somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সরকারি দলের ৬ নেতার কাছে সিআইডির তথ্য যাচাই

০২ রা এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১০:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সরকারি দলের ৬ নেতার কাছে সিআইডির তথ্য যাচাই
ফকরুল আলম কাঞ্চন
পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের কারণ অনুসন্ধানে সরকারি দলের ৬ নেতার কাছে বেশকিছু তথ্য যাচাই করেছে তদন্ত সংস্থা সিআইডি। রিমান্ডে আনা বিডিআর জওয়ানদের কাছ থেকে স্পর্শকাতর তথ্য পাওয়ার পর সিআইডির কর্মকর্তারা ওই নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। বিদ্রোহের নেতৃত্ব থাকা ও হত্যাকাণ্ড এবং লাশ গুমে জড়িত বিডিআর জওয়ানদের মোবাইল ফোনের কললিসল্ট পরীক্ষা করে তাদের নাম পাওয়া যায়। তারা বিদ্রোহী জওয়ানদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বহুবার কথা বলেছেন। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এসব নেতা বিদ্রোহী জওয়ানদের সঙ্গে কী কথা বলেছেন; এর নেপথ্যে কোনো ইন্দন ছিল কিনা এ বিষয়গুলোও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে তাদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য যাচাই করা হয়েছে। প্রয়োজনে তাদের আনুষ্ঠানিক জিজ্ঞাসাবাদও করা হতে পারে।বিডিআর বিদ্রোহের দিন আওয়ামী লীগ নেতা ও ধানমন্ডি-হাজারীবাগের সংসদ সদস্য ব্যারিসল্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীজাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, স্ট্বরাদ্ব্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, যুবলীগ সাধারণ সমঙাদক ও হুইপ মির্জা আজম এমপি এবং জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি বিদ্রোহীদের সঙ্গে দীর্ঘ সময়কথা বলেন। এর মধ্যে ফজলে নূর তাপস, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম এবং সাহারা খাতুন বিদ্রোহী বিডিআর জওয়ানদের সঙ্গে বহুবার কথাবলেছেন। তদন্ত সংস্থা সিআইডি এবং র‌্যাবের তথ্যপ্রযুক্তি শাখা জওয়ানদের মোবাইল ফোনের কললিস্ট পরীক্ষা করে এ তথ্য পান। প্রথমে ডিএডি তৌহিদ, ডিএডি আবদুর রহিম ও ডিএডি আবদুল জলিল, ডিএডি হাবীবসহ ৫০ জনের কললিসল্ট যাচাই করা হয়। এদের মধ্য থেকে অন্তত ১০ বিডিআর সদস্য সরকার দলীয় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ছাড়াও বাইরের কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন। মোবাইল কলের লিস্ট পাওয়ার পরে অভিযুক্ত বিডিআরদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা ফোনে কথা বলার বিষয়টি স্বীকার করে। প্রধান অভিযুক্ত ডিএডি তৌহিদ, সিপাহী সেলিম, সদর কোমঙানির সিপাহী মফিজ, হাবিলদার যোবায়দুল, সিপাহী জাকির সরকার দলীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি স্বীকার করেছে। ডিএডি তৌহিদের মোবাইল ফোনের কললিসেল্ট রেকর্ড রয়েছে সে জাহাঙ্গীর কবির নানক, ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, মির্জা আজম এবং অপর দুই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত অসংখ্যবার নানক ও সাহারা খাতুনের সঙ্গে কথা বলেন ডিএডি তৌহিদ। সিপাহী মফিজ এবং অপর এক বিডিআর সদস্য কথা বলেছে জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে। ঘটনার দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিপাহী সেলিম ধানমন্ডি এলাকার সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে কথা বলেন। গত সপ্তাহে সিআইডির একাধিক কর্মকর্তা এ তথ্য যাচাইয়ের জন্য ফজলে নূর তাপস, জাহাঙ্গীর কবির নানক, হুইপ মির্জা আজম, সাহারা খাতুন, ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর ও হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা রিমান্ডে আনা বিডিআর জওয়ানদের কাছ থেকে প্রাপ্টস্ন বেশ কিছু তথ্য যাচাই করে দেখেন।
সূত্র জানায়, বিদ্রোহের ঘটনার আগে ২৩ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ বৈঠক করে বিদ্রোহের নেতৃত্ব থাকা বিডিআর জওয়ানরা। ওই বৈঠকে দাবি-দাওয়া সংবলিত একটি লিফলেট তৈরি এবং তা রাজনৈতিক নেতাদের কাছে পৌঁছে দেয়ার সিদব্দান্ত নেয়া হয়। চতুর্থ বৈঠকে ডিএডি তৌহিদ, ডিএডি রহিমসহ ৫/৬ জন উপস্টি'ত ছিল। রিমান্ডে সিপাহী জাকির জানায়, সিপাহী সাহাবুদ্দীন, হাবিলদার মনির, ডিএডি জলিল, ডিএডি হাবীব, তারেক ও আইয়ুব বিভিল্পম্ন রাজনৈতিক নেতাদের কাছে দাবিদাওয়া সংবলিত লিফলেটগুলো পৌঁছে দেয়। এই সূত্র আরো জানায়, বিডিআর সদস্যদের দাবি নিয়ে সিপাহী সেলিম ও সিপাহী জাকির আওয়ামী লীগের সাবেক প্রভাবশালী এক মন্ত্রী এবং বর্তমান একজন সংসদ সদস্যের সঙ্গে দেখা করেন। তারা বিডিআরের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার কথা রাজনৈতিক নেতাদের কাছে তুলে ধরেন। ৫৮ নল্ফ্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি তোরাব আলীর সঙ্গেও বিদ্রোহী জওয়ানরা একাধিকবার বৈঠক করেন। তোরাব আলী আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য এবং প্রভাবশালী এক সাবেক মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার ব্যবস্থা করে দেন। জিজ্ঞাসাবাদে তোরাব আলী বিডিআর জওয়ানদের সঙ্গে বৈঠক এবং মোবাইল ফোনে একাধিকবার কথা বলার কথা স্বীকার করেছেন।
সূত্র আরো জানায়, তদন্ত সংস্থা সিআইডি আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে সন্তোষ প্রকাশ করেন। নেতারা সিআইডিকে জানিয়েছেন, বিদ্রোহের দিন সমঝোতার জন্য তারা বিভিল্পম্ন সময়ে বিডিআর জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলেন। এর পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল না। ঘটনার আগে নেতারা বিডিআর জওয়ানদের চিনত না বলে জানিয়েছেন। সিআইডি সূত্র জানায়, এ তথ্যের বাইরে অন্য কোনো তথ্য পাওয়া গেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই ৬ নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।

সূত্রঃ আমার দেশ. ০২.০৪.০৯

৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×