মার্ক টোয়েন (পর্ব 28)
০৬ ই এপ্রিল, ২০০৭ রাত ১০:১০
জেনারেল গ্র্যান্টের বইটার সাফল্যের পর মার্ক টোয়েন পুরো বইয়ের ব্যাবসার দিকে যাওয়ার মনস্থ করলেন । জেনারেল শেরিডান, জেনারেল ম্যাকলেলান এঁদের যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা এবং পোপ ত্রয়োদশ লিওর জীবনী ছাপবেন বলে পরিকল্পনা ফাঁদলেন তিনি । সব ক্যাথোলিকই পোপের জীবনী পড়বে এরকম আশা করাটা খুব অ সমীচিন নয় ।
ম্যাকলেলান আর শেরিডানের বইগুলো এবং পোপের বইটা সথা সময় ছাপা হলো । পোপের জীবনী পরে ছয়টা ভাষায় রুপান্তর হয়েছিল কিন্তু সেসময় তেমন ব্যাবসা সফল হয়নি । হতে পারে ক্যাথোলিকেরা ভেবেছিল, এতো পোপ এসেছে দুনিয়াতে যে এজন বিশেষ পোপ সম্বন্ধে জানার প্রয়োজন নেই । আর ম্যাকলেলান আর শেরিডানের বই দুটো আংশিকভাবে চলেছে । মানুষ হয়তো যুদ্ধের বইতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল । এরপরে ওবেস্টার অ্যানহড কোম্পানি ভ্রমন, সাহিত্য নানান বিষয়ে বই ছাপানো ব্যাবস্থা করল কোনোটাই তেমন চলল না । 'লাইব্রেরি অভ আমেরিকান লিটারেচার' নামে অনেক খন্ডের একটা সিরিজ প্রকাশ করতে গিয়ে ধার করতে হলো ওদের ।
এটা সত্যি দুঃখজনক যে মার্ক টোয়েন তাঁর জীবনের সবচেয়ে ফলপ্রসু সময়ে ব্যাবসা-বানিজ্যে সংক্রান্ত ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ে সৃজনশীলতার অপব্যায় করবেন । তা বলে একেবারে না লিখে বসে ছিলেন না তিনি, খবরের কাগজে এক আধটা প্রবন্ধ, গল্প লিখেছেন তিনি । 'এ কানেক্টিকাট ইয়াংকি ইন কিং আর্থার্স কোর্ট' বইটা এ সময়েই লেখা ।
যে যাইহোক, বাইরে যতই সমস্যা থাকুক, বাড়িতে সেসবের ছাপ পড়ত না । হার্টফোডের্র বাড়িটা আগের মতই সরগরম ছিল । 1880 যখন শেষ হবে আসে তখন মার্ক টোয়েনের মেয়েরা বড় হয়ে উঠছে, পাড়ার অন্য ছেলেমেয়েদের সাথে তারা জর্জ ওয়ার্নারের বাসায় নাটক করত । সেখান চুরাশি জন মানুষের বসবার জায়গা ছিল । মার্ক টোয়েন নিজেও এই ঘরোয়া থিয়েটারের জন্য নাটক লিখেছেন ।
অনেক উল্লেখ করার মতো ঘটনাই এসময়ে ঘটেছে । রবার্ট লুই স্টিভেনসন এসেছিলেন বেড়াতে । ট্রেজার আইল্যান্ডের লেখকের সাথে হাক ফিনের স্রষ্টার সাক্ষাৎটা নিশ্চয়ই দারুন হয়েছিল ।
1888 সালে ইয়েল ইউনিভার্সিটি টোয়েনকে মাস্টার অভ আর্টস অনারারি ডিগ্রি দিল । বারো বছর বয়সে লেখাপড়া ছেড়ে দেয়া টোয়েনের জন্য সেটা নিঃসন্দেহে বিরাট অর্জন ।
টাকার চিন্তাটা ক্রমেই মাথাচাড়া দিচ্ছিল মার্ক টোয়েনের মাথায় । আরেকটা টাইপ সেটিং মেশিনের উদ্ভাবনের পিছনে মেলা টাকা যাচ্ছিল মাস মাসে । তারপরেও বিন পয়সায় লেকচার দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি ।
1889 সালের গ্রীস্মকালে ঘেমেনেয়ে একাকার হয়ে একজন ইংরেজ তরুন পা রাখল মার্ক টোয়েনের এলমিরার বাসায় । তাকে আপ্যায়ন করালেন । তারপর বিদায় দিলেন ।
কয়েকমাস পরে লন্ডন থেকে ছাপা 'ওয়ার্ল্ড' পত্রিকার একটা সংখ্যা নিয়ে এলেন জর্জ ওয়ার্নার । সে খানে ইংরেজ তরুনে বিশ্ব ভ্রমন কাহিনী ছাপা হয়েছে । এলমিরাতে যে তরুন মার্ক টোয়েন নামে একজন বিখ্যাত লোকের বাসায় গিয়েছিলেন সে কথাও আছে । তরুনের নাম ছিল রুডিয়ার্ড কিপলিং ।
প্রকাশ করা হয়েছে: আঁতেলোগ্রাফি বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, -০০০১ রাত ১২:০০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















দারুন ব্যাপার ।