বিডিআর বিদ্রোহে জঙ্গি-সংশ্লিষ্টতা ও সরকার
আমানুল্লাহ কবীর
বারাক ওবামা আমেরিকার নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর রাতারাতি বিশ্বে তথাকথিত জঙ্গিবাদ নিষ্ত্র্নিয় হয়ে গেছে, এ কথা ভাবার কোনো যুক্তি নেই। তবে একে মূলধন করে প্রেসিডেন্ট বুশ সমগ্র দুনিয়ায় একমাত্র পরাশক্তি হিসেবে যে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালিয়েছিলেন, যে কারণে একটা মারমার, কাটকাট অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল; আপাতত তার অবসান ঘটেছে। এর অর্থ এই নয় যে, বারাক ওবামা মার্কিন নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন এনেছেন সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ অব্যাহত রেখে তিনি কেবল কৌশল পরিবর্তন করেছেন। অর্থাৎ উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলার কৌশলই নির্ধারণ করে পরবর্তী পরিস্থিতি কী আকার ধারণ করবে। ওবামার এই পরিবর্তিত কৌশলই আমেরিকার রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন এনেছে, যদিও মূল মার্কিন নীতিতে কোনো রকম ছাড় দেয়া হয়নি ছাড় দেয়ার কোনো সম্ভাবনাও নেই। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ নিয়ে সরকারি মহলসহ বিভিন্ন মহল ও মিডিয়ায় যে ভীতিকর হইচই চলছে, তা অনেকটা বুশ আমলের কৌশলের মতো। বুশের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের কৌশল সন্ত্রাসকে দমন না করে বরং সমগ্র বিশ্বেই ছড়িয়ে দিয়েছিল। সরকার বিডিআর বিদ্রোহ দমনে যতটা না তৎপর ছিল, তার চেয়ে বেশি তৎপর হয়েছে ঘটনার পরবর্তী সময়ে। বিডিআর বিদ্রোহে কারা সক্রিয় অংশ নিয়েছে, কারা নেতৃত্ব দিয়েছে এবং কারা মূল পরিকল্পনাকারী; তা এখনো তদন্ত পর্যায়ে। এমনকি সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটি সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেয়ার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত তার মুখ দেখা যায়নি। কেন এই বিলম্ব এবং কবে নাগাদ রিপোর্ট পেশ করা সম্ভব হবে, তদন্ত কমিটি এ প্রশ্নেরও কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। সরকারও এ ব্যাপারে নীরব। তবে তদন্ত চলাকালে তদন্ত কমিটিগুলোর সমন্বয়ক মন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল (অবঃ) ফারুক খান যেসব বিষয়ে সরব তাতে মনে হওয়া স্বাভাবিক সরকার তদন্ত প্রক্রিয়াকে একটা বিশেষ লক্ষ্যে প্রভাবিত করতে চাচ্ছে। তিনি সর্বশেষ নিশ্চিত করেই বলেছেন বিডিআর বিদ্রোহের সাথে জঙ্গিদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তার কথা বিশ্বাস না করে উপায় নেই। তার কথা বিশ্বাস করে বলতে হয়, সশস্ত্র বাহিনীতে তাহলে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে; তারা সক্রিয় এবং বিডিআর বিদ্রোহ ও ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। খোদা না খাস্তা, সে ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে জাতীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। সে ক্ষেত্রে সরকারের চিন্তাভাবনা কী, কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে? কারণ, জঙ্গি প্রভাবিত সশস্ত্র বাহিনী দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা সম্ভব নয়। কিন্তু একই সাথে মন্ত্রী মহোদয় যখন বিডিআর বিদ্রোহের সাথে বিদেশী শক্তির সংশ্লিষ্টতা খোঁজেন, তখন মনে হয় তিনি স্ববিরোধিতায় ভুগছেন। এফবিআই প্রতিনিধিদলের সাথে বৈঠক করে তিনি তাদের বিদেশী শক্তির সংশ্লিষ্টতা খুঁজে বের করার অনুরোধ করেছেন। বিডিআর আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং সশস্ত্র বাহিনী দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও প্রতিরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত। আমাদের