somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গতকাল ও আজ

০৪ ঠা জুলাই, ২০১০ ভোর ৬:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গতকাল ও আজ। এই কবিতাটি সিরাজুলকে স্মরণে লেখা। আমার বন্ধু সিরাজুল, যে মৃত্যুর সাথে লড়াই করে অবশেষে ৩১শে মে চলে গেল আমাদের ছেড়ে। সামুতে একটা পোস্টও দিয়েছিলাম সিরাজুলকে সাহায্যের জন্য, কিন্তু কোন সাড়া পাইনি। তাই এই লেখাটি সিরাজুলকে উৎসর্গ করা আমার বন্ধুত্বের ক্ষুদ্র নিবেদন।

গতকালও ছিলি জীবন্ত মানুষ
আজকে তুই সব কিছুর উর্ধ্বে
গতকালও ফোনে কথা বলেছিলি
হয়তো কোন স্বপ্নের কথাও
অথবা ভবিষ্যত কর্ম পরিকল্পনা কোন
বেঁচে থাকলে এই করবো, সেই করবো।
গতকালও তুই স্বপ্ন দেখেছিলি
প্রিয় কোন পঙক্তি আউড়িয়েছিলি হয়তো
অথবা প্রিয় কোন মানবীর মুখ কল্পনায় এঁকেছিলি
আমাদের কিছুই বদল হয়নি গতকাল ও আজকে
অথচ তুই কত দূরে চলে গেলি !

গতকালও তুই বন্ধুদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিস
একটু হাসি তামাশাও বোধহয়
কিংবা প্রিয় কোন বন্ধুকে ঠাট্টাছলে বলেছিস গোপন কিছু
অথবা ধর প্রিয়তমাকে মনে করে ভেসে গেছিস কলেজ জীবনে।
ধর তুই কিছুই করিস নি গতকাল
বসে বসে ভেবেছিস অর্থহীন সারাদিন
তবুও তুই ছিলি, তোর ছায়া ছিল, উপস্থিতি ছিল
কিন্তু আজকে তুই একদমই নেই
এই সত্যটুকু ভারী সত্যি, সকরুন সত্যি
মানতে না চাইলেও মেনে নিতে হয় ধরণের সত্যি।

গতকাল রাতেও তুই ভেবেছিলি
সুস্থ্য হলেই বন্ধুদের নিয়ে একটা দীর্ঘ আড্ডা দিতে হবে
অথবা কলেজে গিয়ে বসে থাকবি অনেকক্ষণ
কতদিন দেখিসনি প্রিয় কলেজ প্রাঙ্গণ
কিংবা কি চিন্তায় ছিল তোর রোদ্রের ডানা থেকে ছিনে আনবি তেজ?
অথবা বোনটাকে কতদিন দেখিসনি বলে হাহাকার
অথবা মায়ের জন্য মনটা কেমন করা !
কিন্তু আজকে তুই নিজেই উধাও হয়ে গেলি
প্রাণবন্ত উপস্থিতির বদলে শুণ্যতা গ্রাস করল তোর জায়গা।

মনে আছে, তুই যেদিন প্রথম এসেছিলি ঢাকাতে
চিকিৎসা নিতে, আমার বাসায় ছিলি কয়দিন
আমি তখন ব্যাচেলর মানুষ, নিজে রান্না করে খাই
বেগুন আর তেলাপিয়ার তরকারিটা তোর দূর্দান্ত লেগেছিলো
বলেছিলি, "বাবুল, তুই সত্যি ভালো রাঁধিস"।
তারপর, পরদিন বাজার থেকে কিনে আনলি বেগুন
তুইও রান্না করবি গতকালের রেসিপি
আর আমি ভাবি, গতকালই বা কেন তোর পছন্দ ছিলো
কেন তুই আগামীকালের কথা ভাবিস নি?

