকে থাকতে হয়, টিকে থাকতে হবে জনগণের শক্তির বলীয়ান হয়েই, পরদেশী সামরিক শক্তির সহায়তায় নয়। এ দেশের মানুষ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে দেশকে স্বাধীন করেছে। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণে তাদের শক্তিই
যথেষ্ট। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে চাই, বর্তমান সরকার নিশ্চয়ই নুরি-কারজাইয়ের অপবাদ নিজের কাঁধে তুলে নেবে না। সরকার হবে জনগণেরই সরকার। ভিনদেশী কোনো পেটুয়ার হাতে গড়ে তোলা পুতুল সরকার নয়।

সূত্র নয়া দিগন্ত-২১.০৩.০৯
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:৩৬
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×