জেনারেল গ্র্যান্টের বইটার সাফল্যের পর মার্ক টোয়েন পুরো বইয়ের ব্যাবসার দিকে যাওয়ার মনস্থ করলেন । জেনারেল শেরিডান, জেনারেল ম্যাকলেলান এঁদের যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা এবং পোপ ত্রয়োদশ লিওর জীবনী ছাপবেন বলে পরিকল্পনা ফাঁদলেন তিনি । সব ক্যাথোলিকই পোপের জীবনী পড়বে এরকম আশা করাটা খুব অ সমীচিন নয় ।
ম্যাকলেলান আর শেরিডানের বইগুলো এবং পোপের বইটা সথা সময় ছাপা হলো । পোপের জীবনী পরে ছয়টা ভাষায় রুপান্তর হয়েছিল কিন্তু সেসময় তেমন ব্যাবসা সফল হয়নি । হতে পারে ক্যাথোলিকেরা ভেবেছিল, এতো পোপ এসেছে দুনিয়াতে যে এজন বিশেষ পোপ সম্বন্ধে জানার প্রয়োজন নেই । আর ম্যাকলেলান আর শেরিডানের বই দুটো আংশিকভাবে চলেছে । মানুষ হয়তো যুদ্ধের বইতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল । এরপরে ওবেস্টার অ্যানহড কোম্পানি ভ্রমন, সাহিত্য নানান বিষয়ে বই ছাপানো ব্যাবস্থা করল কোনোটাই তেমন চলল না । 'লাইব্রেরি অভ আমেরিকান লিটারেচার' নামে অনেক খন্ডের একটা সিরিজ প্রকাশ করতে গিয়ে ধার করতে হলো ওদের ।
এটা সত্যি দুঃখজনক যে মার্ক টোয়েন তাঁর জীবনের সবচেয়ে ফলপ্রসু সময়ে ব্যাবসা-বানিজ্যে সংক্রান্ত ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ে সৃজনশীলতার অপব্যায় করবেন । তা বলে একেবারে না লিখে বসে ছিলেন না তিনি, খবরের কাগজে এক আধটা প্রবন্ধ, গল্প লিখেছেন তিনি । 'এ কানেক্টিকাট ইয়াংকি ইন কিং আর্থার্স কোর্ট' বইটা এ সময়েই লেখা ।
যে যাইহোক, বাইরে যতই সমস্যা থাকুক, বাড়িতে সেসবের ছাপ পড়ত না । হার্টফোডের্র বাড়িটা আগের মতই সরগরম ছিল । 1880 যখন শেষ হবে আসে তখন মার্ক টোয়েনের মেয়েরা বড় হয়ে উঠছে, পাড়ার অন্য ছেলেমেয়েদের সাথে তারা জর্জ ওয়ার্নারের বাসায় নাটক করত । সেখান চুরাশি জন মানুষের বসবার জায়গা ছিল । মার্ক টোয়েন নিজেও এই ঘরোয়া থিয়েটারের জন্য নাটক লিখেছেন ।
অনেক উল্লেখ করার মতো ঘটনাই এসময়ে ঘটেছে । রবার্ট লুই স্টিভেনসন এসেছিলেন বেড়াতে । ট্রেজার আইল্যান্ডের লেখকের সাথে হাক ফিনের স্রষ্টার সাক্ষাৎটা নিশ্চয়ই দারুন হয়েছিল ।
1888 সালে ইয়েল ইউনিভার্সিটি টোয়েনকে মাস্টার অভ আর্টস অনারারি ডিগ্রি দিল । বারো বছর বয়সে লেখাপড়া ছেড়ে দেয়া টোয়েনের জন্য সেটা নিঃসন্দেহে বিরাট অর্জন ।
টাকার চিন্তাটা ক্রমেই মাথাচাড়া দিচ্ছিল মার্ক টোয়েনের মাথায় । আরেকটা টাইপ সেটিং মেশিনের উদ্ভাবনের পিছনে মেলা টাকা যাচ্ছিল মাস মাসে । তারপরেও বিন পয়সায় লেকচার দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি ।
1889 সালের গ্রীস্মকালে ঘেমেনেয়ে একাকার হয়ে একজন ইংরেজ তরুন পা রাখল মার্ক টোয়েনের এলমিরার বাসায় । তাকে আপ্যায়ন করালেন । তারপর বিদায় দিলেন ।
কয়েকমাস পরে লন্ডন থেকে ছাপা 'ওয়ার্ল্ড' পত্রিকার একটা সংখ্যা নিয়ে এলেন জর্জ ওয়ার্নার । সে খানে ইংরেজ তরুনে বিশ্ব ভ্রমন কাহিনী ছাপা হয়েছে । এলমিরাতে যে তরুন মার্ক টোয়েন নামে একজন বিখ্যাত লোকের বাসায় গিয়েছিলেন সে কথাও আছে । তরুনের নাম ছিল রুডিয়ার্ড কিপলিং ।
আলোচিত ব্লগ
Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ
![]()
প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন
যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাকি রইলো; কাঁচা কলা

স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন
স্মৃতির নৌকা
কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।
কোন কোন সন্ধ্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।