সশস্ত্র বাহিনীতে বিদ্রোহ দেখা দিলে এবং প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়লে তাতে সরাসরি লাভবান হবে কোন বহিঃশক্তি? আমাদের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানই তা নির্ধারণ করে দেয়। এ জন্য এফবিআই’র সাহায্য-সহযোগিতার কোনো দরকার নেই। কারণ, এফবিআই জঙ্গি বলতে কেবল মুসলমানদেরই চেনে, এ ছাড়া আর কাউকে তারা জঙ্গি বা সন্ত্রাসী মনে করে না। সুতরাং আগেভাগেই বলে দেয়া যায় তারা কোন দিকে অঙ্গুলি সঙ্কেত করবে। কারণ, ইরাক থেকে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের কেন্দ্রস্থল দক্ষিণ এশিয়ায় স্থানান্তরিত করার পর এ অঞ্চলের মুসলমানদের ও মুসলমান প্রধান দেশগুলোকে জঙ্গিবাদী হিসেবে চিহ্নিত করা এফবিআই ও র-এর দায়িত্ব। তাদের বড় সহযোগী শক্তি হচ্ছে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোশাদ। ফলে বিডিআর বিদ্রোহের সাথে জঙ্গিদের সম্পৃক্ততা খোঁজার অর্থই হচ্ছে প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করা। এবং প্রতিবেশী ভারত সরকার বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদী ব্যর্থ-প্রায় রাষ্ট্ররূপে প্রমাণ করার যে চেষ্টা করছে তাতে তার উদ্দেশ্যই সফল হবে। ভারত সরকারের কথা ভারত ব্যর্থ বা ব্যর্থ-প্রায় সব রাষ্ট্র দিয়ে পরিবৃত। তা হলে আমরা কেন বলতে পারব না বৃহত্তম প্রতিবেশী ভারতের আধিপত্যবাদী নীতির কারণেই তার চার পাশের রাষ্ট্রগুলোর এই অবস্থা? ভারতের উদ্দেশ্যকে সফল করে এ সরকার কিভাবে লাভবান হতে চায় তা নিশ্চয় সরকারই ভালো বোঝে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি সম্প্রতি সরাসরিই বলে দিয়েছেন, শেখ হাসিনা সরকারের ওপর আঘাত ্ এলে দিল্লি বসে থাকতে পারে না। দিল্লির এমন নিঃশর্ত সমর্থনের কারণেই কি সরকার দিল্লির প্রদর্শিত পথে এগোচ্ছে? এটা এখন ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, সরকারগঠিত তদন্ত কমিটি একটি বিশেষ লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ করছে বলেই রিপোর্ট প্রকাশে অস্বাভাবিক বিলম্ব ঘটছে।
বিডিআর ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী সরকারের প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও হুইপ মির্জা আজম। কারণ তাদের সাথেই বিদ্রোহীদের যোগাযোগ হয়েছে এবং তাদের মাধ্যমেই প্রধানমন্ত্রী বিদ্রোহীদের প্রতিনিধিদলের সাথে বৈঠকের ব্যবস্থা করেন রাজনৈতিকভাবে সমস্যা সমাধানের জন্য। এ ছাড়াও বিদ্রোহীদের সাথে ২৫ ফেব্রুয়ারি ও ২৬ ফেব্রুয়ারি সরকারের বিভিন্ন প্রতিনিধির বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় বৈঠক হয়। এমনকি বিডিআর’র প্রধান ফটকের কাছে মিষ্টির দোকানে বসেও তাদের বৈঠক হয়েছে। সুতরাং সরকারের এই প্রতিনিধিদের কাছ থেকেই বিদ্রোহের কারণ ও বিদ্রোহীদের পরিচয় পাওয়া যাবে। প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিদ্রোহীদের প্রতিনিধিদলের সাথে যে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে, তা থেকেও তিনি নিশ্চয়ই বিদ্রোহের কারণ ও এই কারণ সৃষ্টির পেছনে পরিকল্পনাকারী কারা ছিল তা অনুমান করতে পেরেছেন। তার কাছ থেকেই জনগণ জানতে পেরেছে দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়ার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। আমাদের দেশ গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে এবং দেশের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়লে কারা তার বেনিফিসিয়ারি হতো, তা বোঝার জন্য এফবিআই বা অন্য কোনো বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থা ডাকার দরকার পড়ে না। তা ছাড়া বিডিআর’র নৃশংস হত্যাকাণ্ড থেকে যেসব সেনা অফিসার ঘটনাচক্রে বেঁচে গেছেন, তাদের মুখ থেকেও ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ শোনার সুযোগ হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ১ মার্চ ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের দরবার হলে। বেঁচে যাওয়া একজন অফিসার বলেছেন, বিদ্রোহের সময় তিনি বিদ্রোহে অংশগ্রহণকারী দু’জনের গোপন আলোচনার যে ভাষা ব্যবহার করতে শুনেছেন তা এ দেশের কোনো জনপদেই ব্যবহৃত হয় না। পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠীর মুখেও এই ভাষা ব্যবহার করতে শোনেননি। সুতরাং বিডিআর বিদ্রোহ কারা, কেন, কিভাবে ঘটিয়েছিল সে সম্পর্কে সরকারের মধ্যে কোনো বিভ্রান্তি থাকার কথা নয়, জনগণের মধ্যেও নেই। সরকার এক সময় বিডিআর বিদ্রোহের সাথে চারদলীয় জোটের সম্পৃক্ততা আবিষ্কারের চেষ্টাও করেছে। প্রধানমন্ত্রী তার এক বক্তৃতায় বিদ্রোহের সময় পিলখানায় যে অসামরিক ব্যক্তিদের মিছিল বের করা হয়েছিল তার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, এই মিছিল কারা সংগঠিত করেছিল? পরবর্তী সময় অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিদ্রোহের সময় পিলখানায় যে দু’টি মিছিল বের হয়েছিল, তা সংগঠিত করেছিল শাসক দল আওয়ামী লীগেরই স্থানীয় নেতাকর্মীরা। মিছিল দু’টির নেতৃত্বও দিয়েছে তারাই। তাদের অন্যতম হলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ সভাপতি তোরাব আলী, যিনি একজন সাবেক বিডিআর হাবিলদার। তার সাথে ছিল তার সন্ত্রাসী ছেলে লেদার লিটন ও আরেক বিডিআর হাবিলদারের ছেলে। র্যাব তাদের সবাইকে গ্রেফতার করেছে। মিছিলের ্লোগান ছিল বিদ্রোহীদের পক্ষে, জনগণ তাদের সাথে আছে; এমন ্লোগান দিয়ে বিদ্রোহীদের উৎসাহিত করা হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এই পরিকল্পনা কি তোরাব আলী নিজেই করেছিলেন, না অন্য কোনো ক্ষমতাধর মহলের ইঙ্গিত ছিল। এমনও জানা গেছে, বিদ্রোহের আগে তোরাব আলীর বাসায় বিদ্রোহের নেতাদের একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং তিনি সেনা অফিসারদের হত্যাকাণ্ডের পর হত্যাকারীদের পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছেন। বিদ্রোহের দু’দিন আগে বিডিআর জওয়ানদের মধ্যে গোপনে যে লিফলেট ছড়ানো হয়েছিল, তার নেপথ্য নায়ক কারা? একটা বিষয় স্পষ্ট, বিডিআর বিদ্রোহের মূল পরিকল্পনাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলেও তোরাব আলী পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারীদের অন্যতম নেতা। আরো উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, বিডিআর’র কয়েক হাজার বিদ্রোহী সদস্য অস্ত্রশস্ত্রসহ এখনো পলাতক রয়েছেন। বাংলাদেশবিরোধী অনেক শক্তিই রয়েছে, যারা এই সুযোগ নিয়ে তাদের আশ্রয় দিয়ে সংগঠিত করার চেষ্টা করবে যা আমাদের অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলার জন্য বিরাট হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারে। যারা দেশের পরিস্থিতিকে আরো নাজুক ও ভীতিকর করে তুলতে চাচ্ছে, তাদের জন্য এরা হবে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়ক শক্তি। মোট কথা, সরকার বিডিআর বিদ্রোহের সময়কালে পরিস্থিতি যেভাবে মোকাবেলা করেছে এবং বিদ্রোহ-পরবর্তী পরিস্থিতি যেভাবে মোকাবেলা করছে উভয়ই ভুল অথবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ফলে স্কুল ছাত্রছাত্রী থেকে সব পর্যায়ের মানুষের মধ্যে দ্রুত ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। সরকার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছে, ভালো কথা। কিন্তু জনগণকে আশঙ্কামুক্ত করার জন্য যে পদক্ষেপ জরুরি ভিত্তিতে নেয়া উচিত তার কিছুই করা হয়নি। এ মুহূর্তে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে শতর্ক করাই যথেষ্ট