যেদিন তুই আমি আর রত্নেশ্বর মিলে
ঢাকা মেডিকেলের পাশে এক রেস্টুরেন্টে খেয়েছিলাম
তখন তুই কিছুটা সুস্থ্য, কিছুটা খারাপ
হোটেল বয়টা খাবার দিতে ভীষণ দেরী করায় আমরা অতিষ্টপ্রায়
তখন তুই বললি "আশ্চর্য এসব কি, এত দেরী করে কেউ"
ঢাকায় নতুন তুই সবকিছুতেই আশ্চর্য হতি
যেমন মেয়েদের খাটো ড্রেসে তুই বলতি
"ও মাই গড ! এটা কোন ড্রেস হলো।"
যেমন রিক্সাওয়ালা বেশী ভাড়া দাবী করলে
যেমন হাসপাতালের ডাক্তারদের আচরণ দেখে
অথবা যেমন ধর মানুষের ব্যস্ত জীবন দেখে।

তুই মানুষকে প্রশংসা করতি প্রাণখুলে
এত বেশী প্রশংসা হয়তো তার প্রাপ্য নয়, তবুও
অথচ নিজে কি সরল জীবন যাপন করতি
তা কেবল আমরা যারা তোর বন্ধু, তারাই জানতাম
তুই রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র ছিলি
অনার্স শেষ করে মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছিস
সুস্থ্য হলেই পরীক্ষাটা দিয়ে দিবি
অসুস্থ্যতার জন্য পড়তে পারছিস না বলে আক্ষেপে মরতি
আহা বন্ধু ! তোর আক্ষেপগুলো দেখতে পারলাম না
গতকালও তুই বলেছিলি
পরীক্ষাটা শেষ হলেই বিসিএস দিবি
তারপর তোর সীমাবদ্ধতার কথা বলতি
কি অবলীলায়, কি সহজ সরল বয়ানে
যেনো নিস্পাপ শিশু, যেনো পাপ তোকে স্পর্শ করেনি কোনদিন।

গতকালের তুই আর আজকের তুই
কোন প্রভেদ নেই, কিন্তু দেখ, আছে আর নেই ছাড়া
যেমন গতকালও তোর আকাশ ছিলো আলোকিত, আজকে নয়
গতকালও তুই স্বপ্ন দেখতি, আজকে নয়
গতকালও তুই হেঁটেছিস, আজকে নয়
গতকালও তুই জীবন্ত ছিলি, আজকে নয়
গতকালও ভেবেছিস জাগতিক ভাবনা, আজকে নয়
গতকালও তুই গুনগুন করেছিস, আজকে নয়।

তুই ইন্টারমেডিয়েটে খারাপ রেজাল্ট করেছিলি বলে ইম্প্রুভ দিলি
কেন তুই গতকালটাকেই ভালোবেসেছিলি বন্ধু
সামনের দিকে কেন তুই তাকালি না একবারও
কেন গত দিন, যাপিত দিন তোকে টানত ভীষণ।
আজ আমি যখন ভাবি তোকে
আশ্চর্য রকম অবাক হই ভেবে
তুই গতকালকেই ভালোবাসতি
তাই তো তুই এত তাড়াতাড়ি গত হয়ে গেলি
কতই বা বয়স ছিল তোর
বড়জোড় ছাব্বিশ অথবা সাতাশ।



সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুলাই, ২০১০ বিকাল ৩:২০
৩২টি মন্তব্য ৩২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শুভ সকাল

লিখেছেন সামিয়া, ১২ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৭


মাঝে মাঝে জীবন আসলে খুবই অদ্ভুত রকম সুন্দর। প্রতিদিন একই রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে, একই আকাশ দেখতে দেখতে হঠাৎ কোনো একদিন মনে হয় পৃথিবীটা বদলে গেছে। মানুষ বদলায় না, বদলে যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫


সূর্যমুখী
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : রাধাপদ্ম, সুরজমুখী (হিন্দি)
সংস্কৃত নাম : আদিত্যভক্তা, সূর্যকান্তি, সূর্যকান্তিপুষ্প
Common Name : Sunflower, Common sunflower
Scientific Name : Helianthus annuus

সূর্যমুখী একটি বর্ষজীবী ফুলগাছ। সূর্যমুখীকে শুধু ফুলগাছ বলাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে

লিখেছেন আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

×