সরকারি দলের ৬ নেতার কাছে সিআইডির তথ্য যাচাই
ফকরুল আলম কাঞ্চন
পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের কারণ অনুসন্ধানে সরকারি দলের ৬ নেতার কাছে বেশকিছু তথ্য যাচাই করেছে তদন্ত সংস্থা সিআইডি। রিমান্ডে আনা বিডিআর জওয়ানদের কাছ থেকে স্পর্শকাতর তথ্য পাওয়ার পর সিআইডির কর্মকর্তারা ওই নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। বিদ্রোহের নেতৃত্ব থাকা ও হত্যাকাণ্ড এবং লাশ গুমে জড়িত বিডিআর জওয়ানদের মোবাইল ফোনের কললিসল্ট পরীক্ষা করে তাদের নাম পাওয়া যায়। তারা বিদ্রোহী জওয়ানদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বহুবার কথা বলেছেন। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এসব নেতা বিদ্রোহী জওয়ানদের সঙ্গে কী কথা বলেছেন; এর নেপথ্যে কোনো ইন্দন ছিল কিনা এ বিষয়গুলোও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে তাদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য যাচাই করা হয়েছে। প্রয়োজনে তাদের আনুষ্ঠানিক জিজ্ঞাসাবাদও করা হতে পারে।বিডিআর বিদ্রোহের দিন আওয়ামী লীগ নেতা ও ধানমন্ডি-হাজারীবাগের সংসদ সদস্য ব্যারিসল্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীজাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, স্ট্বরাদ্ব্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, যুবলীগ সাধারণ সমঙাদক ও হুইপ মির্জা আজম এমপি এবং জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি বিদ্রোহীদের সঙ্গে দীর্ঘ সময়কথা বলেন। এর মধ্যে ফজলে নূর তাপস, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম এবং সাহারা খাতুন বিদ্রোহী বিডিআর জওয়ানদের সঙ্গে বহুবার কথাবলেছেন। তদন্ত সংস্থা সিআইডি এবং র্যাবের তথ্যপ্রযুক্তি শাখা জওয়ানদের মোবাইল ফোনের কললিস্ট পরীক্ষা করে এ তথ্য পান। প্রথমে ডিএডি তৌহিদ, ডিএডি আবদুর রহিম ও ডিএডি আবদুল জলিল, ডিএডি হাবীবসহ ৫০ জনের কললিসল্ট যাচাই করা হয়। এদের মধ্য থেকে অন্তত ১০ বিডিআর সদস্য সরকার দলীয় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ছাড়াও বাইরের কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন। মোবাইল কলের লিস্ট পাওয়ার পরে অভিযুক্ত বিডিআরদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা ফোনে কথা বলার বিষয়টি স্বীকার করে। প্রধান অভিযুক্ত ডিএডি তৌহিদ, সিপাহী সেলিম, সদর কোমঙানির সিপাহী মফিজ, হাবিলদার যোবায়দুল, সিপাহী জাকির সরকার দলীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি স্বীকার করেছে। ডিএডি তৌহিদের মোবাইল ফোনের কললিসেল্ট রেকর্ড রয়েছে সে জাহাঙ্গীর কবির নানক, ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, মির্জা আজম এবং অপর দুই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত অসংখ্যবার নানক ও সাহারা খাতুনের সঙ্গে কথা বলেন ডিএডি তৌহিদ। সিপাহী মফিজ এবং অপর এক বিডিআর সদস্য কথা বলেছে জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে। ঘটনার দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিপাহী সেলিম ধানমন্ডি এলাকার সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে কথা বলেন। গত সপ্তাহে সিআইডির একাধিক কর্মকর্তা এ তথ্য যাচাইয়ের জন্য ফজলে নূর তাপস, জাহাঙ্গীর কবির নানক, হুইপ মির্জা আজম, সাহারা খাতুন, ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর ও হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা রিমান্ডে আনা বিডিআর জওয়ানদের কাছ থেকে প্রাপ্টস্ন বেশ কিছু তথ্য যাচাই করে দেখেন।
সূত্র জানায়, বিদ্রোহের ঘটনার আগে ২৩ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ বৈঠক করে বিদ্রোহের নেতৃত্ব থাকা বিডিআর জওয়ানরা। ওই বৈঠকে দাবি-দাওয়া সংবলিত একটি লিফলেট তৈরি এবং তা রাজনৈতিক নেতাদের কাছে পৌঁছে দেয়ার সিদব্দান্ত নেয়া হয়। চতুর্থ বৈঠকে ডিএডি তৌহিদ, ডিএডি রহিমসহ ৫/৬ জন উপস্টি'ত ছিল। রিমান্ডে সিপাহী জাকির জানায়, সিপাহী সাহাবুদ্দীন, হাবিলদার মনির, ডিএডি জলিল, ডিএডি হাবীব, তারেক ও আইয়ুব বিভিল্পম্ন রাজনৈতিক নেতাদের কাছে দাবিদাওয়া সংবলিত লিফলেটগুলো পৌঁছে দেয়। এই সূত্র আরো জানায়, বিডিআর সদস্যদের দাবি নিয়ে সিপাহী সেলিম ও সিপাহী জাকির আওয়ামী লীগের সাবেক প্রভাবশালী এক মন্ত্রী এবং বর্তমান একজন সংসদ সদস্যের সঙ্গে দেখা করেন। তারা বিডিআরের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার কথা রাজনৈতিক নেতাদের কাছে তুলে ধরেন। ৫৮ নল্ফ্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি তোরাব আলীর সঙ্গেও বিদ্রোহী জওয়ানরা একাধিকবার বৈঠক করেন। তোরাব আলী আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য এবং প্রভাবশালী এক সাবেক মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার ব্যবস্থা করে দেন। জিজ্ঞাসাবাদে তোরাব আলী বিডিআর জওয়ানদের সঙ্গে বৈঠক এবং মোবাইল ফোনে একাধিকবার কথা বলার কথা স্বীকার করেছেন।
সূত্র আরো জানায়, তদন্ত সংস্থা সিআইডি আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে সন্তোষ প্রকাশ করেন। নেতারা সিআইডিকে জানিয়েছেন, বিদ্রোহের দিন সমঝোতার জন্য তারা বিভিল্পম্ন সময়ে বিডিআর জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলেন। এর পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল না। ঘটনার আগে নেতারা বিডিআর জওয়ানদের চিনত না বলে জানিয়েছেন। সিআইডি সূত্র জানায়, এ তথ্যের বাইরে অন্য কোনো তথ্য পাওয়া গেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই ৬ নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।
সূত্রঃ আমার দেশ. ০২.০৪.০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