নয়, সবচেয়ে প্রয়োজন জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা। এ দায়িত্ব রাষ্ট্র পরিচালনায় নিয়োজিত সরকারের বস্তুত এককভাবেই। উদ্যোগ তাকেই নিতে হবে, কিন্তু সে উদ্যোগ না নিয়ে সরকারদলীয় মনোভাব নিয়ে যেভাবে বিডিআর বিদ্রোহকালে পরিস্থিতি ও বিদ্রোহ-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলার কৌশল অবলম্বন করেছে তাতে সরকার নিজে যেমন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে, তেমনি দেশকেও ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। প্রণব মুখার্জির কথা অনুসারে দিল্লি সরকার যদি বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের প্রধান রক্ষাকর্তা হয়ে থাকে, তাহলে ভয়ের কারণ আরো বেশি। সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তার প্রকৃত রক্ষাকর্তা কারা হতে পারে দিল্লি সরকার, না আমাদের জনগণ; যারা ভোট দিয়ে তাদের রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেছে। সরকার আমাদের জনগণকে প্রকৃত রক্ষাকর্তা মনে করলে তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। আর এ জন্য জাতীয় সংসদ হচ্ছে একমাত্র উপযুক্ত ফোরাম, যেখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ সব ছোট-বড় রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্বই রয়েছে। এই জাতীয় সঙ্কট মুহূর্তে সেখানে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হলে সমগ্র জাতিই ঐক্যবদ্ধ হবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা লক্ষ করেছি, সংসদ অধিবেশনে থাকলেও সংসদকে আস্থায় নিয়ে সরকার বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো রিপোর্ট পেশ করেনি কিংবা আলোচনার সুযোগ দেয়নি। তাতে মনে হয়েছে, জাতীয় সংসদ বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের নীরব দর্শক ছাড়া আর কিছুই নয়। অথচ এই দুঃসময়ে জাতিকে আশ্বস্ত করতে ও দিকনির্দেশনা দিতে পারে একমাত্র জাতীয় সংসদই। জাতীয় সংসদকে পাশ কাটিয়ে সরকার যে সিদ্ধান্তই গ্রহণ করুক না কেন, তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ থেকেই যাবে।
আরো ভয়ের কারণ হচ্ছে এই, এক-এগারোর আগে মিডিয়ার যে অংশটি সক্রিয় হয়ে উঠেছিল এবং যারা অসাংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন দিয়েছে, তারা আবার তৎপর হয়ে উঠেছে। সরকারের সুর আর তাদের সুরের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই উভয়েই বিডিআর বিদ্রোহের সাথে জঙ্গিবাদীদের সম্পৃক্ততা আবিষ্কারে ব্যস্ত। মিডিয়ার এই অংশটির একটি বাংলা দৈনিকে মনগড়াভাবে দেশের জঙ্গি সংগঠনগুলোর নাম ছাপা হয়েছে। এসবের মধ্যে কয়েকটি নিষিদ্ধ সংগঠন হলেও বাকিগুলোকেও জঙ্গি সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে তাদের ইসলামি নাম দেখে। ইসলামপন্থী সব সংগঠনই কি তাহলে জঙ্গিবাদী? পত্রিকাটির রিপোর্টে সেভাবেই চিহ্নিত করা হয়েছে। ইসলাম মানেই জঙ্গিবাদ এবং সব জঙ্গিই মুসলমান এটা যারা মনে করে, পত্রিকাটি তাদের মতেরই অনুসারী। অন্য কথায় তারা প্রমাণ করতে চাচ্ছে বাংলাদেশ যেহেতু মুসলমান প্রধান দেশ, সেহেতু দেশটি জঙ্গিবাদী এবং জঙ্গিবাদের স্বর্গরাজ্য। সুতরাং তথাকথিত সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের জন্য এটি একটি উপযুক্ত স্থান। বাংলাদেশে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ও ভারত সমর্থিত সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের ক্ষেত্র প্রস্তুত করাই এই মহলটির মূল উদ্দেশ্য। তাদের প্রদর্শিত পথে বর্তমান সরকার পা দিলে তা গর্তে পড়বে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
সূত্রঃ নয়া দিগন্ত-২২.০৩.০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


